কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪০

সংখ্যা: ২০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

আস সিরাজুল ওয়াহ্হাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ

(৬৮১)

يدل على تحريم تصوير الحيوان وهو حرام شديد التحريم، وهو من الكبائر متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور فى الاحاديث، وسواء صنعه بما يمتهن او بغيره فصنعته حرام بكل حال لان فيه مضاهاة لخلق الله تعالى، قال النووى: وسواء ماكان فى ثوب او بساط او درهم او دينار او فلس او اناء او حائط او غيرها، واما تصوير صورة الشجرة ورحال الابل وغير ذلك مما ليس فيه صورة حيوان فليس بحرام هذا حكم نفس التصوير. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب عذاب المصورين يوم القيامة الجلد ۶ الصفحة ۴۶)

অর্থ: হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা হারাম, এমনকি শক্ত হারাম। আর তা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত, কেননা এ ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির ওয়াদা রয়েছে। অপমানের জন্য তৈরি করুক অথবা অপমানের জন্য না করুক, তা সর্বাবস্থায় তৈরি করা হারাম। কেননা, এতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করা হয। হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কাপড়ে বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায়, স্বর্ণ মুদ্রায়, টাকা-পয়সায়, পাত্রে, দেয়ালে ও যাবতীয় জিনিসপত্রে এগুলো আঁকা বা তৈরি করা সমানভাবে হারাম। তবে গাছ-পালা, ঘোড়ার জিন এবং এ জাতীয় প্রাণহীন বস্তুর ছবি হারাম নয়। ইহাই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদির মূল ফায়সালা। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া প্রসঙ্গে ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৬ পৃষ্ঠা)

(৬৮২)

ولا فرق فى هذا كله بين ماله ظل وما لا ظل له، قال هذا تلخيص مذهبنا فى المسألة وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وهو مذهب الثورى ومالك وابى حنيفة وغيرهم. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب عذاب المصورين يوم القيامة الجلد ۶ الصفحة ۴۶)

অর্থ: দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। গ্রন্থকার হাফিয মুনযিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইহাই এ মাসয়ালার ব্যাপারে আমাদের মাযহাবের মূল ফায়সালা। অধিকাংশ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং উনাদের পরবর্তীগণ হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্যগণের ফায়সালাও অনুরূপ। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া প্রসঙ্গে ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৬ পৃষ্ঠা)

(৬৮৩)

وقال بعض السلف: انما ينهى عما كان له ظل ولا بأس بالصور التى ليس لها ظل، وهذا مذهب باطل، فان الستر الذى انكر النبى صلى الله عليه واله وسلم الصورة فيه لايشك احد انه مذموم. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب عذاب المصورين يوم القيامة الجلد ۶ الصفحة ۴۶)

অর্থ: পূর্ববর্তী কতক ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, ‘যারা বলে দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ কিন্তু দেহহীন প্রাণীর ছবিতে কোন অসুবিধা নেই’ তাদের এ বক্তব্য বাতিল বা পরিত্যাজ্য। কেননা, নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট পর্দা দেখে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং এতেও কোন সন্দেহ নেই যে, একাজগুলো নিন্দনীয় বা তিরস্কৃত। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া প্রসঙ্গে ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৬ পৃষ্ঠা)

(৬৮৪)

وقال الزهرى: النهى فى الصورة على العموم، وكذلك استعمال ما هى فيه ودخول البيت الذى هى فيه سواء كانت رقما فى ثوب او غير رقم وسواء كانت فى حائط او ثوب او بساط ممتهن او غير ممتهن عملا بظاهر الاحاديث لاسيما حديث النمرقة الذى تقدم وهذا مذهب قوى. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب عذاب المصورين يوم القيامة الجلد ۶ الصفحة ۴۶)

অর্থ: তাবিয়ী হযরত ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমভাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ তথা হারাম। এগুলি চর্চা করা এবং এমন ঘরে প্রবেশ করাও হারাম। প্রাণীর ছবি কাপড়ে হোক অথবা কাপড় ছাড়া অন্যকিছুতে হোক একই হুকুম। অনুরূপ হাদীছ শরীফ-এর প্রকাশ্য বর্ণানুযায়ী লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য হোক, দেয়াল, কাপড়, বিছানায় এগুলো তৈরি করা হারাম। এটাই শক্তিশালী মত। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া প্রসঙ্গে ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৬ পৃষ্ঠা)

(৬৮৫-৮৭)

قال النووى: اما الشجر ونحوه مما لاروح فيه فلا تحرم صنعته ولا التكسب به وسواء الشجر المثمر وغيره قال: وهذا مذهب العلماء كافة الا مجاهدا فانه جعل الشجر المثمر من المكروه: قال عياض لم يقله احد غير مجاهد قال فى النيل فيه الاذن بتصوير الشجر وكل ما ليس له نفس، وهو يدل على اختصال التحريم بتصوير الحيوان قال فى البحر الزخار: ولا يكره تصوير الشجر ونحوه من الجمال اجماعا. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب عذاب المصورين يوم القيامة الجلد ۶ الصفحة ۴۷)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, গাছ-পালা অনুরূপ এছাড়া অন্যান্য রূহহীন জড়বস্তু তৈরি করা এবং এগুলোর দ্বারা উপার্জন করা হারাম নয়। অনুরূপ ফুল-ফলবিশিষ্ট গাছ ও অনুরূপ অন্য কিছুর ব্যাপারে একই হুকুম। তিনি (হযরত হাফিয মুনযিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এটা সমস্ত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের চূড়ান্ত ফায়সালা। তবে শুধু তাবিয়ী হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে ফুল-ফলদার গাছের ছবি তৈরি করা (তাক্বওয়ার দৃষ্টিতে) মাকরূহ তানযীহী। হযরত ক্বাদ্বী আয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ব্যতীত আর কেউ (মাকরূহ তানযীহী) মত পোষণ করেননি। ‘আন নাইল’ গ্রন্থকার বলেন, গাছ-পালার ছবি এবং সর্বপ্রকার প্রাণহীন বস্তুর ছবি তৈরি করতে শরীয়তের অনুমতি আছে। তবে বিশেষভাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে। ‘আল বাহরুয যুখখার’ গ্রন্থকার বলেন, ইজমা তথা সকলের ঐকমত্যে গাছ-পালা এবং জড়বস্তুর ছবি তৈরি মাকরূহ তানযীহী নয়, বরং তা জায়িয। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে ক্বিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া প্রসঙ্গে ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৭ পৃষ্ঠা)

(৬৮৮-৬৮৯)

فى هذه الباب دلالة على ان التصوير من اشد المحرمات للتوعد عليه بذلك، وبالتعذيب فى النار، وبان كل مصور من اهل النار ولورود لعن المصورين فى احاديث اخر، وذلك لايكون الا على محرم متبالغ فى القبح. قال فى النيل: وانما كانت التصاوير من اشد المحرمات الموجبة لما ذكر لأن فيه مضاهاة لفعل الخالق جل جلاله. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب التشديد على المصورين الجلد ۶ الصفحة ۴۸)

অর্থ: এ পরিচ্ছেদের হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা শক্ত হারাম। এগুলোর ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ জাহান্নামের আযাবের হুমকি বাণী আছে। আর নিশ্চয়ই প্রত্যেক প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারী জাহান্নামের অধিবাসী। আর অপর হাদীছ শরীফ-এ মুছাব্বিরীন তথা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদের উপর লা’নত তথা অভিসম্পাতের কথা বর্ণিত আছে। আর এগুলো জঘন্য কদর্য কাজ হিসেবে হারাম সাব্যস্ত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ‘আন নাইল’ গ্রন্থকার বলেন, নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলন করা শক্ত হারাম হিসেবে সাব্যস্ত। এর কারণ স্বরূপ বর্ণিত আছে যে, এতে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক জাল্লা জালালুহু উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করা হয়। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে কঠোর হুঁশিয়ার বাণী ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৮ পৃষ্ঠা)

(৬৯০)

ومن اشراط الساعة القريبة عموم البلوى بالتصاوير فى هذا العصر حتى لم يبق شئ من المأكل والمشارب والاثواب والديار والمراكب وكل شئ يستعمله الانسان من كتب واوان ودراهم ودنانير وغيرها، وتعذر الاحتراز عنها تعذرا شديدا فانا لله وانا اليه راجعون. (السراج الوهاج فى كشف مطالب مسلم بن الحجاج كتاب اللباس والزينة باب التشديد على المصورين الجلد ۶ الصفحة ۴۸)

অর্থ: ক্বিয়ামতের আলামতের এটি একটি আলামত যে, বর্তমান যামানায় প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বালা-মুছীবত ও মহামারি আকার ধারণ করেছে। এমনকি খাদ্যে, পান পাত্রে, কাপড়ে, ঘরবাড়িতে এবং যানবাহনে (তথা সর্বপ্রকার গাড়ি, বাস, ট্রেন, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ, বিমান ইত্যাদিতে) এগুলোর অনুশীলন হতে বাকি নেই। এছাড়াও মানুষের নিত্যব্যবহার্য জিনিস কিতাব-পত্র, রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণমুদ্রা, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য জিনিসপত্রে প্রাণীর ছবি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। (এর পরও বেঁচে থাকতে হবে) কারণ নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করতে তৈরি হয়েছি এবং নিশ্চয়ই আমাদেরকে উনার কাছেই ফিরে যেতে হবে। (অতএব, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদি তৈরি করা ও এগুলোর চর্চা করা হারাম এটাই শরীয়তের চূড়ান্ত ফায়সালা)। (আস সিরাজুল ওয়াহহাজ ফী কাশফি মাত্বালিবি মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে কঠোর হুঁশিয়ার বাণী ৬ষ্ঠ খণ্ড ৪৮ পৃষ্ঠা)

 

তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহিল ইমাম মুসলিমিব্নিল হাজ্জাজিল কুশাইরী

 

অত্র কিতাবখানা লিখেছেন আল্লামা হযরত মাওলানা মুহম্মদ তক্বী উছমানী হানাফী। উক্ত কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে-

(৬৯১-৬৯২)

فى حديث ابى طلحة لا تدخل الملائكة بيتا فيه كلب ولا صورة قال الحافظ فى الفتح ۱۰ : ۳۸۱: المراد بالبيت المكان الذى يستقر فيه الشخص، سواء كان بناء او خيمة ام غير ذلك (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح الامام مسلم بن الحجاج القشيرى كتاب اللباس والزينة باب تحريم تصوير صورة الحيوان المجلد ۴ الصفحة ۱۵۲ مكتبة دار العلوم كراتشى)

অর্থ: হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, “ওই ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেননা, যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে।” হযরত ইমাম হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি উনার লিখা ‘আল ফতহুল বারী আলা ছহীহিল বুখারী’ কিতাবের ১০ম খণ্ড ৩৮১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, হাদীছ শরীফ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে; ওই সমস্ত ঘর যেখানে মানুষ বসবাস করে। সেটি কক্ষ বা ঘর হোক, তাবু হোক অথবা যে কোন স্থানই হোক, এতে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকলে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহিল ইমাম মুসলিমিবনিল হাজ্জাজিল কুশাইরী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম ৪র্থ খণ্ড ১৫২ পৃষ্ঠা প্রকাশনী: দারুল উলূম, করাচী)

(৬৯৩)

ان تصوير ذوى الارواح واتخاذ الصور فى البيوت ممنوع شرعا، واتفق عليه جمهور الفقهاء. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۵)

অর্থ: রূহ বিশিষ্ট প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা এবং এগুলো ঘরে রাখা শরীয়তের দৃষ্টিতেই নিষেধ তথা হারাম। এ ব্যাপারে জমহুর তথা অধিকাংশ ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৫ পৃষ্ঠা)

(৬৯৪)

عن جابر رضى الله تعالى عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصورة فى البيت ونهى ان يصنع ذلك (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۶)

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরে (তাবুতে বা যে কোন স্থানে) প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য রাখতে নিষেধ তথা হারাম ঘোষনা করেছেন। আর এগুলো তৈরি করাতেও নিষেধ তথা হারাম ঘোষনা করেছেন। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৬ পৃষ্ঠা)

(৬৯৫)

فهذه اربعة عشر حديثا مرفوعا، كلها تدل على كون التصاوير ممنوعة على الاطلاق، وليس فيها مايفرق بين التصاوير التى لها جسم، وبين التصاوير المرقومة على الثياب والاوراق وغيرها. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۷)

অর্থ: এখানে (এ কিতাবে) ১৪ খানা মারফু’ হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি হাদীছ শরীফ মূলত প্রমান করছে যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা নিষেধ তথা হারাম। আর এ হুকুমের ব্যাপারে দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য এবং কাপড়ে, কাগজে ও এছাড়া যে কোন জিনিষে প্রাণীর ছবির কোন পার্থক্য নেই। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৭ পৃষ্ঠা)

(৬৯৬)

اقوال الصحابة وتعاملهم فى التصوير. وكذلك ورد عن الصحابة والتابعين كثير من الاثار تدل على انهم كانوا يحرمون الصور مطلقا. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۷)

অর্থ: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অসংখ্য বর্ণনা দ্বারা মূলত প্রমানিত যে, উনারা প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্যকে হারাম ফতওয়া দিয়েছেন। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৭ পৃষ্ঠা)

(৬৯৭-৬৯৮)

روى عن ابى مسعود الانصارى رضى الله تعالى عنه ”ان رجلا صنع له طعاما فدعاه، فقال: افى البيت صورة؟ قال نعم فابى ان يدخل حتى كسر الصورة ثم دخل“ اخرجه البيهقى فى سننه: ۷: ۲۶۸ كتاب النكاح باب المدعويرى صورا. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۸)

 

অর্থ: ছাহাবী হযরত আবূ মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। “নিশ্চয়ই এক ব্যক্তি উনার জন্য কিছু খাবার তৈরি করে উনাকে দাওয়াত দিলেন। তখন তিনি (হযরত আবূ মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) ওই ব্যক্তিকে বললেন, ঘরের ভিতরে কি ছূরত তথা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য আছে? মেজবান জবাব দিলেন, হ্যাঁ আছে। একথা শুনে তিনি ওই ঘরে ঢুকতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন। এমনকি যখন সেগুলি ধ্বংস করা হলো তখন তিনি উক্ত ঘরে প্রবেশ করলেন।” অনুরুপ হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘সুনান’ শরীফ-এর ৭ম খণ্ড ২৬৮ পৃষ্ঠায় বিবাহ অধ্যায়ের ‘ছূরহ’ স্থানে আহুত পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

(৬৯৯-৭০০)

عن قتادة قال: يكره من التماثيل ما فيه الروح، فاما الشجر فلا باس به. اخرجه عبد الرزاق فى مصنفه ۱۰: ۴۰۰ رقم ۱۹۴۹۳. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۸)

অর্থ: তাবিয়ী হযরত ক্বতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রূহবিশিষ্ট প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য মাকরূহ তাহরীমী। তবে গাছপালাতে কোন অসুবিধা নেই। ইহা হযরত ইমাম আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুছান্নাফ’ শরীফে ১০ম খণ্ড ৪০০ পৃষ্ঠায় ১৯৪৯৩ নম্বর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

(৭০১-৭০২)

اخرج ابن سعد فى طبقاته ۵: ۱۳۴ ان سعيد بن المسيب كان لا يأذن لابنته فى اللعب ببنات العاج. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۸)

অর্থ: হযরত ইবনু সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি ‘ত্ববাকাত’ শরীফ-এর ৫ম খণ্ড ১৩৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন: নিশ্চয়ই তাবিয়ী হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়িব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শিশু মেয়েকে পুতুল নিয়ে খেলা করতে অনুমতি দেননি তথা সুযোগ দেননি। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

(৭০৩)

مذاهب الفقهاء: ومن اجل هذه الاحاديث والاثار ذهب جمهور الفقهاء الى تحريم التصوير واتخاذ الصور فى البيوت سواء كانت مجسمة لها ظل، او كانت غير مجسمة ليس لها ظل. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۸)

অর্থ: হযরত ফুক্বাহা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত: উল্লেখিত হাদীছ শরীফ ও আছার শরীফ-এর ভিত্তিতে অধিকাংশ ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ‘তাছবীর’ তৈরি করা এবং তা ঘরে রাখা হারাম ফতওয়া দিয়েছেন। তা দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য হোক অথবা দেহহীন প্রাণীর ছবিই হোক, এতে একই বিধান। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

(৭০৪)

فيقول النووى رحمه الله تعالى عليه تحت حديث الباب: قال اصحابنا وغيرهم من العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم، وهو من الكبائر، لانه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور فى الاحاديث، وسواء صنعه بما يمتهن او بغيره، فصنعته حرام بكل حال، لان فيه مضاهاة لخلق الله تعالى، واما اتخاذ المصور فيه صورة حيوان، فان كان معلقا على حائط او ثوبا ملبوسا او عمامة ونحو ذلك مما لا يعد ممتهنا فهو حرام، ولا فرق فى هذا كله بين ماله ظل وما لا ظل له. هذا تلخيص مذهبنا فى المسألة. ومعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، وهو مذهب الثورى ومالك وابى حنيفة وغيرهم. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۸)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের ও অন্যান্য উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম  উনারা বলেন যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা শক্ত হারাম এবং কবীরাহ গুনাহ। কেননা, এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির প্রতিশ্রুতি আছে। তা লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হোক একই হুকুম। এ গুলো তৈরি করা সর্বাবস্থায় হারাম। যেহেতু এতে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যতা দাবি করা হয়। প্রাণীর ছবি অঙ্কণকারী ব্যক্তির ছবি যদি দেয়ালে, কাপড়ে, পোশাকে, পাগড়ীতে ও এছাড়া অন্য কিছুতে লটকানো থাকে তা অলাঞ্ছণার জন্য (অথবা লাঞ্ছনার জন্য) তৈরি করুক না কেন তা হারাম হবে। দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। এ মাসয়ালার ব্যাপারে এটাই আমাদের মাযহাবের চূড়ান্ত ফয়সালা। অধিকাংশ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও পরবর্তী উলামা কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনুরূপ মতামত। আর এ মতামতই হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অপরাপরগণ উনাদের মাযহাব। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

(৭০৫-৭০৮)

قال العينى فى عمدة القارى. ۱۰: ۳۰۹، وبه يتبين مذهب الشافعية والحنفتة. وهو مذهب الحنابلة ايضا، قال المرداوى فى الانصاف ۱: ۴۷۴ : يحرم تصوير ما فيه روح، ولا يحرم تصوير الشجر ونحوه. والتمثال مما لا يشابه ما فيه روح على الصحيح من المذهب. يحرم تعليق ما فيه صورة حيوان، وستر الجدار به، وتصويره على الصحيح من المذهب. وبمثله قال ابن قدامة فى المغنى ۷: ۷ كتاب الوليمة. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۹)

অর্থ: অনুরূপ হযরত ইমাম বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার ব্যাপারে) উনার লেখা উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ১০ম খণ্ড ৩০৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন। আর এমনি ফতওয়া বর্ণনা করেছেন হানাফী, শাফিয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের সকল ইমাম মুজতাহিদগণ। হযরত ইমাম মারদাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘ইনছাফ’ কিতাবের ১ম খণ্ড ৪৭৪ পৃষ্ঠায় বলেন, রূহ বা প্রাণবিশিষ্ট প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম। কিন্তু গাছ-পালা এবং অনুরূপ উদ্ভিদ-জড়বস্তুর ছবি হারাম নয়। এখানে তিমছাল অর্থ হচ্ছে যা প্রাণবিশিষ্ট প্রাণীর ছবি নয়। আর এটাই ছহীহ মতামত। প্রাণীর ছবি ঘরে, ঘরের দেয়ালে লটকানো বিশুদ্ধ মতামত অনুযায়ী হারাম। অনুরূপ হযরত ইবনু কুদামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুগনী’ কিতাবের ৭ম খণ্ড ৭ পৃষ্ঠায় ‘ওলীমাহ’ অধ্যায়ে রায় দিয়েছেন। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা)

(৭০৯-৭১০)

قال الابى رحمه الله فى شرحه لمسلم ۵: ۳۹۴: واختلف فى تصوير ما لا ظل له، فكرهه ابن شهاب فى اى شئ صور من حائط او ثوب او غيرهما. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۹)

অর্থ: হযরত উবাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুসলিম শরীফ-এর শরাহ ‘শরহুল উবাই’ ৫ম খণ্ড ৩৯৪ পৃষ্ঠায় বলেন, দেহহীন প্রাণীর ছবির ব্যাপারে ইমামগণ ইখতিলাফ করেছেন। তবে তাবিয়ী হযরত ইবনু শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি যেকোন প্রাণীর ছবি দেয়ালে, কাপড়ে ও এছাড়া অন্যান্য বস্তুতে তৈরি করাকে মাকরূহ তাহরীমী বলেছেন। মূলত তা হারাম। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা)

(৭১১-৭১২)

وقال العلامة الدردير فى شرحه الصغير على مختصر خليل: والحاصل ان تصاوير الحيوانات تحرم اجماعا. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۹)

অর্থ: হযরত আল্লামা দারদীর রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘শরহুছ ছগীর আলা মুখতাছার খলীল’ কিতাবে বলেন, মূল ফায়সালা হলো, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা)

(৭১৩-৭১৮)

والذى يظهر من مراجعة كتب المالكية ان اكثر علماءهم يقولون بكراهة الصور ولولم يكن لها ظل الا اذا كانت ممتهنة. قال الخرشى ۳: ۳۰۳ : قال فى التوضيح التمثال اذا كان لغير حيوان كالشجر حائز، وان كان لحيوان فما له ظل ويقيم فهو حرام باجماع، وكذا يحرم وان لم يقم، بمثله ذكى الدردير فى الشرح الكبير، راجعه مع الدسوقى ۲: ۳۳۸ والزرقانى على مختصر خليل ۴: ۵۳ (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۹)

অর্থ: মালিকী মাযহাবের কিতাবসমূহের বর্ণনা মুতাবিক অধিকাংশ উলামায়ে কিরামগণ উনারা বলেন, মূর্তি মাকরূহ তাহরীমী, যদিও তা লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হয়। হযরত খারশী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবের ৩য় খণ্ড ৩০৩ পৃষ্ঠায় বলেন, ‘আত তাওদ্বীহ’ কিতাবে উল্লেখ আছে, ছবি যদি প্রাণহীন উদ্ভিদ বা জড়বস্তু যেমন গাছ-পালা ইত্যাদির হয়, তবে তা জায়িয আছে। আর পায়ে হাটতে পারে এমন দেহধারী প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য ইজমাউল উম্মাহ মতে হারাম। অনুরূপ পায়ে হাটেনা এমন দেহধারী প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম। অনুরূপ আদ দারদীর ফীশ শরাহিল কবীর কিতাবে, ‘আদ দুসূক্বী’ ২য় খণ্ড ৩৩৮ পৃষ্ঠায় এবং ‘আয যুরকানী আলা মুখতাছার খলীল ৪র্থ খণ্ড ৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা)

(৭১৯)

فالحاصل ان المنع من اتخاذ الصور مجمع عليه فيما بين الائمة الاربعة اذا كانت مجسدة. اما غير المجسدة منها، فاتفق الائمة الثلاثة على حرمتها ايضا قولا واحدا. والمختار عند اكثر المالكية كراهتها. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۵۹)

অর্থ: দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্যের ব্যাপারে চার মাযহাবের ইমাম (হযরত আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনাদের সর্বসম্মত তথা ইজমা মত হলো, এগুলোর চর্চা বা অনুশীলন করা নিষেধ তথা হারাম। আর তিন ইমাম (হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনাদের সর্বসম্মত তথা ইজমা মত হলো, দেহহীন প্রাণীর ছবি এক বর্ণনা মতে হারাম। অধিকাংশ মালিকী মাযহাবের ইমামদের গ্রহণযোগ্য প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো- প্রানীর ছবি মাকরূহ তাহরীমী। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা)

(৭২০)

قالوا: انه ثبت بهذين الحديثين ان الصور المرقومة فى الثوب مستثناة من الحرمة، فثبت جوازها. واجاب عنه الجمهور بان المراد من ”الرقم فى الثوب“ هو ماكان فيه من نقش الشجر ونحوه مما لا روح له. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۶۰)

অর্থ: এক পক্ষ বলছেন: উল্লেখিত দুটি হাদীছ শরীফ-এর ভিত্তিতেই কাপড়ে নকশা হারামের আওতাভুক্ত নয়, তাই তা জায়িয। এর জবাবে জমহুর তথা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম বলেন, কাপড়ে নকশা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাণহীন গাছপালা ও অনুরূপ উদ্ভিদ ও জড়বস্তু। অতএব, কাপড়ে প্রাণীর ছবি কখনোই জায়িয নয়, বরং হারাম। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬০ পৃষ্ঠা)

(৭২১)

وقد ادعى بعض المتجددين فى عصرنا ان حرمة التصوير كانت ابتداء الاسلام لقرب عهدهم بالجاهلية والوثنية، وعدم رسوخ عقيدة التوحيد فى القلوب، فلما رسخت عقائد التوحيد فيهم ارتفعت حرمة الصور. وان هذه الدعوى لا دليل لها فى القران والسنة. ولو كان حكم حرمة التصوير منسوخا لبين النبى صلى الله عليه وسلم النسخ بصراحة، ولما امتنع الصحابة رضى الله تعالى عنهم عن التصاوير. وقد رايت ان فقهاء الصحابة امتنعوا من الدخول فى بيوت فيها تصاوير. وكل ذلك بعد النبى صلى الله عليه وسلم. وهذا دليل قاطع على ان حكم حرمة التصوير لم يز باقيا، ولم ينسخه شئ، كيف وقد علل النبى صلى الله عليه وسلم حرمة التصوير بالمضاهاة بخلق الله، وهى علة لا تختص بزمان دون زمان. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۶۰)

অর্থ: আমাদের এ যুগের (পঞ্চদশ হিজরী শতকের) কিছু নতুন উদ্ভাবিত (আগাছা) লোক দাবি করে যে, “ইসলামের প্রাথমিক যুগে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম করা হয়েছিলো। কারণ, ইসলামের শুরুর দিকটি জাহিলিয়াহ (অজ্ঞতা) ও ওয়াছানিয়াহ (মূর্তি-ভাস্কর্য)-এর যুগের  কাছাকাছি ছিলো এবং সে সময় মানুষের অন্তরে তাওহীদ ও রিসালতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীতে যখন মানুষের অন্তরে তাওহীদ ও রিসালতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পয়দা হলো, তখন যাবতীয় প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার বিধানটি তুলে নেয়া হলো।” নাঊযুবিল্লাহ!

(উক্ত ভ্রান্ত দাবির জবাব হচ্ছে) উল্লেখিত দাবিসমূহের পক্ষে কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ থেকে কোনই দলীল-প্রমান নেই। যদি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার বিধানটি মানসূখ বা রহিত হত, তাহলে তো অবশ্যই স্বয়ং সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মানসূখের ব্যাপারে স্পষ্ট বাণী মুবারক পেশ করতেন। কিন্তু যা দেখা যায়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। আমি আরো কিতাবে দেখতে পাচ্ছি যে, নিশ্চয়ই হযরত ফক্বীহ ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে বা স্থানে প্রবেশ করতে নিষেধ করতেন। এগুলো সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার বিছাল শরীফ-এর পরের ফায়সালা। এ সমস্ত অকাট্য দলীল-প্রমান দ্বারা প্রমানিত হয় যে, নিশ্চয়ই তাছবীর অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার বিধানটি অব্যাহত আছে ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে, এ বিধানকে কোন দলীলই মানসূখ বা রহিত করতে পারেনি। আর সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম হওয়ার ব্যাপারে কারণ বর্ণনা করেছেন যে, এতে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি করা হয়। আর এ ইল্লাত বা কারণ কোন যামানার সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং সর্বকালে সর্বাবস্থায় প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা, ঘরে রাখা, দেখা, চর্চা করা হারাম ও নাজায়িয। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬০ পৃষ্ঠা)

(৭২২-৭২৩)

قال ابن دقيق العيد رحمه الله فى شرح العمدة ۱: ۱۷۲ (كتاب الجنائز حديث ۱۱): ولقد ابعد غاية البعد من قال: ان ذلك محمول على الكراهة، وان التشديد كان فى ذلك الزمان لقرب عهد الناس بعبادة الاوثان. وهذا الزمان حيث انتشر الاسلام وتمهدت قواعده فلا يساويه فى هذا التشديد. وهذا القول عندنا باطل قطعا، لانه قد ورد فى الاحاديث والاخبار عن امر الاخرة بعذاب المصورين، وانهم يقال لهم: احيوا ما خلقتم. وهذه علة مخالفة لما قاله هذا القائل. وقد صرح بذلك فى قوله عليه السلام: “المشبهون بخلق الله” وهذه علة عامة مستقلة مناسبة ولا تخص زمانا دون زمان. وليس لنا ان نتصرف فى النصوص المتظاهرة المتضافرة بمعنى خيالى. (تكملة فتح الملهم بشرح صحيح مسلم المجلد ۴ الصفحة ۱۶۱)

 

অর্থ: হযরত ইমাম ইবনু দাক্বীক্বিল ঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘শরহুল উমদাহ’ কিতাবের ১ম খণ্ড ১৭২ পৃষ্ঠায় জানাযা অধ্যায়ে ১১ নম্বর হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বলেন, “যারা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চাকে মাকরূহ তাহরীমী সম্পর্কে বলতে যেয়ে উক্তি পেশ করতেছে যে, এ কঠোরতা জাহিলিয়াত ও মূর্তি-ভাস্কর্যের যুগের কাছাকাছি সময়ে করা হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান যামানায় ইসলামের প্রচার-প্রসার হওয়ার কারণে ওই কঠোরতামূলক হুকুম আর নেই।” নাউযুবিল্লাহ! (ইবনু দাক্বীকুল ঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:) এ ব্যাপারে আমাদের ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়া জামায়াহ’ তথা হানাফী মালিকী শাফিয়ী, হাম্বলী, মাতুরীদী ও আশয়ারী মতাবলম্বীগণের বক্তব্য হচ্ছে, ভ্রান্তবাদীদের উক্ত বক্তব্য বাতিল বা পরিত্যাজ্য। যেহেতু হাদীছ শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এ ক্বিয়ামতের দিন প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়ার বর্ণনা রয়ে গেছে। এমনকি তাদেরকে সেদিন বলা হবে, তোমরা যা তৈরি করেছো তাতে প্রাণ দাও। (কিন্তু তারা তাতে প্রাণ দিতে পারবে না) ভ্রান্তবাদীদের বক্তব্যের বিপরীতে এগুলো স্পষ্ট জবাব। এমনকি সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবিকারী (শাস্তিযোগ্য)” এগুলো উহা হারাম হওয়ার প্রমাণ। কোন যামানার জন্য এ ফতওয়া নির্দিষ্ট নয়। কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর প্রকাশ্য-স্পষ্ট দলীল পরিবর্তন করার অধিকার আমাদের নেই। (তাকমালাতু ফতহিল মুলহিম বিশরহি ছহীহ মুসলিম ৪র্থ খণ্ড ১৬১ পৃষ্ঠা)

(অসমাপ্ত)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৯

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৫

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৭ম পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয় ৬ষ্ঠ পর্ব)