সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে (৮)

সংখ্যা: ২০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

খলীফাতুল্লাহ্, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ওয়ায়িজীন, গউছে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা

ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-উনার

ওয়াজ শরীফ

কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর আলোকে

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে  (৮)

 

পূর্ব প্রকাশিতের পর

 

উনাদের খুছূছিয়ত বৈশিষ্ট্য বলার অপেক্ষা রাখে না।

হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت حذيفة رضى الله تعالى عنه قال قلت لامى دعينى اتى النبى صلى الله عليه وسلم فاصلى معه المغرب واساله ان يستغفرلى ولك فاتيت النبى صلى الله عليه وسلم فصليت معه المغرب فصلى حتى صلى العشاء ثم انفتل فتبعته فسمع صوتى فقال من هذا حذيفة رضى الله تعالى عنه قلت نعم قال ماحاجتك غفر الله لك ولامك ان هذا ملك لم ينزل الارض قط قبل هذه الليلة استأذن ربه ان يسلم على ويبشرنى بان حضرت فاطمة عليها السلام سيدة نساء اهل الجنة وان الحسن والحسين عليهما السلام سيدا شباب اهل الجنة.

হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, যে আমি আমার মাতা উনাকে বললাম, হে আমার মাতা আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন, যেতে দেন তাহলে আমি নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে যাবো সেখানে গিয়ে

فاصلى معه المغرب

আমি উনার সাথে মাগরিব নামায পড়বো।

এবং আমি উনার কাছে চাইবো, প্রার্থনা করবো, সুওয়াল করবো-

ان يستغفرلى ولك

আমার জন্য, আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করবো; তিনি যেন আমাদেরকে ক্ষমা করেন, আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন, আমাদের জন্য দোয়া করেন

فاتيت النبى صلى الله عليه وسلم

তিনি বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে পৌঁছলাম-

فصليت معه المغرب

উনার সাথে আমি মাগরিবের নামায আদায় করলাম

فصلى حتى صلى العشاء

নামায পড়লাম ইশার নামাযও। অপেক্ষা করলাম ইশার নামায পর্যন্ত। ইশার নামাযও হলো

ثم انفتل فتبعته

অর্থাৎ তিনি যখন ছলাত আদায় করে ফিরছিলেন হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও পিছনে পিছনে আসতে ছিলেন।

فسمع صوتى فقال من هذا حذيفة

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আওয়াজ শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, কে হযরত হুয়ায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! তিনি বললেন, হ্যাঁ।

তিনি কিন্তু বলেননি, তিনি দোয়া চাননি। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো সবই জানেন। মুসলিম শরীফ-এর বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-

اوتيت بجوامع الكلم

আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলম হাদীছা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

তিনি বললেন-

غفر الله لك ولامك

তোমার কি প্রয়োজন? তিনি প্রয়োজন বলার আগেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনার মাতা উনাকেও ক্ষমা করুন। তিনি তো সেজন্য এসেছিলেন। আগেই বলে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! এরপর একজন ফেরেশতা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন-

ان هذا ملك لم ينزل الارض قط قبل هذه الليلة

এই রাত্রির পূর্বে এই ফেরেশতা কখনো তিনি আসেননি।

استأذن ربه ان يسلم على

তিনি এসেছেন উনার রব, যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে অনুমতি নিয়ে আমাকে সালাম পৌঁছানোর জন্য এবং

يبشرنى بان حضرت فاطمة عليها السلام سيدة نساء اهل الجنة وان الحسن والحسين عليهما السلام سيدا شباب اهل الجنة.

এই ফেরেশতা যিনি এসেছেন তিনি সংবাদ পৌঁছানোর জন্য যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে এই সংবাদ পৌঁছানোর জন্য যে, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ।

আল্লাহ পাক উনাকে লক্বব দিয়েছেন তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ। সুবহানাল্লাহ! বেহেশতের মেয়েদের তিনি সাইয়্যিদা। সুবহানাল্লাহ!

এবং যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা সাইয়্যিদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ। বেহেশতের যুবকদের উনারা সাইয়্যিদ। সুবহানাল্লাহ! এত বড় মর্যাদা-মর্তবা স্বয়ং যিনি খালিক্ব¡, যিনি মালিক, যিনি রব তিনি সরাসরি ফেরেশতা পাঠিয়ে বিষয়টা জানিয়ে দিলেন উম্মতদেরকে, বান্দাদেরকে উনাদের কত মর্যাদা রয়েছে, ফযীলত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই উনাদের সম্মান-ইজ্জত কতটুকু করতে হবে এটা উম্মতের জন্য বান্দা-বান্দীর জন্য ফিকির এবং চিন্তার বিষয়।

উনাদের প্রত্যেকটি আমল, প্রতিটি কাজ যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক তিনি যেমন পছন্দ করেছেন ঠিক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও পছন্দ করেছেন। এর কোন মিছাল নেই। উনাদের প্রত্যেকটা আমল যে আল্লাহ পাক যিনি খালিক্ব¡ যিনি মালিক যিনি রব তিনি যে পছন্দ করেছেন। কিতাবে, তাফসীরে বর্ণিত রয়েছে-

ويطعمون الطعام على حبه مسكينا ويتيما واسيرا. انما نطعمكم لوجه الله لا نريد منكم جزاء ولا شكورا.

কালামুল্লাহ শরীফ এর আয়াত শরীফ। আল্লাহ পাক তিনি বলেন-

ويطعمون الطعام على حبه مسكينا ويتيما واسيرا

উনারা খাদ্য দিয়ে থাকেন, খাইয়ে থাকেন যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে এবং যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে উনারা মানুষদেরকে খাদ্য দেন, ইয়াতীম-মিসকীন এবং বন্দীদেরকে এবং

انما نطعمكم لوجه الله

উনারা কি বলেন? আমরা নিশ্চয়ই মানুষদেরকে খাদ্য দিয়ে থাকি, মানুষকে যে হাদীছা- তোহফা দেই, দান-খয়রাত যে করে থাকি একমাত্র যিনি খালিক্ব¡ যিনি মালিক যিনি রব আল্লাহ পাক  উনার রেযামন্দি, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যে। সুবহানাল্লাহ!

لا نريد منكم جزاء ولا شكورا

এর বিনিময়ে আমরা তোমাদের কাছ থেকে কোন বদলাও চাচ্ছি না, তোমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো সেটাও চাচ্ছি না। সুবহানাল্লাহ!

এই আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে বলা হয়, এর শানে নুযূল, অর্থাৎ নাযিল হয়েছিল এই আয়াত শরীফ কেন? সেটা বলা হয়ে থাকে বা বর্ণিত রয়েছে- হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা রোযা রেখেছেন। এটার পিছনেও মুখতালিফ বর্ণনা রয়েছে।

কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, হযরত ইমাম হাসান এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের কোন কারণে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তিনটা রোযা রাখার নিয়ত করেছিলেন।

(অসমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)