ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে মুসলমানদের প্রতি নিরপেক্ষতার পরিবর্তে চলছে চরম নিপীড়ন (১১)

সংখ্যা: ২২০তম সংখ্যা | বিভাগ:

এদেশের হিন্দুরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে রামরাজত্ব চালাতে চায় কিন্তু ভারতে মুসলমানরা কতটুকু দলিত-মথিত সে খবর কী তারা রাখে?

ভারতে মুসলমানদের প্রতি নির্যাতন নিপীড়নের ভয়াবহতার প্রকৃত খবর ক’জনে রাখে? অথচ মিডিয়ায়ও এসব খবরের সংখ্যা কম নয় (১১)

 
ভারতের ‘বর্তমান পত্রিকা’ গত ১৩ অক্টোবর, ২০১১ হেডিং ও খবর করেছে-

“গরু পাচারের প্রতিবাদ করায় সীমান্ত টপকে বনগাঁয় গ্রামে ঢুকে বাংলাদেশীদের তা-ব, লুট, মারধর”

“বিএনএ বারাসত : গরু পাচারের প্রতিবাদ করায় কয়েকশ বাংলাদেশী দুষ্কৃতি গত ১১ অক্টোবর ২০১১ ঈসায়ী তারিখ মঙ্গলবার রাতে সীমান্ত টপকে বনগাঁর গ্রামে ঢুকে অবাধে মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাট চালালো। তাদের অস্ত্রের আঘাতে পাঁচ গ্রামবাসী মারাত্মক জখম হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামবাসীরা গরু পাচারের প্রতিবাদ করছে। মাস দুয়েক আগে পাচারকারীরা বিএসএফের এক জওয়ানকে জখম করে গরু নিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে গত মঙ্গলবার রাতের ঘটনা নজিরবিহীন। বিনা বাধায় কীভাবে এত বাংলাদেশী এপারে ঢুকল এবং তাতে বিএসএফের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশী পাচারকারীদের তা-বে আতঙ্কিত বাসিন্দারা গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর সীমান্তবর্তী গ্রাম সুটিয়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গরু পাচার চলছে। এই গ্রামের পাশেই রয়েছে কোদালিয়া নদী। নদীর ওপারেই বাংলাদেশ। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বাংলাদেশী পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামের ভিতর দিয়ে গরু বাংলাদেশে নিয়ে যাচ্ছে। তাতে মাঠের ফসল নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে তারা গ্রামবাসীর জানে মারার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি মারধরও করছে। বাংলাদেশী পাচারকারীরা সব সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে। গত কয়েকদিন তাদের অত্যাচার প্রচ- বেড়ে গিয়েছিল। বাসিন্দারা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারই জেরে গত মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশের দুষ্কৃতিরা গ্রামে ঢোকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ কোদালিয়া নদী পেরিয়ে কয়েকশ বাংলাদেশী সুটিয়ায় ঢুকে পড়ে। তারা প্রথমে সুটিয়া বাজারে হামলা চালায়। সেখানে তারা ১৫টি দোকানে ভাঙচুর করে। ওই দোকানের কোনও কিছু তারা আস্ত রাখেনি। সমস্ত মালপত্র তারা দোকানের বাইরে ফেলে নষ্ট করে দেয়। তারপরই তারা গ্রামে হামলা চালায়। গ্রামের বাসিন্দা মদন বিশ্বাস বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বলেন, ‘ওরা যে বাজারে হামলা চালিয়েছে, তা আমরা জেনে গিয়েছিলাম। আমরা ঘর বন্ধ করে ভিতরে বসেছিলাম। ওরা এসে একের পর এক বাড়িতে হামলা চালায়। দরজা ভেঙ্গে বাড়ির ভেতর ঢুকে তা-ব চালাতে শুরু করে। এক একটি বাড়িতে ২০-২৫ জন দুষ্কৃতি ঢুকেছিল। তাদের হাতে ধারালো এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ওরা আমার বাড়িতে ঢুকে সমস্ত জিনসপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আমাকে ধারাল ভোজালি দিয়ে কোপায়।’ গ্রামের অন্য বাসিন্দারা জানান, ‘দুষ্কৃতিরা একের পর এক বাড়িতে ঢুকে তা-ব চালায়। দামি জিনিসপত্র লুট করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তারা গ্রামে লুটতরাজ চালায়। যাওয়ার সময় তারা শাসিয়ে যায়, তাদের কাজে বাধা দিলে আবারও তারা এমন শিক্ষা দিয়ে যাবে।’

খবর পেয়ে রাত ১টা নাগাদ পুলিশ গ্রামে আসে। তারা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিএসএফের চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ অক্টোবর ২০১১ ঈসায়ী তারিখ বুধবার বিএসএফের সুটিয়া ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এ কে সিংয়ের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সে কিছু বলতে রাজি হয়নি।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে বিএসএফ কর্তৃক এক ফেলানীর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডেই প্রমাণ করে যে, বিএসএফ কত যালিম এবং নিষ্ঠুর। আর সেই বিএসএফকে আড়াল করে বাংলাদেশীরা গিয়ে ভারতে লুটপাট করলো। গরু পাচার করে নিয়ে আসলো এরকম ডাহা মিথ্যা অপবাদ আজকের ভারতের পত্র-পত্রিকাতেও অবলীলাক্রমে প্রকাশ হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

মূলত এ অভ্যাস ওদের জাতিগত এ অভ্যাস ওদের বহু পুরান।

এ অভ্যাস ওদের দীর্ঘদিনের

এ অভ্যাস ওদের আদি ও অভয়াক্রম।

বাঙালি মুসলমানদেরকে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালি প্রদান এবং মুসলমানদের প্রতি মিথ্যা কালিমা লেপনের নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে। বঙ্কিমচন্দ্র থেকে খোদ রবীন্দ্রনাথ সবাই।

নিম্নে তার কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা গেলো :

বঙ্কিমচন্দ্র তার শেখা প্রায় সবকটি গালি ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করেছে। ‘স্লেচ্ছ’ হতে শুরু করে ‘যবন’ পর্যন্ত। এমনকি প্রাচীনকালে বৌদ্ধদের দেওয়া ‘নেড়ে’ গালিটাকেও সে উহ্য রাখেনি।

* ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসে দানেশ খাঁ কে দিয়ে মুসলমানদের ‘শুয়োর’ বলে গালি দিয়েছে।

* ‘রাজসিংহ’ উপন্যাসে মোঘল সম্রাট আকবরের বাড়িতে একটি মেয়েকে দিয়ে ঝাড়– মেরেছে।

সেই সঙ্গে ওলীআল্লাহ দরবেশ বাদশাহ ‘আওরঙ্গজেব’ এর মুখে কতিপয় কল্পিত সখি কিংবা স্ত্রী লোক দ্বারা লাথি মারার বন্দোবস্ত করেছে।

‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে মুসলিম শাসক বখতিয়ার খিলজীকে বলেছে ‘বানর’, ‘অরণ্য নর’ ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র স্পষ্টতই বলতো-

“পরজাতির অমঙ্গল সাধন করিয়া সাত্বমঙ্গল সাধিত হয় তাহাও করিব।” এভাবে সে কেবল ‘করিব’ বলে ক্ষান্ত হয়নি। সুযোগ পেলে করেছেও। তাই তো তার বিশ্বাস থেকেই সে লিখেছে-

“আসে আসুক না আরবী বানর

আসে আসুক না পারসী পামর।”

বঙ্কিমচন্দ্র স্পষ্টভাবে বলেছে, “ঢাকাতে দুই-চারিদিন বাস করিলেই তিনটি বস্তু দর্শকের নয়ন পথের পথিক হইবে। যথা- কাক, কুকুর ও মুসলমান। এই তিনটি সমানভাবেই কলহপ্রিয়, অতি দুর্দম, অজেয়।” নাউযুবিল্লাহ!

এরপর আর বঙ্কিম বাবু সম্পর্কে বলার কিছু থাকে না। তবে তা আরও স্পষ্টভাবে ভাবানন্দের কন্ঠে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে উচ্চারিত হয়েছে এই বিদ্বেষ।

“সকল রাজার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের সম্বন্ধ; আমাদের মুসলমান রাজা রক্ষা করে কই। ধর্ম গেল, জাত গেল, মান গেল, কুল গেল, এখন তো প্রাণ পর্যন্তও যায়। এ নেশাখোর নেড়েদের না তাড়াইলে আর কি হিন্দুদের হিন্দুয়ানী থাকে?” (আনন্দমঠ, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, তৃতীয় মুদ্রণ- ১৩৬৪, পৃষ্ঠা ২৩)।

বঙ্কিম বাবুর মতোই ছিল ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। সে ছিল ‘ইংরেজ পাবন্দ’ লেখক। কিন্তু তা কতখানি? সেটা তার মুখ থেকেই শোনা যাক-

“ভারতের প্রিয় হিন্দু সমুদয়
মুক্ত মুখে বল সবে ব্রিটিশের জয়।”

ঈশ্বরচন্দ্রের কবিতায় মুসলমান হলো- বিদেশী, অবাঙালি আর অভারতীয়। আর মুসলমান পেঁয়াজ ভক্ষণ করে। তাই সে ব্যঙ্গ করে বলেছে-

“প্যাঁজখোর যারা তারা আহারে সন্তোষ

লোম ফুঁড়ে গন্ধ ছোটে এই বড় দোষ।” (গ্রন্থাবলী : পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৫)

গ্রীষ্মে কাতর মুসলমানরা কেমন দুর্দশার পতিত তার বর্ণনায় সে লিখেছে-

“একেবারে মারা যায় যত চাঁপ দেড়ে

হাঁসফাঁস করে যত প্যাঁজখোর নেড়ে।

কাজী কোল্লা মিয়া মোল্লা দাড়িপাল্লা ধরি

কাছাখোল্লা তৌবাতোল্লা বলে মরে আল্লা মরি।” (গ্রন্থাবলী : পৃষ্ঠা-১৯৯)

তার রচনায় আরও রয়েছে-

“দিশিপতি নেড়ে যারা, তাতে পুড়ে হয় সারা

মলাম মলাম মামু কয়……

কিংবা ভদ্রকুলে জন্ম লই ভদ্র নেই নিজে

যবনের সম সদা জ্ঞান করি দ্বিজে।”  (গ্রন্থাবলী : পৃষ্ঠা-১৫৮)

বাহাদুর শাহ জাফরের শোচনীয় পরাজয়ে সে উল্লাস করেছে ঠিক এভাবে-

“শুভ সমাচার বড় শুভ সমাচার

একেবারে পড়ে বংশে হলো ছারখার।” (পৃষ্ঠা ১৯৪-১৯৫)

ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ মুসলামানদের সহযোগী শক্তি। এ অপরাধে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তাকে বলেছে-

“হ্যাদে কি শুনি বাণী

ঝাঁসির রাণী

ঠোঁটকাটা কাকী।” (কানপুরের যুদ্ধ জয় গ্রন্থাবলী : পৃষ্ঠা ১৯০) (ইনশাআল্লাহ চলবে)

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক