নারী অধিকার প্রসঙ্গে

সংখ্যা: ২০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

‘নারী দিবস’ একদিন হবে কেন? একদিনই লেখালেখি করলে কি নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে? তা কিন্তু নয়, ৩৬৫ দিনই নারীর মর্যাদা থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, আমরা আশা করি পরিবারে, সমাজে, দেশে, পৃথিবীর সর্বত্রই সার্বক্ষণিক নারীরা স্ব-স্ব বৈশিষ্ট্যে উদ্ভাসিত থাকবে। যার যার কর্মক্ষেত্রে নারীর পদচারণা থাকবে স্বাধীন; সমধিকার পূর্ণ।
অথচ আফসুস! নারীদের এই ‘সমধিকার’ সম্পর্কেই নারী সমাজ আজ সজাগ নয়! ‘সমধিকার’ শব্দের অর্থটাই তারা বুঝতে পারে না। তথাকথিত নারীরা মনে করে, সমধিকার বলতে একজন পুরুষ যা করতে পারে একজন নারী তাদের পাশে থেকে তাই করবে। বরং তাদের এ ধারণাই ভুল, মিথ্যা এবং ধোঁকাপূর্ণ।
‘সমধিকার’ বলতে এটাই বুঝানো হয়, যার যা অধিকার রয়েছে সেটা পরিবারেরই হোক আর সমাজেরই হোক না কেন; তার অধিকারগুলোই তার নিজস্ব গুণাবলীতে বা বৈশিষ্ট্যে বাস্তবায়ন করা। তার মানে এই নয় যে, নারী-পুরুষ এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে কাজ করবে অথবা পুরুষ যা করে নারীও তাই করবে! তাদের এ কথার বা দাবির ফলশ্রুতিতে যা হয়-
প্রথমত: বেপর্দা হতে হয়। আর যখনই বেপর্দা হয়; হাদীছ শরীফ মুতাবিক তখন শয়তান পাপে লিপ্ত করার জন্য উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকে।
দ্বিতীয়ত: হাদীছ শরীফ-হতে জানা যায়, দু’জন নারী-পুরুষ একাকী থাকলে তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়তান। ফলে শুরু হয় ফিতনা-ফ্যাসাদ। পুরুষের দ্বারা নারী লাঞ্ছিত এবং সম্ভ্রমহানির শিকার হয়ে থাকে। ফলে একজন নারী নিজেই শুধু পাপিষ্ঠ হয়না অন্যকেও তার সাথে পাপিষ্ঠ করে। নিজেই পরিবারে, সমাজে হেয়-ঘৃণিত হয়। আবার অপর জনকেও একই অবস্থার সম্মুখীন করে। মাঝখান থেকে ফায়দাটা হয় কার? ফায়দা হয় খোদ ইবলিস শয়তানের। সে হাতে তালি দিয়ে লাফাতে থাকে আর খুশি প্রকাশ করতে থাকে। নারীদের অধঃপতিত অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন দেখে শয়তান আত্মতৃপ্তি লাভ করে। কলুষিত জীবন নারীকে দুনিয়ায় যেমন লাঞ্ছিত করে পরকালেও নিজেকে এবং তার সাথে সম্পৃক্ত পুরুষ, স্বামী, মা-বাবা সবাইকে জাহান্নামী করে।
আর সে জন্যই কালের বিভীষিকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন ‘নারী দিবসে’ সমধিকারের এই ধ্যান-ধারণাই সকলকে ত্যাগ করতে হবে। তবেই যদি ‘সমধিকার’ প্রতিষ্ঠা হয়, নারীদের মুক্তি আসে। নচেৎ কোন দিনও নারী মুক্তি সম্ভব নয়।
আল্লাহ পাক তিনি মহিলাদেরকে এমন কতগুলো বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যার কারণে পারিবারিক জীবনে পুরুষের তত্ত্বাবধানে থাকা নারীর জন্য নিরাপদ। আর পুরুষরা নারীদেরকে তাদের প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করে এবং তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে। এজন্য পুরুষের তত্ত্বাবধানে থাকা নারীর জন্য কল্যাণকর। তবে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ওই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী।” আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “পুরুষ তত্ত্বাবধায়ক তার পরিবারের। আর মহিলা তত্তা¡বধায়ক তার স্বামীর ঘরের ও তার সন্তানের।” (বুখারী শরীফ)
আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুরুষ জাতির কর্ম পরিধি মহিলা জাতির কর্ম পরিধি থেকে পৃথক করে দিয়েছেন। সে মুতাবিক মহিলাগণ বাড়ির ভেতরের জন্য দায়িত্বশীল এবং পুরুষরা বাড়ির বাইরের জন্য দায়িত্বশীল। তবে এখানে এটি বলা হয়নি যে, প্রয়োজন হলে নারীরা ঘর থেকে বের হতে পারবে না। অবশ্যই প্রয়োজনে আপাদমস্তক ঢেকে পর্দাসহ বের হতে পারবে। কাজেই পুরুষ এবং নারী উভয়ই যার যার অবস্থানে অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান। সুবহানাল্লাহ!
ইসলাম বিদ্বেষী, কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীরা নারীদেরকে দুনিয়াবী কোন সুযোগ-সুবিধা দেয়না। এমনকি ধন-সম্পদের ওয়ারিশ থেকেও তাদের বঞ্চিত করে থাকে। কিন্তু দ্বীন ইসলামে স্ত্রী, কন্যা, মা, বোন হিসেবে সম্পদের ওয়ারিশ করা হয়েছে। স্বামীর উপর স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ফরয করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান সমাজে তথাকথিত নারীবাদী মহিলারা ইসলামের বৈশিষ্ট্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে বেপর্দা অবস্থায় বিভিন্ন কর্মকা-ে পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান করে লাঞ্ছিত হয়ে নিজেদেরই মান-সম্মান নষ্ট করেছে এবং করছে। সুতরাং তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিধি-বিধান না মানলে ‘সমধিকার’ এর আসল ফায়দা কোন দিনও লাভ করতে পারবে না। ‘নারী দিবস’ ‘নারী অধিকার’ তাদের শুধু মুখের বুলি হয়েই থাকবে, হাক্বীক্বতে পৌঁছবে না। আর তাই নারীবাদীদের তথাকথিত শ্লোগান বাদ দিয়ে শরীয়তের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে। দ্বীন ইসলামে কী বলা হয়েছে তা জানতে হবে, শিখতে হবে এবং তা যথার্থরূপে মানতেও হবে। হাদীছ শরীফ-এ এসেছে “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ইলম অর্জন করা ফরয।” (মহিলারা সুযোগ মতো ইলম অর্জন করে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়ে আপন মেধা, প্রতিভা, উদ্ভাবনী শক্তি, কর্ম দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে।) তবেই শরীয়ত বর্ণিত ‘নারী অধিকার’ সম্পর্কে এবং পর্দাবিহীন সমাজের নেতিবাচক দিকগুলো পরিপূর্ণভাবে বুঝতে সক্ষম হবে। ইনশাআল্লাহ!
স্মর্তব্য যে, উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং অসংখ্য মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনারা নারীদের অধিকার সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন এবং বর্তমান যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলী, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী এবং উনার পবিত্রতমা সহধর্মিণী, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন, আফদ্বালুন নিসা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহাল আলী তিনি তাবৎ কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা তথা বাতিল ফিরক্বা কর্তৃক নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত মা বোনদের দ্বীন ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় দিয়ে তাদের হৃত মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করছেন, হিদায়েতের নূর ছড়াচ্ছেন এবং মহিলাদের প্রকৃত ‘নারী অধিকার’ এর স্বরূপ সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছেন।
সুতরাং আমাদের প্রত্যেককে নারীর অধিকার সম্পর্কে জানতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হলে অবশ্যই সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহাল আলী উনার পবিত্র ছোহবতে এসে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করে তা আমলে বাস্তবায়ন করে দোজাহানের কামিয়াবী হাছিল করতে হবে। তবেই আমাদের ইহকাল পরকালের কল্যাণ সাধিত হবে ইনশাআল্লাহ!
খালিক্ব, মালিক, রব আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন এবং উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আমাদের সবাইকে কবুল করুন। (আমীন)

-আজিমা ফারহা।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক