আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংক বর্তমান যামানায় ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যথাযথ উত্তরসূরি

সংখ্যা: ২১০তম সংখ্যা | বিভাগ:

আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংক বর্তমান যামানায় ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যথাযথ উত্তরসূরি
মুসলমানগণের চরম শত্রু ইহুদী লবিং নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত হওয়া ফরয-ওয়াজিব।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বিরুদ্ধে দেশের ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমানগণের জন্য জিহাদ করা ফরয (৩)

 

বর্তমানে সারা বিশ্বেই আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বৈধতার সঙ্কটে ভুগছে। দেশে-দেশে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর জনস্বার্থ-বিরোধী ক্ষতিকর নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হচ্ছে। উন্নয়নশীল কোন-কোন দেশ দেনা শোধ করে আইএমএফের বলয় থেকে বেরিয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে সঙ্কটের মুখে পড়ে এ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পিএসআইর মতো চুক্তিকে বিকল্প হিসেবে নিচ্ছে।  আইএমএফের ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই নতুন করে ভেবে দেখতে হবে।

অতীতে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির ফলাফলগুলো মূল্যায়ন করে দেখলেই তাদের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষতিকর দিকগুলো আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অতীতের সরকারগুলো, বিশেষতঃ বিগত জোট সরকার, যেভাবে নির্বিচারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেছে, তার ফল শুভ হয়নি। এবারও দেশে বন্যার সময় বিশ্বব্যাংক কৃষিঋণের সুদের হার বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছে। তাদের এ চাপের কোনো ইতিবাচক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায় না (!)

আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের শর্ত ও সৃষ্ট সঙ্কট

আমাদের দেশের সরকারগুলো অতীতে অকাতরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বশ্যতা স্বীকার করেছে। আর এর ফলে দেশের পরনির্ভরশীলতা ও দারিদ্র্য ক্রমেই আরো বেড়েছে। দেখা দিয়েছে নানা সঙ্কট। একের পর এক আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের শর্ত মানতে গিয়ে দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্প ধ্বংস হয়েছে।

কৃষকের নিরলস প্রচেষ্টা, উদয়াস্ত শ্রম আর দেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বীজে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও ঋণদাতাদের শর্ত পালন করতে গিয়ে সরকারি বিনিয়োগ হ্রাস করা হয়েছে। ফলে কৃষিতে আরও মন্দাভাব সৃষ্টি করেছে। অবশ্য এ সংস্থাগুলোর বৈশিষ্ট্যই এমন। এদের শর্ত পালন করতে গিয়ে অনেক দেশেই দুর্ভিক্ষাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এদের শর্ত মেনে কোন দেশ লাভবান হয়েছে এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে।

এমন এক সময় ছিল, যখন বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটের পুরোটাই ঋণ ও অনুদান-নির্ভর ছিলো। আশির দশকজুড়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি-সহ বিভিন্ন সংস্থার দেয়া ঋণ ও অনুদান নিয়েই উন্নয়ন বাজেট তৈরি করা হতো। কোনো-কোনো বছর, যেমন ১৯৮৮-১৯৮৯ অর্থবছরে, উন্নয়ন বাজেট ছাড়াও রাজস্ব বাজেটের কিছু অংশও বিদেশী সংস্থার ঋণ থেকে সংস্থান করা হয়। নব্বই দশকের পর থেকেই পরিমাণ কমতে থাকে। ১৯৮১-৮২ অর্থ-বছরে প্রাপ্ত বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান মিলে জিডিপির ১৩ দশমিক ২ শতাংশ আর উন্নয়ন বাজেটের প্রায় শতভাগে উঠেছিল। বর্তমানে এর পরিমাণ জিডিপির দুই শতাংশ এবং উন্নয়ন বাজেটের আনুমানিক ৪২ শতাংশের কাছাকাছিতে হ্রাস পেয়েছে।

কিন্তু ঋণ ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও বাংলাদেশের উপর খবরদারি কমেনি, বরং পূর্বের তুলনায় আরও বেড়েছে। এ নিয়ে দেশের গবেষক, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদসহ সুধীমহল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী সাহায্যের শর্তের ক্ষতিকর প্রভাবের দিক সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও নীতি-নির্ধারকরা তেমন আমলে নেয়নি। অনেক সময় বিভিন্ন চুক্তির শর্তাবলী প্রকাশ করা হয় না বলে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসাধারণ জানতে পারে না। কিন্তু অপ্রকাশিত এসব চুক্তি-যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা আদমজী, মাগুরছড়া, টেংরাটিলা এবং সর্বশেষ ফুলবাড়ি ধ্বংসযজ্ঞই এর প্রমাণ।

 

অবশ্য ঋণদাতা গোষ্ঠীর সমর্থিত এসব বহুজাতিক কোম্পানী এ-দেশের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সহযোগিতা ছাড়া এ-ধরনের জাতীয় স্বার্থ-হানিকর কাজে সফল হতে পারতো না। নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ উদ্ধারে দেশের নীতি-নির্ধারকদের প্রভাবিত করা ছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও ভয়-ভীতির পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও লোভনীয় উপহারের নামে ঘুষ-দানের মাধ্যমে দলে ভিড়াতে তৎপর হয়েছে।

ইতোপূর্বে মাগুরছড়ায় হাজার-হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে যখন মানুষ আন্দোলন করছে, তখন অক্সিডেন্টাল কোম্পানিকে দানবীর সেজে বিভিন্ন স্কুল, কলেজে কম্পিউটার উপহার দিতে দেখা গেছে। তবে ফুলবাড়ির নিরন্ন ভুখা-নাঙ্গা মানুষ সকল প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে জীবনের বিনিময়ে যেভাবে এশিয়া এনার্জিকে রুখে দিয়েছে, তা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, নিজেদের জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে সংগ্রামরত পৃথিবীর সকল দেশের মানুষের জন্যই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

দারিদ্র্য বিমোচনের নামে এইসব দাতা সংস্থা ১ টাকা ঋণ দিয়ে ১০ টাকা উসুল করে । ফলে বিগত ৪০ বছরে বাংলাদেশের গড় আয় ৫০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেলেও দারিদ্র্য কমেনি । বরং দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৫ কোটি থেকে বেড়ে সাড়ে ৯ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের নামে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সরকারকে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ সাহায্য গ্রহণে বাধ্য করলেও তার সুফল নিয়ে জনগণের কোন ধারণাই নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো, ঋণ দেয়ার পাশাপাশি আমাদের উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন সব শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে প্রতি বছর দেনার পরিমাণ বাড়ছে। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

-মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক