চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৪

সংখ্যা: ২০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

বর্তমান সংখ্যার আলোচনা: ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলীক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

Real Hizri Calendar Implementation Council Bangladesh নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে (অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে) তারা ৯০টি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে। তারা লিখেছে-

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

২৮ নম্বর মতামত : ইসলামী শরীয়তে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে কুরআন শরীফ-এর দলীলকে হাদীছ শরীফ-এর উপর প্রাধান্য দেয়া হয়।

২৯ নম্বর মতামত : একত্রে নয়, একই সময়ে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন সময় অঞ্চলের পার্থক্য ঠিক রেখে, পৃথিবীর সকল দেশ তাদের স্থানীয় সময় অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট দিনে রমাদ্বান শরীফ এবং ঈদ পালন করতে পারে।

২৮ নম্বর মতামতের জবাব : যখন কোনো বিষয়ে কুরআন শরীফ-এর দলীল থাকে তবে অবশ্যই সকল দলীলের চেয়ে কুরআন শরীফ-এর দলীলকে প্রাধান্য দেয়া হবে। কিন্তু যারা সারাবিশ্বে একদিনে রোযা ও ঈদ পালন করার পক্ষে, যারা সারা পৃথিবীর জন্য একটি হিজরী ক্যালেন্ডার রচনা করতে চায় তারা কি এর স্বপক্ষে কুরআন শরীফ থেকে কোনো দলীল দিতে পারবে? কখনোই নয়। এছাড়া যে সকল দেশের বিভ্রান্ত শাসকগোষ্ঠী, উলামায়ে ‘ছূ’ অমাবস্যা অনুযায়ী মাস গণনা করে বা নিজস্ব মনগড়া পদ্ধতি অনুযায়ী ক্যালেন্ডার রচনা করে মাস গণনা করে তারাও কি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ থেকে দলীল দিতে পারবে? না তারাও কখনো দলীল দিতে পারবে না। বরং কুরআন শরীফ-এ স্পষ্ট ইরশাদ করা হয়েছে “হিলাল বা বাঁকা চাঁদ দেখে মাস গণনা করতে।” আর যেহেতু চাঁদ সারা পৃথিবীতে একই সময়ে সকল জায়গায় দেখা যাবে না। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে রোযা বা ঈদ পালনের তারিখের পার্থক্য হবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং সারা পৃথিবীর জন্য একটি নির্দিষ্ট হিজরী ক্যালেন্ডার রচনা করার বিষয়টি অবান্তর।

২৯ নম্বর মতামতের জবাব : সারা বিশ্বের জন্য একটি হিজরী ক্যালেন্ডার রচনাকারীরা মূলত প্রলাপ বকে যাচ্ছে। তাদের মতামতগুলোর মধ্যে তাদের স্ববিরোধিতা স্পষ্ট। এর কারণ হচ্ছে, এদের যেমনি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ইলম নেই, তেমনি মহাকাশ বিজ্ঞানের চাঁদ বিষয়ে প্রচ্ছন্ন ধারণা আছে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। সর্বোপরি কোনো মহান ওলীআল্লাহ উনার মুবারক ছোহবত থেকে বঞ্চিত বলে তারা সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে, সমাধানে পৌঁছতে পারছে না।

কেননা ২৯ নম্বর মতামতে তারা নিজেরাই বলছে- একত্রে নয়, একই সময়ে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন সময় অঞ্চলের পার্থক্য ঠিক রেখে, পৃথিবীর সকল দেশ তাদের স্থানীয় সময় অনুযায়ী… রমাদ্বান বা ঈদ পালন করতে পারে। আবার তারাই এ কথার মাঝে যোগ করেছে একটি নির্দিষ্ট দিনে। তাদের জানা উচিত পৃথিবীর বিভিন্ন সময় অঞ্চল অনুযায়ী যদি রোযা বা ঈদ করতে হয় তবে একই দিনে সারা বিশ্বে ঈদ বা রোযা পালন করা সম্ভব নয়। আবার শুরুতেই তারা বলেছে- একত্রে নয়, একই সময়ে নয় …। একত্রেই যদি না করা যায়, একই সময়েও যদি না করা যায় তবে এ সকল অপপ্রচারকারীরা কেন সারা বিশ্বে একটি নির্দিষ্ট হিজরী ক্যালেন্ডার চাপিয়ে দেয়ার অলীক স্বপ্নে  বিভোর

 

বিশ্বের জন্য ১৪৩২ হিজরীর পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদের রিপোর্ট

জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১, বৃহস্পতিবার, ভোর ২টা ৩১ মিনিটে (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)।

অমাবস্যার দিন অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১, বৃহস্পতিবার সউদী আরবে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

বাংলাদেশের জন্য ১৪৩২ হিজরীর পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদের রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১১, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩১ মিনিটে।

বাংলাদেশে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১, শুক্রবার সন্ধ্যায়।

সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ৪৭ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৬টা ৫৬ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত এবং চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ১৫ ডিগ্রি উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ খুঁজতে হবে ২৫৫ ডিগ্রি আজিমাতে। সেদিন চাঁদ দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি ৪ ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার চাঁদ দেখা যায় তবে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস শুরু হবে ৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার থেকে এবং সে অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারী, বুধবার হবে পবিত্র ১২ রবীউল আউয়াল শরীফ।

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক