যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৭৮

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলত যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হল মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী। তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরনিকা-বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

ধারাবাহিক

মিথ্যাবাদী তথাকথিত মুফতী, স্বঘোষিত মুশরিক শামছুল হকের মিথ্যাচারিতার খণ্ডণমূলক জাওয়াব

 

৭. প্রসঙ্গ : কদুকে অপছন্দ করা

 

মিথ্যাবাদী, জাহিল, প্রতারক, ধোঁকাবাজ, ভণ্ড, স্বঘোষিত মুশরিক “শামছু…” অতঃপর আরো লিখেছে, “তার পত্রিকায় লিখেছে যদি কেউ বলে যে, আমি কদুকে পছন্দ করি না তাহলে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে-এ ফতওয়াটি কোন মুজতাহিদ ইমামের তা লিখেননি তার ফতওয়ায়।”

“খণ্ডণমূলক জবাব”

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেদিন এরূপ করতে দেখলাম তারপর থেকে আমিও কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম। (বুখারী শরীফ)

عن حضرت انس بن مالك رضى الله تعالى عنه انه خياطا دعا النبى صلى الله عليه وسلم لطعام صنعه فذهبت مع النبى صلى الله عليه وسلم فقرب خبز شعير ومرعا فيه دباء وقديد رايت النبى صلى الله عليه وسلم يتتمع الدباء من حوالى القصعة فلم ازل احب الدباء بعد يومئذ

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, জনৈক দর্জি ছাহাবী কিছু খাবার প্রস্তুত করে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করলেন। আমিও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে গেলাম। তিনি যবের রুটি আর কিছু শুরুয়া যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল পরিবেশন করলেন। আমি দেখলাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পেয়ালার চতুর্দিক থেকে বেছে বেছে কদু খাচ্ছেন। সে দিনের পর থেকে আমিও কদু খাওয়া পছন্দ করতে লাগলাম। (বুখারী শরীফ)

عن حضرت انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتى مولى له خياطا فاتى بدباء فجعل ياكله فلم ازل احبه منذ رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم ياكله.

অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখলাম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে কিছু শুরুয়া উপস্থিত করা হলো যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল। আমি উনাকে কদু বেছে বেছে খেতে দেখলাম। (বুখারী শরীফ)

عن حضرت انس بن مالك رضى الله تعالى عنه يقول ان خياطا دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم لطعام صنعه قال انس فذهبت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الى ذلك الطعام فقرب الى رسول الله صلى الله عليه وسلم خبزا من شعير ومرقا فيه دباء وقديد قال انس رضى الله تعالى عنه فرايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتتبع الدباء من حول الصحفة فلم ازل احب الدباء من يومئذ.

অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন দর্জি ছাহাবী কিছু খাবার প্রস্তুত করে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করলেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সে দাওয়াতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে যবের রুটি এবং কিছু শুরুয়া পেশ করতে দেখলাম যাতে কদু ও শুকনা গোশত ছিল। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি দেখলাম: হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পেয়ালার চতুষ্পার্শ্ব থেকে কদু খুঁজে খাচ্ছেন। সে দিন থেকে আমি কদু ভালবাসতে লাগলাম। (বুখারী শরীফ)

অতএব, সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, কদু খাওয়া খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাই নয় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই কদুকে খুব পছন্দ করতেন। সুতরাং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেটাকে পছন্দ করেছেন ও খেয়েছেন সেটাকে যদি কেউ অপছন্দ করে বা অবজ্ঞা করে তার ঈমান থাকে কি করে? ভুয়া মুফতী, স্বঘোষিত মুশরিক “শামছু…” কি প্রমাণ করতে পারবে যে, সুন্নতকে অপছন্দ বা অবজ্ঞা করলে কাফির হবে না বা ঈমান যাবে না। কস্মিনকালেও সে তা প্রমাণ করতে পারবে না। কেননা হাদীছ শরীফ-এ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لو تركتم سنة نبيكم لكفرتم

অর্থাৎ “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নতকে (অবজ্ঞা বা অপছন্দ করে) তরক কর, তবে তোমরা নিঃসন্দেহে কুফরী করলে।” (আবূ দাঊদ শরীফ)

এর উপর ভিত্তি করেই বলা হয় যে-

اهانة السنة كفر

অর্থাৎ “সুন্নতকে ইহানত তথা অবজ্ঞা, অপছন্দ ও অস্বীকার করা কুফরী।” অতএব, কদু খাওয়া সুন্নত বা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কদুকে পছন্দ করতেন এটা জানার পরও যদি কেউ বলে যে, আমি কদুকে পছন্দ করি না। তবে সে অবশ্যই কুফরী করলো। কারণ স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেটা পছন্দ করেছেন সেটা সে অপছন্দ করলো, হাক্বীক্বত সে নবীজীরই বিরোধিতা করলো। দ্বীন সম্পর্কে যার সামান্য ইলম ও সমঝ আছে তাকে তো এটা দলীল দিয়ে বুঝানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এজন্য তো সাধারণ আক্বলই যথেষ্ট। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, মিথ্যাবাদী জাহিল ভ- স্বঘোষিত মুশরিক ‘শামছু…র’ সাধারণ আক্বলও নেই। তাছাড়া যে বুখারী শরীফ-এর হাদীছ শরীফ সম্পর্কে জানেনা সে কি করে নিজেকে মুফতী বলে প্রচার করে? পাঠক মিথ্যাবাদী, জাহিল, প্রতারক স্বঘোষিত মুশরিক ‘শামছুর…র’ দ্বীন সম্পর্কে সামান্যতম আক্বল না থাকলেও সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়া, প্রতারণা করা, মিথ্যাচারিতা ও অন্যের বক্তব্য কাট-ছাঁট করে উপস্থাপন করার ব্যাপারে তার চতুরতা (আক্বল) ষোল আনাই রয়েছে।

 

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

 

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক