পাকিস্তানী বুলেট যে জাতিকে পরাস্ত করতে পারেনি; সে জাতি আজ অবলীলাক্রমে হিন্দি সংস্কৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করছে!

সংখ্যা: ২১০তম সংখ্যা | বিভাগ:

পাকিস্তানী বুলেট যে জাতিকে পরাস্ত করতে পারেনি;
সে জাতি আজ অবলীলাক্রমে হিন্দি সংস্কৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করছে!
বুকের তাজা রক্ত দিয়ে যে জাতি রাষ্ট্রভাষা ‘বাংলা’ অর্জন করেছে;
সে জাতি আজ অবলীলাক্রমে হিন্দি আওড়ায়।
এসব কিছুর পেছনে রয়েছে হিন্দু সংস্কৃতি ও চ্যানেলের আগ্রাসন এবং ভারতের চাপ প্রয়োগ। এর প্রতিরোধ হওয়া আবশ্যক এবং প্রতিহত করা অনিবার্য (৩)

 

স্বাধীনতার ৪০ বছর পার করলেও অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কার্যত এখনো আমরা বিদেশী আগ্রাসন ও অন্যরকম নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার। বলতে গেলে এসব ক্ষেত্রে প্রতিবেশী বন্ধু দাবিদার দেশটির আগ্রাসনের মাত্রা অতীতের যেকোনো ভয়াবহতাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। আমাদের ভোগকৃত অধিকাংশ পণ্যসামগ্রীই শুধু নয়, চিন্তা-চেতনা তথা সংস্কৃতিও হয় প্রতিবেশী দেশ নতুবা ওই সব মোড়ল দেশের বহুজাতিক কোম্পানি বা চ্যানেল থেকে আমদানি করা।

বাংলাদেশে এখন এমন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান পাওয়া মুশকিল, যেখানে বলিউডি গান বাজে না। এমন কোনো অডিও-ভিডিও দোকান পাওয়া যাবে না, যেখানে বলিউডি সিনেমা-গান নেই। মোবাইলফোনের রিংটোনেও বলিউডি গানের ছড়াছড়ি। ঢাকার তথাকথিত ‘অচ্ছ্যুৎ’ বাংলা সিনেমায় বলিউডি গল্পের উপস্থিতি। প্রধান প্রধান দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিকের বিনোদন পাতার একটা বড় অংশজুড়ে বলিউডি নায়ক-নায়িকাদের রূপ-গুণ-গল্প-রহস্য-কীর্তন। এফএম রেডিওগুলোতে বাজছে বলিউডি গান। আজকের বলিউড ফ্যাশন কালকের ঢাকার ছেলেমেয়েদের কাপড়- চোপড়-হাঁটাচলা-কথাবার্তায়।

কথিত বলিউড ‘তারকারা’ বাংলাদেশে এসে এদেশের মানুষকে ‘প্রেম-ভালবাসা’র ছাত্রজ্ঞান করে পাঠ দিয়ে যায়।

ঢাকার তথা বাংলাদেশের জনসংস্কৃতিতে বলিউডের দাপট চোখে পড়ার মতো। এই দাপট কেন এবং কিভাবে? বলিউড সংস্কৃতি কি কোনো উচ্চমানের সংস্কৃতি? সংস্কৃতির ‘উচ্চ-নিচ’ মাপার সূচকই বা কি? উচ্চ-নিচ যাই হোক, তারা কি জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে? নাকি আমরাই হাভাতের মতো গিলছি? জনসংস্কৃতির এই দাপটের প্রক্রিয়া কিভাবে কাজ করে? দেশীয় মুসলিম সংস্কৃতির অস্তিত্ব বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের মুখে কোণঠাসা। আকাশ সংস্কৃতির উন্মুক্ত পথে ভিনদেশী ঐতিহ্য, আচার ব্যবহার, পোশাক এবং ধর্মীয় প্রভাব।

বাংলাদেশী কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের মনোজগতে যে প্রভাব ফেলছে তাতে দেশপ্রেম ও স্বজাত্যবোধ গড়ে ওঠার পথে বিরাট বাধার সৃষ্টি করছে। ফলে এদেশের শিশু-কিশোররা তার অতীতে সংগ্রামী বীর পুরুষদের কথা ভুলে জাতীয় বীর হিসেবে ভিনদেশী চরিত্রকে সতত স্মরণীয় মনে করছে। এভাবে এদেশীয় শিশু-কিশোরদের মনে হীনম্মন্যতা ধীরে ধীরে শিকড় বিস্তার করছে। ফলে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক দখলদারিত্বের পথ নির্মাণে ভারতীয়দের তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না। এতে দেশটির সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের থাবায় বিপন্ন এদেশের সার্বভৌমত্ব। উল্লেখ্য, একটি দেশকে পদানত করতে হলে সে দেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে চুরমার করার রেওয়াজ অতি প্রাচীন।

এদেশের বর্তমান মুসলিম সংস্কৃতিতে ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের লোলুপ থাবা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ভারত সরকারের চাপে এদেশের সরকার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অসহায়। শিল্প, সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ বিষয়ক অধিকাংশ প্রকল্প সরকার নিচ্ছে ভারতীয়দের চাপে। বাংলাদেশ হয়ে উঠছে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার ‘উর্বর ক্ষেত্র’, শিল্পীদের রমরমা বাজার। তারা বাংলাদেশকে ‘বাণিজ্যিক ক্ষেত্র’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি থাকলেও এসব চলছে চুক্তির তোয়াক্কা না করে। এ দেশের বিদ্যমান আইন না মেনে তারা চালাচ্ছে তাদের দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা। এতে এ দেশীয় তথা মুসলিম সংস্কৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি ভারতে চলে যাচ্ছে দেশের কোটি কোটি টাকা।

ভারতীয় শিল্পীদের দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। গত মার্চ মাসে এ দেশের স্বাধীনতা লাভের চল্লিশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ছিল ভারতীয়দের জয়জয়কার। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত বাজানোও আজকাল আর বিচিত্র কিছু নয়। ২০১১ সালের ১ এপ্রিল ঢাকায় আয়োজিত রোটারি ক্লাবের বাংলাদেশ শাখার সম্মেলনে নীতিমালা অমান্য করে বাজানো হয় ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত। শিল্পীর পাশাপাশি হিন্দিভাষী উপস্থাপিকাও আনা হচ্ছে। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠনের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে।

এক গবেষণা মতে, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, সঙ্গীত শিক্ষালয়, নাট্যবিদ্যালয়, নাট্যশালা, আর্ট স্কুল, ফ্যাশন শো, সঙ্গীত-অভিনয়-সুন্দরী প্রতিযোগিতা, পাঠ্যপুস্তক, সাহিত্য, সেমিনার, এনজিও, হাসপাতাল, রূপচর্চা কেন্দ্র, শিক্ষাবৃত্তি, ক্লাব-সমিতি, সাংস্কৃতিক সফর, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি এদেশে ঢুকছে।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রের আইন না মানাটা ওই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা। অবমাননার বিষয়টা যেভাবে চলে আসছে তাতে সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দিন দিন বিস্তৃত হয়ে উঠছে।’

উল্লেখ্য, ভারত প্রাচীন সংস্কৃতির দেশ হলেও আমরা দেশটির পর্নো সংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মিডিয়া ব্যবসায়ীরা ওই পর্নো সংস্কৃতি উপভোগ করছে। এতে এ দেশের মুসলিম সংস্কৃতি মার খাচ্ছে। সংস্কৃতি চর্চার নামে এ দেশের যারা আইন না মেনে ভারতীয় শিল্পীদের আনছে, তাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। ফলে তারা একের পর এক শিল্পীকে আনছে।

বলা হয়ে থাকে, একাত্তরে স্বাধীনতা লাভের পর এ  দেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের উজ্জ্বলতম উদাহরণ একুশের বইমেলা। গত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে আয়োজিত বাংলা একাডেমীর এবারের (২০১১ সালের) বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিল নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. অমর্ত্য সেন। মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই অনুষ্ঠানে ভারতীয়কে বিশেষ অতিথি করায় নানা প্রশ্নের জন্ম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বলা হয়, দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে, এ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রমাণের জন্য কাট্টা মুসলিমবিদ্বেষী ড. অমর্ত্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড. অমর্ত্য নিজেই সাম্প্রদায়িক চেতনার। তার সাম্প্রতিক ‘আরগুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান’ বইয়ে ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

এবারের (২০১১ সালের) বইমেলার এক মাসের আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যা আগে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে এভাবে হয়নি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ফসল বাংলা একাডেমির বইমেলার পুরো মাসের আলোচনা অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথকে বিষয় করায় নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। কেননা, ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কোনো সম্পর্ক নেই। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আলোচনা করতে আমন্ত্রণ জানানো হয় কলকাতার অনেককে।

একই বিষয়ে এদেশে বিশেষজ্ঞ থাকলেও তাদের মধ্যে অনেকে আমন্ত্রণ পাননি। একাডেমির দাবি, রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এ বিষয় নির্ধারিত হয়। মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর একাডেমির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এর পরিচালক শামসুজ্জামান খানের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুলকে নিয়ে একইভাবে পুরো মাসের আলোচনা অনুষ্ঠান করবেন কি-না?’ প্রশ্নটার উত্তর দেননি তিনি। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলছে রবীন্দ্রবন্দনা। রবীন্দ্রনাথের নাটক মঞ্চায়নে, তাকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র বানাতে আর্থিক সহায়তা দিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নতুন একটি প্রকল্প নিয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি এ প্রকল্প পরিচালনা করছে।

অথচ জাতীয় কবি নজরুলকে নিয়ে এরকম প্রকল্প সরকারের নেই। জাতীয় কবি হয়েও নজরুল এখন চরম উপেক্ষিত। অভিযোগ আছে, ভারত সরকারের চাপে মহাজোট সরকার এ প্রকল্প নেয়।

অপরদিকে, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষা চর্চার পরিবর্তে বলিউডের শিল্পীদের এনে হিন্দিগান পরিবেশন কথিত সংস্কৃতিবাদীদের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

-মুহম্মদ আরিফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক