খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির

সংখ্যা: ২০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র ।। খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির
ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবিক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন-  কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩ দিন এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”

কাদিয়ানী রদ!

(ষষ্ঠ ভাগ)

(কুতুবুল ইরশাদ, মুবাহিছে আয’ম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাস্সিরীন, হাফিযুল হাদীছ, মুফতিউল আ’যম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মুকাম্মিল হযরতুল আল্লামা মাওলানা শাহ্ ছূফী শায়খ মুহম্মদ রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খণ্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরক্বা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান-আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টায় কামিয়াবী দান করুন (আমীন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয়)।

(ধারাবাহিক)

এখন ইবনো হাজার ফতহুল বারী’র ১৩/১০ পৃষ্ঠায় লিখিয়াছেন ;-

 

قال ابن بطال انذر النبى صلى الله عليه وسلم فى حديث زينب بقرب قيام الساعة كى يتوبوا قبل ان تهجم عليهم وقد ثبت ان خروج ياجوج وماجوج قرب قيام الساعة فاذا فتح من ردمهم ذلك القدر فى زمنه صلى الله عليه وسلم لم يزل الفتح يتسع على مر الاوقات

 

“ইবনো বাত্তীল বলিয়াছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জয়নাব আলাইহাস সালাম উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ কিয়ামত নিকটবর্ত্তী হওয়ার ভীতি প্রদর্শন করিয়াছেন, যেমন উহা হঠাৎ তাহাদের উপর আপতিত হওয়ার পূর্বে তাহারা তওবা করিতে পারে। নিশ্চয় সপ্রমাণ হইয়াছে যে, নিশ্চয় ইয়াজুজ ও মাজুজ কিয়ামতের নিকট সময়ে বাহির হইবে। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জামানাতে তাহাদের প্রাচীর উক্ত পরিমাণ ছিদ্র হইয়া গিয়াছে তখন সর্বদাই জামানা অতিবাহিত হওয়াতে উক্ত ছিদ্র সমধিক প্রশস্ত হইতেছে।” কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ সপ্রমাণ হয় যে, ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্প্রদায় জোল-কারনাএন কর্তৃক প্রস্তত প্রাচীরের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে। কিয়ামতের নিকট সময়ে বাহির হইয়া অরক্ষিত মানুষদিগকে হত্যা করিবে। তাহারা তীর ধনুক ব্যবহার করিবে। হযরত ঈছা আলাইহিস সালাম ও মুসলমানগণ তুর পর্বতে থাকিয়া তাহাদের ধ্বংসের জন্য দোয়া করিবেন, এক রাত্রে তাহারা সকলেই মরিয়া যাইবে। তাবিরিয়া হ্রদের সমস্ত পানি তাহারা পান করিয়া ফেলিবে। তাহাদের মৃত্যুর পরেই ফল শস্যের উন্নতি ও দুগ্ধের অত্যধিক বরকত হইবে। তাহার পরে সমস্ত মুসলমান মরিয়া যাইবেন। ইহা কিয়ামতের খুব নিকট সময়ের কথা। বাইবেলের যিহিক্কেল পুস্তকের ৩৮/৩৯ অধ্যায়ে ইয়াজুজ ও মাজুজের কাহিনীর ভবিষ্যদ্বাণী আছে।

মির্জা গোলাম আহমদ ছাহেব কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর সমস্ত কথা প্রত্যাখ্যান করতঃ ইংরেজ জাতিকে ইয়াজুজ ও রুশ জাতিকে মাজুজ বলে প্রকাশ করিয়াছে। ইজালায় আওহাম, ২/২৮৬ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

নিরপেক্ষ পাঠক বিচার করুন, ইংরেজ ও রুশ জাতি কি কখন প্রাচীরের মধ্যে আবদ্ধ ছিল? ইংরেজ কি শেষ যুগে তীর ধনুক দ্বারা যুদ্ধ করিবে। তাহারা কি তাবারিয়া হ্রদের লবণাক্ত পানি খাইবে?

মির্জা ছাহেব মছিহ হওয়ার দাবি করিয়াছে, আর হাদীছ শরীফ-এ আছে, হযরত ঈছা আলাইহিস সালাম তুর পর্বতে থাকিবেন, মির্জা ছাহেব কি পশ্চিম দেশে কখন গিয়াছিল? সে কোথায় অবস্থান করিয়াছিল? যদি মির্জা ছাহেব মছিহ হইতো এবং ইংরেজ ও রুশ জাতি ইয়াজুজ ও মাজুজ হইতো, তবে মির্জা ছাহেবের দোওয়াতে সমস্ত ইংরেজ ও রুশ জাতি এক রাত্রে মরিয়া গেল না কেন? মির্জা ছাহেব কতকাল গোরবাসী হইয়াছে, কিন্তু ইংরেজ ও রুশ জাতি বিধ্বস্ত হলো না, বরং তাহাদের ক্রমোন্নতি হইতেছে। যদি উভয় সম্প্রদায় ইয়াজুজ ও মাজুজ হয় তবে ইতালি, ফরাসী, জার্মান, অস্টীয়ান, আমেরিকান ইত্যাদি খ্রিস্টান জাতিরা কি হইবে?

ইয়াজুজ ও মাজুজের দল হযরত ঈছা আলাইহিস সালাম উনার দোওয়াতে মরিবার কিছু দিবস পরে সমস্ত মুসলমান মরিয়া যাইবেন, এই চিহ্নগুলি কোথায়?

ইহাতে বুঝা যায়, মির্জা ছাহেবের দাবি অনুসারে ইংরেজ ও রুশ জাতি ইয়াজুজ ও মাজুজ নহে এবং মির্জা ছাহেব প্রতিশ্রুত মছিহ নহে। (অসমাপ্ত)

খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির

খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির

খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির

খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির

খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির