সারা বিশ্বের মুসলমান একটি দেহ স্বরূপ

সংখ্যা: ২০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

সারা বিশ্বের মুসলমান একটি দেহ স্বরূপ; দেহের এক স্থানে আঘাত পেলে যেমন তা সারাদেহে সঞ্চালিত হয়, তেমনি একটি মুসলিম দেশ দুর্ভিক্ষপীড়িত হলেও সারা মুসলিম বিশ্বে তা আলোড়িত হবার কথা।

কিন্তু সোমালিয়ায় খাদ্যের অভাবে মুমূর্ষু শিশুদের রাস্তায় ফেলে যাচ্ছে মায়েরা, খাদ্যের খোঁজে পথেই মরছে মানুষ, দুর্ভিক্ষপীড়িত সোমালিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ। সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৩০ হাজার শিশুর মৃত্যু। পাশে দাঁড়ায়নি কোন মুসলিম দেশ। কোথায় মুসলিম বিশ্বের ভ্রাতৃত্ববোধ? কোথায় ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সরকারের সহমর্মিতা? দুর্ভিক্ষ দূরের জন্য ১২০০ কোটি টাকা দিতে পারে বাংলাদেশই।

 

মুসলিম দেশ সোমালিয়া ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। লোহিত সাগর, এডেন উপসাগরের প্রবেশমুখে দেশটির অবস্থান। আর একটু দূরেই আরব সাগর। লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযোগ করেছে সুয়েজ খাল। ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সুয়েজ খাল পেরুলেই ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশের সঙ্গে এশিয়ার সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দূরত্ব কমে যায়। আর তাই এটিই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট।

সোমালিয়ার মোট আয়তন ৬৩৭.৭০০ বর্গ কিমি (২৪৬,২০০ sq. mi.). রাজধানী: মোগাডিশু। ধর্ম: সুন্নী মুসলিম। ভাষা: সোমালি এবং আরবি, সরকারী ভাষা: সোয়াহিলি, কথ্য ভাষা particulary দক্ষিণ. কয়েকটা ইংরেজি এবং ইতালিয়ান ভাষাও ব্যবহৃত হয়। সোমালিয়া ইতালি এবং যুক্তরাজ্য থেকে যথাক্রমে জুন ২৬ এবং ১লা জুলাই  ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

সোমালিয়ার জনসংখ্যা ৯,৩৬ মিলিয়ন (২০১০ জাতিসংঘের অনুমান)।  সামগ্রিক জনসংখ্যার ঘনত্ব হয় বর্গ কিমি (বর্গ মাইল প্রতি ২৭) প্রতি ১০ ব্যক্তি। প্রধান শহরগুলি হল মোগাদিসু, মূলধন, Hargeysa, Kismaayo এবং Marka । সোমালিয়া জাতিসংঘের একটি সদস্য, OAU, আরব লীগ, ইসলামী সম্মেলন সংস্থা এবং একটি ইইউ এর অঈচ রাজ্য। মুদ্রা: সোমালি শিলিং (SoSh) = ১০০ সেন্ট। মুদ্রার একক সোমালি শিলিং। সোমালিয়া ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক এবং আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্য।

আফ্রিকার শৃঙ্গ বলে খ্যাত সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষে ৯০ দিনে ২৯ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য প্রচারিত হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ খরার কারণে সোমালিয়াজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্য সংকটে রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে খাদ্য ও কৃষি সংগঠন (এফএও)। সংস্থাটি খরাকবলিতদের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

দুর্ভিক্ষকবলিত সোমালীয়রা শুধু খাবারের অভাবে আছে তাই নয়, প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারও পাচ্ছে না। এটাকেই মূল সমস্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমালিয়ার আরও তিনটি নতুন এলাকা এরই মধ্যে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে সোমালিয়ার আরও অঞ্চল দুর্ভিক্ষকবলিত হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

৬০ বছরের মধ্যে সোমালিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ এ দুর্ভিক্ষে ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের এখন জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। দক্ষিণ সোমালিয়ার অধিকাংশ এলাকাই আল শাবাব জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে আছে। গত বছর তারা খাদ্য সহয়তা কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে এবং বেশ ক’টি সাহায্য সংস্থাকে ওই এলাকা থেকে বের করে দেয়। এতে সংকট আরও ঘনীভূত হয়।

পূর্ব আফ্রিকা ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টিহীনতার দরুণ খরা কবলিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর শিকার হয়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ। নিদারুণ খাদ্যাভাবের কারণে সোমালিয়ার লাখো মানুষ পার্শ্ববর্তী কেনিয়া ও ইথিওপিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার ডাক দিলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খরা-উপদ্রুত সোমালিয়া থেকে হাজার হাজার লোক ইথিওপিয়ায় আশ্রয় নিচ্ছে।

দক্ষিণ পূর্ব ইথিওপিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা ডোলো আডো-র শিবিরগুলোতে এক লাখ ১০ হাজারেরও বেশি লোক এসে পৌঁছেছে।

যারা শিবির পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে তারা আসলে ভাগ্যবান কারণ , খরার শিকার অনেক লোকই এত দরিদ্র এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তাদের বাড়ি ছাড়ার শক্তিও নেই এবং তাদের বাঁচার আশা ক্ষীণ।

ডোলো আডোর শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখনই ভিড় উপচে পড়ছে, অসহায় মানুষদের গাদাগাদি ভিড় সেখানে- তার পরেও প্রতিদিন সেখানে নতুন আরও প্রায় শ শ মানুষ এসে যোগ দিচ্ছেন।

ক্ষুধায় তারা কাতর, অনাহারে দুর্বল এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিয়ে টানা কয়েকদিন ধরে হেঁটে সোমালিয়া পেরিয়ে সেখানে এসে পৌঁছেছেন।

সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষ কবলিত হিসেবে ঘোষিত দুটি এলাকায় ১৬০ কোটি ডলারের জরুরি সাহায্যের জন্য বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন দাতাদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বান বলেন, সেখানে ৩৭ লাখ লোক এখন সংকটে রয়েছে, যা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। তিনি বলেন, খরার প্রভাবে সংকটগ্রস্ত লোকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়বে।

জাতিসংঘ ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার পর ওই এলাকাকে প্রথম দুর্ভিক্ষ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব সংস্থা জানায়, ওই এলাকা ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক খরায় ১ কোটি ২০ লাখ লোক ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। সংকটের ফলে আরও অবনতি ঠেকাতে এবং বর্তমান চাহিদা মেটাতে দাতাদের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন উলে¬খ করে বান বলেন, জীবন রক্ষার প্রয়োজনে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি সাহায্য প্রয়োজন।

একের পর এক বর্ষার মৌসুম বৃষ্টিহীন। গবাদি পশু মরে গেছে। ক্ষেতে আর কিছুই জন্মাচ্ছে না। বিশেষ করে সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চল এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বহু দশক ধরে এখানকার মানুষ যুদ্ধ আর সংঘর্ষের মুখে ক্লিষ্ট হয়েছে। এখানে ইসলামী নামধারী গ্রুপ আল-শাবাব তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে রেখেছে। তাদের সন্ত্রাসের শিকার সাধারণ মানুষ। অল্প কিছুকাল আগেও তারা এই অঞ্চলে কোনো ত্রাণসামগ্রী ঢুকতে দেয়নি।

পূর্ব আফ্রিকা ৫০ বছরেরও বেশি সময় বৃষ্টিহীনতায় খরাকবলিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এর শিকার হয়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ। খাদ্যাভাবের কারণে সোমালিয়ার লাখো মানুষ পার্শ্ববর্তী কেনিয়া ও ইথিওপিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার ডাক দিলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সেখানকার ১৫ লাখ মানুষকে খাদ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু প্রায় ১০ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোমালিয়া সম্পূর্ণ সুন্নী মুসলমান অধ্যুষিত একটি দেশ। পৃথিবীতে মুসলমানের সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি এবং মুসলমান দেশের সংখ্যা ৫০ এরও অধিক। মুসলমানদের মধ্যে এমন হাজার হাজার লোক রয়েছে যাদের একজনের যাকাতও হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে। অপরদিকে সোমালিয়ার সাহায্যের জন্য দরকার মাত্র ১৬০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১২শ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে এ টাকা এক বাংলাদেশ সরকারেই স্বাচ্ছন্দে দিতে পারে।

মূলত ইসলাম ভ্রাতৃত্বের অভাবের কারণেই এরূপটি হচ্ছে না। অথচ হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- “সমস্ত মুসলিম বিশ্ব মিলে একটি দেহ স্বরূপ।” দেশের এক অংশে আঘাত পেলে যেমন তা সর্বাংশে সঞ্চালিত হয় তেমনি মুসলিশ বিশ্বের একটি অংশ দুদর্শাগ্রস্থ হলে তাও সর্বত্র বিস্তার লাভ করবে। তাই মুসলশান হিসেবে এ ভ্রাতৃত্ববোধের জাগরণ দরকার।

-আল্লামা মুহম্মদ তারিফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক