আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী যালিম গং নিঃসন্দেহে গুমরাহ, বাতিল, লা’নতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়া উনার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২০

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

শায়খুল ইসলাম হযরত আব্দুল হাই দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত মিয়া সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি (অর্থাৎ হযরত শহীদে আযম আলাইহিস সালাম) উনার মুবারক নির্দেশক্রমে আমি যখন ঘরের এক কোণে গিয়ে পবিত্র নামায পড়তে আরম্ভ করলাম। তখন পবিত্র তাকবীরে তাহরীমা বলার সাথে সাথে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সুমহান জালালিয়াত মুবারক দর্শন এবং অনুভবের মাঝে এমনভাবে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম যে, আমার স্বাভাবিক চেতনা পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকলো না। এমনকি এমন অঝোর নয়নে কাঁদতে থাকলাম যে, অবারিত ধারার অশ্রুতে আমার দাড়ি সিক্ত হয়ে উঠলো। আমি পবিত্র নামায উনার মাঝে এমনভাবে ডুবে থাকলাম যে, দুনিয়ার কোন কিছুই আমার স্মরণ বা চিন্তা-ফিকিরে ছিল না। এভাবে অত্যন্ত ভয় ও তৃপ্ততা তথা ইখলাছ-খুলুছিয়তের সাথে দু’রাকায়াত পবিত্র নামায পড়লাম। দু’রাকায়াত পবিত্র নামায পড়ার পর আমার স্মরণ হলো, সূরা ফাতিহা শরীফ তো পড়া হয়নি। অতএব আবারো দু’রাকায়াত পবিত্র নামায পড়তে নিয়ত করলাম। এ পবিত্র দু’রাকায়াত নামায যখন শেষ হলো তখন আবার স্মরণ হলো যে, সূরা ফাতিহা শরীফ উনার সাথে অন্য কোন সূরা শরীফ মিলিয়ে পড়া হয়নি। সুতরাং পুনরায় পবিত্র নামায পড়া আরম্ভ করলাম। এভাবে প্রতিবারই এক একটি ওয়াজিব তরকের কথা আমার স্মরণে আসতে থাকে এবং তাতে পবিত্র নামায ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে মনে করে পবিত্র নামায দোহরায়ে পড়তে থাকি। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত একশ বা তার বেশি রাকায়াত পবিত্র নামায আমি পড়ি। সঠিক সংখ্যা একমাত্র খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন। অবশেষে বাধ্য হয়েই আমি পবিত্র নামায উনার সালাম ফিরালাম এবং নিজে নিজে এত বেশি লজ্জিত অনুতপ্ত হলাম এই ভেবে যে, আমার যোগ্যতা এতই নীচ হীন নগণ্য যে, দু’রাকায়াত পবিত্র নামায ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার সাথে পড়তে পারলাম না। অথচ এত বড় একজন কামিলে মুকাম্মিল ওলীআল্লাহ উনাকে আমি পরীক্ষা করার স্পর্ধা দেখাচ্ছি। এখন তিনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হে ব্যক্তি! তুমি কি দু’রাকায়াত পবিত্র নামায মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দেশ্যে পড়েছো কি? তখন আমি কি উত্তর দিব? ইখলাসের সাথে যথাযথ হক্ব আদায় করে আমি তো দু’রাকায়াত পবিত্র নামাযও পড়তে পারলাম না। আমি এ লজ্জায় অনুতপ্ত নতশির হয়ে নিজের ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে ভীত হয়ে তওবা-ইস্তেগফার করতে লাগলাম। যখন পবিত্র ফজর উনার আযান হলো তখন আমি নিজের মধ্যে স্বাভাবিক চেতনা অনুভব করলাম এবং স্মরণ হলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে তো সর্বদা এমন অবস্থাই বিরাজ করতো। উনারা সারা রাত পবিত্র ইবাদত-বন্দেগীতে রত থাকতেন এবং শেষ রাতে পবিত্র ইস্তেগফার শরীফ-এ মশগুল হতেন। উনাদের শানেই পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।” এক্ষণে আমি দৃঢ়ভাবে অনুধাবন করলাম যে, হযরত মিয়া সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি (অর্থাৎ হযরত শহীদে আ’যম আলাইহিস সালাম) তিনি নিঃসন্দেহে একজন হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদে কামিল ওলীআল্লাহ। উনার পবিত্র জবান মুবারক-এর একটি নির্দেশনা মুবারক দ্বারাই আমার বহু দিনের আশা পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ চেষ্টা কোশেশ করেও যে নিয়ামত আমি লাভ করতে পারিনি তা উনার এক মুহূর্তের কথা মুবারক দ্বারাই আমার অর্জিত হয়ে গেছে। অতঃপর আমি পবিত্র মসজিদে গেলাম এবং পবিত্র ফজর নামায উনার জামায়াতের পূর্বেই মুর্শিদে মুকাম্মিল, আওলাদে রসূল, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র হস্ত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করলাম। পবিত্র ফজর নামায শেষে আমি হযরত মিয়া মুহম্মদ ইসমাঈল দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বিগত রাতের সম্পর্র্ণ ঘটনা খুলে বললাম। তিনি আগে থেকেই আমাকে বিশ্বস্ত এবং সত্যবাদী বলেই জানতেন। অতএব, তিনিও হযরত মিয়া সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি (অর্থাৎ হযরত শহীদে আ’যম আলাইহিস সালাম) উনার পবিত্র হস্ত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ!

দিনের বেলা আমি ওস্তাদুল উলামা ওয়াল মাশায়িখ, ছাহিবু কাশফ ওয়া কারামত, শায়খুল মুহাদ্দিসীন হযরত শায়েখ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুবারক খিদমতে গিয়ে বিগত রাতের পুরো ঘটনা ও আমার বাইয়াত গ্রহণের কথা পেশ করলাম। তিনি অত্যন্ত খোশ মেজাজে বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বরকত দান করুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বরকত দান করুন। তুমি অতি উত্তম কাজ করেছো। আমি এ কারণেই তোমাকে বলতাম, কেন মিয়া! তুমি কি মীর ছাহেব (অর্থাৎ হযরত শহীদে আযম আলাইহিস সালাম) উনার পবিত্র কামালত মুবারক প্রত্যক্ষ করেছো? আমি তখন আরজ করলাম, হে হযরত ওস্তাদুল উলামা ওয়াল মাশায়িখ! আমি বহু ওলী দরবেশ উনাদের খিদমত মুবারক করেছি। বহু পবিত্র তরীকা উনাদের আমল ও মুরাকাবা মুবারক আমি করেছি কিন্তু আমার আশা পূরন করতে পারিনি। অথচ, হযরত মিয়া সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি (অর্থাৎ হযরত শহীদে আ’যম আলাইহিস সালাম) তিনি একটি মাত্র কথা মুবারক বলে দিলেন আর অমনি আমি আমার কাঙ্খিত বিষয়টি পেয়ে গেলাম। আমি হযরত মিয়া সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি (অর্থাৎ হযরত শহীদে আ’যম আলাইহিস সালাম) উনার খিদমত মুবারক-এ আরজ করলাম, হে আমার হযরত শায়েখ! এ পবিত্র তরীক্বা উনার নাম মুবারক কি? তিনি বললেন, মিয়া! এ শ্রেণীর ব্যক্তিগণ কোন তরীক্বা উনাদের মুখাপেক্ষী হন না। বরং উনারা জবান মুবারক থেকে যাই বের করেন তাই একটি পবিত্র তরীক্বা হয়ে যায়। উনারা পবিত্র তরীক্বাসমূহ উনাদের প্রতিষ্ঠাতা। পবিত্র তরীক্বা উনারাই সৃষ্টি করেন। মুর্শিদে মুকাম্মিল, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নছীহত মুবারক-এ উনার পবিত্র কামালত বুুযূর্গী বিষয়ে আমার বিশ্বাস আরো দৃঢ় হলো এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেল। অবশেষে আমি উনার পবিত্র খিদমত মুবারক-এ নিজেকে আত্মসর্মপণ করি। অবশ্য উনার মুবারক খিদমতে থাকার মতো বিন্দুমাত্র যোগ্যতাই আমার মধ্যে আছে বলে মনে করিনা। (সুবহানাল্লাহ)

সালামাতুল্লাহ ইসলামাবাদী।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক