অহঙ্কারের নিন্দা ও ভয়াবহ পরিণতি

সংখ্যা: ২০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

ان الله لا يحب من كان مختالا فخورا

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি কোন দাম্ভিক ও ফখরকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা নিসা : আয়াত শরীফ ৩৬)

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-

من كان فى قلبه مثقال ذرة من كبر لا يدخل االجنة

অর্থ: যার অন্তরে এক জাররা অর্থাৎ সরিষার দানা পরিমাণও অহঙ্কার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

আল্লাহ পাক তিনি হাদীছে কুদসী শরীফ-এ ইরশাদ করেন-

الكبرياء ردائى والعظمة ازارى فمن نازعنى واحدا منهما القيته فى جهنم ولا ابالى

অর্থ: অহঙ্কার আমার চাদর এবং মহত্ত্ব আমার লুঙ্গি। অতএব, যে এতদুভয়ের যে কোন একটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানিতে লিপ্ত হবে আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। এ ব্যাপারে আমি কাউকে পরওয়া করি না।

মানুষ নিজেকে বড় ভাবতে থাকে। এভাবে একদিন সে আল্লাহ পাক উনার কাছে দাম্ভিক-অহঙ্কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তখন তার উপর ওই সকল আযাব-গযব নাযিল হতে থাকে; যা পূর্বেকার দাম্ভিকদের উপর নাযিল হয়েছিল।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, জাহান্নামের মধ্য থেকে এমন একটা বিস্ময়কর গর্দান বের হবে যার শ্রবণ শক্তি সম্পন্ন দুটি কান থাকবে, দৃষ্টিরত দুটি চোখ থাকবে এবং বাকশক্তিমান একটি জিহ্বা থাকবে সে বলতে থাকবে, আমি তিন শ্রেণীর মানুষের শাস্তির জন্য নিয়োজিত- হঠকারী বা দাম্ভিক, আল্লাহ পাক ব্যতীত অপর কাউকে মা’বূদ বা উপাস্য স্থিরকারী এবং প্রাণীর মূর্তি বা ছবি তৈরিকারী।

আর এক হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জাহান্নাম বললো, আল্লাহ পাক তিনি আমাকে অহঙ্কারী ও দাম্ভিকদের ঠিকানা মনোনীত করেছেন। জান্নাত বললো, আমার গর্ব এই যে, আল্লাহ পাক তিনি আমাকে দুর্বল, অক্ষম, অসহায় ও জিজ্ঞাসাকারীবিহীনদের আশ্রয় মনোনীত করেছেন। জাওয়াবে আল্লাহ পাক তিনি জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত; আমার যে বান্দার প্রতি আমার ইচ্ছা হয়, তোমার মাধ্যমেই আমার করুণা প্রকাশ করবো। আর জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব; যাকে ইচ্ছা, তোমার দ্বারাই আমি শাস্তি প্রদান করবো এবং তোমাদের প্রত্যেকেই পূর্ণ করে দেয়া হবে।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, জাহান্নামীরা বদ-স্বভাব, উজবুক, দাম্ভিক বা অহঙ্কারী, সম্পদ লোভী ও স্তূপকারী ও কৃপণ হয়। আর জান্নাতীরা হয় দুর্বল, স্বল্প মালসম্পন্ন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, একদা এক ব্যক্তি একটি মূল্যবান চাদর পরিধান করে অহঙ্কারবশত বারবার ডান ও বাম কাঁধের দিকে তাকাচ্ছিল। এটা দেখে আল্লাহ পাক তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে মাটির নিচে ধসিয়ে দিলেন। রোয কিয়ামত পর্যন্ত সে যমীনের সর্বনিস্তরে পর্যন্ত চলে যেতে থাকবে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অহমিকা ভরে তার পরিহিত বস্ত্র পায়ের গিরার নিচে ঝুলিয়ে চলে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তিনি তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মনে মনে নিজেকে খুব বড় ভাবে, কথা-বার্তায় ও চাল-চলনে গর্ব-অহঙ্কারের ভাব প্রকাশ করে, অতঃপর যখন সে আল্লাহ পাক উনার দরবারে উপস্থিত হবে আল্লাহ পাক তার প্রতি অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ করবেন।

হযরত মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একদা কোন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে একটি সুন্দর রেশমী জুব্বা পরে বার বার তার দেহের দিকে দৃষ্টিপাত করছে। তা দেখে তিনি বললেন, হে আদম সন্তান! যা তুমি করছো তা আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে খুবই ঘৃণ্য ও অপছন্দনীয়। লোকটি বললো, হুযূর! আল্লাহ পাক তিনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন! তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে তিনি তোমাকে উত্তমরূপে চিনেন। তোমার পরিচয় তো হলো, এক ফোঁটা মনি থেকে তোমার শুরু আর একটি মৃত লাশ তোমার পরিণতি। তাছাড়া এ দুটি অবস্থার মাঝখানে তুমি নাপাক দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুসমূহ পেটে বহনকারী। উল্লেখ্য, লোকটি হযরত মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই উপদেশ বাণী শ্রবণ করে সেদিনই তার মনের অহমিকা ও অহঙ্কার থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হয়ে গেল।

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন : সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

তাফসীরুল কুরআন

তাফসীরুল কুরআন : সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল