মুহম্মদ শমসের আলী, পাবনা

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সুওয়াল: মুসলিম পুরুষদের সুন্নতী পোশাক কি কি? দয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

জাওয়াব: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলাইহি যেসকল পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করেছেন এবং পরিধান করতে বলেছেন তাই সুন্নতী পোশাক। সুন্নতী পোশাক-পরিচ্ছদগুলোর কতিপয় নি¤েœ আলোচনা করা হলো:

১। দায়িমী বা সার্বক্ষণিকভাবে মাথায় ইমামাহ বা পাগড়ী পরিধান করা, পাগড়ীর রং কালো, সাদা ও সবুজ।

২। চার টুকরাবিশিষ্ট সাদা সূতি মাথার সাথে লেগে থাকে, এমন টুপি দায়িমীভাবে পরিধান করা।

৩। লম্বায় নিছফুস সাক (হাঁটু ও পায়ে টাখনুর মাঝামাঝি) পরিমান, কোনাবন্ধ, গুটলীওয়ালা ক্বমীছ বা কোর্তা পরিধান করা।

৪। ইযার বা ফাঁড়া লুঙ্গি পরিধান করা।

৫। পাগড়ীর উপর সাদা রুমাল পরিধান করা।

৬। টুপির নিচে তেল থেকে টুপিকে রক্ষার জন্য ক্বিনায়া বা তৈলপট্টি ব্যবহার করা।

৭। ক্রস ফিতাবিশিষ্ট চামড়ার না’লাঈন বা স্যা-েল ব্যবহার করা।

পক্ষান্তরে এটাও জানতে হবে যে, পুরুষের জন্য লাল, হলুদ, গোলাপী, জাফরানী রঙের পোশাক, রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণের অলঙ্কার ব্যবহার করা হারাম। কিন্তু মহিলাদের জন্য এগুলো জায়িয। এছাড়াও কাফির মুশরিক ইহুদী-নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ ও যাবতীয় বিধর্মীদের সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাক যেমন শার্ট, প্যান্ট, টাই, কোর্ট ধুতী, পৈতা ইত্যাদি পরিধান করা কাট্টা হারাম।

মহিলাদের পোশাক পুরুষরা এবং পুরুষদের পোশাক মহিলারা পরিধান করাও হারাম। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ, তাফসীরুত ত্বাবারী, তাফসীরুল মাযহারী, ফতওয়ায়ে কাযীখান, আলমগীরী, শামী, বাহরুর রায়িক ইত্যাদি)

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।