প্রসঙ্গ : মসজিদের জমিতে অশ্লীল ছবিযুক্ত বিলবোর্ড। বিলবোর্ড সরানো সম্পর্কে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং উলামায়ে ছূ’।

সংখ্যা: ২০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

ছবিই যেখানে ইসলামে হারাম; সেখানে অশ্লীল ছবির বিলবোর্ডের টাকা মসজিদের মাওলানাই যদি গ্রহণ করে তবে সরকার আর ইসলামের দৃষ্টিতে ছবিসহ বিলবোর্ড নিষিদ্ধ করার অনুপ্রেরণা কীভাবে পাবে?
কিন্থ সরকারও তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতেই বিলবোর্ডের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। তবে সরকারের ভিতরে যে আরেক সরকার আছে তাদের কারণে এখন তা কার্যকর হচ্ছে না। জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ দেয়ার দু’মাস পরও রাজধানীতে এখনও সব বিপজ্জনক অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়নি। এগুলো মহানগরীর অধিবাসীদের চক্ষুশূল হয়ে আছে। ঝড় ও টর্নেডোতে পড়ে যাওয়া বিলবোর্ডে যানবাহন ও পথচারীদের কতটা মারাত্মক বিপদ ঘটাতে পারে তা আর প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না।
প্রতি বছর বিলবোর্ড ভেঙে পড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পর তৎপর হয় ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। কিছুদিন চলে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ। এরপর ঝড়ের মৌসুম চলে যায়। থেমে যায় সব। আবার ঝড়ের মৌসুম আসে। এমন দুয়েকটি ঘটনা ঘটে। আবার উচ্ছেদ করার জন্য তৎপর হয় ডিসিসি। এভাবে একদিকে চলে ডিসিসির উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, প্রতি বছর কয়েকজন করে মারা গেলেও দায়ীদের কোনো শাস্তি হয় না। প্রতিটি ঘটনায় এক বা একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা ডিসিসিও করে। কিন্তু কোনো বিচার হয় না। সব আবার আগের মতোই চলে। আগের মতোই অবৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা।
গত ১৫ মার্চ রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিলবোর্ড পড়ে গিয়ে দুই ব্যক্তি মারা যায়। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিজয় সরণিতে তিনটি এবং ধানমন্ডিতে একটি বিলবোর্ড পড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। গত বছর গাবতলীতেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। বিলবোর্ড পড়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনার পর গত বছর ২১ মার্চ রাজধানীতে সব অবৈধ বিলবোর্ড অবিলম্বে অপসারণের জন্য ডিসিসিকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, মে/২০১০ থেকে জানুয়ারি/২০১১ পর্যন্ত উচ্ছেদ হয়েছে ছোট বড় প্রায় দেড়শ’ বিলবোর্ড। এখন তথাকথিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে নগরীকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) পক্ষ থেকে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। দিনে ১০-১৫টি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এ হিসাবে নগরীকে অবৈধ বিলবোর্ড মুক্ত করতে প্রায় ৫ বছর সময় লাগতে পারে।
ডিসিসি’র মতে, রাজধানীতে আড়াই হাজার ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড-মেগাসাইন রয়েছে। যে কোন সময় এগুলো পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর বৈধ বিলবোর্ড রয়েছে প্রায় ৭শ’।
মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন) রুলস-১৯৮৬ অনুযায়ী- কোনো ব্যক্তি যদি কারো জমিতে বা ভবনে অথবা করপোরেশনের জমিতে বা ভবনে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বিলবোর্ড অথবা সাইনবোর্ড স্থাপন করতে চান তবে অবশ্যই ডিসিসির অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ডিসিসিকে কর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ভবন মালিক কিংবা বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান তার কোম্পানির বিজ্ঞাপন ফলক ডিসপ্লের জন্য বছরে একটি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে থাকে। এ কর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ১শ’ টাকা হারে। আর ডিসপ্লে বোর্ডের সাইজ হবে ৬ থেকে ৮শ’ বর্গফুট পর্যন্ত।
উল্লেখ্য যে, বৈধ ও অবৈধ বিলবোর্ডের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ডিসিসি সৎভাবে কাজ করলে এ অবস্থা হোতো না। এক বছরের মধ্যে রাজধানীতে সব অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা যেতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিলবোর্ড ব্যবসায়ী বলেন, অভিযোগ রয়েছে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করলে ডিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ অর্থ পাবে না। তাদেরকে একটি অবৈধ বিলবোর্ডের জন্য বছরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়। এজন্য বিলবোর্ড উচ্ছেদে ডিসিসি’র জোড়ালো কোন উদ্যোগ নেই।
প্রসঙ্গত বিলবোর্ড উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে তাহলো, দুর্ঘটনায় মৃত্যু। নগরীর শোভায় বিঘ্ন ঘটা এবং নির্দিষ্ট হারে কর না দেয়ার কারণে অবৈধ হওয়া।
কিন্তু সরকারের নীতি নির্ধারক মহল অথবা খোদ হাইকোর্টের কাছে একটা বিষয় এখনো আসেনি; সেটা হলো- মারাত্মক অশ্লীলতা।
বলাবাহুল্য, মানুষ স্পর্শকাতর জীব। বিলবোর্ডে যেভাবে বিবস্ত্র নারীর উত্তেজক ভঙ্গিমা চিত্রায়িত থাকে, তা দেখে তাদেরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভোগ করে প্রতিটি সাধারণ মানুষ। এ মনস্তাত্ত্বিক ভোগবাদী প্রবণতা অবশেষে তাকে পরিণত করে পশুবৎ ধর্ষকে। আর তা না পারলেও নিদেনপক্ষে নারীটিজিং-এ।
বলাবাহুল্য, অশ্লীল নারী ভঙ্গিমার এসব বিলবোর্ডগুলো নারী অধিকারও চরমভাবে ব্যহত করছে। কারণ, মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিলবোর্ডের চিত্রায়িত নারীদেহকে ভোগকারী পুরুষের মানসে থাকে ঐসব কথিত সুন্দরী।
কিন্তু বাস্তবে অপেক্ষাকৃত কমসুন্দরী স্ত্রীকে কাছে পেয়ে তখন অতৃপ্ত হয় পুরুষ মন। তৈরি হয় অপছন্দ। তৈরি অনাগ্রহ। সব সময় উন্মুখ প্রবণতা তৈরি হয় বিলবোর্ডে দর্শিত অনুরূপ কোনো সুন্দরী নারীর সান্নিধ্য লাভের।
সবমিলিয়ে তৈরি হয় অবৈধ প্রবণতা তথা চরিত্রহীনতা। পরিণামে ঘরের স্ত্রী হয় লাঞ্ছিত, পদদলিত এবং বঞ্চিত। লঙ্ঘিত হয় নারী অধিকার। সমাজে তৈরি হয় অপরাধ বলয়। সমাজ হারায় ভারসাম্য। তৈরি হয় ইসলাম বৈরী পরিবেশ। মুসলমান হারায় তার ইসলামী অনুভূতি, আবেগ, ধর্মীয় ভাবাবেগ। প্রাধান্য লাভ করে, বিজাতীয় সংস্কৃতি। স্বদেশ প্রেম যায় উবে। ঊর্বরভূমি তৈরি হয় সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য। দেশের স্বাধীনতা হয় বিপন্নের মুখোমুখি।
সঙ্গতকারণেই বিলবোর্ডের নিকটবর্তী ক্ষতিকর দিকটিই কেবল আমলে না নিয়ে দূরবর্তী এবং সর্বব্যাপী ক্ষতিকর দিকগুলোও হাইকোর্টকে তথা সরকারকে যথাযথ আমলে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত একথা ঠিক যে, সরকারের এ অবিমৃষ্যকারিতা তথা বিপথগামীতার জন্য মূলত নামধারী ধর্মব্যবসায়ী মাওলানারাই দায়ী। ছবি তোলার বিরুদ্ধে যেখানে তাদের সরব হওয়া কর্তব্য ছিলো, সেখানে তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ছবির পক্ষে সরকারকে প্ররোচিত করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ তাদের সবার পুস্তকে, যবানীতেও ছবি তোলার বিরুদ্ধে রয়ে গেছে। কিন্থ ধর্মব্যবসার স্বার্থেই তারা এখন ছবির পক্ষে বলছে।
কাজেই সরকারের মনে রাখা কর্তব্য যে, এসব স্ববিরোধী, ধর্ম-বিরোধী, ধর্মব্যবসায়ীদের বক্তব্য ও আমল ধর্মের প্রকৃত পরিচয় পেশ, প্রতিভাত ও প্রমাণিত করেনা। তারা ধর্ম ও ধর্মপ্রাণদের আদৌ প্রতিনিধিত্ব করে না। রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তি ছাড়া তাদের জামানতই সব সময়ই বাজেয়াপ্ত হয়।
কাজেই তাদের কথায় ছবির পক্ষে কাজ করা বোকামিই বটে। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণদের অনুভূতিতে তীব্র আঘাত ছাড়া অন্য কিছু নয়। সুতরাং সরকারকে এসব ধর্মব্যবসায়ীদের বিপরীতে হাক্বীক্বী নেক সংস্পর্শে যেতে হবে। সেখান থেকে ছহীহ সমঝ তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ও দোয়া হাছিল করতে হবে।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ- মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার নেক ছোহবতে গেলেই তা পাওয়া সম্ভব হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক