মুহম্মদ নাজমুল হুদা, কিশোরগঞ্জ

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সুওয়াল: ফজর ও আছর নামাযের পর ইমাম ছাহেব মুক্তাদীর দিকে ঘুরে বসে দুআ বা মুনাজাত করেন। এ ব্যাপারে  শরীয়তের কি হুকুম? দয়া করে জানাবেন।

জাওয়াব: শরীয়তের হুকুম বা ফতওয়া হলো, যেসব নামাযে ফরযের পর সুন্নত নামায রয়েছে যেমন- যুহর, জুমুয়া, মাগরিব, ইশা সেসব নামাযে ইমাম ছাহেব ফরযের পর মুক্তাদীর দিকে ফিরে বা ঘুরে বসে মুনাজাত করবে না। বরং ক্বিবলামুখী হয়েই মুনাজাত করবেন।

আর যেসব নামাযে ফরযের পর সুন্নত নামায নেই যেমন- ফজর ও আছর সেসব নামাযে ইমাম ছাহেব ফরয নামায শেষে মুক্তাদীর দিকে ঘুরে বসে মুনাজাত করবেন।

কেননা স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেসব ফরয নামাযের পর সুন্নত নামায নেই সেসব ফরয নামাযে সালাম ফিরানোর পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন অতঃপর দুআ করতেন। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت الاسواد العامرى رضى الله تعالى عنه عن ابيه قال صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الفجر فلما سلم انصرف ورفع يديه ودعا.

অর্থ: হযরত আসওয়াদ আমিরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন, উনার পিতা বলেন, আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে ফজর নামায পড়লাম। যখন তিনি নামায শেষ করে সালাম ফিরালেন তখন তিনি ঘুরে বসলেন এবং উভয় হাত মুবারক উঠিয়ে দুআ (মুনাজাত) করলেন। (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ)

হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت زيد بن خالد رضى الله تعالى عنه قال صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلوة الصبح بالحديبية فلما انصرف اقبل على الناس.

অর্থ: হযরত যায়িদ ইবনে খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে নিয়ে হুদায়বিয়াতে ফজরের নামায আদায় করলেন। যখন নামায শেষ করলেন তখন মুছল্লীগণের দিকে ফিরে বসলেন। (বুখারী শরীফ)

আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت سدى رحمة الله عليه قال سألت انسا كيف انصرف اذا صليت عن يمينى او عن يسارى قال اما انا فاكثر ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينصرف عن يمينه.

অর্থ: হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, নামায শেষ করার পর কিভাবে মুখ ফিরাবো, আমার ডান দিকে, না বাম দিকে? তিনি বললেন, মূলতঃ আমি অধিকাংশ সময় হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাকে উনার ডান দিকে ফিরে বসতে দেখেছি। (মুসলিম ও নাসায়ী)

عن حضرت قبيصة بن هلب رضى الله تعالى عنه انه صلى مع النبى صلى الله عليه وسلم فكان ينصرف عن شقيه اى حينا عن يمينه وحينا عن شماله.

অর্থ: হযরত কুবাইছা ইবনে হুলব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে তিনি নামায আদায় করেছেন। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয় দিকে ঘুরে বসতেন। অর্থাৎ কখনো উনার ডান দিকে এবং কখনো উনার বাম দিকে ঘুরে বসতেন। (আবূ দাউদ শরীফ)।

উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহ থেকে প্রতিভাত হলো যে, যেসব ফরয নামাযের পর সুন্নত নামায নেই সেসব নামাযে ইমাম ছাহেব সালাম ফিরানোর পর মুক্তাদীগণের দিকে ফিরে বসবেন। তবে প্রথম কাতারে যদি মাসবূক মুক্তাদী থাকে তাহলে ইমাম ছাহেব ডান দিকে অথবা বাম দিকে ফিরে বসবেন। উল্লেখ্য, যেহেতু অধিকাংশ সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ডান দিকে ফিরতেন সেহেতু ডান দিকে ফিরাটাই খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। আর ইমাম ছাহেব একজন মুক্তাদী নিয়ে নামায পড়লে সেক্ষেত্রে ইমাম ছাহেবকে পিছনে ফিরতে হবেনা। বরং একটু ডান দিকে ফিরে বসবেন অত:পর দুআ বা মুনাজাত করবেন। এটাই হলো শরীয়তের মাসয়ালা।

দলীলসমূহ: বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী, আবূ দাউদ, ফতহুল বারী, তাইসিরুল ক্বারী, মাআরিফে মাদানিয়াহ, তাহতাবী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, ফতহুল মুলহিম, শামী, কবীরী, দুররুল মুখতার, শরহে মুনিয়া, তাতারখানিয়া, খুলাছা, নূরুদ্দিরায়া, শরহে হিদায়া ইত্যাদি।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।