আক্বল রিযিকের অর্ধেক আক্বল খাটালে মাড় গালা ভাতের পরিবর্তে বসা ভাত রান্নায় অর্জিত হতে পারে ২০ হাজার কোটি টাকা। সাথে সাথে পাওয়া যাবে ১৯ গুণ বেশি পুষ্টি মান

সংখ্যা: ২১৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আক্বল হলো রিজিকের অর্থেক।’ আক্বল খাটালে প্রচলিত পন্থায়ই অনেক অভিনবত্ব তথা বরকত খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয়, বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। ভাত তৈরি হয় চাল থেকে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক মাড় গেলে ভাত খায়। অথচ বসা ভাতে চালের পরিমাণও কম লাগে এবং পুষ্টিগুণও বেশি পাওয়া যায়। মাড় না ফেলে চাল ভাতে রূপান্তরিত করলে ভাতের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং তা পরিমাণে মোট চালের নয় ভাগ। সুতরাং নয় ভাগ কম ভাতে এখন যেটুকু ভাত খাচ্ছি তা থেকে নয় ভাগ কম চালেই সেই ভাতটা আমরা পেয়ে যাবো। বলার অপেক্ষা রাখেনা খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বিবেচনায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এক কেজি কলে ছাঁটা সেদ্ধ চালকে ৫০০ গ্রাম করে দুই ভাগে বসা ও মাড় ফেলা পদ্ধতিতে চাল রান্না করে তা ওজন করলেই পার্থক্য বেরিয়ে আসবে। বসাভাতে চালের অপচয় কি পরিমাণ আর মাড়ভাতে অর্থাৎ ফেন ঝরালে ভাতের ওজনের তফাৎ কি পরিমাণ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বসা পদ্ধতিতে রান্নায় ৫০০ গ্রাম চালে ভাত হয় ১৬৫০ গ্রাম আর মাড় ফেলা পদ্ধতিতে ভাত হয় ১৫০০ গ্রাম। অর্থাৎ বসা পদ্ধতিতে ১৫০ গ্রাম বেশি ভাত হয়। প্রতি ১০০ গ্রামে ৩০ গ্রাম বেশি ভাত হয়। উল্টো দিকে মাড় ভাতে প্রতি ১০০ গ্রামে ক্ষতি হয় ঠিক তার উল্টো। কেজিতে প্রায় ৯০.০৯ গ্রাম চাল মাড়ের সঙ্গে চলে যায়। এছাড়া মাড় ঝরাবার সময় ১.৫০%-২% চাল নষ্ট হয়ে অপচয়ের মাত্রা আরও বাড়ে।

অতি সহজলভ্য খরচবিহীন ভাতের মাড়কে আমরা নিম্নমানের জিনিস বিবেচনা করে ফেলে দেই। এটা ক্যালোরিসমৃদ্ধ সুষম খাবার বলে বিবেচনা করা যায়। ভাতের মাড় হলো চালের নির্যাস। এই নির্যাস ফেলে দিলে ভাতের কিছু থাকে না। তাই ভাতের মাড় ফেলে না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখা দরকার খাবারে ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে তা ফসফরাস শোষণ ক্ষমতা-হ্রাস করে। আবার অধিক ফসফরাস সমৃদ্ধ খাদ্য ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। এতে ক্যালসিয়াম ঘাটতি হতে বাধ্য। তাই ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভারসাম্য রক্ষা করতে ভাতের মাড় অদ্বিতীয়। ভাতের মাড় ক্যান্সার প্রতিরোধক। এতে রয়েছে প্রোটিন, আঁশ ও ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স। ভাতের মাড় কোষ্টকাঠিন্য দূর করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, শুধু তা-ই নয়, যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা মাড় না ফেলে জাউ রান্না করে খেলে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়াম পাওয়ায় উচ্চ রক্তচাপ কমায়। ভাতের মাড়ে অধিক পরিমাণে গ্লুকোজ আছে বিধায় রক্তে যথেষ্ট শর্করা সরবরাহ করে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। যাদের বিভিন্ন প্রকারের আলসার হওয়ার প্রবণতা থাকে তারা নিয়মিত ভাতের মাড়ে সামান্য লবণ দিয়ে চামচে তুলে স্যুপের মতো খেলে এই প্রবণতা থাকে না।

ভিটামিন ই নিয়ে এখন উন্নত বিশ্বে যথেষ্ট গবেষণা হচ্ছে। ভাতের মাড়ে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে আরো রয়েছে টোকোট্রাইনোল যা অত্যন্ত কার্য়কর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

চীন ও জাপানে ভাতের মাড় নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। ২০০৪ সালে চীনের বিজ্ঞানী মি. লিন মাড় ফেলা ও মাড় বিদ্যমান ভাত নিয়ে গবেষণা করেছে। সে গবেষণায় ভাতের মাড়ে জিংক, মেলেনিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার এই ছয়টি উপাদান আবিষ্কার করেছে। ফেলে দেয়া ভাতের মাড়ে সে মেলেনিয়াম ২ গুণ, জিংক ৩, আয়রন ১০, ক্যালসিয়াম ৪, ম্যাঙ্গানিজ ১২ এবং কপার ৬ গুণ পেয়েছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভাতের মাড় মানবদেহের মেলানিন ছড়িয়ে পড়তে দেয় না। মেলানিনের কারণে মানুষ ফর্সা, কালো বা শ্যামলা হয়। সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি দেহে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, আমাদের দেশের আশি ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। ভাত যেখানে প্রধান খাদ্য। অথচ সেই ভাত রান্নাতেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপচয়। হিসাব করে দেখা গেছে, বছরে এর পরিমাণ প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। তথ্যটি শুনে যে কেউ অবাক হবে। যে টাকায় একটি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব। সেই বিপুল অঙ্কের টাকার অপচয় হচ্ছে ভাত রান্নাতেই। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কি?

মাড়ফেলা পদ্ধতি ও বসা পদ্ধতিতে ভাত রান্নায় রান্নার তৃতীয় স্তরে চাল রান্নার মাধ্যমে ভাতে রূপান্তরে অপচয়ের নতুন এই পদ্ধতি প্রয়োগে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বছরে চালের চাহিদা দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ তিপান্ন হাজার ছয় শত টন। মাড় ফেলতে গিয়ে সেকেলে পদ্ধতির কারণে ১%-১.৫০% ভাত মাড়ের মধ্যে পড়ে যায়। কিন্তু বসাভাতে তা সম্ভব নয়। উল্টো বসাভাতে গড়ে ১ লাখ টন চাল অপচয় থেকে রক্ষা পাবে। মোটামুটি ৪২-৫১ লাখ টনের সম্ভাব্য এ সাশ্রয় সুবিধাটি ভোগ করতে পারবে চালের ভোক্তা দেশের দরিদ্র প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিটি নাগরিক।

তাছাড়া বসাভাতের পুষ্টিগুণ অক্ষুণœ থাকায় মাড়ফেলা ভাতের থেকে কিছুটা কম খেলেও স্বাস্থ্য নষ্ট হবে না। নষ্ট হওয়া ১৩-১৫% চাল অর্থাৎ ৪২-৫১ লাখ টন চাল অপচয় হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় বছরে ১৬৮০০-২০৪০০ কোটি টাকা (গড়ে ৪০ টাকা কেজি দরে)। তাতে যে ১৩ লাখ (কম/বেশি) টন চাল প্রতিবছর আমদানি করতে হয় তা প্রয়োজন হবে না। দেশের খাদ্য ঘাটতি উত্তরণে এটি হবে বড় মাপের অর্জন। দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের খাদ্য তালিকা মূলত চালের উপর নির্ভরশীল। দুই পদ্ধতিতে এ অঞ্চলের মানুষ ভাত রান্না করে থাকে। এক. অতিরিক্ত পানিতে চাল সিদ্ধ করে মাড় ফেলে। দুই. পরিমিত পানিতে চাল সিদ্ধ করে রান্না। ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অভ্যাসবশত মাড়ফেলা পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এ পদ্ধতিতে রান্না করে অতিরিক্ত পানি (মাড়) ফেলে দিলে তার সঙ্গে প্রায় ১৯ রকমের পুষ্টি উপাদান এবং শর্করার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়ে যায়। বর্তমান গবেষণায় সরাসরি চালের অস্তিত্বের একটি মাত্রা মাড়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। মাড় ফেলা পদ্ধতিতে ভাত রান্নার কারণে চাল অপচয়ের মাত্রা ১৩-১৫ শতাংশ। পদ্ধতিতে রান্নার প্রচলনকে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলে জনপ্রিয় করা গেলে পুষ্টিঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি মোট জনসংখ্যার চাহিদার ১৩-১৫% সাশ্রয়ের মাধ্যমে ৪২-৫১ লাখ  টন চালের অপচয় রোধ সম্ভব হবে।

আর বসাভাত পদ্ধতিতে প্রতিবছর গড়ে ৩০-৩৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে যা রপ্তানির মাধ্যমে বাড়তি আয় সম্ভব। অপচয় উত্তরণে করতে পারলে বাংলাদেশ খুব সহজেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায়। আর এ থেকে সম্ভাব্য আয় হতে পারে ১৬৬ কোটি ৭৫ লাখ ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া সুবিধাভোগী হবে সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিটি দরিদ্র মানুষ পর্যন্ত। আমাদের অর্থনীতি হবে শক্তিশালী। সামগ্রিক সুবিধা হতে পারে সম্ভাব্য ২৪১ কোটি ৫০ লাখ ২৯৩ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা ৭৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, সাম্প্রতিক ক্রয় মূল্য অনুযায়ী। পুষ্টিভাত বা বসাভাত পদ্ধতি সফল হলে বছরে ৪২-৫১ লাখ টন চাল অপচয় থেকে রক্ষা পাবে। উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বাংলাদেশে।

মূলতঃ সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক  ছোহবত, নেক সংস্পর্শ তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক