শেখ হাসিনার লেখা এবং প্রসঙ্গ কথা

সংখ্যা: ২০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

বঙ্গবন্ধুর নামে নামবাজি করার বিরুদ্ধে শেখ রেহানার একটি চমৎকার লেখার পর শেখ হাসিনারও ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় লেখা সম্প্রতি অনেক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।

ছোট ছোট বাক্যে

প্রাঞ্জল ভাষায়

স্বগতোক্তিমূলক এ লেখায়

অনেকে অভিভূত হয়েছেন।

তারা শেখ হাসিনার প্রকৃতি প্রেমের অদ্ভুত বিবরণ পেয়েছেন।

পশু প্রেমের নজির পেয়েছেন।

কারাজীবনের কথা জেনেছেন।

সাধারণ মানুষ তাদের সহজাত অনুভূতিরও প্রতিফলন দেখেছেন।

শেখ হাসিনা লিখেছেন,

“চারদলীয় জোট সরকারের অপশাসন, ক্ষমতার দাপট, দুর্নীতি, লুটপাট, অত্যাচার, নির্যাতনে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি চাল ডাল তেল লবণসহ

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। তারা একটা পরিবর্তন চায়।”

বলাবাহুল্য, চাল ডাল তেল লবণ প্রভৃতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে মানুষ যে দিশেহারা হয়, এটা সব মানুষেরই মনের কথা।

শেখ হাসিনা মানুষের এই মনের কথা নিজের হাতে লিখেছেন।

এখন তিনি যদি মানুষের মনের কথাকে কাজে পরিণত করেন তবেই মানুষ খুশি হয়।

কারণ, শেখ হাসিনা চারদলীয় জোটের যে দিশেহারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বর্ণনা দিয়েছেন,

তার চেয়ে বর্তমানে তার সরকারেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কোনোই অধোগতি হয়নি।

বরং অনেক ক্ষেত্রে আরো বেড়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে

মানুষ আরো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

শেখ হাসিনার লেখায় দেখা যাচ্ছে যে, মানুষের দিশেহারা অবস্থা তিনি মালুম করেন।

সুতরাং সত্যিকার অর্থে দ্রব্যমূল্যের দাম কমিয়ে তার চেয়ে সরকার মানুষকে দিশা দিবে এটাই কাম্য।

*******

শেখ হাসিনার লেখায় অনেকগুলো প্রজ্ঞাময় এবং মানবিক দিকও ফুটে উঠেছে।

শেখ হাসিনা তার সাবজেলের খারাপ অবস্থার বর্ণনা করুণভাবে দিয়েছেন এবং তার  চেয়ে বঙ্গবন্ধু যে আরো খারাপ অবস্থায় কারাগারে ছিলেন তাও করুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

বলাবাহুল্য, বঙ্গবন্ধু যে কারাগারে ছিলেন, সে কারাগারই

শুধু নয়- এমনকি যে কারাগার কক্ষে তিনি ছিলেন তারও আজো কোন পরিবর্তন হয়নি। যা কিছুদিন আগে শেখ হাসিনার একটি লেখায়ই এসেছিলো।

অপরদিকে খুব প্রজ্ঞাচিত ভাষায় শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছেন-

“আমি গণভবনে ছিলাম। এখন কারাভোগে আছি। যারা আজ ক্ষমতায় তাদেরও ভবিষ্যতে কারাগারে থাকতে হবে না, এই গ্যারান্টি কে পেয়েছে? ক্ষমতার মসনদ ও কারাগার খুব কাছাকাছি।”

শেখ হাসিনার কথা সত্য হয়েছে। কারাগার থেকে তিনি এখন ক্ষমতার মসনদে বসেছেন। যাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি সেদিন লিখেছিলেন যে, “যারা আজ ক্ষমতায় তাদেরও ভবিষ্যতে কারাগারে থাকতে হবে না- এ গ্যারান্টি কে পেয়েছে?”

সেক্ষেত্রে বক্তব্য হল: শেখ হাসিনা যদি গণম্যান্ডেট

নেন সেদিন যারা শেখ হাসিনাকে কারাগারে নিয়েছিলো, আজ তাদেরকে অবিলম্বে হাজারো কারণে কারাগারে নেয়া উচিত- এ রায়ই পাবেন। প্রশ্ন হলো শেখ হাসিনা কী এই গণম্যান্ডেট বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন?

কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জুলুম নির্যাতনে দেশবাসী ছিলো অতিষ্ঠ। শেখ হাসিনার এ লেখাটিতেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক জুলুম নির্যাতন অপশাসনের কথা এসেছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জনগণের দুঃখ এক এবং একীভূত হয়েছে।

তবে আজ তার বদলা নিতে বাধা কোথায়? বাধা সদ্বিচ্ছার? শেখ হাসিনা সে সদ্বিচ্ছার প্রমাণ দিবেন কী?

পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু যে কারাগারে যে দুর্ভোগে ছিলেন-

তার চেয়েও অনেক বেশি দুর্ভোগে কারাগারে যে অনেক লোক রয়েছে, কারাগারের বহুল কথিত সে জঘন্য দুর্ভোগ নিরসনে শেখ হাসিনা কাঙ্খিত মানবিক হবেন কি?

*******

শেখ হাসিনা আরো একটি মর্মস্পর্শী কিন্তু স্পর্শকাতর বিষয়ও উল্লেখ করতে বিব্রত হননি। তিনি লিখেছেন, “সব সময় একটা চাপ যেন আদালতে রয়েছে। আমার শুধু মনে হয় এই বিচার হচ্ছে? এতো প্রহসন, বিচারের নামে প্রহসন চলছে। বিচারকরা কি তাদের বিবেক, চিন্তা, জ্ঞান ও বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে বিচার করতে পারে? বিচারকরা তো সংবিধান মোতাবেক শপথ নিয়ে থাকে সেই শপথ কি রক্ষা করতে পারে?

হাইকোর্টের একজন বিচারক তো প্রকাশ্যে বলেই দিলেন শপথ মোতাবেক কাজ করতে পারছেন না।

উচ্চ আদালতের যদি এ অবস্থা হয় তাহলে নিম্ন আদালতের কি অবস্থা হতে পারে তা অনুধাবন করা যায়। খুব ঢাক ঢোল পিটিয়ে বিচার বিভাগ স্বাধীন করা হলো কিন্তু তা মুখের কথায় ও কাগজে কলমেই।

বিচারকদের উপর গোয়েন্দাদের চাপ অব্যাহতভাবে রয়েছে তা দেখাই যায়। হাইকোর্ট রায় দিলেই তা যদি পক্ষে যায় সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করে দেয়।

শেষ পর্যন্ত কোর্টও বদলে যায়। প্রধান বিচারকের সাথে দেখা করে সরকারের বিশেষ দূত নিজেই নাকি আমাকে জামিন দিতে নিষেধ করেছিল।

সুপ্রিম কোর্টকেই যদি নির্দেশ শুনতে হয়। সর্বোচ্চ আদালত যদি স্বাধীন না হয় তাহলে নিম্ন আদালতের অবস্থা কি তা তো অনুধাবন করা যায়। মামলার রায় কি হবে তার ‘ওহী নাযিল’ হয়, যা নির্দেশ দেয়া হবে তাই রায় দেবে।”

শেখ হাসিনার উপরোক্ত বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় যেমন উন্মোচিত হয়েছে তেমনি সম্পৃক্ত প্রশ্নও বিদ্ধ হচ্ছে।

প্রথমত দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমান মনে মনে শঙ্কা করেছেন, সন্দেহ পোষণ করেছেন শেখ হাসিনার সরকারে- ইসলাম বিরোধী ও বৈরী যে ষড়যন্ত্রকারী শক্তিটি ঘাপটি মেরে আছে-

তারাই কী শেখ হাসিনার লেখায় বর্ণিত কায়দায় আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে সংবিধান থেকে

‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস,

রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম,

বিসমিল্লাহ শরীফ’ ইত্যাদি উঠিয়ে নেয়ার গভীর অপতৎপরতা করছে না?

তাদের পাক-চক্রেই কী হাইকোর্টের কথিত দুই বিচারক ‘পর্দা’ পালনে বাধ্য করা যাবে না- এই মহা অনৈসলামিক রায় দেয়া হয়নি?

শেখ হাসিনা নিজেও কী এ বিষয়গুলো নিজের লেখার সাথে তাল মিলিয়ে বিবেচনা করবেন?

তবে এ ব্যাপারে যে আশাবাদী আশ্বাস আছে তার প্রমাণ

শেখ হাসিনার এ লেখায়ও বেশ শক্তভাবে আছে।

কারণ, শেখ হাসিনা কয়েকবার লিখেছেন যে, শেখ হাসিনা রীতিমতো নামায পড়েন। এমনকি যে সাধারণ মুসল্লী ফজর নামায পড়েনা তিনি তারও ঊর্ধ্বে। তিনি রীতিমত ফজর নামায পড়েন। শুধু তাই নয়, ফজর নামায শেষে তিনি নিয়মিত কুরআন শরীফ পাঠ করেন, তাসবীহ পড়েন।

আর যে অগাধ ভক্তি, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা নিয়ে তিনি প্রতিদিন কুরআন শরীফ পাঠ করেন,

সেই কুরআন শরীফ-এর সূরা নূর, সূরা আহযাব, সূরা নিসায় স্পষ্টভাবে ও শক্তভাবে ‘পর্দা ফরয হওয়ার কথা বলা হয়েছে’।

পাশাপাশি সাতশ-এরও বেশি আয়াত শরীফ-এ ইসলামী আহকামের কথা উল্লেখ আছে।

যাতে পর্দা, নামায প্রচলনের পাশাপাশি সুদ, ঘুষ, বেপর্দা, ছবি, গান-বাজনা ইত্যাদি হারাম হওয়ার কথা ও বন্ধ করার কথা বলা আছে।

বলাবাহুল্য, কুরআন শরীফ-এর প্রতি শুধু শেখ হাসিনাই নয়; শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানেরও একইভাবে অগাধ ভক্তি, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা রয়ে গেছে।

তারা তাই আশা করে যে,

প্রতিদিন কুরআন শরীফ তিলাওয়াতকারী শেখ হাসিনা সব হারাম কাজ বন্ধ করণে উদ্বুদ্ধ হবেন।

প্রসঙ্গত তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো- ‘কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোন আইন পাস হবে না’।

সুতরাং দেশবাসীর আশায় শুধু সঙ্গতই নয় বরং অনিবার্য

শেখ হাসিনার লেখায় একটা অভিনব বিষয় যুক্ত হয়েছে।

একটা জায়গায় এসে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার বক্তব্য এক হয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাকে টেনে হিঁচড়ে জেলে আনা হয়েছে।’

*******

খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক আমলে এমনই মন্তব্য করেছিলেন এবং এই সেদিনও বললেন যে, ‘তাকে টেনে হিঁচড়ে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।’

বলাবাহুল্য, যারাই এসব করে তারাই কথিত আইন-শৃঙ্খলার লোক।

তারা খালেদা-হাসিনার অধীনেই থাকে। খালেদা-হাসিনাকেই যদি তারা এরূপ করে তবে সাধারণ মানুষকে কেমন করে?

এক্ষেত্রে এ অপচর্চা বন্ধ করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শৃঙ্খলিত থাকার একটা পার্মানেন্ট ব্যবস্থার জন্য কী বর্তমান প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা উদ্যোগী হয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন?

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক