কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩৯

সংখ্যা: ২০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে æগবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ æমাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে æছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, æনির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, æরাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, æরাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ æগুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে æছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ æছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে æছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, æনিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় æউমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে æছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

 

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

 

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই æপ্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

 

ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম

 

অত্র কিতাবখানা লিখেছেন উস্তায ডক্টর মূসা শাহীন লাশীন। উক্ত কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৬৬৫)

واقوى ما يستدل به على تحريم اتخاذ الصور الوعيد الوارد للمصورين. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب التصوير واتخاذ الصورة والكلب الجزء ۸ الصفحة ۳۸۸ دار الشروق القاهرة المصر)

অর্থ: শক্তিশালী দলীলের ভিত্তিতে শাস্তিযোগ্য হারাম আমল হচ্ছে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: মূর্তি-ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি ও কুকুর সম্পর্কিত হুকুম ৮ম খ- ৩৮৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুশ শুরূক-কাহিরা, মিশর)

(৬৬৬)

والذين يمتنعون، وفيها يقول النووى: واما هؤلاء الملائكة الذين لا يدخلون بيتا فيه كلب او صورة، فهم ملائكة يطوفون بالرحمة والتبريك والاستغفار، واما الحفظة فيدخلون كل بيت، ولا يفارقون بنى ادم فى كل حال، لانهم مامورون باحصاء اعمالهم وكتابتها، وقال القرطبى كذا قال بعض علمائنا، والظاهر العموم، والدال على كون الحفظة لا يدخلون ليس نصا. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب التصوير واتخاذ الصورة والكلب الجزء ۸ الصفحة ۳۸۹

অর্থ: মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করতে যাঁরা নিষেধ করেন অর্থাৎ হারাম মনে করেন- তাদের মধ্যে হযরত ইমাম নুবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে যে সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম প্রবেশ করেন না, উনারা হলেন- রহমত, বরকত ও মাগফিরাত কামনাকারী ফেরেশতা। কিন্তু আমল সংরক্ষণকারী এবং পাহারায় রত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন, এমনকি উনারা আদম সন্তানদের থেকে কখনোই পৃথক হন না। কেননা উনারা বান্দাদের আমল হিসাব করা এবং তা লিখে রাখার কাজে ব্যস্ত থাকেন। হযরত ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, অনুরূপ আমাদের কতক উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন, সাধারণত এ মতটিই প্রাধান্যপ্রাপ্ত। উক্ত সংরক্ষণকারী ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উল্লিখিত ঘরে বা স্থানে প্রবেশের ব্যাপারে কোন নিষেধমূলক দলীল নেই। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৯ পৃষ্ঠা)

(৬৬৭)

حكم صنعة التصوير، وعنها يقول النووى: قال اصحابنا وغيرهم من العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام، شديد التحريم، وهو من الكبائر، لانه متوعد عليه الوعيد الشديد المذكور فى الاحاديث، سواء صنعه بما يمتهن او بغيره، فصنعه حرام بكل حال. لانه فيه مضاهاة لخلق الله تعالى، وسواء ماكان فى ثوب او بساط او درهم او دينار او فلس او اناء او حائط او غيرها، واما تصوير صورة الشجر و رحال الابل وغير ذلك مما ليس فيه صورة حيوان فليس بحرام. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۹)

অর্থ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরির হুকুম। এ সম্পর্কে হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের মাযহাবের ইমামগণ এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরামগণ উনারা বলেছেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম, শক্ত হারাম এবং কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। এগুলো লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করুক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য তৈরি করুক এতে একই হুকুম, প্রত্যেক অবস্থায় এগুলো তৈরি করা হারাম। যেহেতু এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি করা হয়। অনুরূপভাবে কাপড়ে, বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায়, স্বর্ণ মুদ্রায়, টাকা-পয়সায়, পাত্রে, দেয়ালে ও এ ছাড়া অন্যান্য কিছুতে এগুলো তৈরি করা আঁকা সমানভাবে হারাম। কিন্তু গাছ-পালা, ঘোড়ার জিন ও অন্যান্য প্রাণহীন জিনিসের ছূরত বা ছবি তৈরি করা হারাম নয়। (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৯ পৃষ্ঠা)

(৬৬৮)

وهذه الاحاديث صريحة فى تحريم صور الحيوان، وانه غليظ التحريم، واما الشجر ونحوه مما لاروح فيه، لا تحرم صنعته ولا التكسب به، وسواء الشجر المثمر وغيره، وهذا مذهب العلماء كافة الا مجاهد، فانه جعل الشجرة المثمرة من المكروه، قال القاضى: لم يقله احد غير مجاهد واحتج مجاهد بقوله تعالى: ومن اظلم ممن ذهب يخلق خلقا كخلقى. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۹)

অর্থ: অত্র হাদীছ শরীফ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারামের ব্যাপারে স্পষ্ট বর্ণনা। আর এ কাজগুলো কঠিন হারাম। কিন্তু গাছ-পালা ও রূহ বা প্রাণহীন বস্তুসমূহ তৈরি করা, এর দ্বারা উপার্জন করা হারাম নয়। অনুরূপ হুকুম ফলদার গাছ ও অন্যান্য উদ্ভিদের। ইহাই তাবিয়ী হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত সমস্ত উলামা কিরামগণের চূড়ান্ত ফায়সালা। কেননা তাবিয়ী হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ফলদার গাছের ছবিকে মাকরূহ তানযীহী বলেছেন। হযরত কাদ্বী আয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এ মাকরূহ তানযীহীর ফায়সালা হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত আর কেউ দেননি। এর স্বপক্ষে হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দলীল পেশ করেছেন আল্লাহ তায়ালা উনার বাণী থেকে, æওই ব্যক্তির মতো কে এমন যালিম আছে, যে আমার (মহান আল্লাহ পাক উনার) সৃষ্টির সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে।” (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৯ পৃষ্ঠা)

(৬৬৯)

واحتج الجمهور بقوله صلى الله عليه وسلم ويقال لهم: احيوا ما خلقتم اى اجعلوه حيوانا ذا روح، كما ضاهيتم، ويؤيده حديث ابن عباس رضى الله تعالى عنه وفيها ان كنت لابد فاعلا فاصنع الشجر وما لا نفس له. (فتح المنعم شرح صحيح مسلم الجزء ۸ الصفحة ۳۸۹)

অর্থ: জমহুর তথা অধিকাংশ উলামায়ে কিরামগণ উনারা সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাণী, æযা তৈরি করেছ, তাতে প্রাণ দাও।” অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদের শাস্তি দেয়ার সাথে সাথে এসব কথা বলা হবে। তবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ বলা হয়েছে, æতুমি যদি ছবি আঁকতেই চাও, তাহলে গাছ-পালা এবং প্রাণহীন বস্তুর ছবি তৈরি করতে পারো।” (ফতহুল মুনয়িম শরহে ছহীহ মুসলিম ৮ম খ- ৩৮৯ পৃষ্ঠা)

 

আস সিরাজুল ওয়াহ্হাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ

 

কিতাখানা লিখেছেন হযরত আবুত ত্বইয়্যিব মুহম্মদ ছিদ্দীক্ব খান বিন হাসান বিন আলী কুনূজী বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত: ১৩০৭ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৬৭০)

وقال النووى: باب تحريم تصوير صورة الحيوان وتحريم اتخاذ ما فيه صورة غير ممتهنة بالفرش ونحوه، وان الملائكة عليهم السلام لا يدخلون بيتا فيه صورة وكلب. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج شرح مختصر صحيح مسلم للحافظ المنذرى كتاب اللباس والزينة باب لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة المجلد ۶ الصفحة ۳۹ دار الكلب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুসলিম শরীফ-এর বাবে বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা হারাম এবং বিছানায় ও অন্য কিছুতে অলাঞ্ছনার (ও লাঞ্ছনার) জন্য ছবি অঙ্কন করা হারাম। নিশ্চয়ই রহমত, বরকত ও ইস্তিগফারের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য এবং কুকুর বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করেন না। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ শরহে মুখতাছার ছহীহ মুসলিম লিল হাফিয মুনযিরী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: ওই সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না যে সমস্ত ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে, ৬ষ্ঠ খ- ৩৯ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বইরূত লিবানন)

(৬৭১)

وسبب امتناعهم من بيت فيه صورة كونها معصية فاحشة وفيها مضاهاة لخلق الله تعالى وبعضها فى صورة ما يعبد من دون الله. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج المجلد ۶ الصفحة ۴۰)

অর্থ: কোন ঘরে বা স্থানে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য রাখা নিষেধ তথা হারাম হওয়ার কারণ হলো- এগুলো গুনাহ ও অশ্লীল-অশালীন কাজ। এতে আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করা হয় এবং কোন অংশে আল্লাহ পাক ব্যতীত প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের পূজা করা হয়। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ ৬ষ্ঠ খ- ৪০ পৃষ্ঠা)

(৬৭২)

واما هؤلاء الملائكة الذين لا يدخلون بيتا فيه كلب او صورة هم ملائكة يطوفون بالرحمة والتبريك والاستغفار، اما الحفظة فيدخلون فى كل بيت ولا يفارقون بنى ادم فى كل حال لانهم مامورون باحصاء اعمالهم وكتابتها. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج المجلد ۶ الصفحة ۴۰)

অর্থ: কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যবিশিষ্ট ঘরে যে সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম প্রবেশ করেন না, উনারা হলেন রহমত, বরকত ও ইস্তিগফারের জন্য পরিভ্রমণকারী ফেরেশতা। কিন্তু হাফাযা তথা বান্দাদের সংরক্ষণকারী ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেক বাড়ি ঘরে প্রবেশ করেন। উনারা বনী আদম থেকে কখনই পৃথক হন না। কেননা, উনারা বান্দাদের আমলসমূহ গণনা এবং তা লিখে রাখার কাজ করতে আদিষ্ট। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ ৬ষ্ঠ খ- ৪০ পৃষ্ঠা)

(৬৭৩)

قال النووى: والاظهر انه عام فى كل كلب وكل صورة وانهم يمتنعون من الجميع لاطلاق الاحاديث، قلت: وهذا هو الصحيح المختار الراجح فى هذه المسألة. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج المجلد ۶ الصفحة ۴۱)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই প্রকাশ্য কথা যে, হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম হাদীছ শরীফ দ্বারাই সাধারণত প্রত্যেক কুকুর (শিকারী কুকুর ব্যতীত) এবং প্রত্যেক প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ তথা হারাম ফতওয়া দিয়েছেন। আমি (গ্রন্থকার: কুনূজী বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি এ মাসয়ালার ব্যাপারে, এটাই বিশুদ্ধ গ্রহণযোগ্য প্রাধান্যপ্রাপ্ত ফায়সালা। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ ৬ষ্ঠ খ- ৪১ পৃষ্ঠা)

(৬৭৪-৬৭৮)

هذا يحتج به من يقول باباحة ما كان رقما مطلقا، وجواب الجمهور عنه: انه محمول على رقم على صورة الشجر وغيره مما ليس بحيوان، وهذا جائز عند الشافعية وغيرهم. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة الارقما فى ثوب المجلد ۶ الصفحة ۴۲، اكمال المعلم بفوائد مسلم الجلد ۶ الصفحة ۶۳۰  ، التمهيد الجلد ۸ الصفحة ۴۰۵، المغنى الجلد ۴ الصفحة ۳۰۰ شرح النووى الجلد ۱۴ الصفحة ۱۱۹)

অর্থ: প্রাণহীন বস্তুর নকশা আঁকাকে যারা বৈধ মনে করেন, তাঁরাই অত্র হাদীছ শরীফকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পক্ষ থেকে জাওয়াব হলো: ‘রক্বম ব্যতীত’ দ্বারা গাছ-পালা ও প্রাণহীন বস্তুর ছবি অঙ্কনকে বুঝানো হয়েছে। শাফিয়ী মাযহাব এবং অপরাপর (হানাফী, মালিকী, হাম্বলী) মাযহাব মতে গাছ-পালা ও প্রাণহীন বস্তুর নকশা আঁকা জায়িয। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: ওই সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না যে ঘরে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে কিন্তু কাপড়ে প্রাণহীন বস্তুর রক্বম বা নকশা থাকলে অসুবিধা নেই ৬ষ্ঠ খ- ৪২ পৃষ্ঠা, ইকমালুল মু’লিম বিফাওয়াদি মুসলিম ৬ষ্ঠ খ- ৬৩০ পৃষ্ঠা, আত তামহীদ ৮ম খ- ৪০৫ পৃষ্ঠা, আল মুগনী ৪র্থ খ- ৩০০ পৃষ্ঠা, শরহুন নুবাবী ১৪তম খ- ১১৯ পৃষ্ঠা)

(৬৭৯)

قال النووى: هذا محمول على من فعل الصورة لتعبد وهو صانع الاصنام ونحوها فهذا كافر وهو اشد عذابا، وقيل هى فيمن قصد المعنى الذى فى الحديث من مضاهاة خلق الله تعالى واعتقد ذلك فهذا كافر له من اشد العذاب ما للكافر ويزيد عذابه بزيادة قبح كفره فاما من لم يقصد بها العبادة ولا المضاهاة فهو فاسق صاحب ذنب كبير ولا يكفر كسائر المعاصى. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب كراهية الستر فيه التماثيل المجلد ۶ الصفحة ۴۳)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পূজা বা উপাসনা করার জন্য ছূরত তৈরি করে সে হচ্ছে মূর্তি তৈরিকারী তথা মূর্তি পূজক, অনুরূপ এজন্যই সে কাফির এং কঠিন আযাব যোগ্য। কেউ কেউ বলেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে সে এমন শাস্তির উপযুক্ত। এ ব্যাপারে আক্বীদা হলো- এমন ব্যক্তিরা কাফির হওয়ার কারণেই কঠিন শাস্তির উপযুক্ত। আর তাদের শাস্তি আরো বৃদ্ধি করা হবে তাদের জঘন্য কুফরীর কারণে। আর যারা পূজা বা উপাসনার জন্য এবং সাদৃশ্যতার জন্য প্রাণীর ছবি-মূর্তি ভাস্কর্য তৈরি করে না তারা কবীরা গুনাহকারী ফাসিক। তারা কুফরীকারী নয় বরং অন্যান্য গুনাহগারদের মতো একজন গুনাহগার। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট পর্দা লটকানো মাকরূহ তাহরীমী ৬ষ্ঠ খ- ৪৩ পৃষ্ঠা)

(৬৮০)

وهذا الحديث صريح فى تحريم تصوير الحيوان وانه غليظ التحريم، وقال مجاهد: تصوير الشجر المثمر مكروه، وقال الجمهور يجوز. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب فى النمرقة فيها تصاوير المجلد ۶ الصفحة ۴۴

অর্থ: অত্র হাদীছ শরীফ প্রাণীর ছবি-মূর্তি ভাস্কর্য হারাম এমনকি শক্ত হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলীল। তাবিয়ী হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ফলধারী গাছের ছবিকে মাকরূহ তানযীহী বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলইহিম জায়িয বলেছেন। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: পর্দায় প্রাণীর ছবি অঙ্কনের হুকুম ৬ষ্ঠ খ- ৪৪ পৃষ্ঠা)

 

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

 

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৯

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৫

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৭ম পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয় ৬ষ্ঠ পর্ব)