৫ মাসের হরতালে কয়েকটি খাতে ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকা। হরতালে দ্রব্য সরবরাহে চরম বিঘ্ন, মূল্যবৃদ্ধিসহ জান-মালের চরম ক্ষতি হয়। তাহলে এরকম একটা ক্ষতিকর ব্যবস্থা রাষ্ট্রে চলে কীভাবে? পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হারাম হরতাল বন্ধে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংখ্যা: ২২৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব ছানা-ছিফত খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। এমন ছানা-ছিফত যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। অপরিসীম, অকৃত্রিম, অগণিত দুরূদ ও সালাম মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। এমন দুরূদ ও সালাম মুবারক যা তিনি পছন্দ করেন।
গত ৫ মাসের হরতালে কয়েকটি খাতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে পাইকারি বাজার, শপিংমল ও ক্ষুদ্র দোকানে ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকা। তৈরি পোশাক খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে ক্ষতি ৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কোটি এবং একই ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা খাতে। এছাড়া অন্যান্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এফবিসিসিআই ও ডিসিসিআইয়ের হরতাল সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ ক্ষতির কথা বলা হয়েছে।
জানা যায়, ৩০ মে ২০১৩ ঈসায়ী তারিখ শুক্রবার পর্যন্ত ৫ মাসে স্বাভাবিক কর্মদিবস ছিল মাত্র ৪২ দিন। এ সময়ে ১৫১ দিনের ৪৮ দিনই ছিল সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি। আর ৩২ দিন দেশব্যাপী ও ২৯ দিন কেটেছে আঞ্চলিক হরতালের মধ্য দিয়ে। অতীতের রেকর্ড থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে বছরে গড় হরতাল ৪০ দিন। অথচ চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই ৩২ দিন দেশব্যাপী ও ২৯ দিন আঞ্চলিক পর্যায়ে হরতাল ডাকা হয়। ২৯ দিনের আঞ্চলিক হরতালকে ৩ দিনের জাতীয় হরতালের সমপরিমাণ ধরে গত ৫ মাসে জাতীয়ের সমপরিমাণ হরতাল হয়েছে ৩৫টি। এফবিসিসিআইয়ের হিসাবে এক দিনের হরতালে ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা এবং ডিসিসিআইয়ের হিসাবে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই হিসাবে ৩৫ দিনের হরতালে ক্ষতির পরিমাণ এফবিসিসিআইয়ের হিসাবে, ৭০ হাজার কোটি টাকা। ডিসিসিআইয়ের হিসাবে, ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তথ্য দুটির গড় হিসাবেও ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৩ হাজার কোটি টাকা। ডিসিসিআইয়ের মতে, দেশে হরতাল না হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যেত।
হরতালের কারণে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েছেন দেশের সব স্তরের মানুষ। দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে কোনো পর্যায়ের মানুষেরই আর এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন নেই।
গত ২৮ মে ২০১৩ ঈসায়ী তারিখ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণ, প্রভিশনিং ও পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালায় পরিবর্তন আনার পেছনে বড় কারণ ছিল হরতালের কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণখেলাপি হয়ে যাওয়া। কিন্তু ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হরতাল না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ‘চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী’। ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও, সহিংসতা ও নাশকতার কারণে হরতালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। এর বিরূপ প্রভাব বাজারে পড়ায় চাপে আছে মধ্যবিত্ত। ক্লাস-পরীক্ষা বারবার পেছানোয় সঙ্কটে শিক্ষার্থীরা। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কমে যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ।
হরতালের কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ- সব স্থবির হয়ে পড়ছে। সময়মতো বিমান এবং অন্যান্য পরিবহন চলাচল করতে না পারায় হাজার হাজার কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির হয়। দেশের পুঁজিবাজারের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয় এই হরতালের কারণে। রাজধানীর বাইরে থেকে কাঁচামাল ও শাকসবজি আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকে; ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এ সঙ্কট উত্তরণ করার জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ দেশের সকল রাজ নৈতিক দলকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা খুঁজে বের করে জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমাদের দেশে যে দলই ক্ষমতায় থাকে সে দল তখন হরতালের বিরুদ্ধে থাকে। আর যারাই বিরোধী দলে থাকে তারাই হরতালকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এমনও হয়েছে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একটি দল বলেছে যে, তারা বিরোধী দলে গেলে হরতাল করবেনা কিন্তু বাস্তবে বিরোধী দলে গিয়ে তারা ঠিকই হরতাল করেছে। ১৭০টি হরতাল করেছে। অথচ হরতালে ক্ষতি হয় মূলত: রাষ্ট্রের তথা জনগণের। প্রতিদিন এ ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা।
১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে যতগুলো হরতাল হয়েছে, তার প্রায় ৯৫ শতাংশ ডাকা হয়েছে স্রেফ রাজ নৈতিক কারণে বা রাজ নৈতিক স্বার্থে। বাকি মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ হরতালের পেছনে পাওয়া গেছে অর্থ নৈতিক কারণ তথা তথাকথিত জনগণের স্বার্থ। তবে এগুলোর কয়েকটির সঙ্গেই আবার রাজ নৈতিক দাবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
মূলত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পছন্দের নির্বাচনী ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, নেতাদের মুক্তি ইত্যাদি দাবিতেই সব হরতাল হয়েছে। দেখা গেছে, বিরোধী দল যখন ক্ষমতার স্বার্থে বারবার হরতাল পালন করে গেছে, তখন সরকারি দলও ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার নানা রকম নীল নকশা এঁটেছে। আর মাঝখান থেকে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। পাশাপাশি দেশের শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব রকমের অর্থ নৈতিক কর্মকা- স্থবির হয়েছে। পরিণামে দেশের সার্বিক অর্থনীতি হয়েছে বিপর্যস্ত।
মূলত হরতালে কারোই লাভ হয়না। হরতাল দাবিদারদেরও ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি রাষ্ট্র ও জনগণের। কাজেই জনগণের জান-মালের ক্ষতি, রাষ্ট্র চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে এরকম একটা ব্যবস্থা রাষ্ট্রে চলতে পারেনা। সুতরাং এই ক্ষতিকর ব্যবস্থা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে অবশ্যই আইন প্রণয়নে অগ্রণী হতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, এ বিষয়ে রাষ্ট্র জনগণের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও আকুণ্ঠ সহযোগিতা পাবে।
কারণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হরতাল হারাম। দেশের শতকরা ৯৭ ভাগ অধিবাসী হরতাল পছন্দ করেনা। কাজেই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হারাম হরতাল বন্ধে রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
মূলত সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান শ্রীনগরী

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক