শিক্ষানীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দেশে চলছে অবাধ শিক্ষাবাণিজ্য। ইসলামশূন্য শিক্ষানীতিতে তৎপর মহল এ বিষয়ে নীরব কেন?

সংখ্যা: ২০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

দেশে শিক্ষাবাণিজ্য তুঙ্গে। রাজধানীসহ সারাদেশেই প্রতি বছর ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে অসংখ্য নানা ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলোর উপর সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। শুধু গত এক বছরেই রাজধানী ঢাকায় নতুন গড়ে উঠেছে প্রায় ৪শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অভিভাবকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অনুমোদনহীনভাবে গজিয়ে উঠা কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়াম, ক্যাডেট বা প্রি-ক্যাডেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী চলছে শিক্ষা ব্যবসা। বিশেষ করে দেশের বড় শহরগুলোতেই এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশি গড়ে উঠছে। আর এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই নামকরণ করা হচ্ছে দেশের প্রতিষ্ঠিত স্কুল কিংবা কলেজের নাম নকল করে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবার ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনও দিয়ে শিক্ষার্থী ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। এক কথায় ফ্রিস্টাইলে চলছে এসব শিক্ষা বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো।
রাজধানীসহ সারা দেশে ১২ হাজারেরও বেশি কিন্ডারগার্টেনে কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ার নামে চলছে জমজমাট শিক্ষাবাণিজ্য। ভর্তি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে বাণিজ্যের চিন্তাধারা। তাছাড়া কিন্ডারগার্টেনগুলোতে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় বিভিন্ন গাইড বই ফলো করে শিক্ষার্থীদের অদক্ষ শিক্ষকদের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে পাঠদান। শিক্ষাবাণিজ্যে লাভজনক হওয়ার কারণে এ ব্যবসায় এখন অনেকে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্ডারগার্টেন গড়ে উঠছে পাড়া মহল্লায়। সমাজের একশ্রেণীর উদ্যোক্তা কিন্ডারগার্টেনকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিন্তা করে অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে।
কিন্ডারগার্টেনগুলোতে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় শিশুদের ভর্তি করা হয়। মাসিক বেতন ৩০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ওই কিন্ডারগার্টেন থেকে খুদে শিক্ষার্থীদের বই থেকে শুরু করে কলম, রাবার, পেন্সিল, খাতা এমনকি স্কুল ব্যাচ পর্যন্ত কিনতে হয়। অনেক স্কুল থেকে স্কুল ড্রেসও বাধ্যতামূলকভাবে কিনতে হয়। এখানেই শেষ নয়, বছর শেষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও বনভোজনের নামে নেওয়া হয় বড় অঙ্গের টাকা। তাছাড়া এক এক কিন্ডারগার্টেনের পাঠ্যক্রম এক এক ধরনের। এই কিন্ডারগার্টেনগুলো সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একগাদা বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেয়।
শুধুমাত্র সরকারি অননুমোদিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, অনুমোদিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও চলছে শিক্ষাবাণিজ্য। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই এ বিষয়ে কোনো নীতিমালাও। অথচ সরকার এমপিওভুক্ত ২৬ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন দিচ্ছে। কিন্তু সরকারি অর্থে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও এগুলোর নিয়ন্ত্রণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে। ওই প্রভাবশালীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো শিক্ষা বাণিজ্য চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের তৈরি করা প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালাও মানছে না। বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিণত করেছে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের ক্ষেত্র হিসেবে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে বছর বছর উন্নয়নের নামে মোটা অংকের টাকা দিতে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে ২০০৮ সালে সরকার একটি নির্দেশনা জারি করেছিলো। তাতে কোনো স্কুলেই প্রথম শ্রেণীর ভর্তিতে ৫ হাজার টাকা বেশি না নেয়ার কথা বলা হয়। কিছু কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারের এ নির্দেশনা মানলেও অধিকাংশ বড় বড় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই তা মানছে না।
বর্তমানে সারাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার সংখ্যা ২৬ হাজার ৮৫টি। এর মধ্যে স্কুল রয়েছে ১৬ হাজার ১১৮টি, কলেজ ২ হাজার ৩৭০টি এবং মাদরাসা ৭ হাজার ৫৯৭টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক আছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮ জন এবং কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৪ জন। তারা সবাই নিয়মিতভাবেই সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পাচ্ছে।
কিন্তু তারপরেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি আইন মানার ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। মূলতঃ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই।
বলাবাহুল্য, দেশে যখন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অপ্রতুল, অর্থনীতি যেখানে বাজারমুখী, সেখানে যে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ হবে সেটা আশ্চর্যের কিছু নয়। আশ্চর্য হচ্ছে স্কুলগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন বেতনবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরার কেউ নেই। তেমনি লাগাম টানা প্রয়োজন কোচিং সেন্টারগুলোর ভর্তিবাণিজ্য ও শিক্ষকদের প্রাইভেট কোচিং অভিমুখী হওয়ার। শিক্ষা বাণিজ্য নয়, এটা সব পক্ষকেই বুঝতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতির চাহিদা বনাম যোগানের শর্ত মেনেও এটা বলতে হবে যে, শিক্ষা যে কোনো শিশুর জন্মগত অধিকার। আর সে অধিকার নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত সরকারের। সরকার ব্যর্থ হলে যে অরাজকতার সৃষ্টি হবে তা থেকে মুক্তি পাবে না কেউ।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। দেশজুড়ে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির কতোটি শাখা-উপশাখা আছে, এর হিসাব কারো জানা নেই। মালিকানা নিয়ে কয়টি মামলা আছে, তারও সংখ্যা কেউ জানে না।
উল্লেখ্য, সরকারের উদ্যোগের অভাব কিংবা ব্যর্থতার কারণেই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। আর সেই পথটি কিন্তু শুধু উচ্চবিত্তদের জন্যই সংরক্ষিত। ফলে সংবিধানে উল্লিখিত শিক্ষার সমসুযোগ দেয়ার যে বিধান আছে তা কি লংঘিত হচ্ছে না? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর সাথে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯-এর সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ সেখানে বলা হয়েছে, ‘দেশের উচ্চশিক্ষার স্বার্থে প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি এবং শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত উপযুক্ত মানের হতে হবে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, আর্থসামাজিক অবস্থান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নির্বিশেষে কোনো কারণেই বৈষম্যমূলক হতে পারবে না, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনা করা যাবে না এবং স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতির বিরোধী হতে পারবে না।’ (জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯-এর ১৬ নম্বর ধারা)
অথচ বাস্তবে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজের ইচ্ছামাফিক টিউশন ফিসহ যেকোনো শিক্ষাব্যয় নির্ধারণ করতে পারবে। আর শিক্ষার্থী সেই ব্যয় বহন করতে বাধ্য হবে।
শিক্ষার সুযোগ দেয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই অর্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা বাঁধা পড়েছে একান্তই অর্থবিত্তের কাছে। তারা চিন্তা করছে কিভাবে দুটি টাকা মুনাফা করা যায়। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার ব্যাপারটি তাদের কাছে মূল বিষয় না স্বাভাবিক কারণেই।
অর্থনীতি যেখানে বাজারমুখী, সেখানে যে শিক্ষার শিক্ষাবাণিজ্য নয়, এটা সরকারকেই কার্যকর করতে হবে।

-মুহম্মদ আশিকুল্লাহ, নূরানীগঞ্জ।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক