পবিত্র কুরবানী উনার মতো মৌলিক ও পবিত্র দ্বীন ইসলামী কাজ মুসলমানরা পালন করতে পারছে না ॥ গোটা বিশ্বের মুসলমানদের এজন্য যথাযথ উদ্যোগী ও জজবাধারী হওয়া প্রয়োজন

সংখ্যা: ২২০তম সংখ্যা | বিভাগ:

 

সব প্রশংসা মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম মুবারক।

আরবী বছরের বারতম মাস পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ। এ মাসেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র হজ্জ আদায়ের ফরযটি নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার দশম তারিখ হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহা উনার দিন। এ মহান দিনে সূর্যোদয়ের পর দু’রাকায়াত পবিত্র ঈদুল আযহা উনার ওয়াজিব নামায অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে আদায় করতে হয়। অতঃপর যারা সামর্থ্যবান তথা মালিকে নিছাব তাদের উপর পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব।

পবিত্র কুরবানী উনার গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক বর্ণিত রয়েছে। যেমন- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা পবিত্র কুরবানী করবেনা তারা যেন ঈদগাহের নিকটে না আসে।”

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন, “আদম সন্তান পবিত্র কুরবানী উনার দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো পবিত্র কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে পবিত্র কুরবানী উনার পশু তার শিঙ, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং পবিত্র কুরবানীদাতার নাজাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করবে।” সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা উনার দিনে বান্দা ও বান্দির পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই মহান আল্লাহ পাক তিনি তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।” সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে সমস্ত পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা হবে ক্বিয়ামতের দিন সেই পশুগুলি পবিত্র কুরবানীদাতাকে পিঠে করে বিদ্যুৎবেগে পুলছিরাত পার করে বেহেশেত পৌঁছিয়ে দিবে।” সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র কুরবানী একটি প্রতীকী ঘটনা। এর মাধ্যমে মূলত মুসলমান শিরক এবং গাইরুল্লাহকেই যবেহ করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জজবা লাভ করে থাকেন। তাই পবিত্র কুরবানী মুসলমানদের কাছে যেমন প্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিধর্মীদের কাছে তেমনি অপ্রিয় ও না পছন্দির কাজ।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সব বিধর্মীদের ধর্ম এক।” বাস্তবতা তাই প্রমাণ করে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব বিধর্মীর দেশেই পবিত্র কুরবানী উনাকে নিষিদ্ধ তথা চরম বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মিয়ানমারে মুসলিমবিরোধী সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো নাসাকা, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র রাখাইনরা ঘিরে রেখেছে। সেখানে মসজিদ ও মক্তবগুলো রয়েছে তালাবন্ধ। আযান ও প্রকাশ্যে নামায পড়ার সুযোগ নেই মুসলমানদের। এ অবস্থায় সেখানকার অনেক মুসলমানেরই এবার পবিত্র কুরবানী দেয়ার সামর্থ্য নেই।

গত কয়েক মাসের মুসলিম বিরোধী সহিংসতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট হওয়ার পর সংখ্যালঘু মুসলমানরা এখন প্রায় সর্বস্বান্ত। রাখাইন ও নাসাকা বাহিনী মুসলমানদের গরু, ছাগলসহ গবাদি পশুও কেড়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া, সামর্থ্যবান রোহিঙ্গা মুসলমানদের ধরে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করেছে নাসাকা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

নিজ বাসভূমিতে অবরুদ্ধ মিয়ানমারের মুসলমানদের আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা মুবারক-এ পশু কুরবানীর মৌখিক অনুমতি দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকার স্থানীয় কমান্ডাররা। তবে শর্ত দেয়া হয়েছে- যেসব পশুর কোন ব্যবহার উপযোগিতা রয়েছে। যেমন- চাষাবাদের কাজে বা বোঝা বহনের কাজে লাগে কিংবা দুধ দেয়- এমন পশু কুরবানী করা যাবে না।

সুস্থ ও মোটা-তাজা পশু পবিত্র কুরবানী উনার জন্য যেখানে ধর্মীয় নির্দেশনা মুবারক রয়েছে; সেখানে নাসাকা কমান্ডারের নির্দেশ মতো ‘ব্যবহারের অনুপযোগী পশু’ কুরবানী করা জায়িয হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন মুসলমানরা।

এদিকে ভারতের মধ্য প্রদেশে গরু জবাইয়ের অপরাধে সাত বছরের কারাদ-ের বিধান করা হয়েছে। এর আগে এ অপরাধের শাস্তি তিন বছরের কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৫০০০ রুপি জরিমানার বিধান ছিল।

নতুন আইনটি পুলিশকে যেকোন বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি করা এবং কেউ গরু খেলে তাকে গ্রেফতার করার অধিকার দিয়েছে। মধ্য প্রদেশে হিন্দু ধর্মের অনুসারীই বেশি কিন্তু গরুর গোশত খান এমন মুসলমানদের সংখ্যাও দশ শতাংশের ঊর্ধ্বে।

যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ সব খ্রিস্টান রাষ্ট্রে কঠোর আইন থাকার কারণে যত্রতত্র কুরবানীর পশু জবাই দেয়া যায় না। শহরের বাইরে ১০০ বা ২০০ মাইল দূরে গরুর ফার্ম থাকে। এসব ফার্মে নির্ধারিত স্থানে পশু কুরবানীর অর্ডার দিতে হয়। খামারে ইলেকট্রনিক ও অটোমেটিক মেশিনে জবাই হয়। ফলত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে পবিত্র কুরবানী হয় না। এছাড়া মুসলমানদের সবার পক্ষে ঈদের নামায আদায় করে এত দূরে গিয়ে পশু জবাই দেয়া সম্ভব নয়। এ কারণে কোন মুসলমানের পক্ষেই কুরবানী করা সম্ভব হয় না। আর ঈদের দিনে অনেককেই নামায আদায় করে কাজে যোগ দিতে হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে লোক দেখানো বৌদ্ধ হামলার পর এখন বৌদ্ধদের কাঁচা ঘরগুলোকে দালান করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বহির্বিশ্বে মুসলমানদেরকে যে গণহারে শহীদ করা হচ্ছে, পদে পদে ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘিত করা হচ্ছে, ন্যূনতম মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে- সেদিক থেকে কোন মুসলমান দেশই সোচ্চার হচ্ছে না। কোন মুসলমান দেশই ‘টু’ শব্দ করছে না। মুসলমান যেন বিন্দুতম পবিত্র ঈমানী অনুভূতি ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চেতনা মুবারক হারিয়ে ফেলেছে। নাঊযুবিল্লাহ!

মূলত মুসলমান আজ গান-বাজনাসহ বিজাতীয় কালচারে মত্ত হয়ে যাওয়ার জন্যই এরূপ হচ্ছে। এর থেকে ফিরে পবিত্র ঈমানী কুওওয়াত তথা জজবা উপলব্ধির জন্য চাই রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক তথা তায়াল্লুক মায়াল্লা। কেবলমাত্র হক্ব ওলীআল্লাহ তথা মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম নেক ছোহবত মুবারক উনার মাধ্যমেই তা প্রাপ্তি সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ জিসান আরিফ

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক