মুহম্মদ শাহ আলম, শান্তিবাগ, ঢাকা

সংখ্যা: ২০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সুওয়াল: যামানার মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা (বালক-বালিকা, কিতাব বিভাগ ও হিফয বিভাগ) থেকে যাকাতযোগ্য সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে যে চিঠিখানা বিলি করা হয়েছে তা যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ প্রকাশ করলে এর পাঠকবৃন্দ উপকৃত হতো। তাই উক্ত চিঠিখানা প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করছি।

জাওয়াব: যাকাত ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদের মধ্যে অন্যতম বুনিয়াদ। যাকাত মালী ইবাদত। খিলাফতের যুগে যাকাতের মাল-সম্পদ বাইতুল মালে জমা হতো। সেখান থেকে খলীফার পক্ষ হতে যাকাতের হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই খিলাফতের ব্যবস্থা না থাকায় যাকাতদাতাগণ নিজেই যাকাতের মাল হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে থাকেন। এ কারণে যাকাতদাতার মধ্যে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গইরুল্লাহ অর্থাৎ রিয়া বা লৌকিকতা এ ধ্বংসাত্মক বদ গুণটি জন্ম নেয়। ফলে তার যাকাত কবুল হওয়ার বিপরীতে বরবাদ হয়ে যায়। এছাড়া সে এমন সব লোককে যাকাত দেয় যাদের আক্বীদা ও আমলের মধ্যে কুফরী রয়েছে অথবা যারা হারাম-নাজায়িয বিদয়াত-বেশরা কাজে মশগুল অথবা যারা নামায কালাম পড়ে না, পর্দা-পুশিদায় চলেনা, গান-বাজনা করে, টিভি-সিনেমা দেখে, খেলাধুলা করে ইত্যাদি যা চরম ফাসিকী ও নাফরমানী কাজের অন্তর্ভুক্ত অথবা এমন সব মাদরাসায় যাকাত দেয় যেসব মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পর্দা নেই, হারাম খেলাধুলায় লিপ্ত, হারাম দল-মত ও আন্দোলনের সাথে জড়িত অর্থাৎ হক্কানী আলিম- আল্লাহওয়ালা হওয়ার পরিবর্তে তাদের উদ্দেশ্য থাকে গইরুল্লাহ অর্থাৎ দুনিয়াবী ফায়দা হাছিল করা। এদেরকে যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া ইত্যাদি ফরয, ওয়াজিব দান-ছদকা দেয়া মোটেই শরীয়ত সম্মত নয়। কারণ আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

تعاونوا على البر والتقوى ولاتعانوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থ: তোমরা নেকী ও পরহিযগারীর মধ্যে সাহায্য করো। আর পাপ ও শত্রুতা অর্থাৎ আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতা বা নাফরমানীর মধ্যে সাহায্য করো না। এ বিষয়ে তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরা মায়িদা: আয়াত শরীফ-২)

তাই যাকাতদাতাগণ যেনো সঠিক স্থানে যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদকা দিয়ে পরিপূর্ণ ফায়দা হাছিল করতে পারে সেজন্য যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদ আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি উনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী হওয়ার, শরয়ী পর্দা পালন ও সুন্নতের পাবন্দ হওয়ার বর্তমানে একমাত্র দ্বীনী প্রতিষ্ঠান মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানার গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যাকাত, ফিতরা ইত্যাদি প্রদানের জন্য অত্র যাকাতের চিঠিখানা বিলি করার ব্যবস্থা করেন। আর একই উদ্দেশ্যে অত্র চিঠিখানা হতে যাকাতের বিস্তারিত মাসয়ালাগুলো এখানে পত্রস্থ করা হলো:

 যাকাত কাদেরকে দেয়া যাবে না:

১। উলামায়ে ছূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী মাওলানা দ্বারা পরিচালিত মাদরাসা অর্থাৎ যারা জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য কুফরী মতবাদের সাথে সম্পৃক্ত সেই সমস্ত মাদরাসাতে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হবে না।

২। নিসাব পরিমাণ মালের অধিকারী বা ধনী ব্যক্তিকে যাকাত দেয়া যাবে না।

৩। মুতাক্বাদ্দিমীন অর্থাৎ পূর্ববর্তী আলিমগণের মতে কুরাঈশ গোত্রের বনু হাশিম-এর অন্তর্গত হযরত আব্বাস, হযরত জাফর, হযরত আকীল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের বংশধরের জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়। তবে মুতাআখখিরীন অর্থাৎ পরবর্তী আলিমগণের মতে বৈধ।

৪। অমুসলিম ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে না

৫। যে সমস্ত মাদরাসায় ইয়াতীমখানা ও লিল্লাহ বোডিং আছে সেখানে যাকাত দেয়া যাবে এবং যে সমস্ত মাদরাসায় লিল্লাহ বোডিং নেই সেখানে যাকাত দেয়া যাবে না।

৬। দরিদ্র পিতামাতাকে, সন্তানকে, স্বামী বা স্ত্রীকে যাকাত দেয়া যাবে না।

৭। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ইয়াতীমখানা লিল্লাহ বোডিংয়ের জন্য যাকাত আদায়কারী নিযুক্ত হলে তাকে যাকাত দেয়া যাবে না।

৮। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যদি উপার্জন ছেড়ে দিয়ে নামায-রোযা ইত্যাদি নফল ইবাদতে মশগুল হয়ে যায় তাকে যাকাত দেয়া যাবে না। তবে সে যদি উপার্জন না থাকার কারণে যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত হয় তবে যাকাত দেয়া যাবে।

৯। বেতন বা ভাতা হিসেবে নিজ কর্মচারী, কর্মচারিণী বা কাজের পুরুষ ও মহিলাদেরকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে না।

 উশর বা ফসলের যাকাত:

কৃষিজাত পণ্য-ফল ও ফসলের যাকাতকে ইসলামী পরিভাষায় ‘উশর’ বলে। বাংলাদেশের জমি উশরী কিনা তা নিয়ে মত পার্থক্য থাকলেও হক্কানী আলিম-উলামাগণের ফতওয়া হলো উশর প্রদানের পক্ষে।

 উশরের নিসাব ও শর্ত:

ইমামে আয’ম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত হলো, কম বেশি যাই হোক উশর আদায় করতে হবে। জমির খাজনা বা কর দিলেও উশর আদায় করতে হবে। বছরে একাধিক ফসল উৎপন্ন হলে প্রতি ফসলেই ‘উশর’ দিতে হবে।

 স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ বা অলঙ্কারের যাকাত কে দিবে ?

স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ একই পরিবারের গণ্য হলেও মালিকানা ভিন্ন তাই পৃথকভাবে যাকাত আদায় করতে হবে। স্ত্রীর যদি অলঙ্কার ব্যতীত অন্য কোন সম্পদ না থাকে তবে স্ত্রীর হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে বা কিছু অলঙ্কার বিক্রি করে যাকাত আদায় করতে হবে। অলঙ্কারের যাকাত স্ত্রীর পক্ষে স্বামী আদায় করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে।

 যাকাতের হিসাব কখন থেকে করতে হবে ?

যাকাত বছরান্তে ফরয এবং বছরান্তে যাকাতের হিসাব করা ওয়াজিব। চন্দ্র বছরের যে কোন একটি তারিখকে যাকাত হিসাবের জন্য নির্ধারিত করতে হবে। বাংলা বা ইংরেজি বছর হিসাব করলে তা শুদ্ধ হবে না। হিসাবের সুবিধার্থে পহেলা রমাদ্বান শরীফ-এ যাকাত হিসাব করা যেতে পারে। মহান আল্লাহ পাক রমাদ্বানের রহমতের কারণে এ সময় সত্তর গুণ বেশি নেকী দান করেন। যাকাত যোগ্য সকল সম্পদ পণ্যের বেলায় এই শর্ত আরোপিত কিন্তু কৃষিজাত ফসল, মধু, খনিজ সম্পদ ইত্যাদির ক্ষেত্রে বছরান্তের শর্ত নাই। প্রতিটি ফসল তোলার সাথে সাথেই যাকাত অর্থাৎ উশর আদায় করতে হবে।

 বিগত বৎসরের কাযা (অনাদায়ী) যাকাত:

যদি কারো অতীত যাকাত অনাদায়ী বা অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তা ঋণের মধ্যে গণ্য হবে। চলতি বছরে যাকাত আদায়ের পূর্বেই অনাদায়ী কাযা যাকাত আদায় করতে হবে।

 সাধারণত তিন প্রকার সম্পদে যাকাত ফরয:

(১) মালে নকদ (২) মালে তিজারত (৩) সায়েমা।

(১) মালে নকদ হলো- স্বর্ণ, চান্দি ও টাকা-পয়সা ইত্যাদি নিছাব পরিমাণ এক বৎসর কারো মালিকানাধীনে থাকলে, তার উপর যাকাত ফরয হবে।

(২) মালে তিজারত বা ব্যবসার মাল অর্থাৎ যে মালের ব্যবসা করা হয়, তা যদি নিছাব পরিমাণ হয় এবং এক বৎসর কারো মালিকানাধীনে থাকে, তবে তার উপর যাকাত ফরয হবে।

(৩) ছায়েমা হলো- যে কোন পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ, ছাগল, বকরী, ভেড়া, উট, দুম্বা, মেষ ইত্যাদি যদি চারণভুমিতে ছয় মাসের অধিককাল বিচরণ করে অর্থাৎ ফ্রি খায়, আর তা যদি নেছাব পরিমাণ হয়, তবে তার মালিকের উপর যাকাত ফরয হবে। (আলমগীরী, শামী ইত্যাদি)

 যাকাতযোগ্য সম্পদের বিস্তারিত বর্ণনা:

* সোনা, রূপার গহনা, বার বা গিনি কয়েন এর বর্তমান বাজার মূল্য।

* সোনা/রূপা/মূল্যবান পাথর/হিরক বা মণিমুক্তা মিশ্রিত অলঙ্কার অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সোনা বা রূপার মূল্য।

* ব্যবসার জন্য ক্রয়কৃত খালি প্লটের ক্রয় মূল্য

* নিজ ব্যবহার্যের অতিরিক্ত বাড়ি/ফ্ল্যাট  রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদে বাৎসরিক আয় (যদি সঞ্চিত থাকে)।

* যানবাহন : ব্যবসায় ব্যবহৃত রিক্সা, ট্যাক্সি, লরি, সিএনজি, গাড়ি, বাস-ট্রাক, ট্রলার, লঞ্চ, নৌকা ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাদে বাৎসরিক আয় (যদি সঞ্চিত থাকে)

* সাবালকের বিভিন্ন সঞ্চয় বা যাকাতযোগ্য সম্পদের মূল্য।

* প্রাইজবন্ড সবগুলোর ক্রয় মূল্য

* ব্যক্তিগত বা পোষ্যের নামের বীমা অর্থাৎ বীমায় জমাকৃত মোট প্রিমিয়াম।

* নিজ বা পোষ্যের ডিপিএস বা এ ধরনের যে কোন সঞ্চয় অর্থাৎ জমাকৃত মোট অর্থ।

* বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র অর্থাৎ সবগুলো সঞ্চয় পত্রের ক্রয় মূল্য।

* বন্ড (ব্যাংক বা অর্থলগ্নী  প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নামের যে কোন বন্ড) অর্থাৎ সবগুলো বন্ডের ক্রয়কৃত মূল্য।

* বিভিন্ন মেয়াদী আমানত-এর জমাকৃত মোট অর্থ।

* প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত মূল টাকা। অর্থাৎ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমাকৃত মূল টাকা যখন থেকে নিসাব পরিমান হবে তখন থেকে যাকাত গণনা করতে হবে। এরপর পূর্ণ ১ বৎসর হলে নিসাব যদি থাকে তাহলে তার যাকাত দিতে হবে।

* সিডিবিএল বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার হোক অথবা সিডিবিএল বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত না হোক যাকাত দেয়ার নিয়ম হচ্ছে- শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে কম মূল্যে, যাকাত প্রদানের সময় শেয়ারের মূল্য বেশি, এক্ষেত্রে ক্রয় মূল্যে যাকাত দিতে হবে আর যদি বিক্রি করে দেয় তবে বিক্রিকৃত মোট টাকার যাকাত দিতে হবে। আবার শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে বেশি মূল্যে যাকাত প্রদানের সময় শেয়ারের মূল্য কম, এক্ষেত্রে যাকাত প্রদানের সময়কার মূল্য ধরতে হবে।

* অংশিদারী বা যৌথ মালিকানার যাকাতযোগ্য সম্পদ অর্থাৎ যৌথভাবে যাকাত আদায় না হলে নিজ অংশের ক্রয় মূল্য।

* বিদেশের সকল যাকাতযোগ্য সম্পদ (যদি থাকে) তার ক্রয় মূল্য।

* ক্যাশের/হাতের বা সঞ্চিত নগদ অর্থ। সেভিংস (সঞ্চয়ী) একাউন্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট তারিখের ব্যালেন্স

* কারেন্ট (চলতি) একাউন্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট তারিখের ব্যালেন্স।

* কারখানায় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য ক্রয়কৃত কাঁচামালের মজুদ অর্থাৎ ক্রয়কৃত মালের ক্রয় মূল্য।

* কারখানায় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত তৈরি মালের মজুদ অর্থাৎ কোম্পানির নির্ধারিত ক্রয় মূল্য।

* ব্যবসার জন্য ক্রয়কৃত মালের মজুদ অর্থাৎ মজুদ মালের ক্রয় মূল্য।

* পোল্ট্রি ফার্মের ব্রয়লার বড় করে বিক্রির জন্য পালিত হলে অর্থাৎ ফার্মের হাস-মুরগির ক্রয় মূল্য।

* ব্যবসার জন্য পালিত গরু/মহিষ/ছাগল/ভেড়া/ঘোড়া/উট দুম্বা থাকলে অর্থাৎ সব পশুর ক্রয় মূল্য।

* ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চাষকৃত মাছের ক্রয় মূল্য (যদি সঞ্চিত থাকে)

* আরবী বৎসরের অগ্রিম যাকাত প্রদান করলে অর্থাৎ অগ্রিম যাকাতের পরিমাণ।

* প্রদানকৃত ঋণের অথবা ধার দেয়া টাকা অর্থাৎ প্রদানকৃত ঋণ বা ধার দেয়া টাকা ফেরত পাওয়া সুনিশ্চিত তার মোট পরিমাণ।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত বর্ণনায় উল্লেখিত হয়নি এমন যাকাতযোগ্য সম্পদ যাকাতদাতার মালিকানাধীন থাকলে তাও হিসাবে আনতে হবে।

  মিল-কারখানা বা ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য লোন থাকলেও তার অন্যান্য সম্পদের যাকাত দিতে হবে। কেননা তার উক্ত  লোনের বিপরীতে তার মিল-কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কাজেই উক্ত লোন যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে না।

 যাকাত থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সম্পদের বর্ণনা:

* সাংসারিক প্রয়োজনে ব্যাংক বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণ অর্থাৎ ঋণের বর্তমান দায়দেনার পরিমাণ।

* বাকিতে বা কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দেনা অর্থাৎ পরিশোধিত কিস্তি কর্তনের পর বর্তমান দেনার পরিমাণ।

* সাংসারিক প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ধার/দেনা/করজে হাসানা-এর পরিমাণ

* স্ত্রীর অপরিশোধিত মোহরানার দেনা (যদি স্ত্রীর পাবার তাগাদা থাকে) অর্থাৎ দেনা/বকেয়ার পরিমাণ।

* সরকার ও প্রতিষ্ঠানের পাওনা: জমির খাজনা, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স, অধীনস্থের বেতন, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজের বকেয়া বেতন (যদি থাকে) ইত্যাদি এসবের নির্ধারিত তারিখের মোট দেনা/বকেয়ার পরিমাণ।

 উশর বা ফসলের যাকাত:

* প্রাকৃতিক উপায়ে অর্থাৎ বিনা পরিশ্রমে উৎপাদিত প্রাপ্ত ফল বা ফসলের ১০ ভাগের ১ ভাগ ফসল বা তার মূল্য।

* আধুনিক উপায়ে পরিশ্রম করে উৎপাদিত প্রাপ্ত ফল বা ফসলের ২০ ভাগের ১ ভাগ ফসল বা তার মূল্য।

 পশুর যাকাত:

* সায়েমা (স্বেচ্ছায় মাঠে বিচরণকারী পশু) ৩০টি গরু/মহিষ হলে ১ বছর বয়সের ১টি, ৪০টি হলে ২ বছর বয়সের ১টি গরু বা তার সমমূল্য।

* সায়েমা (স্বেচ্ছায় মাঠে বিচরণকারী পশু) ৪০টি ভেড়া/ছাগল হলে ১ বছর বয়সের ১টি, ১২১টি হলে ২টি, ২০১টি হলে ৩টি, ৪০০টি হলে ৪টি এরপর প্রতি শতকে একটি ছাগল বা তার সমমূল্য।

বিঃ দ্রঃ যাকাতের উল্লেখিত মাসয়ালা অথবা যেকোন বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য নি¤েœাক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।

ফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ: মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ

৫, আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

ফোন: ৮৩১৪৮৪৮, ৯৩৩৮৭৮৭, ফ্যাক্স: ৯৩৩৮৭৮৮, মোবাইল : ০১৭১১-২৬৪৬৯৪, ০১৭১২-৬৪৮৪৫৩।

যাকাত সংক্রান্ত যে কোন মাসয়ালা সঠিকভাবে জানতে ভিজিট করুন: http://www.ahkamuzzakat.com/

 

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।