কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩৮

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

 

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

 

 

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

 

 

 

 

মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম (শরহুস সিনূসী আলাল মুসলিম)

 

কিতাবখানা লিখেছেন, হযরত ইমাম মুহম্মদ বিন মুহম্মদ বিন ইউসুফ আস সিনূসী আল হুসাইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ৮৯৫ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে।

(৬৪৭)

واجمعوا على منع تصوير ماله ظل وعلى منع دخول ماهو فيه وعلى وجوب تغيره وكسره. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجزء ۷ الصفحة ۲۵۲ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: দেহ বিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য (ও প্রাণীর ছবি) তৈরি করা হারাম এবং এমন ঘরে প্রবেশ করাও হারাম। এগুলো ধ্বংস করা ও অপসারণ করা ফরযে আইন। এর উপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (মুকাম্মাল ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণবিশিষ্ট প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদির চর্চা করা হারাম ৭ম খ- ২৫২ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বৈরূত লেবানন)

(৬৪৮)

واختلف فى تصوير ما ليس له ظل، فكرهه ابن شهاب مطلقا. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجزء ۷ الصفحة ۲۵۲ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: দেহহীন প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। তবে হযরত আল্লামা ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি সাধারণত প্রাণীর ছবিকে মাকরূহ তাহরীমী বলেছেন। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ৭ম খ- ২৫২ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বৈরূত লেবানন)

(৬৪৯)

وكره مالك والشافعى وابو حنيفة والاكثر ماصور فى غير ثوب اوفى ثوب لا يمتهن وهو اصح الاقاويل والجامع بين الاحاديث. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجزء ۷ الصفحة ۲۵۲ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অধিকাংশ ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতে, কাপড় ব্যতীত অন্য কিছুতে এবং কাপড়ে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা মাকরূহ তাহরীমী। তা সম্মানের জন্য হোক (অথবা অপমানের জন্য হোক)। সমস্ত হাদীছ শরীফ-এর ভিত্তিতে এটাই অধিক বিশুদ্ধ মত। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ৭ম খ- ২৫২ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বৈরূত লেবানন)

(৬৫০)

قال اصحابنا وغيرهم من العلماء تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور فى الاحاديث، وسواء صنعه فى ثوب اوبساط او درهم او دينار او غير ذلك. اما تصوير صورة الشجرة وغير ذلك فليس بحرام. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۵۳)

অর্থ: আমাদের উলামায়ে কিরাম এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা হারাম বরং শক্ত হারাম। আর তা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত কঠিন শাস্তি যোগ্য কাজ হওয়ার কারণে কবীরা গুনাহ। কাপড়ে বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায় ইত্যাদি যে কোনো বস্তুতেই হোক না কেন, সবখানেই প্রাণীর ছবি আঁকা হারাম। কিন্তু গাছ-পালা জড়বস্তু ইত্যাদিতে অঙ্কন করা হারাম নয়। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল ৭ম খ- ২৫৩ পৃষ্ঠা)

(৬৫১)

واما اتخاذ المصور بحيوان فان كان معلقا على الحائط سواء كان له ظل ام لا، او ثوبا ملبوس او عمامة او نحو ذلك فهو حرام. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۵۳)

অর্থ: দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি দেয়ালে ঝুলিয়ে থাকুক, অথবা কাপড়ে অথবা পোশাকে অথবা পাগড়ীতে অথবা অন্যকিছুতে অঙ্কিত থাকুক না কেন, সর্বাবস্থায় অঙ্কনকারীর উপর এমন কাজ করা হারাম। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল ৭ম খ- ২৫৩ পৃষ্ঠা)

(৬৫২)

يحتج به من يجيز الرقم مطلقا، وجوابنا وجواب الجمهور انه محمول على رقم مالا روح فيه. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۵۶)

অর্থ: এখান থেকে দলীল নেয়া হয় যে, রক্বম সাধারণত জায়িয। আমাদের ও অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ফায়সালা হলো- রক্বম অর্থ হলো- ‘প্রাণহীন বস্তুর ছবি’। অর্থাৎ প্রাণহীন বস্তুর ছবি তোলা আঁকা দেখা জায়িয। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল ৭ম খ- ২৫৬ পৃষ্ঠা)

(৬৫৩)

ويستدل به على منع ستر الجدران بالستور وهو منع كراهة. وقال الشيخ ابو الفتح نصر المغربى من اصحابنا هو حرام. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۵۷)

অর্থ: দেয়ালে প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট পর্দা ঝুলানো নিষেধ। নিষেধ দ্বারা উদ্দেশ্য মাকরূহ তাহরীমী। আমাদের উলামায়ে কিরাম হযরত শায়েখ আবুল ফাতহ মাগরিবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রাণীর ছবি দেয়ালে ঝুলানো হারাম। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম ৭ম খ- ২৫৭ পৃষ্ঠা)

(৬৫৪)

(ان من اشد الناس عذابا يوم القيامة الذين يشبهون بخلق الله) يدل انه من الكبائر المتوعد عليه النار. قيل المراد الذين يقصدون تشبيه خلق الله تعالى، واما المصور الذى لا يقصد ذلك فهو عاص. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۵۸)

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাণী: (ক্বিয়ামতের দিন ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে) এ হাদীছ শরীফ প্রমাণ করে, প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, যে বিষয়ে জাহান্নামের আগুনের শাস্তির কথা বর্ণিত আছে।

কেউ কেউ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারা, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করে। আর যে অঙ্কনকারী ব্যক্তি এমন ধারণা পোষণ করে না, তাহলে সে হবে আছী বা গুনাহগার। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম ৭ম খ- ২৫৮ পৃষ্ঠা)

(৬৫৫)

واما الشجر ونحوه مما لاروح فيه فلا تحرم صنعته ولا التكسب به، وهذا مذهب العلماء الا مجاهد فانه جعل الشجرة المثمرة من المكروه. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۵۹)

অর্থ: গাছ-পালা ও অনুরূপ প্রাণহীন জড়বস্তুর ছবি অঙ্কন করা এবং তা দিয়ে ব্যবসা করা হারাম নয়। ইহা সমস্ত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত। তবে হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফলদার গাছের ছবিকে মাকরূহ তানযীহী বলেছেন। (তিনি এ ফতওয়া তাক্বওয়ার দৃষ্টিতেই দিয়েছেন) (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম ৭ম খ- ২৫৯ পৃষ্ঠা)

(৬৫৬)

يحتمل ان الصورة التى صور هى التى تعذب بعد ان يجعل فيها روح. (مكمل اكمال الاكمال على المسلم الجزء ۷ الصفحة ۲۶۴)

অর্থ: ছূরত তৈরিকারীকে শাস্তি দেয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারী। (মুকাম্মালু ইকমালিল ইকমাল আলাল মুসলিম ৭ম খ- ২৬৪ পৃষ্ঠা)

 

ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম

 

অত্র কিতাবখানা লিখেছেন উস্তায ডক্টর মূসা শাহীন লাশীন। উক্ত কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৬৫৭)

اتخاذ المصور فيه صورة حيوان فان كان معلقا على حائط او كان فى ثوب ملبوس او عمامة ونحو ذلك مما لا يعد ممتهنا فهو حرام. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب التصوير واتخاذ الصورة والكلب الجزء ۸ الصفحة ۳۸۶ دار الشروق القاهرة المصر)

অর্থ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি ভাস্কর্য গ্রহণ করা হারাম। তা দেয়ালে লটকানো থাক অথবা পোশাক-পরিচ্ছদ, পাগড়ী ও এছাড়া যে কোনো বস্তুতে থাক না কেন। তা লাঞ্ছনার জন্য না হোক (অথবা লাঞ্ছনার জন্য হোক) এতে সমান মাসয়ালা। (ফতহুল মুনয়িম শরহে মুসলিম অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: মূর্তি-ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি ও কুকুরের হুকুম ৮ম খ- ৩৮৬ পৃষ্ঠা প্রকাশনা দারুশ-শুরূক, কাহিরা মিশর)

(৬৫৮)

ولا فرق فى هذا كله بين ما له ظل وما لا ظل له، هذا تلخيص مذهبنا فى المسألة، وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، وهو مذهب الثورى ومالك وابى حنيفة وغيرهم. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۶)

অর্থ: আমাদের মাযহাবের ফায়সালা অনুযায়ী দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি উভয়টির চর্চা করা হারাম, এতে কোনো প্রকার পার্থক্য নেই। অধিকাংশ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং উনাদের পরবর্তী হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্যগণের মতামত এমনটিই। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৬ পৃষ্ঠা)

(৬৫৯)

وقال بعض السلف: انما ينهى عما كان له ظل، ولا بأس بالصور التى ليس لها ظل، قال: وهذا مذهب باطل، فان الستر الذى انكر النبى صلى الله عليه وسلم الصورة فيه، لا يشك احد انه مذموم. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۶)

অর্থ: পূর্ববর্তী কতক উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন: যারা বলে দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি তুলতে অসুবিধা নেই, তাদের একথা বাতিল বা পরিত্যাজ্য। কেননা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবিযুক্ত পর্দাকে অছন্দ করেছেন। এমন কাজগুলো নিকৃষ্ট বা পাপের কারণ হওয়াতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৬ পৃষ্ঠা)

(৬৬০)

وقال الزهرى: النهى فى الصورة على العموم، وكذلك استعمال ما هى فيه، ودخول البيت الذى هى فيه، سواء كانت رقما فى ثوب او غير رقم، وسواء كان فى حائط او ثوب او بساط ممتهن او غير ممتهن، عملا بظاهر الحديث. قال النووى: وهذا مذهب قوى. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۶)

অর্থ: হযরত ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: প্রাণীর ছবি, মূর্তি-ভাস্কর্য সাধারণত নিষেধ বা হারাম। ইহার দ্বারা উপার্জন করা এবং ইহা ঘরে রাখাও হারাম। উহা কাপড়ে, কাপড় ছাড়া অন্য কিছুতে, দেয়ালে, পোশাকে, বিছানায় আঁকা-রাখা সমানভাবে হারাম। তা লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করুক অথবা সম্মান দেখাতে তৈরি করুক, এতে হুকুমের কোনো তারতম্য হবে না। অর্থাৎ সর্বশ্রেণীর প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য সর্বস্থানে সর্বাবস্থায় হারাম। ইহা হাদীছ শরীফ-এর স্পষ্ট বর্ণনার দাবি। হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইহাই শক্তিশালী মত। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৬ পৃষ্ঠা)

(৬৬১)

ان ابن العربى من المالكية نقل ان الصورة اذا كان لها ظل حرم بالاجماع سواء كانت مما يمتهن او لا (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۷)

অর্থ: মালিকী মাযহাবের একজন ইমাম হযরত ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা ইজমা মতে হারাম, তা লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করুক অথবা লাঞ্ছনার জন্য না করুক একই হুকুম। (কিন্তু চূড়ান্ত ফায়সালায় প্রাণীর ছবির হুকুমও অনুরূপ) (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৭ পৃষ্ঠা)

(৬৬৩)

وصحح ابن العربى ان الصورة التى لا ظل لها اذا بقيت على هيئتها حرمت، سواء كانت مما يمتهن ام لا، وان قطع راسها اوفرقت هيئتها جاز. قال: وهذا مذهب منقول عن الزهرى (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۷)

অর্থ: হযরত ইমাম ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই ফায়ছালাকে বিশুদ্ধ বলেছেন যে, প্রাণীর ছবি লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা লাঞ্ছনার জন্য না হোক যদি তৈরি করা হয়, তাহলে তা হবে হারাম। কিন্তু মাথা কেটে দেয়ার কারণে প্রাণীর ছবি অনুভূত না হলে জায়িয হবে। তিনি বলেন, ইহা তাবিয়ী হযরত ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত গ্রহণযোগ্য মত। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৭ পৃষ্ঠা)

(৬৬৩)

ونقل الرافعى عن الجمهور ان الصورة اذا قطع راسها ارتفع المانع (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۷)

অর্থ: জমহুর তথা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের থেকে হযরত ইমাম রাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের মাথা কাটার কারণে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের মত দেখা না গেলে (বরং জড়বস্তুর মত দেখে গেলে) তা হারামের আওতাভুক্ত হবে না। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৭ পৃষ্ঠা)

(৬৬৪)

ان النهى فى الصورة على العموم، واستعمال ما فيه صورة أيا كان ممنوع، سواء كانت رقما فى ثوب اوغير رقم، وسواء كانت فى ثوب او بساط ممتهن او غير ممتهن، حتى تماثيل لعب البنات حرام، ودخول البيت الذى فيه الصورة بجميع انواعها حرام، حالة واحدة مستثناة هى اذا فرقت الصورة، فلم تكن على هيئة يصح بها الحياة، كأن قطعت رأسها او فرقت اجزاؤها، وهذا مذهب منقول عن الزهرى، وصححه ابن العربى، وقواه النووى  (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۷)

অর্থ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা আমভাবে নিষেধ তথা হারাম। এগুলো ব্যবহার করা, এর ব্যবসা করা হারাম। এগুলো কাপড়ে তৈরি করা হোক অথবা কাপড় ছাড়া অন্য কিছুতে হোক একই হুকুম, অনুরূপ কাপড়ে, বিছানায় লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হোক একই হুকুম। এমনকি শিশুদের খেলার জন্য তৈরিকৃত প্রাণীর ছবি, মূর্তি, পুতুল ইত্যাদি হারাম। সর্বপ্রকার প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করাও হারাম। কিন্তু যদি প্রাণীর ছবি বা মূর্তি-ভাস্কর্যের মাথা কাটার কারণে প্রাণীর বা মূর্তি-ভাস্কর্যের মতো দেখা না যায়, তাহলে তা হারাম নয়। ইহা তাবিয়ী হযরত ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত গ্রহণযোগ্য মত। হযরত ইমাম ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতকে ছহীহ বলেছেন। হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতকে শক্তিশালী বলেছেন। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৭ পৃষ্ঠা)

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

 

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৯

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৫

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৭ম পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয় ৬ষ্ঠ পর্ব)