বাজার সিন্ডিকেট কি সরকারের চেয়েও ক্ষমতাধর? ১০ জনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে ভোজ্যতেল ও গুঁড়োদুধের বাজার সিন্ডিকেটের স্বার্থরক্ষায় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অকার্যকর করে রেখেছে টিসিবিকে

সংখ্যা: ২২৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম মুবারক।
শেয়ারবাজারে কতিপয় দুর্বৃত্তচক্রের মতো বাজার সিন্ডিকেট চক্রও চাল, ডাল, চিনি, আটা ও ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করার মাধ্যমে অযৌক্তিক হারে দাম বাড়িয়ে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী মন্ত্রী বাজার সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকার কথা স্বীকার করে এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নানা কথা শোনালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, বাজার সিন্ডিকেট চক্র কি রাষ্ট্র ও সরকারের চেয়েও অধিকতর ক্ষমতাধর ও শক্তিশালী? মূলত সরকারের নীতি-নির্ধারকদের প্রভাবশালী অংশই এই অশুভ সিন্ডিকেটের নেপথ্য নিয়ন্ত্রক ও মদদদাতা। যে কারণে তারা এতটা বেপরোয়া।
দেশের ভোক্তাদের কাছে খুবই স্পর্শকাতর দুটি পণ্য গুঁড়োদুধ ও ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ জন ব্যবসায়ীর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে হাজার কোটি টাকার এ বাজার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ করা হলেও অন্যান্য দেশের খুচরা মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এ পণ্য দু’টি। গুঁড়োদুধের ক্ষেত্রে এ সিন্ডিকেট ১০০ ভাগ পর্যন্ত লাভ তুলে নিচ্ছে। ভোজ্যতেল বিক্রি করছে ৪০ শতাংশ লাভে। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সিন্ডিকেটের কাছে তারা অনেকটাই অসহায়। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যেসব গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে তার বেশির ভাগেরই ক্রয়মূল্য পড়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। অথচ বাজারে গুঁড়োদুধ বিক্রি হচ্ছে ৫৯৫ থেকে ৬১৫ টাকা দরে। লাভের পরিমাণ ১০০ ভাগেরও বেশি। অন্য দিকে বিদেশ থেকে ৯৬ টাকায় কেনা সয়াবিন তেল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৪ টাকা লিটার দরে। এ ক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ।
শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার টিসিবিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতির কথা শোনালেও বাস্তবে টিসিবিকে এখনও অকার্যকর রাখা হয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাপে। টিসিবিকে গণদাবির মুখে একপর্যায়ে কিঞ্চিৎ সচল করা হলেও সেই টিসিবির বিরুদ্ধে ডিলাররা অভিযোগ করেছে, তাদের বেশি দামে ডাল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবিও বাজার সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়েছে।
ভোক্তাদের স্বার্থ দেখার জন্য যেন কেউ নেই। দেশের মানুষকে সিন্ডিকেটকারীদের হাত থেকে রক্ষার্থে সরকার চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রাষ্ট্রের গাফিলতির কারণে তার ঘানি এখন সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। জীবনযাত্রার সামান্য ব্যয় নির্বাহ করতেই যেখানে নাকাল হচ্ছে দেশের মানুষ। উপরন্তু সরকারের দূরদর্শিতার অভাবে এবং কর্মদক্ষতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা না থাকার কারণে সিন্ডিকেটধারীরা এখন দেশের মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্র যখন তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনেও বড় ধরনের কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি তখন তারা এখন মাথা ঝাড়া দিয়ে রক্তচোষা জোঁকের মতো সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ফুলে-ফেঁপে মোটাতাজা হচ্ছে। আর সরকার এ ক্ষেত্রে নির্লিপ্ত থাকায় তারা তাদের অন্যায় আর নিয়মের বেড়াজাল আরো ব্যাপকভাবে বিস্তীর্ণ করে চলেছে। দেশে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন টিসিবিকে ফলপ্রসূ না করে দিয়ে সিন্ডিকেটধারীদের ব্যবসা-বাণিজ্য করার পথ আরো সুগম করে দিয়েছে। হাতেগোনা কয়েকজন সিন্ডিকেট মাফিয়ার হাতে বন্দি আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য। টিসিবি যখন কার্যকর ছিল তখন এতটা বেপরোয়া ভাব বা সুযোগ কোনোটাই সিন্ডিকেটধারীদের ছিল না। কেন তাহলে টিসিবিকে ঢেলে না সাজিয়ে নামমাত্র করে রাখল সরকার? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে দেখতে হবে রাজ নৈতিক মদদ ছাড়া দেশের বড় বড় সিন্ডিকেট রাঘববোয়াল একচ্ছত্রভাবে তারা দেশটাকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করতে পারত না। দেশের কিছু আমলা এবং রাজ নৈতিক ব্যক্তি রয়েছে যাদের বড় বড় ব্যবসা রয়েছে। তারাই মূলত কমিশন ভাগাভাগি করে দেশে বড় বড় হোতাদের অ বৈধ সুযোগ দিয়ে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। বাজার মূলত এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। দেশের মানুষের এ দুর্ভোগ যেন এখন তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ শোনার মতো রাষ্ট্রযন্ত্রের কেউ যেন নেই। তারা মূলত এখন চরম অসহায় হয়ে পড়েছে।
মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সিন্ডিকেটের সাথে সরকারের কমিশন বাণিজ্য থাকায় সরকার এর বিরুদ্ধে সক্রিয় কার্যত কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অভিজ্ঞমহলের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর নাটের গুরু হলো সরকার। উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচনের ব্যয় সামলানো। তথা নিজেদের আখের গোছানো।
সত্যিকার অর্থে মুখে মুখে গণতন্ত্র তথা জনগণের সরকার বললেও কোন সরকারই কোনদিন জনগণের দিকে নজর দেয়নি। স্বাধীনতা উত্তর সব সরকারই হয়েছে লুটপাটের আখড়া জনগণের রক্তচোষক। তারপরও জনগণ ঘুরে-ফিরে তাদেরকেই ভোট দিচ্ছে। আর জনগণের ভোট দেয়ার কারণেই দলীয় সরকারগুলো পর্যায়ক্রমে জনগণকে শোষণ করে খাচ্ছে। জনগণকে তাই জনস্বার্থেই উপলব্ধি করতে হবে এভাবে ভোটদান কোনদিনই তাদের জন্য কোন কল্যাণের কারণ হয়নি। ভোটদান প্রথা সম্পূর্ণই বৃথা। জনগণকে তাই জনকল্যাণেই ভোটদান হতে বিরত থাকতে হবে। ভোটদান প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে। জনগণের শাসনের নামে জনগণের রক্তচোষক সরকার প্রথাকে উৎখাত করতে হবে। ‘খিলাফত আলা মিনহাজুন নুবুওওয়াত’-উনার জন্য উন্মুখ হতে হবে। তবে শুধু দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত নয় সব অপসংস্কৃতির অপঘাতসহ সব অনাচারের, অনিয়মের বেষ্টনী থেকে নাজাত পাওয়া যাবে। কিন্তু এর জন্য দরকার জনগণের আত্মসচেতনতা। আক্বল ঘাটানো। আত্মোপলব্ধি অর্জন। প্রতিবাদী মানসিকতা পোষণ। প্রতিহত করার জজবা ধারণ।
মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)
-মুহম্মদ আরিফুল্লাহ

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক