মুহম্মদ আবুল হাশেম, বহরিয়া বাজার, চাঁদপুর

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সুওয়াল: মাসিক মদীনা জানুয়ারী ২০১১ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নি¤েœাক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়-

প্রশ্ন: হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি অস্বাভাবিকভাবে … জন্মগ্রহণ করেছেন। কথাটা কি বাস্তব? এতদাঞ্চলের এক শ্রেণীর আলিম ‘আল এতহাফ’সহ বিভিন্ন কিতাবের বরাত দিয়ে ওয়াজ মাহফিলে বলে বেড়াচ্ছেন। আরো ফতওয়া দিচ্ছেন যে, যারা ওই অস্বাভাবিক জন্মে বিশ্বাসী নন তারা ওয়াহাবী। ওই ওয়াহাবীদের ইমামতিতে নামায আদায় দুরস্ত নয়। বিস্তারিত জানালে খুশি হবো।

উত্তর: প্রিয়তম নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম বিষয়ক যে তথ্যটির কথা প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য আমি কোনো হাদীছ, তাফসীর বা সীরাত-এর কিতাবে পাইনি। ‘আল ইতহাফ’ নামক কিতাবটিও আমি দেখেছি। কিছু সংখ্যক স্বল্পশিক্ষিত লোক বয়ানের বাজার গরম করার জন্য এধরনের উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে থাকেন বলে আমাদের ধারণা। আমার ধারণা, এরা ‘ওয়াহাবী’ শব্দের অর্থও জানে না।

এখন আমার সুওয়াল হলো মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য কতটুকু সঠিক? দলীল-আদিল্লাহসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ বা আগমন সম্পর্কে মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন সাহেবের উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি।

কারণ শুধুমাত্র বক্বদরে নিসাব পড়াশোনা করে স্বল্পশিক্ষিত হলে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ বা আগমন সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

দ্বিতীয়ত কোনো কথা বলতে হলে দেখতে হবে উক্ত কথা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা ও আমলের খিলাফ কিনা, উক্ত কথা আল্লাহ পাক ও উনার প্রিয় বান্দা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান ও মর্যাদার খিলাফ কিনা? বিশেষ করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান, মান ও ফযীলতের খেলাফ কিনা? অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, অতঃপর হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের খিলাফ কিনা?

স্মরণীয় যে, আমাদেরকে একদিন অবশ্যই আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয় হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে হাযির হতে হবে এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত-সুপারিশ সবার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে। কাজেই এমন কথা কস্মিনকালেও বলা শুদ্ধ হবে না, যা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান ও মর্যাদার বিন্দুতম খিলাফ হয়।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিসহ পূর্ববর্তী আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই সাধারণ মানুষের মতো বিলাদত শরীফ লাভ করেননি বা আগমন করেননি। যেহেতু নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও বিশেষভাবে মনোনীত বান্দা।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

الله يجتبى اليه من يشاء

অর্থ: “আল্লাহ পাক তিনি উনার দিকে মনোনীত করেন যাঁকে ইচ্ছা তাঁকেই।” (সূরা শুরা : আয়াত শরীফ ৩)

তাই আল্লাহ্ পাক তিনি নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদেরকে উনাদের শান হেতু স্বীয় কুদরতে আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন।

আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টি, অন্যান্য সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সকল মানুষের সৃষ্টি থেকে এক ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হয়েছে।

মানবীয় আকৃতি মুবারক-এ তিনি যমীনে তাশরীফ এনেছেন সত্যি কিন্তু  উনার সৃষ্টির উৎস, উপাদান, মায়ের রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ আনয়ন এবং রেহেম শরীফ হতে যমীনে তাশরীফ প্রত্যেকটি ছিল আল্লাহ পাক উনার খাছ কুদরতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীর মুবারক যে নূর মুবারক হতে সৃষ্টি হয়েছে সে নূর মুবারক কুদরতীভাবে উনার আম্মার রেহেম শরীফ-এ প্রবেশ করেছে এবং কুদরতীভাবেই তিনি উনার আম্মার বাম পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন। এটাই ছহীহ এবং আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা।

যারা বলে, “সমস্ত মানুষ মায়ের রেহেম শরীফ হতে যেভাবে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিও সেভাবে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন বা আগমণ করেছেন।” তাদের একথা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের বক্তব্য ভুল হওয়ার সবচাইতে বড় কারণ হলো তারা হাদীস শরীফ-এ বর্ণিত فرج শব্দের একাধিক শাব্দিক অর্থ থেকে একটি অর্থের উপর ভিত্তি করেই বক্তব্য পেশ করেছে। অর্থটি হচ্ছে  “স্বাভাবিক স্থান”।

অথচ  এ অর্থ ব্যতীত আরো যে অর্থের বর্ণনা পাওয়া যায় বিভিন্ন লুগাত বা অভিধান গ্রন্থে, তাহলো ছিদ্র, ফাঁক, ফাটল, প্রবেশ পথ, সুড়ঙ্গ, দু’হাত কিংবা দু’পায়ের মধ্যবর্তী স্থান, দু’জিনিসের মাঝে ব্যবধান সৃষ্টিকারী বস্তু, পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকের শরমগাহ এবং তার চতুর্দিকের স্থান ও সন্তান মায়ের রেহেম শরীফ হতে যে স্থান দিয়ে ভূমিষ্ট হয় ইত্যাদি।  অর্থাৎ এক কথায় فرج শব্দের অর্থ হলো ওই রাস্তা যে রাস্তা দিয়ে সন্তান ভুমিষ্ট হয়। فرج শব্দটি সকলের ক্ষেত্রে এক অর্থ প্রদান করবে না। যেমন সাধারণ মানুষের শানে যখন فرج শব্দটি ব্যবহার হবে তখন এর অর্থ হবে সাধারণ ও স্বাভাবিক স্থান।

আর অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে যখন فرج শব্দটি ব্যবহার হবে তখন এর অর্থ হবে নাভি ও স্বাভাবিক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান।

আর আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে যখন فرج শব্দটি ব্যবহার হবে, তখন এর অর্থ হবে বাম পাঁজর মুবারক-এর নিচের স্থান।

উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ লাভ বা আগমন করা সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

انه صلى الله عليه وسلم ولد من الخاصرة اليسرى

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন বা আগমন করেছেন।”

আরো উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ বা আগমন সম্পর্কে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত হলো-

كل مولود غير الانبياء يولد من الفرج وكل الانبياء غير نبينا مولودون من فوق الفرج وتحت السرة واما نبينا صلى الله عليه وسلم فمولود من الخاصرة اليسرى تحت الضلوع.

অর্থ: “আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত সমস্ত মানুষই স্বাভাবিকভাবেই জন্মগ্রহণ করেছেন। আর আমাদের নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিক স্থানের উপর ও নাভির নিচ থেকে ভুমিষ্ট হয়েছেন। আর আমাদের নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম¥া (হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম) উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন বা আগমন করেছেন।” (উমদাতুন নুকুল ফি কাইফিয়াতে বিলাদাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সাধারণ মানুষের মতো বিলাদত শরীফ লাভ করেননি। বরং আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে খাছ কুদরতীভাবে স্বাভাবিক স্থান ব্যতীত অন্যস্থান দিয়ে বিলাদত শরীফ লাভ করিয়েছেন। এ সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত আছে যে-

ولم يصح نقل ان نبيا من الانبياء ولد من الفرج ولهذا افتى المالكية بقتل من قال ان النبى صلى الله عليه وسلم ولد من مجرى البول.

অর্থ: “আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিক স্থান থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন একথা সম্পূর্ণই অশুদ্ধ। আর এজন্যই মালিকী মাযহাবের ইমামগণ ওই ব্যক্তিকে ক্বতল করার ফতওয়া দিয়েছেন যে ব্যক্তি বলবে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বাভাবিকভাবে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন।” (ওমদাতুন নুকুল ফি কাইফিয়াতি বিলাদাতির রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

উল্লেখ্য, বর্তমানে আমরা দেখতে পাই যে, সন্তান যখন স্বাভাবিক রীতি অনুযায়ী ভুমিষ্ট হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন সে সন্তানকে অপারেশন করে মায়ের রেহেম থেকে বের করে আনতে হয়। এ অবস্থায় নাভির নিচে ও স্বাভাবিক স্থানের উপর অপারেশন করতে হয়। অর্থাৎ এ অবস্থায়ও সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক পথে ভুমিষ্ট হয় না।

অতএব, এ বিষয়ে সকলকেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা মোতাবেক আক্বীদা পোষণ করতে হবে। আর তাহলো “হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত সমস্ত মানুষই (স্বীয় মায়ের) স্বাভাবিক স্থান থেকে জন্মগ্রহণ করেন। আর সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা নাভি ও স্বাভাবিক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন বা আগমন করেছেন। আর আমাদের নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন বা আগমন করেছেন।”

সুতরাং এর খিলাফ আক্বীদা পোষণ করার অর্থ হলো আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইহানত করা যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।  দ্বিতীয়ত: মাসিক মদীনা সম্পাদক বলেছে, “কিছু সংখ্যক স্বল্পশিক্ষিত লোক বয়ানের বাজার গরম করার জন্য এধরনের উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে থাকেন বলে আমাদের ধারণা।”

এর জবাবে বলতে হয় যে, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন কি আল্লাহ? যে সে সবার দিলের খবর জানে। সে কি করে বুঝলো যে, বয়ানের বাজার গরম করার জন্য এসব কথা বলে। তিনি তো আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্যও বলতে পারেন।

এভাবে ধারণা করে কারো সম্পর্কে কিছু বলা শরীয়তে কি জায়িয? আল্লাহ পাক তিনি তো কালাম পাক-এ ইরশাদ করেন,

ان بعض الظن اثم

অর্থ: “নিশ্চয়ই অনেক ধারণাই গুনাহর কারণ।” (সূরা হুজুরাত : আয়াত শরীফ ১২)

কাজেই ধারণা করে কথা বলে মাসিক মদীনার স্বল্পশিক্ষিত সম্পাদক মাহিউদ্দীন শরীয়ত বিরোধী কাজ করেছে।

সুতরাং উপরোক্ত দলীল আদিল্লাহর ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে এটাই প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ বা আগমন সম্পর্কে মাসিক মদীনার স্বল্পশিক্ষিত সম্পাদক মাহিউদ্দীন সাহেবের উক্ত বক্তব্য ভুল বলেই প্রমাণিত হলো।

সেই সাথে এটাই প্রমাণিত হলো যে, শুধুমাত্র বক্বদরে নিসাব পড়াশোনা করলে স্বল্পশিক্ষিত হওয়া ব্যতীত উপায় নাই। তাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ বা আগমন সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

অতএব যারা ধারণা করে কথা বলে তাদের কাছে শরীয়ত সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন না করাই উচিত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমাদের নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম¥া সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার বাম পার্শ্বের পাঁজর মুবারক-এর নিচ থেকে বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন বা আগমন করেছেন।” এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ-এর ৪৭, ৮২ ও ৯৪তম সংখ্যা পাঠ করুন।

 

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।