ধর্মের নামে রাজনীতি দাবি করলেও ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকদের চেয়েও অনেক বেশি সহিংসতায় হরতাল করেছে। প্রতিভাত করেছে ধর্মব্যবসায়ীরা ধর্মহীনদের চেয়েও খারাপ এবং হিংস্র তথা জঙ্গি। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কঠোর অবমাননা করায় ও চরম ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করায় ওদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী ও ইসলামদ্রোহী আমলের দৃষ্টান্তমূলক ও উল্লেখযোগ্য শাস্তি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংখ্যা: ২০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইসলাম ধর্মে পিকেটিং সম্পূর্ণ হারাম। মুসলমান ওই ব্যক্তি যার জবান এবং হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। অর্থাৎ যে কথা এবং কাজ দ্বারা মানুষকে আঘাত করে না।
কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না। নিশ্চয় ফাসাদ কতলের চেয়েও ভয়ঙ্কর।”
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “মুসলমানকে কষ্ট দেয়া কুফরী।” বিশেষত মুবারক বিদায় হজ্জের মশহুর খুতবায় আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “আজকের এ দিন যেমন পবিত্র, তেমনি প্রতিটি মুসলমানের জান-মালও পবিত্র।”
এ জান-মাল রক্ষার জন্য বিদায় হজ্জের খুতবায় জিহাদ করার অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।
উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ থেকে প্রতিভাত হয় যে, মুসলমানের জান-মাল মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কতো পবিত্র।
মুসলমানের জান-মালের ক্ষতি করা তথা ফাসাদ তৈরি করা কতো নিকৃষ্ট কাজ এবং এ ধরনের কাজ করা মূলত দেশে একটা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়ার উস্কানিমূলক প্রক্রিয়া।
গভীর আক্ষেপ ও দুঃখজনক বিষয় হলো ইসলামের নামধারী দলগুলো গত ৪ঠা এপ্রিল/২০১১ হরতালে উপরোক্ত ন্যক্কারজনক কাজগুলোই অবলীলাক্রমে ও সোৎসাহে করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বিপুল সংখ্যক যানবাহনে ভাঙচুর চালায় হরতাল সমর্থকরা। ঘটায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা। চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা চালায় তারা। এসব ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত দুই শতাধিক আহত হয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় পুলিশের প্রতি হরতাল সমর্থকেরা ছিল মারমুখী। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর, কল্যাণপুর, সাতমসজিদ রোড ও সাইনবোর্ড এলাকায় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ২০-২৫টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় হরতাল সমর্থকেরা। তবে ঢাকায় নগরীর শান্তিনগর এলাকায় পুলিশ ও মাদ্রাসা ছাত্রদের মধ্যে হাতাহাতি, পুলিশের প্রতি অভিনব কায়দায় ঘুষি ও কুংফু কারাতে স্টাইলে লাথি মারতে দেখা যায়। এসব সংঘর্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় আহত হন শতাধিক।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মাদ্রাসাছাত্ররা শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। সেখানে ছিনতাই হয় পুলিশের একটি রাইফেল ও ওয়াকিটকি। সংঘর্ষে ১২ জন পুলিশ, নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। পিকেটারদের অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হরতালকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়। সেখানে মারমুখী ভঙ্গিতে পুলিশের ওপর চড়াও হয় মাদ্রাসাছাত্ররা। আমিনী দাবি করেন, গত আড়াই বছরে এমন হরতাল হয়নি। গত কয়েকটি হরতালে পিকেটিং হয়নি, কিন্তু আমার সাহসী সন্তানরা পিকেটিং করেছে।
প্রসঙ্গত প্রশ্ন উঠে, মুফতে কমিনী কি জানেন যে, পিকেটিং কালচার ইসলাম বিরোধী নাস্তিক এবং খ্রিস্টান-ইহুদীদের থেকে এসেছে? ইসলামের দৃষ্টিতে পিকেটিং সম্পূর্ণ হারাম এবং চরম-পরম কবীরা গুনাহ। কারণ এটা মানুষের উপর জবরদস্তি করাসহ মানুষের জান-মাল ক্ষতি করার মতো মারাত্মক গুনাহ। এদেশে যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করে তারা বিজাতীয় কায়দায় পিকেটিং করে থাকে। কিন্তু তারা ইসলামের নামে করে না। কারণ ইসলামের নাম দিয়ে যেমন শরাব ও শূকরের গোশত চলে না, তেমনি পিকেটিং চলে না।
কিন্তু ইসলামের নাম দিয়ে শুধু পিকেটিংই নয় বরং অনেক বেশি সহিংস, হিংস্র ও বর্বর পিকেটিং করেছে ইসলামের নামধারী মুফতে কমিনীর দল। স্পষ্টরূপে এ ধর্মব্যবসায়ীরা প্রমাণ করেছে যে, তারা ধর্মনিরপেক্ষ তথা ধর্মহীনদের চেয়েও খারাপ।
সঙ্গতকারণে বলতে হয়, ওরা ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। ওরা ধর্মের নামে চলতে পারে না। ইসলামের নামে রাজনীতি চলতে পারে না। এবং ইসলামী রাজনীতির নামে ধর্মব্যবসায়ীরা যা করছে তা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অবমাননা। এজন্য ওদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী ও ইসলামদ্রোহী কাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও জনগণকে সমন্বিতভাবে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক