যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হক্ক।

সংখ্যা: ২১৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূলত যুগে যুগে মিথ্যাবাদী আর মুনাফিকরাই হক্বের বিরোধিতা করেছে, হক্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এ মুনাফিকদেরকে ‘কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন- পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই মিথ্যাবাদী।” (সূরা মুনাফিকুন: আয়াত শরীফ-১)

উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা মুনাফিক তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আবার যারা মিথ্যাবাদী তারাই মুনাফিক। কেননা হাদীছ শরীফ-এ মুনাফিকের যে আলামত বা লক্ষণ উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হল মিথ্যা কথা বলা।

মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার যারা বিরোধিতাকারী তারা উক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এরই পূর্ণ মিছদাক। অর্থাৎ তারা একই সাথে মুনাফিক ও কাট্টা মিথ্যাবাদী। তাই তারা মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে স্মরনিকা-বার্ষিকী, পত্র-পত্রিকা ও বক্তৃতার মাধ্যমে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

(ধারাবাহিক)

ওহাবী, খারিজী, লা-মাযহাবী, জামাতী তথা মুনাফিক গোষ্ঠী কর্তৃক প্রকাশিত মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ লিফলেটসমূহের দলীলভিত্তিক খণ্ডমূলক জাওয়াব

 বাতিলপন্থী ওহাবী, খারিজী, লা-মাযহাবী, জামাতী তথা মুনাফিক গোষ্ঠী রাজারবাগ শরীফ-এর প্রতি মিথ্যা প্রচার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে সকল লিপলেট প্রচার করেছে সেগুলোর জবাবে আমরা যে সকল লিফলেট প্রকাশ ও প্রচার করেছি তন্মধ্য হতে কয়েকটি লিফলেট নিম্নে হুবহু উল্লেখ করা হলো-

(২)  ধানমন্ডি ১৫ নাম্বার স্টাফ কোয়ার্টার কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত ওহাবী-খারেজী ও বাতিলপন্থীদের নাম-ঠিকানা ও পরিচয়বিহীন অবৈধ লিফলেটের দলীলভিত্তিক জবাব

 পূর্ব প্রকাশিতের পর

১১. সাইয়্যিদুল আউলিয়া: অর্থ: ওলীকুল শিরোমনিদের সর্দার। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তারা লিখেছে, “………. ওলীকুলের সর্দার তো হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।”

এর সঠিক জবাব: তারা উক্ত লক্ববের যে অর্থ করেছে তা ঠিক নয় বরং সঠিক অর্থ হলো, ‘ওলীগণের সর্দার।’ আর হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘ওলীগণ উনাদের সর্দার’ একথা ঠিকই রয়েছে। তবে অবশ্যই এটা উনার যামানার জন্য খাছ। কারণ উনার পূর্বে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা রয়েছেন এবং পরে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি রয়েছেন। উনারাও ওলীগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তবে কি ওহাবীদের মতে বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনাদের থেকেও বড়? নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই প্রত্যেক যামানাতেই ওলীদের একজন সর্দার বা প্রধান থাকেন আর তিনি হচ্ছেন সেই যামানার “সাইয়্যিদুল আউলিয়া” বা ওলীদের সর্দার।

১২. সুলতানুল আরিফীন অর্থ: আরিফ বিল্লাহদেরও সর্দার (মা’রিফত)। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে জাহিলরা লিখেছে, ……… তিনি কিভাবে জানলেন আরিফ বিল্লাহরা উনাকে সর্দার বানিয়েছেন”?

এর সঠিক জবাব: হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আরো অনেক মশহুর ওলীগণ উনাদের লক্বব ছিলো “সুলতানুল আরিফীন”। বাতিলপন্থী ওহাবীদের নিকট আমাদের প্রশ্ন! উনারা যে, “সুলতানুল আরিফিন” বা আরিফবিল্লাহ উনাদের সর্দার ছিলেন উনারা জানলেন কিভাবে? উনারা যেভাবে জেনেছেন রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনিও সেভাবে জেনেছেন। আশরাফ আলী থানভীর একটি লক্বব দেয়া হয়েছে ‘রঈসুল মুফাসসিরীন’। এখন থানবী শিষ্যদের নিকট আমাদের প্রশ্ন হলো- থানভী কি করে জানলো যে, সকল মুফাসসিরগণ তাকে সর্দার বানিয়েছে? আর ‘রঈসুল মুফাসসিরীন’ হচ্ছেন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। থানবী কি করে উনার সমকক্ষতা দাবি করলো? এর কোন জবাব বাতিলপন্থী ওহাবীদের নিকট আছে কি?

১৩. ইমামুল মুজতাহিদীন’ অর্থ: চার মাযহাবের ইমামদের ইমাম। তারা যে অর্থ করেছে তা মোটেও শুদ্ধ নয়। বরং সঠিক অর্থ হলো ‘মুজতাহিদগণ উনাদের ইমাম।’ এ ব্যাপারে যে মন্তব্য করা হয়েছে তার জবাব ৪নং ‘ইমামুল আইম্মাহ’ লক্ববের জবাবে রয়েছে।

১৪. ‘জামিউল আলক্বাব’ অর্থ: সমস্ত ভাল গুণের অধিকারী। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে তারা লিখেছে “… মহান আল্লাহ তায়ালা তিনিই তো সমস্ত ভাল গুণের অধিকারী….।”

আমাদের প্রশ্ন: তবে কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও অন্যান্য নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সমস্ত ভালো গুণের অধিকারী ছিলেন না? বাতিলপন্থী ওহাবীদের মতে কি উনারা খারাপ গুণের অধিকারী ছিলেন? (নাউযুবিল্লাহ) এর জবাব কি?

তাছাড়া বান্দা যদি সমস্ত ভালো গুণের অধিকারী নাই হতে পারে তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কেন বললেন যে, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার গুণে গুণান্বিত হও।” এতে কি বুঝা যায়না যে বান্দার পক্ষে সমস্ত ভালো গুণাবলী অর্জন করা সম্ভব।

১৫. আওলাদে রসূল’ অর্থঃ রসূল উনার সন্তান। বাতিলপন্থিরা উক্ত লক্ববের যে, অর্থ এবং মন্তব্য করেছে তা একজন আশাদ্দুদ দরজার জাহিলের পক্ষেও করা সম্ভব নয়। কাজেই তারা যেহেতু আশাদ্দুদ দরজার জাহিলের চেয়ে নিকৃষ্ট তারা ‘আওলাদে রসূল’ অর্থ করেছে ‘রসূল উনার সন্তান’। অথচ একজন সাধারণ লোকও জানে যে, আওলাদে রসূল’ অর্থ হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর। অর্থাৎ যিনি সাইয়্যিদ বংশ বা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের বংশের উনারাই হচ্ছেন আওলাদে রসূল। পৃথিবীতে অসংখ্য অগনতি আওলাদে রসূল রয়েছেন। এমনকি যারা লিখেছে আওলাদে রসূল অর্থ রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তান। সেই বাতিলপন্থী ওহাবীদেরই অনেক মুরুব্বী রয়েছে মৃত ও জীবিত যারা নিজেদেরকে আওলাদে রসূল বলে দাবি করে ও কিতাব বা পোষ্টারে লিখেও থাকে। যেমন হুসাইন আহমদ মাদানী, আসয়াদ মাদানী প্রমূখ। বাতিলপন্থী ওহাবীদের নিকট আমাদের প্রশ্ন! ১৪০০ বৎসর পর হুসাইন আহমদ মাদানী, আসয়াদ মাদানী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তান হয়ে আসলো কিভাবে? তোমরা তাদেরকে কখনো ভ- ফতওয়া দিয়েছো কি?

১৬. সাইয়্যিদুনা’ অর্থ: আমাদের সকলের সর্দার। এ ব্যাপারে মন্তব্য করা হয়েছে যে, মানবকুলের সর্দার তো রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। এ ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনায় না গিয়ে বাতিলপন্থী ওহাবীদেরকে একটি প্রশ্ন করেই  শেষ করতে চাই। প্রশ্নটি হলো, আমরা সকলেই দরূদ শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘মাওলানা’ বলে সম্বোধন করে থাকি যার অর্থ আমাদের সকলের মুনিব। অথচ বাতিলপন্থী ওহাবীরা নিজেদেরকে ‘মাওলানা’ বলে দাবি করে এবং নিজে হাতে নামের পূর্বে লিখে থাকে। এতে কি সমস্ত মানবকুলের মুনিব দাবি করা হয়না?

কাজেই তাদের মতে যদি ‘সাইয়্যিদুনা’ লক্বব ব্যবহার করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমকক্ষ দাবি করা হয়, তবে তো ‘মাওলানা’ লক্বব ব্যবহার করলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমকক্ষ দাবি করা হবে। মূলত: ‘সাইয়্যিদুনা ও মাওলানা’ যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে ব্যবহৃত হবে তখন অর্থ হবে আমাদের সর্দার ও মুনিব। কেননা ওলীগণ উনাদের লক্ববগুলো উনাদের যামানার জন্য খাছ।

-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, ঢাকা

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক