সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে (৭)

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার

ওয়াজ শরীফ

কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর আলোকে

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে  (৭)

 

 

আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ এবং যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ আমভাবে হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম এবং খাছভাবে উনাদের প্রত্যেকের শানে অর্থাৎ হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন-

قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى

আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত কায়িনাতকে বলে দিন-

قل لا اسئلكم عليه اجرا

আমি তোমাদেরকে যে হিদায়েত দিচ্ছি এবং যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত, তায়াল্লুক-নিসবত অর্থাৎ তোমাদের ইহকাল এবং পরকালের কামিয়াবীর যে বিষয়গুলো রিযামন্দী-সন্তুষ্টি ইত্যাদি দিচ্ছি এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কিছুই চাচ্ছি না অর্থাৎ তোমরা এর বিনিময় দিতে পারবে না, কাজেই চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তোমাদের ইস্তিক্বামত থাকার জন্য, হাক্বীক্বী ফায়দা লাভ করার জন্য-

الا المودة فى القربى

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তোমাদের দায়িত্ব হলো, কর্তব্য হলো আমার যাঁরা আহাল ও ইয়াল, আত্মীয়-স্বজন যাঁরা রয়েছেন আল-আওলাদ যাঁরা রয়েছেন উনাদের সাথে তোমরা উত্তম ব্যবহার করবে, উত্তম সম্পর্ক ও নিসবত রাখবে। ইহা তোমাদের ইহকাল ও পরকালে কামিয়াবীর কারণ। এরপর আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব তিনি বলেন-

من يقترف حسنة نزدله فيها حسنا ان الله غفور شكور

من يقترف حسنة

যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নেক কাজ করলো

نزدله فيها حسنا

আমি তার নেকীগুলি বৃদ্ধি করে দেই।

ان الله غفور شكور

নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল এবং তিনি সমস্ত আমলের প্রতিদানকারী, বদলা দানকারী।

যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহাল ও ইয়াল যাঁরা রয়েছেন, আহলে বাইত আলাইহিমুস  সালাম যাঁরা রয়েছেন উনাদের সাথে সৎ ব্যবহার করলে তার ইহকাল এবং পরকালে কামিয়াবী হাছিল হবে। সে কামিয়াবীটা আল্লাহ পাক তিনি পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে দিতে থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى لله عليه وسلم احبوا الله لما يغذوكم من نعمة واحبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

احبوا الله

তোমরা যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত কর।

لما يغذوكم من نعمة

কেন মুহব্বত করবে? কারণ যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে খাওয়া, পরা, অবস্থান অর্থাৎ সমস্ত নিয়ামত তিনি দিয়ে থাকেন। ইহকাল এবং পরকালেও দিবেন। কাজেই তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, কর্তব্য হচ্ছে যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করা। উনার সাথে নিসবত-তায়াল্লুক স্থাপন করা। এরপর তিনি নিজেই বলেন-

واحبونى لحب الله

যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতের কারণে যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, তোমরা আমাকে মুহব্বত কর। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার সাথে নিসবত ঠিক রাখতে হলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করতে হবে।

واحبوا اهل بيتى لحبى

এবং এরপর স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম রয়েছেন উনাদেরকে মুহব্বত কর। কেন? আমার মুহব্বতের কারণে। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত রাখার জন্য উনার যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে মুহব্বত স্থাপন করতে হবে, নিসবত, তায়াল্লুক রাখতে হবে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে নিসবত রাখলেই যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত স্থাপিত হবে, তায়াল্লুক হবে এবং উনার সাথে তায়াল্লুক নিসবত যদি স্থাপিত হয় তাহলে যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব উনার সাথেও মুহব্বত, তায়াল্লুক, নিসবত স্থাপিত হবে। সুবহানাল্লাহ!

বিশেষ করে হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যিনি অন্যতম সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার যে খুছূছিয়ত, মর্যাদা- মর্তবা উনার লক্বব সম্পর্কে গত সপ্তাহতেও আমরা বলেছি। কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলেন-

ولله الاسماء الحسنى فادعوه بها

যিনি খালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর নাম মুবারক রয়েছে সেটা দিয়ে উনাকে তোমরা সম্বোধন কর। এর তাফসীরে বা ব্যাখ্যায় বর্ণিত রয়েছে-

وللرسول الاسماء الحسنى فادعوه بها

এবং যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও সুন্দর সুন্দর নাম মুবারক রয়েছে। সেটা দিয়ে তোমরা উনাকে সম্বোধন কর এবং ঠিক একইভাবে

ولاهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم الاسماء الحسنى فادعوهم بها.

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা আহলে বাইত উনাদেরও সুন্দর সুন্দর নাম মুবারক রয়েছে সেটা দিয়ে তোমরা উনাদেরকে সম্বোধন কর। সুবহানাল্লাহ!

এই আয়াত শরীফ, হাদীছ শরীফ এবং এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দ্বারা কিন্তু এক হিসেবে যাঁরা নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, যাঁরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং বিশেষভাবে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনাদের লক্বব দিয়ে সম্বোধন করাটাই উত্তম, শ্রেষ্ঠ এবং এটা ফযীলতের কারণ, সুন্নতের কারণ। হ্যাঁ, তবে মাঝে মাঝে উনাদের নাম মুবারক উচ্চারণ করা যেতে পারে উনাদেরকে স্পষ্ট করে বুঝানোর জন্য। তবে উনাদের লক্বব মুবারক দিয়েই সম্বোধন করাটাই আফযল বা উত্তম।

এখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ এই লক্ববে তিনি মশহূর। উনি হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম। এখন উনাকে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এটা বললেই উনার পরিচয় হয়ে যায়। যারা উনার সম্পর্কে জানে, যারা মুসলমান, ঈমানদার কম-বেশি কিছু পড়াশুনা করে থাকে বা এই বিষয়ে চিন্তা-ফিকির করে থাকে, আলোচনা করে থাকে। উনার খুছূছিয়ত, উনার বৈশিষ্ট্য বেমেছাল। উনার তো অসংখ্য অগণিত, লক্ষ কোটি লক্বব মুবারক রয়েছে।

(অসমাপ্ত)

 

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)