চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৮

সংখ্যা: ২০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

বর্তমান সংখ্যার আলোচনা: ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলীক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ‘Real Hizri Calendar Implementation Council Bangladesh’ নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এ সম্পর্কে ৯০টি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে। তারা লিখেছে-

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

৩৫ নম্বর মতামত : মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “সূর্য এবং চাঁদ হিসাব মতে চলে।” (সূরা আর রহমান : আয়াত শরীফ ৫) একইভাবে আমরাও ক্যালকুলেশন ব্যবহার করতে পারি যা বিজ্ঞান দ্বারা সঠিকভাবে সাব্যস্ত হয়েছে।

৩৬ নম্বর মতামত: ক্যালকুলেশন ব্যবহার করে, বিজ্ঞানীরা নিখুঁতভাবে সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণের তারিখ, সময় ও সময়কাল আগাম বর্ণনা করছে। তাহলে চাঁদের গণনা কেন বিশ্বাস করবো না, যা কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।

৩৫ ও ৩৬ নম্বর মতামতের জবাব: সূরা আর রহমান-এর ৫ নম্বর আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি সূর্য ও চাঁদ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, “সূর্য ও চন্দ্র হিসাবমতো চলে।” মূলত কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের করা উচিত নয়, এ বিষয়ে যারা জ্ঞানী উনারাই করবেন। হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস এবং ইলমে লাদুন্নীর জ্ঞান ছাড়া তাফসীর করা সম্ভব নয়। তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এই আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত, “হিসাবমতো” শব্দ মুবারক দ্বারা চাঁদ হিসাব করে গণনা করে মাস শুরু করার বিষয়ে যে মত প্রকাশ করেছে তা স্পষ্ট মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। এখানে সূর্য ও চাঁদের হিসাবমতো চলা মূলত তাদের কক্ষপথের উপর নির্দিষ্ট নিয়মে চলার বর্ণনা করা হয়েছে অর্থাৎ এগুলো আসলে আল্লাহ পাক উনার কুদরতের মাধ্যমে ঘূর্ণায়মান।

আল্লাহ পাক উনার কুদরতের মাধ্যমে শুধু সূর্য ও চাঁদ নয় আকাশম-লীর সমস্ত কিছুই ঘূর্ণায়মান। কিন্তু এসকল বিষয় যেহেতু একটি হিসাব বা নিয়মে ঘূর্ণায়মান তার মানে এই নয় হিসাব করে চাঁদ গণনা করে আরবী মাস শুরু করতে হবে। সাধারণত ওয়াহাবী, সালাফীরা এ ধরনের মনগড়া ব্যাখ্যা করে থাকে। হাদীছ শরীফ-এ আরবী মাস শুরু করার যে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে তা হলো খালি চোখে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করতে হবে।

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা যায় বলে যে, গণনা করে চাঁদ দেখে আরবী মাস শুরু করতে হবে তার এই মতের পক্ষে শরীয়তের কোন দলীল নেই। আরবী মাস শুরুর ক্ষেত্রে গণনার কথা বলা হয়নি “দেখার” শর্ত দেয়া হয়েছে। আর গণনা করেও নির্ভুলভাবে কখনোই বলা সম্ভব নয় যে চাঁদ দেখা যাবেই। সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সময় থেকে কখনো মাস শুরু হয় না। আবার এর সময় নির্ধারণের জন্য কোন গণনারও প্রয়োজন নেই। যখন সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ হয় তখন মানুষ তা দেখতে পায়। কিন্তু হিলাল বা বাঁকা চাঁদ দেখে যেহেতু আরবী মাস শুরু করতে হয়, ফলে তার তালাশের বিষয় রয়েছে আর তা প্রতিমাসের ২৯তম তারিখে দেখা যেতেও পারে নাও পারে। কিন্তু তাই বলে চাঁদ গণনা করে আরবী মাস শুরু করা জিহালতী। আর গণনার পক্ষে যুক্তি দেয়ার জন্য চাঁদ ও সূর্যের হিসাবমত চলার খোঁড়া যুক্তি দেয়াটা কুফরী।

বিশ্বের জন্য ১৪৩২ হিজরীর পবিত্র শাওওয়াল মাসের চাঁদের রিপোর্ট

জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ২৯ আগস্ট, ২০১১, সোমবার, রাত ৩টা ০৪ মিনিটে (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)। অমাবস্যার দিন অর্থাৎ ২৯ আগস্ট, ২০১১, সোমবার, সউদী আরবে পবিত্র শাওওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের জন্য ১৪৩২ হিজরীর পবিত্র শাওওয়াল মাসের চাঁদের রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ২৯ আগস্ট, ২০১১, সোমবার, সকাল ৯টা ০৪ মিনিটে। বাংলাদেশে পবিত্র শাওওয়াল মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ৩০ আগস্ট, ২০১১, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ১৯ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৬টা ৫৮ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত এবং চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য ৩৯ মিনিট। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ৯ ডিগ্রী উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ খুঁজতে হবে ২৬২ ডিগ্রী আজিমাতে। সেদিন চাঁদ দেখা যেতেও পারে যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে।

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক