কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩৬

সংখ্যা: ২০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থঃ ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

 

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

 

 

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

 

 

 

 

শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম

 

কিতাবখানা লিখেছেন হযরত ইমাম শাইখ মুহইদ্দীন আবূ যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শরফুন নববী শামী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার জন্ম মুবারক: ৬৩১ হিজরী। ওফাত মুবারক: ৬৭৬ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে-

(৬০২)

قال اصحابنا وغيرهم من العلماء تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعد عليه بالوحيد الشديد المذكور فى الاحاديث وسواء صنعه لما يمتهن او لغيره فصنعه حرام لكل حال لان فيه مضاهاة لخلق الله تعالى وسواء ماكان فى ثوب او بساط اودرهم اودينار او فلس او اناء او حائط او غيرها. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۱۹۹ المكتبة الاشرفية ديوبند انڈیا)

অর্থ: হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের আছহাব তথা উলামায়ে কিরাম ও অন্যান্যগণ বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম শক্ত হারাম। আর তা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এ ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। লাঞ্ছনার জন্য করুক অথবা সম্মান দেখানোর জন্য করুক সর্বাবস্থায় তা হারাম। যেহেতু এতে আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি করা হয়। কাপড়ে হোক, বিছানায় হোক, রৌপ্য মুদ্রায় হোক, স্বর্ণ মুদ্রায় হোক, টাকা-পয়সায় হোক, পাত্রে হোক, দেয়ালে হোক অথবা অন্য কিছুতে হোক সর্বস্থানে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা সমানভাবে নাজায়িয ও হারাম। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ১৯৯ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আল মাকতাবাতুল আশরাফিয়াহ দেওবন্দ ইন্ডিয়া)

(৬০৩)

وقال الزهرى: النهى فى الصورة على العموم، وكذلك استعمال ماهى فيه ودخول البيت الذى فيه سواء كان رقما فى ثوب او غير رقم وسواء كانت فى حائط او ثوب او بساط ممتهن او غير ممتهن عملا بظاهر الحديث وهذا مذهب قوى. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۱۹۹)

অর্থ: তাবিয়ী হযরত ইমাম শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাধারণত প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা করা নিষেধ তথা হারাম। অনুরূপভাবে ইহার ব্যবহার এবং ইহা যে ঘরে থাকে সেখানে প্রবেশ নিষেধ। প্রাণীর ছবি কাপড়ে অঙ্কিত থাক অথবা কাপড় ছাড়া অন্য কিছুতে থাক এতে একই হুকুম। তা দেয়ালে অঙ্কিত থাক অথবা কাপড়ে থাক অথবা বিছানায় থাক, লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা অপমানের জন্য না হোক, স্পষ্ট হাদীছ শরীফ দ্বারা এর ব্যবহার হারাম বা নিষেধ সাব্যস্ত হয়। এটাই শক্তিশালী মতামত। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ১৯৯ পৃষ্ঠা)

(৬০৪)

واجمعوا على منع ماكان له ظل (شرح النووى من صحيح مسلم باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۱۹۹)

অর্থ: সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদগণ দেহবিশিষ্ট মূর্তি বা ভাস্কর্যের চর্চা নিষিদ্ধ তথা হারামের ব্যাপারে ইজমা করেছেন। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ১৯৯ পৃষ্ঠা)

(৬০৫)

قال العلماء سبب امتناعهم من بيت فيه صورة كونها معصية فاحشة وفيها مضاهاة لخلق الله  تعالى وبعضها فى صورة ما يعبد من دون الله تعالى وسببه. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰)

অর্থ: হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ তথা হারাম হওয়ার কারণ হলো, যেহেতু এগুলো গুনাহ, নাফরমানী, অশ্লীলতামূলক কার্যকলাপ। আর এতে আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করা হয়। এ ছাড়াও আল্লাহ তায়ালা তিনি ব্যতীত অন্যের উপাসনাও সাব্যস্ত হয়। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬০৬)

واما هؤلاء الملائكة الذين لا يدخلون بيتا فيه كلب او صورة فهم ملائكة يطوفون بالرحمة والتبريك والاستغفار واما الحفظة فيدخلون فى كل بيت ولا يفارقون بنى ادم فى كل حال لانهم مأمورن باحصاء اعمالهم وكتابتها (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰(

অর্থ: কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে যেসকল ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, সে সকল ফেরেশতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যমীনে বিচরণকারী রহমত ও বান্দার জন্য ইস্তিগফারকারী ফেরেশতাগণ। কিন্তু বান্দার সংরক্ষক ও তার আমল সংরক্ষণকারী ফেরেশতাগণ সর্বপ্রকার ঘরে প্রবেশ করেন, তারা কখনোই বনী আদম থেকে পৃথক হন না। কেননা তারা বান্দার আমল হিসাব করেন এবং তা লিখার কাজে ব্যস্ত থাকেন। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬০৭)

قال الخطاوى وانما لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب او صورة مما يحرم اقتناؤه من الكلاب والمصور فاما ماليس بحرام من كلب الصيد والزرع والماشية (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰(

অর্থ: হযরত ইমাম খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘রহমতের ফেরেশতাগণ ওই সমস্ত ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্য থাকে’ এ হাদীছ শরীফখানা কুকুর পালনকারী ও প্রাণীর ছবি চর্চাকারীকে উক্ত কাজ করতে হারাম করেছে। তবে শিকারী, ক্ষেত পাহারাদার ও গৃহপালিত পশু পাহারাদার কুকুর পালন হারাম নয়। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬০৮)

والاظهر انه عام فى كل كلب وكل صورة وانهم يمتنعون من الجميع لاطلاق الاحاديث. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰(

অর্থ: প্রসিদ্ধ কথা হলো: সাধারণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা সর্বপ্রকার কুকুর এবং সর্বপ্রকার ছূরত (প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য)-এর ব্যাপারে। ওই সমস্ত বিষয় সাধারণত হাদীছ শরীফ দ্বারাই নিষেধ করা হয়েছে। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬০৯)

(قوله: الارقما فى ثوب) هذا يحتج به من يقول باباحة ماكان رقما مطلقا كما سبق وجوابنا وجواب الجمهور عنه انه محمول على رقم على صورة الشجر وغيره مما ليس بحيوان وقد قدمنا ان هذا جائز عندنا (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰(

অর্থ: (হাদীছ শরীফ-এর বাণী : কাপড়ে প্রাণহীন বস্তুর নকশা ভিন্ন কথা) যাঁরা সাধারণভাবে প্রাণহীন বস্তুর নকশাকে জায়িয বলেন, তাঁরা এই হাদীছ শরীফকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকেন। যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আমাদের ও জমহুর (সমস্ত) উলামায়ে কিরামগণ উনাদের  মত এই যে, উক্ত হাদীছ শরীফ-এর উপর ভিত্তি করে গাছপালা ও অনুরূপ প্রাণহীন বস্তুর ছবিকে জায়িয রাখা হয়েছে। আর তাই আমাদের নিকট প্রাণহীন জড় বস্তুর নকশা জায়িয। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬১০)

قوله هتكه هو بمعنى قطعه واتلف الصورة التى فيه وقد صرحت فى الروايات المذكورات بعد هذه بان هذا النمط كان فيه صور الخيل ذوات الاجنحة وانه كان فيه صورة فيستبدل به لتغيير المنكر باليد وهتك الصور المحرم والغضب عند رؤية المنكر. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰(

অর্থ: ‘হাতাকাহু’ অর্থ হলো ছিঁড়ে ফেলা বা কেটে ফেলা। হাদীছ শরীফ-এর স্পষ্ট বর্ণনানুযায়ী ওই পর্দায় পাখাবিশিষ্ট ঘোড়ার ছবি ছিলো। হাত দিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন এবং ইহা দেখেও তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে অসন্তুষ্টির ভাব দেখিয়েছেন। যা প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ারই ইঙ্গিত বহন করে। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬১১)

فاستدلوا به على انه يمنع من ستر الحيطان وتنجيد البيوت بالثياب وهو منع كراهة تنزيهة لا تحريم هذا هوالصحيح وقال الشيخ ابو الفتح نصر المقدسى من اصحابنا هو حرام. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۰(

অর্থ: হাদীছ শরীফ দ্বারা মুহাদ্দিছূন কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাসিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, ঘরের দেয়ালের পর্দায় ও ঘরের অভ্যন্তরে প্রাণীর ছবি রাখা-আঁকা নিষেধ। তা মাকরূহ তানযীহী, যা মাকরূহ তাহরীমী নয়। এটাই সঠিক মত। কিন্তু (অধিক বিশুদ্ধ মত সম্পর্কে) আমাদের মুজতাহিদ হযরত শাইখ আবুল ফাতহ নাছরুল মাক্বদাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রাণীর ছবি, মূর্তি-ভাস্কর্য এগুলোর চর্চা যে কোনো স্থানে যে কোনো অবস্থায় হারাম। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যের চর্চা হারাম ২য় খ- ২০০ পৃষ্ঠা)

(৬১২)

هذه الاحاديث صريحة فى تحريم تصوير الحيوان وانه غليظ التحريم واما الشجر ونحوه مما لاروح فيه فلا يحرم صنعته ولا التكسب به وسواء الشجر المثمر وغيره وهذا مذهب العلماء كافة الا مجاهدا فانه جعل الشجر المثمر من المكروه قال القاضى لم يقله احد غير مجاهد. (شرح النووى من صحيح مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۲ الصفحة ۲۰۱(

অর্থ: এসকল হাদীছ শরীফ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা রাখা হারাম, এমনকি কঠিন হারাম। কিন্তু গাছ-পালা ও অনুরূপ প্রাণহীন বস্তুর ছবি তৈরি করা এবং এর দ্বারা উপার্জন করা হারাম নয়। তেমনিভাবে ফলদার গাছ ও অনুরূপ বস্তুর একই হুকুম। ইহাই সকল মাযহাবের সকল উলামায়ে কিরামগণের মত। তবে হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভিন্নমত পোষণ করেছেন। কেননা, উনার মতে ফলদার গাছের ছবি মাকরূহ তানযীহী। হযরত ইমাম ক্বাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এমন উক্তি হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছাড়া আর কেউ করেননি। (শরহুন নববী মিন ছহীহি মুসলিম অধ্যায় : পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তিÑভাস্কর্যেও চর্চা হারাম ২য় খ- ২০১ পৃষ্ঠা)

 

ইকমালুল মু’লিম বিফাওয়ায়িদি মুসলিম

 

কিতাবখানা লিখেছেন হযরত ইমাম হাফিয আবুল ফদ্বল আয়াদ্ব বিন মূসা বিন আয়াদ্ব ইয়াহছাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার ওফাত মুবারক : ৫৪৪ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে-

(৬১৩-৬১৪)

وقال بعض العلماء: هؤلاء الملائكة هم: ملائكة الوحى، فاما الحفظة فيدخلون كل بيت ولايفارقون بنى ادم على حال. (اكمال المعلم بفوائد مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۶ الصفحة ۶۳۰ دار الوفاء بيروت لبنان، معالم السنن الجلد ۱ الصفحة ۱۵۴ (۲۲۷(

অর্থ: কতিপয় উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করেন না যে সমস্ত ফেরেশতা, উনারা হলেন ওহীর ফেরেশতা। কিন্তু বান্দাদের সংরক্ষণকারী ও আমলনামা সংরক্ষণকারী ফেরেশতাগণ সকল প্রকার ঘরে প্রবেশ করেন। উনারা কখনো বনী আদম থেকে পৃথক হন না। (ইকমালুল মু’লিম বিফাওয়ায়িদি মুসলিম অধ্যায়: পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ৬ষ্ঠ খ- ৬৩০ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল ওয়াফা বৈরূত লিবানন, মায়লিমুস সুন্নাহ ১ম খ- ১৫৪ (২২৭) পৃষ্ঠা)

(৬১৫)

وقال بعض اصحابنا: وما وقع فى حديث عائشة عليها السلام من كراهة الصور المرقومة. (اكمال المعلم بفوائد مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۶ الصفحة ۶۳۳)

অর্থ: আমাদের কতিপয় উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা মাকরূহ তাহরীমী সাব্যস্ত হয়। (ইকমালুল মু’লিম বিফাওয়ায়িদি মুসলিম অধ্যায়: পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ৬ষ্ঠ খ- ৬৩৩ পৃষ্ঠা)

(৬১৬-৬১৮)

قال القاضى: اختلف الناس فى هذه الاحكام، فذهب بعضهم الى ان الممنوع من ذلك ما كان له ظل فاما مالا ظل له فلا بأس به، وذهب بعضهم الى منع الصور على العموم واستعمال ماهى فيه، ودخول البيت التى هى فيه رقما كانت او غير رقم فى ثوب او الة او حائط يمتهن او لا يمتهن وهو مذهب ابن شهاب على ظاهر بعض الاحاديث العامة فى ذلك. (اكمال المعلم بفوائد مسلم كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان الجلد ۶ الصفحة ۶۳۴ مصنف ابن ابى شيبة الجلد ۶ الصفحة ۸۵، التمهيد الجلد ۲۱ الصفحة ۱۹۵(

অর্থ: হযরত কাযী আয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইমাম মুজতাহিদগণ এ বিধানের ব্যাপারে ইখতিলাফ করেছেন। কতিপয় ইমামের মতে, দেহবিশিষ্ট মূর্তি নিষেধ। কিন্তু দেহহীন ছবিতে কোনো অসুবিধা নেই। আবার কতক ইমামের মতে ব্যাপকভাবে দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবির চর্চা নিষেধ তথা হারাম। প্রাণীর ছবি যদি পর্দায় থাকে অথবা পর্দা ছাড়া অন্য কিছুতে থাকে, অথবা যন্ত্রে থাকে অথবা দেয়ালে থাকে, তা অপমানের জন্য হোক অথবা অপমানের জন্য না হোক সর্বাবস্থায় তা নিষেধ। সাধারণত হাদীছ শরীফসমূহের উপর ভিত্তি করে এমনটি ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত। (ইকমালুল মু’লিম বিফাওয়ায়িদি মুসলিম অধ্যায়: পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ৬ষ্ঠ খ- ৬৩৪ পৃষ্ঠা, মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ ৬ষ্ঠ খ- ৮৫ পৃষ্ঠা, আত তামহীদ ২১তম খ- ১৯৫ পৃষ্ঠা)

 

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

 

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৯

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৫

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৭ম পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয় ৬ষ্ঠ পর্ব)