সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে (২১)

সংখ্যা: ২১৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিন্তু সবকিছু জানেন।

اعطيت بجوامع الكلم

পবিত্র মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বিশুদ্ধ পবিত্র হাদীছ শরীফ “মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলম হাদিয়া করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, কি ঘটেছে? তখন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি যখন তাশরীফ এনেছেন আমাদের এখানে, তখন তো আপনার মেহমানদারী করার জন্য কিছু প্রয়োজন রয়েছে। বাজারে গিয়েছিলাম মেহমানদারীর ব্যবস্থা করা যায় কিনা। হঠাৎ গিয়ে দেখলাম বাজারের মোড়ে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছেন একটা ঘোড়া নিয়ে। সে ব্যক্তি আমাকে বলতেছেন যে, আপনি কি ঘোড়াটা খরিদ করবেন? হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমার কাছে তো টাকা-পয়সা নেই কিভাবে খরিদ করবো? সে ব্যক্তি তিনি বললেন, আপনি বাকিতে নিয়ে যান। আমি বাকিতে নিলাম কত? ছয় দিনার।

এখন বাজারে প্রবেশ করতে না করতেই একজন লোক এসে বললো: আপনি কি এটা বিক্রি করবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, কত দিয়ে কিনবেন আপনি? কত মূল্য? সে ব্যক্তি নিজ থেকে বললো দশ দিনার। আমি দশ দিনার বিক্রি করে ছয় দিনার দিয়ে ঋণ শোধ করে চার দিনার দিয়ে আপনার জন্য কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে এসেছি। সুবহানাল্লাহ!

এটা শুনে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাসতে হাসতে বললেন যে, আসলে হে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম! আপনি লোক দুটিকে চিনেছেন কি? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি তো উনাদেরকে চিনতে পারিনি। তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম তিনি বললেন, আসলে যেহেতু আমি আপনাদের হুজরা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ এনেছি তাই আমার মেহমানদারী আপনারা করবেন। ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছেন আপনারা। এখন কিভাবে করবেন, চিন্তিত হয়ে গেছেন। এখন এখানে দুটি বিষয় একটা হচ্ছে উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল উনার মেহমানদারী তো অবশ্যই করতে হবে, এটা ফরয-ওয়াজিব। আবার এদিকে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চিন্তিত হয়ে গেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনিও চিন্তিত। তিনি চিন্তিত থাকুন মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা পছন্দ করেন না। সেজন্য কি করলেন সাথে সাথে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে একটা ঘোড়া দিয়ে পাঠালেন যে, আপনি যান এই ঘোড়াটা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বাজারে আসতেছেন কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনার জন্য তিনি এখন টাকা-পয়সা কোথায় পাবেন? আপনি ঘোড়াটা নিয়ে যান যেয়ে বলবেন, আপনি ঘোড়াটা খরিদ করবেন? তিনি যদি রাজি হন তাহলে আপনি বাকিতে ছয় দিনার বিক্রি করবেন। আর পিছনে রয়ে গেলেন হযরত মীকাইল আলাইহিস সালাম তিনি দশ দিনার নিয়ে অপেক্ষা করতেছেন। তিনি যখন বাজারে প্রবেশ করবেন ঘোড়াটি নিয়ে তখন আপনি বলবেন, আপনি বিক্রি করবেন? তিনি বলবেন হ্যাঁ। তাহলে আপনি উনাকে দশ দিনার দিয়ে দিবেন তিনি দশ দিনার নিয়ে ছয় দিনার শোধ করবেন। চার দিনার থাকবে তা দিয়ে তিনি খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, একজন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম আর একজন হযরত মীকাইল আলাইহিস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঠিয়েছেন আপনাকে এই চার দিনার হাদিয়া দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! এখন বিষয়টা খুব সূক্ষ্ম বিষয়।

এর মধ্যে অনেক ইবরত-নছীহত রয়েছে। একদিক থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতের আঞ্জাম দেয়া ফরয-ওয়াজিব। আরেক দিক থেকে উনারা চিন্তিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি বরদাশত করলেন না। উনারা চিন্তিত থাকবেন এটা কি করে হতে পারে। উনাদেরকে চিন্তা মুক্ত করতে হবে সেজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং হাদিয়া পাঠিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! বিষয়টা কিন্তু খুব সূক্ষ্ম বিষয়। এর মধ্যে অনেক লক্ষ-কোটি ইবরত নছীহত রয়েছে এবং উনারা যে হাক্বীক্বী তাওয়াক্কুল করেন-

من يتوكل على الله فهو حسبه

“যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তাওয়াক্কুল করেন মহান আল্লাহ পাক তিনি সে ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট।” সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়টা মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট করে দিলেন-

هو رزاق ذو القوة الـمتين

“তিনি উত্তম রিযিক দাতা” সেটাও তিনি প্রমাণ করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এর মধ্যে লক্ষ-কোটি ইবরত নছীহত রয়েছে। এখন উনাদের যে বিষয়গুলো উনারা কিন্তু দান-খয়রাত করে দিয়েই উনারা সব খালি করে দিতেন। উনাদের যে ছিল না সেটা না, এ কথা বললে কিন্তু কুফরী হবে। যেমন আফযালুন নাস, বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি যে তাবুকের জিহাদে তেমন কিছু নিতে পারলেন না, কেন? তিনি তো আগেই সবকিছুই দান খয়রাত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি অভাবী ছিলেন না। উনারা কেউই অভাবী ছিলেন না। তবে উনারা দান-খয়রাত করে দিতেন যার জন্য উনাদের কাছে উপস্থিত কিছুই থাকতো না। অবশ্যই পরবর্তীতে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে সেটা পৌঁছায়ে দিতেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও কিন্তু গণী ছিলেন। এখন ইতিহাসে লেখে বই-পুস্তকে লেখে উনারা অনেক অভাবী ছিলেন, খাওয়া পাননি-পরা পাননি। নাউযুবিল্লাহ! এসব কথা কিন্তু শুদ্ধ নয়! আসলে এটা হচ্ছে উনারা দান-খয়রাত করে দেয়ার কারণে উনাদের কাছে অনেক সময় উপস্থিত কিছু থাকতো না। কিন্তু পরবর্তীতে চলে আসতো। যেমন একটা ওয়াকিয়া বর্ণিত রয়েছে, এক দানশীল মহিলা সে শুনেছিল সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি অনেক দান-খয়রাত করেন সেও অনেক দান খয়রাত করে। সেটা দেখার জন্য বুঝার জন্য সাক্ষাতে সে মহিলা আসলো অনেক স্বর্ণ-মণি-মুক্তা নিয়ে আসলো। দিরহাম দিনার নিয়ে আসলো। এসে উনার সাক্ষাতে এসে হাদিয়া তোহফা দিলো। কিন্তু অনেক স্বণ-রৌপ্য-মুদ্রা। দেখা গেলো সেই মহিলার উপস্থিতের মধ্যে তিনি দান-খয়রাত করতে করতে সব শেষ করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! মহিলা তায়াজ্জুব হয়ে গেলো যে, তিনি কত দানশীল। কতটুকু দানশীল। তিনি যে, এত টাকা-পয়সা তিনি অল্প সময়ের মধ্যে দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই বিষয়টা কিন্তু এরকমই। এখন না থাকলে দান করবেন কোত্থেকে। অনেক দান খয়রাত উনারা করেছেন কিন্তু বই-পুস্তকগুলিতে বিপরীত বর্ণনা করেছে এদের আক্বীদাতে ত্রুটি থাকার কারণে। আর কাফির-মুশরিকগুলি এরা বলতে চায় যে, মুসলমানদের তেমন কিছু নেই বা কিছুই ছিল না। নাউযুবিল্লাহ! কাট্টা কুফরী আক্বীদা। মুসলমানরা সবসময় গণী। মুসলমানদের সবসময় আছে, কখন নেই? কাফিরদের নেই। কাফিরদের না থাকার কারণে তারা মুসলমানদের থেকে চুরি করার জন্য কোশেশ করে এবং চুরি করেছে। চুরি করেই এরা এদের সম্পদ করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফযীলত বুযূর্গী সম্মান বলার অপেক্ষা রাখেনা। এটা মুসলমানদের স্মরণ রাখতে হবে এবং উনার মর্যাদা-মর্তবা উপলব্ধি করে উনার ছানা-ছিফাত, ফাযায়িল-ফযীলত আলোচনা করতে হবে। উনার সম্মানার্থে উনার তা’যীমার্থে উনার যে খুছুছিয়ত সেগুলো বর্ণনা করে উনার প্রতি হুসনে যন রাখতে হবে এবং উনার সাথে নিসবত স্থাপন করার জন্য কোশেশ করতে হবে। যাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ওসীলায় আমাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল উনার মা’রিফত-মুহব্বত, তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক আমাদেরকে হাদিয়া করেন, দান করুন সেই দোয়া সেই আরজু করতে হবে। কাজেই আমরা সেই দোয়া সেই আরজু করবো।

(সমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)