টিকফা চুক্তি চূড়ান্ত। জাতীয় স্বার্থকে বাদ দিয়ে জনগণকে অন্ধকারে রেখে জনগণের অসম্মতিতে চরম গোলামীর ও আত্মঘাতী টিকফা চুক্তি সাধিত হলো।

সংখ্যা: ২২৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইদয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম মুবারক।
সরকার বারবার প্রকাশ্যে ‘না’ করেও তার কথা রাখলো না। আত্মঘাতী ও দেশ এবং জনস্বার্থবিরোধী টিকফা চুক্তির প্রস্তাব গত ১৭ জুন ২০১৩ ঈসায়ী তারিখ সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তিটি স্বাক্ষরে আর কোন বাধা নেই। এখন যে কোন সময় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ কাঙ্খিত এ চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে পারে।
১৭ জুন ২০১৩ ঈসায়ী তারিখ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তিটির নামে দুটি পরিবর্তন এনে টিকফার খসড়া অনুমোদন করা হয়। মূল নামের সঙ্গে কো-অপারেশন যুক্ত করে ফ্রেমওয়ার্ক শব্দের পরিবর্তে ফোরাম শব্দ সংযোজন করা হয়। এতে অনুমোদিত খসড়া চুক্তির নাম দাঁড়ায় ‘ট্রেড এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট’ (টিকফা)।
জানা যায়, খসড়ার প্রস্তাবনায় চারটি বিষয় রয়েছে। সংরক্ষণশীল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি পরিহার করার প্রয়োজনীয়তা, মেধাস্বত্ব অধিকার সংরক্ষণের গুরুত্ব, দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের গুরুত্ব এবং শ্রম অধিকারের বিষয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়।
বিশ্বের প্রায় ৪২টি দেশ ও ৮টি আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিগুলোকে ব্যবহার করে তার দুর্বল পার্টনারদের কাছ থেকে বিবিধ রাজ নৈতিক, অর্থ নৈতিক ও সামরিক সুবিধা হাসিল করে নেয়। ইরাক আগ্রাসন কিংবা “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” ইত্যাদি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান কিংবা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোকে ব্যবহার করার কাজে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে কাজে লাগানো হয়েছে।
উদাহরণত শ্রীলঙ্কার সাথে ২০০২ সালে টিফা চুক্তির সময় আমেরিকা গার্মেন্টস পণ্যের কোটা মুক্ত সুবিধার কথা বললেও বাস্তবে তা না দেয়ার জন্য নানান শর্ত চাপিয়ে দেয় যেমন রুলস অব অরিজিনের এমন শর্ত যে শ্রীলঙ্কার উৎপাদিত গার্মেন্টস পণ্য তৈরি হতে হবে আমেরিকান ফেব্রিক্স ব্যবহার করে, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস বাস্তবায়ন ইত্যাদি।
২০০৩ সালে পার্লামেন্ট এ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস সম্পর্কিত আইন পাস করতে গেলে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয় এবং এক পর্যায়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত হয় এবং আদালত মামলাকারীর পক্ষেই রায় দেয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে ৭ম টিফা বৈঠকে আমেরিকা আবার ট্রিপস বাস্তবায়নের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কাকে চাপ দেয় এবং সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনিটিক্যালী মডিফাইড ফুড আমদানির উপর শ্রীলঙ্কার যে নিষেধাজ্ঞা আছে সেটাও তুলে নেয়ার ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করে।
এ রকম উদাহরণের শেষ নেই, যেখানেই টিফা স্বাক্ষরিত হয়েছে সেখানেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, অবিলম্বে প্রতিরোধ করা না গেলে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোন কারণ দেখা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, বাংলাদেশের সংবিধানে ১৪৫ (ক) ধারায় আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।’ ‘টিকফা’ চুক্তির ধারাসমূহ নিয়ে গোপনীয়তা ও রাখঢাক করার যে চেষ্টা চলছে তা কি সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারার স্পিরিট ও মর্মকথার বরখেলাপ নয়?
উদারিকরণ, মুক্তবাজার, ব্যক্তি খাতের অবাধ আন্তর্জাতিক প্রবাহ, পুঁজি বিনিয়োগ ও মুনাফা স্থানান্তরের নির্বিঘœ গ্যারান্টি, বাজার সংরক্ষণ নীতি পরিহার ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশকে অঙ্গীকারবদ্ধ করে ‘টিফা’ চুক্তিতে এদেশের অর্থনীতিকে ‘পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের’ কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলার ব্যবস্থাপত্র হাজির করা হয়েছে। অথচ পুঁজিবাদী মুক্তবাজার ব্যবস্থা, নয়া উদারবাদী পথ, অর্থ নৈতিক নির্ভরশীলতা, দেশকে নয়া-উপনিবেশবাদের শিকারে পরিণত হতে দেয়া ইত্যাদি ব্যবস্থাগুলো সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৮, ১৩, ১৪, ১৫, ১৯, ২০ ইত্যাদি ধারাসমূহে উল্লেখিত নির্দেশনাগুলোর সুস্পষ্ট বরখেলাপ।
‘টিকফা’ চুক্তিতে ১৫, ১৬ ও ১৭নং প্রস্তাবনায় মেধাস্বত্ব অধিকার (ওহঃবষষবপঃঁধষ চৎড়ঢ়বৎঃু জরমযঃং)-ঞজওচঝ, আন্তর্জাতিক শ্রম মান সংরক্ষণ, পরিবেশ ও বাণিজ্য স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দেয়া ইত্যাদি প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘টিকফা’ চুক্তির ফলে মেধাস্বত্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা পেলে তা আমাদের দেশকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করবে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতেই দেশকে সফটওয়্যার লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকা (৬০ কোটি ডলার) ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ওষুধ শিল্পকে পেটেন্ট আইনের অধীনে মাশুল দিতে হবে এবং তার ফলে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তৈরি পোশাক শিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহৃত এদেশের তৈরি এক্সেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে নজরানা দিতে হবে। বাসমতি চাল, চিরতার রস, নিমের দাঁতন ইত্যাদি হেন বস্তু নেই যা আগেভাগেই মার্কিনীসহ বিদেশি কোম্পানিরা পেটেন্ট করে রাখেনি। মেধাস্বত্ব অধিকারের ধারা প্রয়োগ করে তারা এসব কিছুর জন্য রয়েলটি প্রদানে বাংলাদেশকে বাধ্য করে তারা টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করে নিলো। (নাঊযুবিল্লাহ)
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে তা সুখবর। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য তা আরেকটি সর্বনাশের বার্তা। তাই দেশের গলায় আরেকটি গোলামীর ফাঁস পরানোর এই পাঁয়তারা যেকোনোভাবে রুখতে হবে।
মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক তথা মুবারক ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)
-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক