মুহম্মদ আনিছুর রহমান,সদর, চাঁদপুর

সংখ্যা: ২০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সুওয়াল: মাসিক মদীনা ফেব্রুয়ারী ২০১১ ঈসায়ী সংখ্যায় নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়

প্রশ্ন: (মদীনা) … চুলে যে কোন রঙের কলপ ব্যবহার করে সেই রঙিন চুল নিয়ে নামায পড়া জায়িয হবে কিনা? ……

উত্তর: (মদীনা) ……. চুলে যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করে ধুয়ে সেই চুলে নামায পড়লেও নামায হবে। কেননা কলপের রঙগুলো মেহেদীর রঙের মতোই ভিতরে পানি পৌঁছে ওযুতে গোসলে তাতে কোন সমস্যা হয় না বিধায় নামায হবে।

এখন আমার সুওয়াল হলো-  মাসিক মদীনার উপরোক্ত উত্তর সঠিক হয়েছে কি? আর যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করে নামায পড়লে সত্যিই কি নামায হবে? দলীল-আদিল্লাহ সহ সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন। জাওয়াব:  চুলে যে কোন রঙের কলপ ব্যবহার  সম্পর্কে মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি; বরং ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে। কারণ চুলে যে কোন রঙের কলপ ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে নখ পালিশের ন্যায় একটি আবরণ বা প্রলেপ পড়ে, যার ফলে ধোয়ার সময় মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছেনা, বরং প্রলেপের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় এবং এ কারণে তার ওযু ও ফরয গোসল হবে না। আর ওযু ও ফরয গোসল না হলে তার নামাযও শুদ্ধ হবে না। কেননা নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য পূর্ব শর্ত হলো শরীর পাক হওয়া। আর শরীর পাক করতে হলে সমস্ত শরীর ধৌত করতে হবে এমনকি মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছাতে হবে যেন একটি চুলও শুকনা না থাকে। কেননা চুল শুকনা থাকলে গোসল শুদ্ধ হবেনা এবং শরীরও পাক হবেনা। যেহেতু ফরয গোসলে মাথার চুলে ও দাড়িতে পানি পৌঁছানো ফরয।

যেমন- ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খণ্ডের ৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,

والخضاب اذا تجسد ويبس يمنع تمام الوضو والغسل

অর্থ: æখেযাব (কলপ) যখন শরীরে (চুলে, দাড়ি ইত্যাদিতে) জমে বা লেগে যাবে এবং শুকিয়ে যাবে তখন ওযু ও গোসল শুদ্ধ হবেনা।”

কিন্তু চুলে যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করার কারণে মূল চুলে পানি পৌঁছেনা বরং প্রলেপের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। যার কারণে শরীর পাক হবেনা।

দ্বিতীয়ত:  শরীর পাক থাকলে নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযু করা ফরয। আর ওযুতে মাথার চুল মাসেহ করা ফরয এবং দাড়িতে পানি প্রবাহিত করাও ফরয। কিন্তু চুলে যে কোন রঙের কলপ ব্যবহার করলে মাথার চুলে ও দাড়িতে প্রলেপ পড়ে যাওয়ার কারণে মূল চুলের উপর মাসেহ ও পানি প্রবাহিত হয়না বরং প্রলেপের উপর দিয়ে মাসেহ ও পানি প্রবাহিত হওয়ায় তার ওযুও হবেনা। আর ওযু ও ফরয গোসল না হলে নামায শুদ্ধ হবেনা।

আরো উল্লেখ্য যে, চুলে যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহারকারী ব্যক্তি মারা গেলে তার জানাযা নামাযও শুদ্ধ হবেনা। কারণ তাকে গোসল দেয়ার সময় তার দাড়িতে ও মাথার চুলে পানি না পৌঁছানোর কারণে সে পবিত্র হবে না।

অতএব, তাকে পবিত্র করতে হলে তার দাড়ি ও মাথার চুল চেঁছে গোসল করাতে হবে। এরপর তার জানাযা দিতে হবে। অন্যথায় সে কস্মিনকালেও পবিত্র হবেনা এবং তার জানাযার নামাযও শুদ্ধ হবেনা।

সুতরাং æচুলে যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করে নামায পড়লেও নামায হবে” মাসিক মদীনার এ বক্তব্য যে ভুল তা প্রমাণিত হলো।

স্মর্তব্য, কলপ বা খেযাব দু’ধরনের হয়ে থাকে।

প্রথমত: যেটা ব্যবহার করলে আবরণ বা প্রলেপ পড়েনা কিন্তু কালো হয়। তবে এ ধরনের কালো রঙের খেযাব বা কলপ ব্যবহার করাও শরীয়তে মাকরূহ তাহরীমী বলা হয়েছে।

যেমন, হাদীছ শরীফ-এর কিতাব “আবু দাউদ” ও ”নাসাঈ শরীফ-এ” উল্লেখ আছে-

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان قوم يخضبون بالسواد كحواصل الحمام لايجدون رائحة الجنة

অর্থ: æসাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আখিরী যামানায় এমন কিছু লোক বের হবে যারা কবুতরের পালকের ন্যায় কালো খেযাব ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবেনা।”

হাদীছ শরীফ-এর কিতাব æতিবরানী শরীফ” -এ ইরশাদ হয়েছে,

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من خضب بالسواد سود الله وجهه يوم القيامة

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, æযে ব্যক্তি কালো খেযাব ব্যবহার করবে, আল্লাহ পাক ক্বিয়ামতের দিন তার চেহারাকে কালো করে দিবেন।”

æমুসলিম শরীফ”-এর ২য় খ-ের ১৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ويحرم خضابه بالسواد على الاصح وقيل يكره كراهة تنزيه والمختار التحريم لقوله صلى الله عليه وسلم واجتنبوا السواد

অর্থ: æঅধিক ছহীহ বা বিশুদ্ধ মতে কালো খেযাব ব্যবহার করা হারাম। কেউ কেউ বলেছেন, মাকরূহ তানযীহ। তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো, কালো খেযাব ব্যবহার করা মাকরূহ তাহরীমী। কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কালো রঙের খেযাব বর্জন করো।”

কালো খেযাব সম্পর্কে বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি æশরহে শামায়িলে তিরমিযী শরীফ”-এ উল্লেখ করেন-

ذهب اكثر العلماء الى كراهة الخضاب بالسواد ورجح الثورى الى انها كراهة تحريم

অর্থ: æঅধিকাংশ আলিমগণের মতে কালো খেযাব ব্যবহার করা মাকরূহ। হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মতে মাকরূহ তাহরীমী।”

মিশকাত শরীফ-এর শরাহ æআশয়াতুল লুময়াতে” উল্লেখ আছে-

خضاب بحناء باتفاق جائزاست ومختار در سواد حرمت است

অর্থ: æমেহেদী বা মেন্দী দ্বারা খেযাব দেয়া সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। আর গ্রহণযোগ্য মতে, কালো খেযাব ব্যবহার করা হারাম।”

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, চুল বা দাড়িতে কালো রঙের খেযাব ব্যবহার করা আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক মাকরূহ তাহরীমী।

দ্বিতীয়ত: আমাদের দেশে বা বিদেশে যে সমস্ত কলপ পাওয়া যায় তার প্রত্যেকটি ব্যবহারেই চুলে ও দাড়িতে নেইল (নখ) পুলিশের ন্যায় প্রলেপ পড়ে। প্রলেপ পড়েনা এমন কোন কলপ এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি বা বিশ্বে কোথাও পাওয়া যায়না।

অতএব, বর্তমানে বাজারে যে সব কালো বা অন্য যে কোন রঙের কলপ পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম।

আরো উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বাজারে প্রচলিত কলপ আর প্রাকৃতিক মেহেদী এক রকম নয়। কারণ প্রাকৃতিক মেহেদী ব্যবহার করলে চুলে প্রলেপ পড়ে না।

কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রচলিত কলপ ব্যবহার করলে চুলে প্রলেপ পড়ে। বিধায় কলপ ব্যবহার করলে ওযু, গোসল, নামায কোনটাই শুদ্ধ হবে না।

সুতরাং মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন, æকলপের রঙগুলো মেহেদীর রঙের মতোই” এ কথা বলে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে।

উপরোক্ত বিস্তারিত ও দলীলসমৃদ্ধ আলোচনা থেকে এটাই সাব্যস্ত হলো যে, মাথার চুলে ও দাড়িতে যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করে নামায পড়লে নামায শুদ্ধ হবে না। কারণ চুলে  যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহারের সাথে নামায শুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট যা উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং æচুলে যে কোন ধরনের কলপ ব্যবহার করে নামায পড়লেও নামায হবে” মাসিক মদীনার এ বক্তব্য যে ভুল তা প্রমাণিত হলো।

{বিঃ দ্রঃ- এ সম্পর্কে আরো জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১৯, ৩২, ৪২, ৬০, ৬৬, ৬৭, ৭৫, ৯৫ ও ১০৯তম সংখ্যাগুলো পড়–ন। সেখানে মাসিক মদীনা, মাসিক পৃথিবী ও মাসিক রাহমানী পয়গামের ভুল বক্তব্য খ-ন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হয়েছে।}

{দলীলসমূহ: (১) মুসলিম, (২) তিরমিযী, (৩) আবু দাউদ, (৪) নাসাঈ, (৫) ইবনে মাজাহ, (৬) তিবরানী, (৭) মিশকাত, (৮) উমদাতুল ক্বারী, (৯) জামউল ওসায়িল, (১০) মিরকাত, (১১) আশয়াতুল লুময়াত, (১২) লুময়াত, (১৩) শরহে শামায়িলে তিরমিযী, (১৪) যখীরা, (১৫) ওয়াজীয, (১৬) সিরাজুল ওয়াহহাজ, (১৭) দুররুল মুখতার, (১৮) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (১৯) ফতওয়ায়ে শামী, (২০) ফতওয়ায়ে হিন্দীয়া, (২১) ইমদাদুল ফতওয়া, (২২) কিফায়াতুল মুফতী, (২৩) Manufacture of Beauty products By SBP Board of Consultants & Engineers (২৪)Yahoo search engine P-Phenylenediamine all related files ইত্যাদি}

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।