প্রসঙ্গ : সীমান্ত হাট

সংখ্যা: ২০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

শুধু অর্থনৈতিক আগ্রাসনই নয়; সীমান্তে আরো অনেক মীরজাফর তথা সীমান্ত গান্ধী তৈরি করে
বাংলাদেশের সীমান্ত তুলে দিয়ে ভারতের সাথে একাকার করাই কী আসল দুরভিসন্ধি?

 

মু’মিন এক গর্তে দু’বার পড়েন না।

স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু এদেশের স্বার্থ বিপন্নতায় যে গর্ত থেকে উঠে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কী স্বেচ্ছায় সেই গর্তেই দেশকে ধ্বংসের ধাবিত করলেন?

ব্যক্তি ইচ্ছা ও চিন্তাই গোটা দেশবাসী ও দেশকে ঠেলে দেয়; এই কী গণতন্ত্র?

দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন কোনো নাগরিকই মূলত গত ২৩শে জুলাই কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বালিয়ামারী নোম্যান্সল্যান্ডে সীমান্ত হাটের উদ্বোধনকে সুনজরে দেখেনি।

শুধু ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক আগ্রাসনের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং একই সীমান্ত হাটের অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ‘বর্ডার ট্রেড প্যাক্ট’ নামে একটি সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চালু হওয়া বর্ডার ট্রেড ১৯৭২ সালের মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার পর এই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় শেখ মুজিবের নির্দেশেই আবার তা বন্ধ হয়ে যায়।

স্বাধীনতা উত্তর শেখ মুজিব-সরকারের আমলে ১৯৭২ সালের ২৮ মার্চ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ‘ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয় তার Article-4-এ ভারত বাংলাদেশের মধ্যে Border Trade-এর ব্যবস্থা ছিল। Border Trade-এর অধীন বাণিজ্য আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক আইন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। এই Border Trade কিন্তু ছয় মাসের বেশি চলতে পারেনি। বাংলাদেশ সরকারের আপত্তিতেই Border Trade বাতিল হয়ে যায়। ভারতীয় পার্লামেন্টে এ সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশ-বাণিজ্যের ডেপুটি মিনিস্টার পার্লামেন্টকে জানান, ‘১৯৭২ সালের ৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ঢাকা বৈঠকের সিদ্ধান্তে Border Trade আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।’ মন্ত্রী জানায়, ‘‘ঢাকা বৈঠকে Border Trade’-এর পর্যালোচনার সময় ঢাকার ইচ্ছাতেই সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত Border Trade স্থগিত রাখা হয়েছে।’’ (প্রশ্ন নম্বর ৬১৮, নভেম্বর ১৪, ১৯৭২)।

মূলত, Border Trade কে কেন্দ্র করে অবাধ আসা-যাওয়ায় এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং Border Trade এর অজুহাতে কালো বাজারিদের যে মহোৎসব শুরু হয়ে যায়, তাতে সীমান্তের অস্তিত্বই গৌণ হয়ে পড়ে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, এই অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান Border Trade বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলের Border Trade আর বর্তমান Border Haat একই কথা, প্রচারণা।

বলাবাহুল্য, Border Trade-এর আড়ালে সে সময়ে যা হয়েছিলো সীমান্ত হাটের ক্ষেত্রে তারচেয়ে অনেক বেশি হবে। সে সময় Border Trade কালোবাজারি বন্ধ না করে কালোবাজারিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছিল। আর এবারো সীমান্ত হাট কালোবাজারি আরো বহুগুণ বৃদ্ধিই করবে। সেদিন যেমন এই কালোবাজারি ভারতের অর্থনীতিকে ফুলে ফাঁপিয়ে তুলেছিলো এবারও তার চেয়ে অনেক বেশি করবে। কারণ তখনকার চেয়ে ভারতীয় অর্থনীতি এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। ভারতীয় অর্থনীতির আগ্রাসনের ফলে তখনকার চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত জুন মাসে বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, গত অর্থবছরের ১০ মাসে ভারতের সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৪ হাজার ৫২ কোটি টাকা। এ বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির জন্য ভারতের কূটকৌশলই দায়ী। গত বছর একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন ভারতের সাথে ব্যবসা করা খুব কঠিন। তারা এক পা এগুলে দু’পা পিছায়।

আমাদের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর এক তথ্যে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশে ২ হাজার ৮৬টি পণ্য রফতানি করতে পারলেও বাংলাদেশ কেবল ১৬৮ ধরনের পণ্য ভারতে রফতানি করতে পারে। শিল্প সংরক্ষণের অজুহাত দেখিয়ে ভারত বাংলাদেশে সাড়ে ৭শ’ পণ্য সেদেশে নিষিদ্ধ করেছে। এক পর্যায়ে তারা এ তালিকায় ৩০০ পণ্য রেখে বাকি সাড়ে ৪শ’ পণ্যের রফতানি বাধা তুলে নিয়েছে ফাঁক রেখে। যে সাড়ে ৪শ’ পণ্যের রফতানি বাধা ভারত তুলে নিয়েছে তার ৯৮ শতাংশই বাংলাদেশে তৈরি হয় না। দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ থেকেও বাংলাদেশকে বঞ্চিত রেখেছ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আমদানি-রফতানির জন্য মোট প্রায় ১৭৫টি সীমান্ত পথ বা পয়েন্টের মধ্যে প্রায় সবগুলো পয়েন্টই ভারতের সাথে যুক্ত। এ সমস্ত পয়েন্ট নিয়ে যে পরিমাণে পণ্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায় তার বহুগুণ পণ্য ভারত থেকে আসে বাংলাদেশে।

অপরদিকে বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য ২৭টি প্রধান পণ্য ভারতের ‘সেনসেটিভ’ তালিকাভুক্ত। ট্যারিফ, ননট্যারিফ ব্যারিয়ার দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের বিধি-বিধানের ফাঁকে ফেলে বাংলাদেশী পণ্য ভারতে প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনা সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে ৪৭টি বাংলাদেশী পণ্যের ভারতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রবেশাধিকার দেয়ার কথা শোনা গেলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বাংলাদেশে ভারত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ গত এপ্রিল মাসে আক্ষেপ করে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশকে যে ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল তা তারা পূরণ করেনি।

২৩শে জুলাই উদ্বোধন করা সীমান্ত হাটে দু’দেশের ২৫টি করে মোট ৫০টি দোকান থাকলেও বাংলাদেশ-এর জন্য ছিল শুধুমাত্র কৃষিজাত উৎপাদিত দ্রব্য, পুরাতন কাপড়, শীতবস্ত্র, হস্ত ও কুটিরশিল্প, মৌসুমী ফলমূল, কোমল পানীয়, পান-সুপারি, মেলামাইন সামগ্রী, শাড়ি-লুঙ্গিসহ ছিল মাত্র ৩৫টি পণ্য। অপরদিকে ভারতের ছিল ৬৫টি পণ্য।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলায় এক সীমান্ত হাট উদ্বোধন করা হলেও অচিরেই সিলেটসহ দেশের আরো বহুস্থানে সীমান্ত হাট খোলার ঘোষণা এসেছে। সীমান্ত হাট নিয়ে বর্তমানে যে ধরনের প্রচারণা চলছে তাতে এর সংখ্যা যে বেড়ে কত হবে তা রীতিমত আশঙ্কাজনক।

তবে সীমান্ত হাটে যে শুধু অর্থনৈতিক আগ্রাসনের বিষয়টিই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ভারতের আরো গভীর ষড়যন্ত্র। সীমান্ত হাটের নামে শুধু অবাধ যাতায়াত-ই লক্ষ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য এদেশে নতুন করে আরো অনেক মীরজাফর তৈরী করা। বিশেষ করে সীমান্ত মীরজাফর তৈরি করা। এর অতীত অভিজ্ঞতাও তাদের রয়েছে। আব্দুল গাফফার খান নামক মুসলমান নামধারী ব্যক্তি বৃটিশ আমলে একান্ত হিন্দু অনুচর হয়ে স্বেচ্ছায় সীমান্ত গান্ধী নাম ধারণ করেছিল। বাংলাদেশের সীমান্তে এখন আরো অনেক সীমান্ত গান্ধী ভারত তৈরি করতে চাচ্ছে। রবীন্দ্র চর্চার নামে এমনিতেই সে উদ্দেশ্য অনেকটা সফল হয়েছে। বাকীটা কাঙ্খিত সীমান্ত গান্ধী তৈরি করে বাংলাদেশের সীমান্ত তুলে দিয়ে ভারতের সাথে একাকার করে দেয়ার জন্যই মূলত ভারতের এ সীমান্ত হাট তৎপরতা চলছে। এসব বিষয় যদি এখনো আমলে না আসে তাহলে বাংলাদেশীরা বাংলাদেশকে কতটুকু ধরে রাখতে পারবে সে প্রশ্ন জ্বলন্ত হয়ে উঠেছে।

-আল্লামা মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক