ইসলামী আক্বীদা এবং উনার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও আহকাম-১৫

সংখ্যা: ২২৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

অথচ মুসলিম শরীফ উনার হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
انظروا عمن تأخذون دينكم.
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই বলেন, তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে পবিত্র দ্বীন শিক্ষা করতেছো। সকলের কাছ থেকে পবিত্র দ্বীন শিক্ষা করো না। ফাসিক-ফুজ্জার কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন এদের কাছ থেকে পবিত্র দ্বীন শিক্ষা করো না, গ্রহণ করো না। অথচ মানুষ মনে করে, এখন টিভি চ্যানেলে সে ইসলাম শিক্ষা করে। নাউযুবিল্লাহ! সেতো মনে করতেছে টিভি চ্যানেল হয়তো জায়িয রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
এই যে সে জায়িয মনে করলো উলামায়ে সূ’র কারণে, তার ঈমানটা কিন্তু নষ্ট হয়ে গেলো, তার স্ত্রী তালাক হয়ে গেলো, বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলো। এখন পুরুষ হোক আর মহিলা হোক। এখন সেতো তার বিবাহ দোহরায়নি। এই যে তার স্ত্রী তালাক হয়ে গেলো, সেতো তার বিবাহ শুদ্ধ করেনি। এখন পরবর্তী সন্তান যারা আসবে; তারাতো একজনও বৈধ হবে না। তাহলে সেই অবৈধ সন্তানরা কি করে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানির কথা শুনতে পারে। এটা কিন্তু ফিকির করতে হবে। এই বিষয়টা কিন্তু ইহুদী এবং নাছারা, কাফির এবং মুশরিক যারা; তারা ফিকির করে সুক্ষ্মভাবে মুসলমানদের থেকে ঈমানটা নষ্ট করে দিচ্ছে, মুসলমান নিজেরাও কিন্তু সেটা জানে না। মুসলমান নিজেরাও সেটা ফিকির করেনা। কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন, ইহুদী-নাছারা মুসলমানদের অজান্তেই তাদের ঈমানটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে, তাদেরকে বেইমান করে দিচ্ছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
لتجدن اشد الناس عداوة للذين امنوا اليهود والذين اشركوا
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন উম্মতদেরকে, তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে কাকে? প্রথম ইহুদী, দ্বিতীয় মুশরিক। এরা তোমাদের বড় শত্রু হবে, মুসলমানদের বড় শত্রু হবে। এই ইহুদী এবং মুশরিকরা এবং এদের যারা সমগ্রোত্রীয় খ্রিস্টান রয়েছে, বৌদ্ধ, মজূসী রয়েছে এই কওমগুলো এরা চায়, মুসলমানদের ঈমানটাকে নষ্ট করে দেয়ার জন্য খুব সুক্ষ্মভাবে এবং সেটাই কিন্তু করে যাচ্ছে।
মুসলমানরা ভুলেও কিন্তু সেটা ফিকির করেনা। ইহুদী-নাছারা, কাফির মুশরিক এদের ধর্ম কিন্তু তারা ঠিকই পালন করে। আর মুসলমানদের যখন কিছু পালন করার বিষয় আসে, তখন সেখানে তারা বাধা সৃষ্টি করে। নাউযুবিল্লাহ! এরা কিন্তু এদেরটা ঠিকই পালন করে, এই যে পহেলা বৈশাখ আসলো, তারা পূজা করলো ঠিকই, হিন্দুরা পূজা করলো, বৌদ্ধরা পূজা করলো, মজূসীরা পূজা করলো এদেরটা ঠিকই রয়ে গেলো। কিন্তু মুসলমানদের ১লা বৈশাখ পালন করা এবং ১লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে যাওয়া হারাম সেটা কিন্তু কেউ বাধা দিলো না।
মুসলমানরা সেখানে গিয়ে ধুতি পরলো। নাউযুবিল্লাহ! বেপর্দা হলো, গান-বাজনা করলো, হারাম কাজ করলো। তাহলে মুসলমানদের ইসলাম গেলো কোথায়? ইহুদী-নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজূসী মুশরিক তারা তাদের ধর্ম পালন করলো। অথচ মুসলমানগণ তাদের দ্বীন পালন করলো না। তাহলে মুসলমানদের দ্বীন কোথায় গেলো। সেটা কি বাদ দিয়ে দিতে হবে? নাউযুবিল্লাহ! এখন তো দেখা যাচ্ছে, কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন, ইহুদী-নাছারারা এমন অবস্থা সৃষ্টি করতেছে তাতে মনে হচ্ছে মুসলমানদের ইসলাম বাদ দিয়ে দিতে হবে। নাউযুবিল্লাহ!
এটা খুব ফিকির করতে হবে। এরা অজান্তেই সুক্ষ্মভাবে মুসলমানদের ঈমানটা নষ্ট করে দিচ্ছে। মুসলমানরা সেটা ফিকির করে না। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন যে দেখো, কুফরী করলে কোন রেহাই নেই। কুফরী করার পর যদি মারা যাও যমীন থেকে আসমান পরিমাণ স্বর্ণও যদি কাফফারা দাও, যেটা তোমাদের পক্ষে কখনও সম্ভব নয় তারপরেও যদি তোমরা দাও সেটা কিন্তু গ্রহণ করা হবে না। খুব ফিকির করতে হবে। মুসলমানকে মুসলমান হিসেবে ফিকির করতে হবে। একজন মুসলমানের জন্য ইসলামের যে বিষয়টা রয়েছে সেটা তাকে ফিকির করতে হবে। একটা শিখ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়, তাদের জেনারেল হয়, তাদের বড় বড় হর্তা কর্তা হয়ে থাকে, সে কিন্তু তাদের কথিত পাগড়ী খোলে না। তাদের কথিত পাগড়ীটা ঠিকই থাকে। একটা কাফির সে। তার হাতের বালাটাও থাকে। তার দাড়িও থাকে। দাড়ি লম্বা হয়ে যায় সেটা কাটে না, সেটা জাল দিয়ে, নেট দিয়ে আটকিয়ে রাখে। মাথার চুলগুলো মেয়েদের মত হয়ে যায় সেটাও সে কাটে না, বড় করে রাখে। তারপরও সে প্রেসিডেন্ট হতে পারে, তারপরও সে জেনারেল হতে পারে, তারপরও সে তাদের বিশেষ ব্যক্তিত্ব হতে পারে। তাহলে মুসলমানগণ কেন পারবে না। একটা শিখ যদি কুফরী ধর্মের মধ্যে থেকে সেটা করে, কেন সে সেটা করে, সেটার কারণও সে বলে থাকে।
শিখরা কেন দাড়ি রাখে, কেন চুল লম্বা রাখে, কেন তারা তাদের কথিত পাগড়ী পরে, কেন তারা তাদের হাতে বালা পরে থাকে? তারা বলে থাকে যে, মুসলমানদের রক্ত দিয়ে গোসল না করা পর্যন্ত তারা সেটা কাটবেওনা, খুলবেও না। নাউযুবিল্লাহ! এ তো বড় শক্ত কুফরী কথা বলার পরও তাদেরকে কেউ কিন্তু বাধা দেয় না, তারা কিন্তু সেটা করে যাচ্ছে। তাহলে মুসলমানদের পাগড়ী কোথায় গেলো, মুসলমানের দাড়ি গেলো কোথায়, মুসলমানের লম্বা কোর্তা কোথায় গেলো, এটা ফিকির করতে হবে। এটা কিন্তু মুসলমানেরা ফিকির করেনা। খুব সূক্ষ্ম বিষয়, ঈমান বিশুদ্ধ করতে হবে। ঈমান শুদ্ধ করতে হবে। এটা ফিকির করতে হবে। কুফরী করে মারা গেলে, যমীন থেকে আসমান পরিমাণ কাফফারা দিলেও তা কবুল হবে না; তা স্বর্ণ কেন তা সহ আরো কিছু দিলেও সেটা কিন্তু কবুল হবে না। তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। এখান থেকে কেউ রেহাই পাবে না। কাজেই, এটা ফিকির করতে হবে, একজন মুসলমানকে অবশ্যই মুসলমান হিসেবে থাকতে হবে। একজন মুসলমান যখন মুসলমান হিসেবে থাকতে পরবে, তখনই সে কামিয়াব হবে। প্রত্যেকটা আমলের মধ্যে, আখলাক্বের মধ্যে। একটা হিন্দু সে ঠিকই ধূতী পরে ঘুরে, তাহলে মুসলমানের লম্বা কোর্তাটা কোথায় গেলো? এখন লম্বা কোর্তা পরলে, পাগড়ী পরলে, দাড়ি রাখলে এটা বলে থাকে ব্যাকডেটেট। নাউযুবিল্লাহ! কাজেই, বর্তমানে এটা চলবে না। নাউযুবিল্লাহ!
তাহলে তোমরা কাফিরের, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী-খ্রিস্টান মজূসী তোমাদের ধূতি আর তোমাদের এই গেড়–য়া বসন আর তোমাদের এই কথিত পাগড়ী আর তোমাদের সেই পৈতা, আর তোমাদের স্যুট, কোর্ট, টাই কি করে চলতে পারে? যদি মুসলমানদেরটা না চলে। প্রকৃতপক্ষে ইহুদী নাছারারা সূক্ষভাবে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করে দেয়ার জন্যই এই ষড়যন্ত্র অবলম্বন করেছে। এটা মুসলমানগণ কিন্তু ফিকির করে না। এটা মুসলমানদের ফিকির করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের আক্বীদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়টা আমাদের ফিকির করতে হবে। এজন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذى نفس محمد صلى الله عليه وسلم بيده لا يسمع بى احد من هذه الامة يهودى ولا نصرانى ثم يموت ولـم يؤمن بالذى ارسلت به الا كان من اصحاب النار.
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
والذى نفس محمد صلى الله عليه وسلم بيده
ওই মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি হাবীব, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রাণ মুবারক রয়েছে, তিনি বলেন-
لا يسمع بى احد من هذه الامة يهودى ولا نصرانى ثم يموت ولـم يؤمن بالذى ارسلت به
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেছেন যে দেখো, তিনি যা এনেছেন মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে, সে বিষয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম্ উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্বসম করে বলতেছেন যে দেখো, ওই মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে। আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে এসেছি সে বিষয় সম্পর্কে জানার পরে সে ইহুদী হোক, খ্রিস্টান হোক, যেই হোকনা কেন, সে যদি সে বিষয় বিশ্বাস স্থাপন না করে অর্থাৎ অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায়, সে সম্পর্কে বলা হচ্ছে-
ثم يموت ولـم يؤمن بالذى ارسلت به
সে শুনলো জানলো এরপরও সে ঈমান আনলো না, এ অবস্থায় সে মারা গেলো। অর্থাৎ তিনি যা এনেছেন যা বলেছেন সেটা সে স্বীকার করলোনা, মানলো না, বিশ্বাস করলো না এ অবস্থায় সে মারা গেলো-
الا كان من اصحاب النار
তাহলে সে জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! (অসমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)