ফারাক্কার কারণে গত ৩৬ বছরে এদেশের সরাসরি ক্ষতি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪শ কোটি টাকা। পরোক্ষ ক্ষতি তারও ছয়গুণ। সঙ্গতকারণেই এত বিপুল ক্ষতির ক্ষতিপূরণ; ভারত সরকারের কাছে-বাংলাদেশকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ও জোর গলায় অবিলম্বে দাবি করতে হবে

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

ফারাক্কার ভয়াবহ প্রভাবে দেশের একের পর এক নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চলাচলের মূল মাধ্যম নৌ-রুটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিটিএ) ফারাক্কা বাঁধের এ পর্যন্ত দেশের ৫৩টি নৌ-রুটকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নদীসমূহের নাব্যতা শুষ্ক মৌসুমে নাই বললেই চলে। ফলে ডুবোচরে জলযানসমূহ অনাকাঙ্খিত ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তার চেয়েও ভয়াবহ কথা হলো ভরা মৌসুমে অস্বাভাবিক বন্যার দুর্যোগ পোহাতে হয়।

ফারাক্কা বাঁধের কু-প্রভাবে খুলনা অঞ্চলের মাটিতে অস্বাভাবিক মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা করছেন। তাছাড়া মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ভূ-অভ্যন্তরে লবণ প্রবেশ করে ভূ-অভ্যন্তরস্থ পানিকে পানের অযোগ্য করে তুলছে।

কৃষির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় দক্ষিণ অঞ্চলের জি-কে সেচ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচযন্ত্রগুলো বন্ধ হয়ে আছে অথবা সেগুলোর উপর তার ক্ষমতার চাইতে বেশি চাপ পড়ছে। এই প্রকল্পের অন্তর্গত প্রায় ১২১,৪১০ হেক্টর জমি রয়েছে। মাটির আর্দ্রতা, লবণাক্ততা, মিঠা পানির অপ্রাপ্যতা কৃষির মারাত্মক ক্ষতি করেছে।

পানি অপসারণের ফলে পদ্মা ও এর শাখা-প্রশাখাগুলোর প্রবাহের ধরন, পানি প্রবাহের বেগ, মোট দ্রবণীয় পদার্থ এবং লবণাক্ততার পরিবর্তন ঘটেছে। এই বিষয়গুলো মাছের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গার পানির উপর অত্র এলাকার প্রায় দুইশতেরও বেশি মাছের প্রজাতি ও ১৮ প্রজাতির চিংড়ি নির্ভর করে। ফারাক্কা বাঁধের জন্য মাছের সরবরাহ কমে গেছে এবং কয়েক হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছে।

ফারাক্কার প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ৩২০ কিলোমিটারেরও বেশি নৌপথ নৌ-চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে কয়েক হাজার লোক বেকার হয় ও নৌ-পরিবহনের খরচ বেড়ে যায়।

ফারাক্কার প্রভাবে ভূ-অভ্যন্তরের পানির স্তর বেশির ভাগ জায়গায়ই ৩ মিটারের বেশি কমে গেছে। তাছাড়া বিভিন্ন দ্রবীভূত পদার্থের, ক্লোরাইড, সালফেট ইত্যাদির ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণেও পানির স্তর কমছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি, শিল্প, পানি সরবরাহ ইত্যাদির উপর। মানুষের বাধ্য হয়ে ১২০০ মিলিগ্রাম-লিটার  দ্রবীভূত পদার্থ সম্পন্ন পানি পান করছে। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৫০০ মিলিগ্রাম-লিটারের কম দ্রবীভূত পদার্থ সম্পন্ন পানিকেই মানুষের পান করার জন্য উপযুক্ত বলে ঘোষণা করেছে। ফারাক্কার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের প্রতি বছর ক্ষতির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার। মানে গড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা।

আর অন্য এক হিসাব মতে, ‘ফারাক্কা বাঁধের কারণে ৩৬ বছরে বাংলাদেশের ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪শ কোটি টাকার সরাসরি ক্ষতি হয়েছে। অর্থাৎ ফারাক্কার কারণে প্রত্যক্ষ যা ক্ষতি হয় পরোক্ষ ক্ষতি তার ছয়গুণ।’

গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে সেখান থেকে ওই নদীর পানির সিংহভাগ ভাগীরথী নদীতে প্রবাহিত করায় পদ্মায় পানির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত কমে গিয়ে বাংলাদেশের যে ব্যাপক ও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, সে জন্য সঙ্গতকারণেই বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভারত সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা। আর এই দাবি করতে যেন অনেকদিন লেগে না যায় সে লক্ষ্যে ক্ষতির বিবরণ তৈরি ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য কালবিলম্ব না করে সম্পূর্ণ স্ব-উদ্যোগে বাংলাদেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও পারদর্শী নাগরিকদের দ্বারা একটি ব্যাপক জরিপ আরম্ভ করাও দরকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের কাছে ভারত সরকার একবার এ রকম ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তারা বলেছিল যে, কাপ্তাই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য কাপ্তাইতে বাঁধ দেয়ায় পার্শ্ববর্তী ভারতীয় এলাকার কিছু জমি ডুবে যাবে; আর সে জন্য নগদ অর্থে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বাংলাদেশ সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান পরিচয়ে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিন্তা করেছিলেন যে, ভারত ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার করে নেয়ার ফলে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পানি থেকে বঞ্চিত হবে তার জন্য যৌক্তিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের জন্য অর্থ যোগান দিয়ে ভারত এ ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের তৎকালীন বন্যা নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী জনাব আবদুর রব সেরনিয়াবাত নয়াদিল্লি গিয়ে ভারতের সে সময়ের কৃষি ও সেচমন্ত্রী শ্রী জগজীবন রামের সঙ্গে গঙ্গার পানি ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করুক। এ বিষয়ে ৯ জানুয়ারি ১৯৭৫ প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেন ও বিএম আব্বাস এটির সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে বাংলাদেশ যে অবস্থান নেবে তা অনুমোদন করেন। এর তিনটি দফার একটি ছিল, ভারত ফারাক্কা থেকে পানি প্রত্যাহার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে ফেলায় বাংলাদেশের জন্য গঙ্গা বাঁধ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ আশা করে, শুকনো মৌসুমে গঙ্গা থেকে অন্ততপক্ষে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং পানি ভাগাভাগির ফলে বাংলাদেশ যে পানি হারাবে তার জন্য ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে।

প্রতিভাত হচ্ছে যে, গঙ্গার পানি ভাগাভাগির দরুন ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হোক বা চাওয়া যেতে পারে এ কথা ১৯৭৫ সালের শুরুতে দেশের উচ্চতম পর্যায়েই চিন্তা করা হয়েছিল। ফলে এখন বর্তমানে ফারাক্কার প্রভাবে সমূহ ক্ষতির প্রেক্ষিতে এ দাবি আরো জোরদারভাবে উচ্চারণ করা যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সেই পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে ফারাক্কা বাঁধের মারফত শুকনো মৌসুম (অর্থাৎ বর্ষাকাল ছাড়া) গঙ্গার পানি প্রত্যাহার শুরুর কয়েক বছর পরও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বারবার দাবি করে এসেছে যে, তারা পানি নেয়ায় বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না বা হচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশ এখন জোর দিয়ে বলতে পারে যে, তার বিশাল ক্ষতি হয়েছে এবং আরও ক্ষতি হচ্ছে। মানুষ প্রত্যেকদিন এই ক্ষতিগুলো দেখতে পাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধে ভারতের পানি প্রত্যাহারের ফলে ক্ষতিগুলো এখন এতটাই দৃশ্যমান যে, এগুলো এখন পরিমাপও করা যাবে। আর সে জন্যই বাংলাদেশ নিজে জরিপ করে এই ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে পারে। সরকারের এ বিষয়ে যথাযথভাবে এগিয়ে আসা উচিত। ভারতের প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে অবিলম্বে বাংলাদেশের হক্ব আদায়ে সচেষ্ট হওয়া উচিত। প্রসঙ্গত কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা যালিমও হয়ো না মজলুমও হয়ো না।”

-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক