কাফির নায়েকের বিভ্রান্তিকর এবং শরীয়ত বিরোধী প্রশ্নের উত্তর

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রভাষক মুহম্মদ আহসান হাবীব

সভাপতি- আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত

গাবতলী উপজেলা শাখা, গাবতলী, বগুড়া

 

সুওয়াল : ডা. জাকির নায়েক এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছে যে, কুরআনে এমন কোন দলীল নেই যা মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করে। এমনকি কোন হাদীছও এমন নেই যেখানে বলা হয়েছে যে, মহিলারা মসজিদে যেতে পারবে না। বরং এর বিপরীতে অনেক হাদীছ আছে। সহীহ বুখারী শরীফ-এ আছে যখন তোমার স্ত্রী মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায় তখন তাদের নিষেধ কর না। (হাদীছ নং ৮৩২)

এমনকি সহীহ বুখারীতে আছে, যদি তোমার স্ত্রী রাতের বেলায়ও মসজিদে যেতে চায় তাহলে তাকে অনুমতি দাও। হাদীছ নং ৮২৪। মুসলিম শরীফ-এ আরও আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহিলাদের জন্য মসজিদে সবচেয়ে ভালো স্থান হচ্ছে তারা প্রথম কাতারে দাঁড়াবে আর পুরুষরা শেষ কাতারে দাঁড়াবে। অথবা পুরুষরা প্রথম কাতারে দাঁড়াবে আর মহিলাদের জন্য ভাল হলো শেষ কাতারে দাঁড়ানো। (বুখারী শরীফ ১ম খ-, হাদীছ নং ৮৮১; সূত্র ডাক্তার জাকির নায়েক উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর ৪/২৩৪, পিস পাবলিকেশন্স, ঢাকা)

জাওয়াব : উক্ত জাকির নায়েক ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে কাফির নায়েকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তার বক্তব্যগুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- সবগুলিই বিভ্রান্তিকর এবং শরীয়ত বিরোধী। প্রকারান্তরে যা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আলোচ্য মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরেও সে বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।

মহিলাদের মসজিদে গমন ও জামায়াতে নামায আদায় সম্পর্কে বিশদ জানার আগে জানতে হবে মহিলাদের উপর যে পর্দা ফরয করা হয়েছে সেই পর্দার হাক্বীক্বত কি? স্মরণ রাখা দরকার যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ-এ এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনেক ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহিলাদেরকে পর্দা করার জন্য তাগিদ করা হয়েছে। সেসব আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ পর্যালোচনা করলে বুঝে আসে যে, যতদূর সম্ভব মহিলাদের স্বীয় গৃহে অবস্থান, একান্ত অপারগতা ব্যতীত ঘর থেকে বের না হওয়া। চাই সেটা নামাযের জন্য হোক বা দুনিয়াবী অন্য কোন কাজে হোক।

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ উছূল মনে রাখা প্রয়োজন যে, ইসলাম যে সমস্ত কাজকে গুনাহে পতিত হওয়ার নিকটবর্তী কারণ বর্ণনা করে হারাম ঘোষণা করেছে সেটা চিরদিনই হারাম থাকবে। অবস্থার পরিবর্তনের কারণে তাতে কোন পরিবর্তন আসবে না। যেমন মহিলাদের বেপর্দা থাকাকে গুনাহে পতিত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে পর্দা ফরয এবং বেপর্দায় থাকা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

পক্ষান্তরে যেসব জিনিসকে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার দূরবর্তী কারণ হিসেবে উল্লেখ করে হারাম বলা হয়েছে সেখানে ওই কাজের দ্বারা যদি গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে তা হারাম নয়। অবস্থার পরিবর্তনের সাথে এ ধরনের জিনিসের হুকুমও পরিবর্তন হতে থাকে। যেমন বোরকা বা লম্বা চাদর পরিধান করে মহিলাদের ঘরের বাইরে বের হওয়া গুনাহে পতিত হওয়ার দূরবর্তী কারণ। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এর হুকুমও বদলাতে থাকবে। বোরকা পরিধান করে বা পর্দা সহকারে বাইরে বের হওয়া যদি কখনও ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন বোরকা পরিধান করে বাইরে যাওয়াটাও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারটাও ঠিক এই মূলনীতির উপরে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে কিছু সংখ্যক মহিলারা ওয়াক্তিয়া নামাযের জন্য মসজিদে হাজির হতেন। ঈদের নামাযের জন্য ঈদগাহেও যেতেন। কিন্তু সেটা ছিল উত্তম যুগ। কোন ধরনের ফিতনার আশঙ্কা ছিল না। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সশরীর মুবারক-এ অর্থাৎ জাহেরীভাবে বিদ্যমান ছিলেন। সম্মানিত ওহী মুবারক অবতীর্ণ হচ্ছিল। নতুন নতুন আহকাম নাযিল হচ্ছিল। সকলেই নতুন মুসলমান ছিলেন। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদির হুকুম আহকাম জানার প্রয়োজন ছিল। তার চেয়েও বড় পাওয়া ছিল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারক লাভ এবং উনার পিছনে নামায পড়ার সৌভাগ্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বপ্নের তাবির বলতেন, দ্বীনী আলোচনা করতেন। তাই মহিলাদেরও সেসব জায়গায় উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল। তবে পুরুষদের মতো উনাদের এই হাজির হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিল না।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও পরবর্তীতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যুগেই তা বন্ধ করে দেয়া হয়। হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি উনার খিলাফতের যুগে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সর্বসম্মতিক্রমে মহিলাদের মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এই ঘোষণা তাছদীক্ব বা সত্যায়িত করেন এবং বলেন, আজকের যুগে মহিলাদের যে অবস্থা এটা যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দেখতেন তাহলে তিনিও মহিলাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করে দিতেন।

এখানে স্মরণীয় যে, হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি মহিলা উনাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করার পর উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত উমর বিন খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার ফতওয়া সত্যায়িত বা তাছদীক্ব করার পর সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ তা মেনে নেন। উল্লেখ্য, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করার বা উনার হুকুমের খিলাফ করার কোন কল্পনাও করা যায় না। এতদসত্বেও উনারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এই জন্য যে, যেসব শর্তের সাথে মহিলা উনাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে অনুমতি ছিল এখন সেসব শর্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

বস্তুত কোন যুগেই মহিলাদের মসজিদে যাওয়া পছন্দনীয় ছিল না। সব সময় তাদেরকে বাড়িতে থাকতে এবং গৃহ কোণে নামায আদায় করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা মহিলাদের জন্য পর্দা করা ফরয। বিনা জরুতে বাইরে বের হলে পর্দার লঙ্ঘন হবে, ফিতনা ছড়াবে, সেজন্য নামাযের জামায়াতে হাজির হওয়ার হুকুম তাদের জন্য মাফ করে দেয়া হয়েছে।

মহিলাদের নামায সংক্রান্ত অসংখ্য হাদীছ শরীফ রয়েছে যাতে তাদেরকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ঘরে নামায পড়তে বলা হয়েছে এবং মসজিদে আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

 

মসজিদে না যাওয়া সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ

 

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ام حميد امرأة ابى حميد الساعدى انها جاءت النبى صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انى احب الصلوة معك، قال علمت انك تحبين الصلاة معى، وصلاتك فى بيتك خيرلك من صلاتك فى حجرتك وصلاتك فى حجرتك خير من صلاتك فى دارك وصلاتك فى دارك خيرلك من صلاتك فى  مسجد قومك وصلاتك فى مسجد قومك خيرلك من صلاتك فى مسجدى، قال فأمرت فبنى لها مسجد، فى اقصى شىء من بيتها واظلم فكانت تصلى فيه حتى لقيت الله عزوجل

অর্থ : হযরত উম্মু হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে হাজির হয়ে আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সাথে নামায পড়ার আমার খুবই ইচ্ছে হয়। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমি জানি, আপনি আমার সাথে নামায পড়তে ভালোবাসেন। কিন্তু মনে রাখবেন, বদ্ধ ঘরে আপনার নামায পড়া খোলা ঘরে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর খোলা ঘরের নামায বারান্দার নামাযের চেয়ে উত্তম। আর বারান্দার নামায মহল্লার মসজিদের নামাযের চেয়ে উত্তম। আর মহল্লার মসজিদের নামায আমার মসজিদের (মসজিদে নববী শরীফ) নামাযের চেয়ে উত্তম। এই ইরশাদ শ্রবণের পর হযরত উম্মু হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি স্বীয় ঘরের সবচেয়ে নির্জন কোণে বিশেষভাবে নামাযের জায়গা তৈরি করেন এবং ইনতিকাল পর্যন্ত সেখানেই নামায পড়তে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ছহীহ ইবনে খুযাইমা শরীফ, ছহীহ ইবনে হিব্বান শরীফ, সূত্র: আত তারগীব- ১/১৩৫)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن ام الـمؤمنين حضرت عائشة الصديقة عليها السلام قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لان تصلى الـمراة فى بيتها خير من ان تصلى فى حجرتها خير من ان تصلى فى الدار، ولان تصلى فى الدار خير من ان تصلى فى الـمسجد

অর্থ : উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহিলাদের বদ্ধ কামরার মধ্যে নামায পড়া খোলা কামরায় নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। আর খোলা কামরার নামায বারান্দার নামাযের চেয়ে উত্তম। আর ঘরের বারান্দার নামায মহল্লার মসজিদের নামাযের চেয়ে উত্তম। (তবারানী শরীফ- সূত্র: কানযুল উম্মাল শরীফ- ৮/২৬৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الـمرأة عورة فاذا خرجت استشرفها الشيطان. رواه الترمذى وقال حديث حسن صحيح غريب وابن خزيمة وابن حبان فى صحيحها بلفظ وزادا واقرب ما تكون من وجه ربها وهى فى قعر بيتها.

   অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে ইরশাদ মুবারক করেন যে, নারী জাতি পর্দার সহিত বা আবৃত অবস্থায় অবস্থান করবে। তারা যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন শয়তান তাদেরকে মানুষের দৃষ্টিতে তুলে ধরে। পক্ষান্তরে মহিলারা স্বীয় বাড়ির সবচেয়ে গোপন স্থানে মহান আল্লাহ পাক উনার অধিক নৈকট্য লাভ করে থাকে। (তবারানী ফিল আওসাত, সূত্র: আত তারগীব- ১/১৩৬)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن ام الـمؤمنين حضرت ام سلمة عليها السلام عن رسول الله صلى الله عليه قال خير مساجد النساء قعر بيوتـهن.

      অর্থ : উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মু সালামা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম মসজিদ হলো তাদের বাড়ির গোপন প্রকোষ্ঠ। (ছহীহ ইবনে খুযাইমা, মুসতাদরাকে হাকিম, সূত্র: আত তারগীব)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم صلوة الـمراة فى بيتها افضل من صلوتـها فى حجرتها، وصلوتـها فى مخدعها افضل من صلوتها فى بيتها.

   অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মহিলাদের ঘরে নামায তাদের বাড়ির নামাযের চেয়ে উত্তম। আর ঘরের নির্জন কোণে নামায পড়া এটা ঘরে নামায পড়ার চেয়েও উত্তম। (আবূ দাউদ শরীফ, ছহীহ ইবনে খুযাইমা শরীফ, সূত্র: আত তারগীব- ১/১৩৫)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال صلت امرأة من صلاة احب الى الله من اشد مكان فى بيتها ظلمة.

   অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মহিলাদের ওই নামায সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় যা সে স্বীয় ঘরের সবচেয়ে নির্জন জায়গায় আদায় করে। (ছহীহ ইবনে খুযাইমা, তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মুনযিরী- ১/১৩৬)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابى عمرو الشيبانى انه رأى عبد الله يخرج النساء من المسجد يوم الجمعة ويقول اخرجن الى بيوتكن خير لكن.

   অর্থ : হযরত আবু আমর শায়বানী বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখেছি তিনি জুমুয়ার দিন মহিলা উনাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন এবং বলতেন আপনারা বের হয়ে যান। আপনাদের ঘরই আপনাদের জন্য উত্তম। (তবারানী শরীফ, আত তারগীব- ১/১৩৬)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ليس على النساء غزو ولا جمعة ولا تشبيع جنازة.

অর্থ : মহিলাদের জন্য জিহাদও নেই জুমুয়ার নামাযও নেই এবং জানাযায় শরীক হওয়া নেই। (তবারানী ফিছছগীর শরীফ, কানযুল উম্মাল শরীফ- ৮/২৬৪)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একবার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে বসা ছিলেন এমন সময় মুযাইনা গোত্রের জনৈকা মহিলা সুন্দর পোশাকে সজ্জিতা হয়ে অহঙ্কারী চালে মসজিদে এসে উপস্থিত হলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, হে লোক সকল! তোমরা স্বীয় মহিলাদেরকে উগ্র পোশাক পরিধান থেকে এবং মসজিদে অঙ্গভঙ্গি করা থেকে বিরত রাখো। বনী ইসরাইলরা ততক্ষণ পর্যন্ত অভিশপ্ত হয় নাই যতক্ষণ না তাদের মহিলারা উগ্র পোশাক পরা এবং মসজিদে অহঙ্কারী পদক্ষেপে চলা শুরু করেছে। (ইবনে মাজাহ শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اذا استعطرت الـمراة فمرت على القوم ليجدوا ريحها فهى زانية.

অর্থ : যখন কোন মহিলা সুগন্ধি লাগিয়ে বের হয় আর লোকেরা তার খুশবু পায় সেই মহিলা ব্যভিচারী হিসেবে গণ্য হয়। (নাসায়ী শরীফ, ইবনে খুযাইমা শরীফ, তারগীব তারহীব শরীফ)

উপরে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের দ্বারা যে বিষয়গুলি স্পষ্ট হয়ে গেল তা হলো-

এক. সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে মহিলাদের জন্য জামায়াতে শরীক হওয়া অত্যাবশ্যকীয় ছিল না। শুধুমাত্র অনুমতি ছিল। তবে সেটাও এমন অপছন্দের সাথে এবং শর্ত সাপেক্ষে যে উনারা নিজেরাই মসজিদে যেতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তেন।

দুই. মহিলাদের মসজিদে যাওয়াটা ওয়াজিব, ফরয কিছুই ছিল না বরং মুবাহ ছিল।

তিন. হযরত উম্মু হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইরশাদ মুবারক উনার উপর আমল করার জন্যেই মসজিদ ছেড়ে সারাজীবন বাড়ির নির্জন প্রকোষ্ঠে নামায আদায় করেছেন এবং সে যুগের মহিলারা সাধারণভাবে এটাই করতেন।

আজ শত আফসুস! ওইসব পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি যারা মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইচ্ছা এবং শিক্ষার বিরোধিতা করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো সেটাকে আবার সুন্নত বলে চালিয়ে দিতে সচেষ্ট হচ্ছে। মহিলাদের জন্য মসজিদে যেয়ে নামায পড়া যদি সত্যিই সুন্নত হতো এবং তাতে ছওয়াবও বেশি হতো তাহলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেন বললেন যে, মসজিদের নামাযের চেয়ে ঘরের নামাযই উত্তম। তাহলে কি সুন্নত তরক করার মধ্যে ছাওয়াবের কথা বলা হয়েছে?

স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে মহিলাদের যে মসজিদে আসার অনুমতি ছিল সেটা কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে ছিল। যথা-

(ক) সেজেগুজে খুশবু লাগিয়ে আসতে পারবেন না। (খ) বাজনাদার অলঙ্কার, চুড়ি ইত্যাদি পরে আসতে পারবেন না। (গ) কাজ-কর্মের সাধারণ কাপড় পরে আসতে হবে। যাতে কেউ আকৃষ্ট না হয়। (ঘ) অঙ্গভঙ্গি এবং অহঙ্কারী চালে চলতে পারবেন না। সর্বোপরি তাদের এই বের হওয়া ফিতনার কারণ হবে না।

উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদায়ের কিছুদিন পর থেকেই যখন এই শর্তগুলি বিলুপ্ত হতে শুরু করলো এবং মহিলাদের মধ্যে স্বাধীনচেতা ভাব দেখা দিলো তখন মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার হুকুমও আপসেআপ রহিত হয়ে গেলো।

আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় খিলাফতের যুগে যখন মহিলাদের এই অবস্থা দেখলেন এবং ফিতনার আশঙ্কাও দিন দিন বাড়তে লাগলো তখন তিনি এবং বড় বড় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আদেশ জারি করলেন মহিলাদের মসজিদে না আসার। অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন। কেননা উনারা জানতেন যে, মহিলাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ মুবারক উনার বিরোধিতা করা হয় নাই বরং উনার ইচ্ছা মুবারক উনার উপরেই আমল করা হয়েছে।

ফতওয়ার বিখ্যাতগ্রন্থ বাদায়িউস সানায়িতে বলা হয়েছে, যুবতী মহিলাদের মসজিদে যাওয়া মুবাহ নয় বরং হারাম ওই রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে যা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত যে, তিনি যুবতী মহিলাদেরকে বাইরে বের হতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন। কেননা মহিলাদের ঘর থেকে বের হওয়া ফিতনা। আর ফিতনা হারাম। সুতরাং যে জিনিস হারাম পর্যন্ত নিয়ে যায় সেটাও হারাম।

এই ফিতনার কথা উপলব্ধি করেই উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেছিলেন, যদি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদের এই (দুঃখজনক) অবস্থা দেখতেন তাহলে অবশ্যই তাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করে দিতেন। যেমন নাকি বনী ইসরাইলের মহিলাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল। (বুখারী শরীফ- ১/১২০)

বুখারী শরীফ-এর বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা হযরত বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আজকের যুগে খোদার পানাহ! আজকের যুগে মহিলারা যে বিদয়াত আর নিষিদ্ধ জিনিস অবলম্বন করছে, পোশাকপরিচ্ছদ আর রূপচর্চায় তারা যে নিত্যনতুন ফ্যাশন আবিষ্কার করছে যদি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এই দৃশ্য দেখতেন তাহলে আরও কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেন। এর পরে হযরত আল্লামা আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার উক্ত মন্তব্য তো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ উনার কিছুদিন পরের মহিলাদের সম্বন্ধে। অথচ আজকের যুগের মহিলাদের উগ্রতা আর বেহায়াপনার হাজার ভাগের এক ভাগও সেকালে ছিল না। তাহলে এ অবস্থায় তিনি কি মন্তব্য করতেন? (আইনী শরহে বুখারী- ৩/২৩১)

আল্লামা হযরত বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিজরী নবম শতাব্দীর মহিলাদের সম্বন্ধে এই কথা বর্ণনা করেছেন। তাহলে আজ হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর এই সূচনালগ্নে সারা বিশ্ব যে অশ্লীলতা আর উলঙ্গপনার দিকে ছুটে চলেছে। বেপর্দা আর বেহায়াপনার আজ যে ছড়াছড়ি, মেয়েরা যখন পুরুষের পোশাক পরছে, বব কার্টিং করছে, পেট পিঠ খুলে পার্কে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে, সমানাধিকারের শ্লোগান দিয়ে সম্মানিত ওহী মুবারক উনার দ্বারা প্রবর্তিত সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার হুকুম-আহকাম সম্পর্কে চু-চেরা ও কী¡ল ও ক্বাল করছে। নাঊযুবিল্লাহ! ঠিক সেই মুহূর্তে এই ফিতনা-ফাসাদের মধ্যে অবলা মা-বোনদেরকে ছওয়াবের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মসজিদে আর ঈদগাহে টেনে আনার অপচেষ্টা ইসলাম উনার চিহ্নিত শত্রুদের ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। অথচ দলীল দেয়া হচ্ছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে মহিলাদের দ্বারা। নাঊযুবিল্লাহ! তাহলে সে যুগের মহিলাদের মতো কি এ যুগের মহিলারা? কস্মিনকালেও নয়। অথচ সে যুগেই মহিলাদেরকে মসজিদে ও ঈদগাহে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তাহলে কি করে এ যুগের মহিলাদের জন্য মসজিদে বা ঈদগাহে যেয়ে নামায আদায় করার জন্য বলা যেতে পারে? বা উৎসাহিত করা যেতে পারে?

 

মসজিদে যাওয়া সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ

এবং তার ব্যাখ্যা

 

মহিলাদের মসজিদে কিংবা ঈদগাহে যাওয়া সম্পর্কে যেসব পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে তার সার কথা তিনটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যের মধ্যে এসে যায়। এইজন্য পৃথক পৃথকভাবে সব পবিত্র হাদীছ শরীফগুলি উল্লেখ না করে সেই তিনটি হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হচ্ছে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমসহ পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিছীনে কিরাম এবং হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাকারীগণ তার কি অর্থ বুঝেছেন সেটা আলোচনা করা হচ্ছে।

মনে রাখা দরকার যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার শব্দ বা তরজমা দেখে হাদীছ শরীফ উনার মর্ম ও উদ্দেশ্য বুঝতে যাওয়া বা সেই অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেয়া কিন্তু গুমরাহীর আলামত। একা একা পড়ে বা বাংলা অর্থ দেখে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উদ্দেশ্য ও মর্ম বুঝতে গেলে পদস্খলনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সম্ভাবনাই নয় বরং বাস্তব ঘটনাও ইতিহাসের পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে। তাই কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ সামনে এলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এটার কি অর্থ বুঝেছেন, কিভাবে তার উপর আমল করেছেন এবং তৎপরবর্তী তাবিয়ীন ও তাবি-তাবিয়ীনগণ উনারা তার কি ব্যাখ্যা করেছেন সেটাও জানতে হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সর্বপ্রথম লক্ষ্যস্থল হলেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। উনারা সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যবান মুবারক থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনেছেন এবং তার উদ্দেশ্য ও মর্ম বুঝে তার উপর আমল করেছেন। তাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমলকেও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সাথে মিলাতে হবে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ ব্যাখ্যা বুঝার জন্য।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য উৎসর্গকৃত প্রাণ ছিলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটা ইশারায় উনারা আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তেও প্রস্তুত ছিলেন। উনারাই ছিলেন সত্যিকারের আশিকে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনারাই ছিলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শের প্রকৃত পতাকাবাহী। উনাদের থেকে সুন্নত বিরোধী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ বিরোধী কোন কাজ প্রকাশ পাবে সেটা কল্পনাও করা যায় না। তাই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পাশাপাশি উনাদের আমলও দলীলরূপে গণ্য হবে, যেহেতু উনারা ছিলেন সত্যের মাপকাঠি।

হাদীছ শরীফ তিনটি হলো-

(১) হযরত উম্মে আতিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে আমরা যেন ঋতুবতী পর্দানশীল মহিলাদেরকেও ঈদের ময়দানে নিয়ে যাই। যাতে করে তারা মুসলমানদের জামায়াত এবং দোয়ার  মধ্যে শরীক থাকতে পারে। তবে ঋতুবতী মহিলারা নামাযের জায়গা থেকে আলাদা থাকবে। জনৈকা হযরত ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের অনেকের তো চাদরও নেই। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাকে যেন তার বান্ধবী স্বীয় চাদর দিয়ে সাহায্য করে।

(২) মহিলারা যদি মসজিদে যেতে চায় তাহলে তাদেরকে বাধা দিও না।

(৩) তোমাদের কারো স্ত্রী যদি মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায় তাহলে সে যেন বাধা না দেয়। তবে তাদের জন্য ঘরই শ্রেষ্ঠ।

এই বিষয় বস্তুর আরও কিছু পবিত্র হাদীছ শরীফ ছিহাহ ছিত্তাহসহ অন্যান্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। এসব পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা বাহ্যিকভাবে বুঝে আসে যে, মহিলাদের মসজিদে এবং ঈদগাহে যাওয়া অপছন্দনীয় হওয়া সত্ত্বেও তারা যদি স্বামীর নিকট অনুমতি চায় তাহলে স্বামীদের বাধা প্রদান না করা উচিত। কিন্তু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রকৃত ব্যাখ্যা বুঝতে হলে আমাদেরকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ব্যাখ্যার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রথম পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহিলাদেরকে ঈদগাহে হাজির হওয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশটা কোন ধরনের সেটা আমাদেরকে দেখতে হবে। আরবী ভাষায় আমর অর্থাৎ অনুমতিসূচক শব্দ সাধারণত তিন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। ওয়াজিব, মুস্তাহাব এবং মুবাহ। আলোচ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আমর তথা আদেশটা যে ওয়াজিব হিসেবে ব্যবহার হয়নি সেটা একেবারে স্পষ্ট। কেননা মহিলাদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয় এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও সেই যুগেই সে সকল মহিলা ছাহাবী ঈদের মাঠে আজীবন শরীক হয়েছেন এমন কোন প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাছাড়া আলোচ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে  তো মা’জুর মহিলাদের কথাও বলা হয়েছে যাদের জন্য নামাযই নেই।

এমনকি এই আদেশটা মুস্তাহাব পর্যায়েরও না। কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদের জন্য নির্জন প্রকোষ্ঠের নামায মসজিদে নববী শরীফ উনার নামাযের চেয়ে উত্তম বলে বর্ণনা করেছেন এবং সেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ঈদের নামাযের জন্য আলাদা কোন হুকুম নেই যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঘরে পড়া ভালো; তবে ঈদের নামায ঈদগাহে যেয়ে পড়তে হবে বা পড়বে। কেননা মসজিদ তো সাধারণত বাড়ির কাছেই হয়ে থাকে আর ঈদগাহ শহরের বাইরে হয়ে থাকে। তাহলে বাড়ির কাছে মসজিদে যেয়ে যেখানে নামায পড়তে নিষেধ করা হয়েছে; সেখানে শহরের বাইরে ঈদগাহে যেয়ে ঈদের জামায়াতে শরীক হওয়ার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে?

দ্বিতীয় কথা হলো, পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং জুমুয়ার নামায ফরয আর ঈদের নামায ওয়াজিব। ফরয নামাযের জন্য যেখানে ঘর হতে বের হয়ে আসা অনুত্তম সেখানে ওয়াজিব আদায়ের জন্য ঈদগাহে যাওয়া কি করে উত্তম হতে পারে?

সুতরাং বুঝা গেলো যে, আলোচ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আমর তথা অনুমতিসূচক শব্দ ওয়াজিব বা মুস্তাহাব নয় বরং মুবাহর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ সাময়িক উপকারের জন্য সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহিলাদেরকে ঈদগাহে যেতে বলেছিলেন। এ আদেশ দ্বারা ওয়াজিব হওয়া বুঝায় না।

বিশিষ্ট ফকীহ ও মুহাদ্দিছ ইমাম হযরত তহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যা করতে যেয়ে বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহিলাদের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি ছিল যাতে করে মুসলমানদের সংখ্যা বেশি দেখা যায় এবং দুশমনরা এতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়। কিন্তু আজ যেহেতু সেই পরিস্থিতি আর নেই তাই ওই হুকুমও মানসূখ (রহিত) হয়ে গেছে।

বুখারী শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল্লামা হযরত বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বর্তমানে ফতওয়া এই কথার উপরে যে, মহিলাদের জন্য যে কোন নামাযে যাওয়া নিষেধ। চাই তা দিনে হোক বা রাতে হোক। উক্ত মহিলা চাই যুবতী হোক বা বৃদ্ধা হোক। এমনকি তাদের জন্য ওয়াজ মাহফিলে যাওয়াও নিষেধ।

ফতওয়ায়ে শামীতে বলা হয়েছে, মহিলাদের জন্য জামায়াতে হাজির হওয়া নিষেধ। চাই তা জুমুয়া হোক বা ঈদ হোক। এমনকি ওয়াজের মাহফিলে পর্যন্ত। দিনে হোক বা রাতে হোক, বৃদ্ধা হোক বা যুবতী হোক সকলের জন্য একই হুকুম প্রযোজ্য। ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার কারণে বর্তমানে এটাই ফতওয়া।

ফতওয়ায়ে আলমগীরিতে বলা হয়েছে, ফিতনা ফাসাদ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করার কারণে মহিলাদের যে কোন নামাযে অংশগ্রহণ করা মাকরূহ।

ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এ যুগে মহিলাদের জন্য মসজিদের জামায়াতে হাজির হওয়া মাকরূহ। কেননা ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে দ্বীনী হুকুম-আহকাম শেখার জন্য তাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু এখন আর সেই প্রয়োজন বাকি নেই। দ্বীনের হুকুম আহকাম সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। পর্দার মধ্যে থেকেও মহিলারা তা জানতে পারে। সুতরাং তাদের জন্য বাড়িতে পর্দার মধ্যে থাকাই শ্রেয়।

উল্লেখ্য যে, মসজিদে না যাওয়ার এই হুকুম হারাম শরীফ, মসজিদে নববী শরীফ, মসজিদে আকসাসহ সকল মসজিদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। সর্বত্রই মহিলারা স্বীয় ঘরে নামায পড়বে। এমনকি যেসব মহিলারা হজ্জ বা উমরা করতে যান তারাও সেখানে বাইতুল্লাহ শরীফ বা মসজিদে নববী শরীফ উনাদের মধ্যে নামায না পড়ে স্বীয় রুমে নামায পড়বেন।

কেননা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার তুলনায় নিজ প্রকোষ্ঠে নামায পড়াকে মহিলাদের জন্য উত্তম বলেছেন। এই হাদীছ শরীফ যেহেতু মদীনা শরীফ থাকাকালীন সময়ে ইরশাদ মুবারক করেছিলেন তাই এতে মসজিদে নববী শরীফ উনার কথা উল্লেখ আছে। মক্কা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান করার সময়ে যদি বলতেন তাহলে সেখানে অবশ্যই বলতেন যে, মসজিদে হারাম শরীফ উনার মধ্যে নামায পড়ার চেয়ে স্বীয় বাড়িতে পড়া মহিলাদের জন্য উত্তম। এখানে বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার যে, মসজিদে হারাম শরীফ-এ  এক রাকায়াতে এক লাখের ছওয়াব এবং মসজিদে নববী শরীফ-এ এক রাকায়াতে পঞ্চাশ হাজার রাকায়াতের ছওয়াব শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। মহিলারা স্বীয় ঘরে নামায পড়লে ওই ছওয়াবই পেয়ে যাবেন। এছাড়া মহিলারা স্বীয় ঘরে একা নামায পড়ার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابن عمر رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم صلوة المرأة تفضل على صلاتها فى الجمع خمسا وعشرين درجة

অর্থ : হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, মহিলাদের জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে একা নামায পড়ার মধ্যে পঁচিশগুণ ফযীলত বেশি রয়েছে। (দায়লামী শরীফ ২য় খ-: ৩৮৯ পৃষ্ঠা)

সুতরাং মা-বোনেরা সাবধান! পবিত্র কুরআন শরীফ ও  পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বিরোধিতা করে ধ্বংস ডেকে আনবেন না।

বর্তমানে অধিকাংশ মহিলারাই পর্দা করেনা। বাড়িতে গায়রে মাহরাম এবং দেবর-ভাসুরের সাথে পর্দা করছে না, যা কিনা ফরয। অথচ তারাই আবার অধিক ছওয়াবের আশায় উৎসাহে মসজিদে, ঈদগাহে উপস্থিত হচ্ছে। যা কিনা মুস্তাহাবও নয়। তাহলে এটা কি সম্মানিত শরীয়ত উনার সাথে পরিহাসের শামিল নয়? এই স্ববিরোধিতার কী অর্থ? ফরয পর্দা বাদ দিয়ে মুবাহ জিনিসের প্রতি এত আগ্রহ কেন? হযরত মহিলা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না যাঁরা বেশি বেশি ছওয়াব অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতা করতেন উনারাও হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মেনে নিয়ে মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে উনার পিছনে নামায পড়া বাদ দিয়ে নিজেদের বাড়িতে নামায পড়েছেন। সেক্ষেত্রে উনাদের শান মান ও মর্যাদা মুবারক সম্পর্কে গুরুত্ব না দিয়ে এ যুগের মা বোনদের মসজিদে আর ঈদগাহে যাওয়ার প্রবণতাটা সত্যিই দুঃখজনক।

ফতওয়ার বিখ্যাত কিতাব বাদায়েউস সানাতে মহিলাদের জুমুয়া এবং ঈদের জামায়াতে শরীক হওয়া সম্মন্ধে যা বলা হয়েছে তা প্রণিধানযোগ্য। সেখানে জুমুয়ার জামায়াতে শরীক হওয়া সম্বন্ধে বলা হয়েছে, মহিলারা জুমুয়ায় শরীক হবে না। কেননা তারা পারিবারিক কাজে মশগুল থাকে, তাছাড়া পুরুষদের সমাবেশে মহিলাদের বের হওয়াও নিষেধ। তাদের এ বের হওয়াটা ফিতনার কারণ হয়, তাই এই হুকুম। এ কারণেই তাদের জুমুয়ার এবং পাঁচ ওয়াক্তের জামায়াতে হাজির হওয়া মাফ। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার উপর এবং ক্বিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে তার জন্য জুমুয়া ওয়াজিব কিন্তু মুসাফির, গোলাম, শিশু এবং মহিলা ও অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত। (১/২৫৮) এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে যে, মহিলাদের জন্য জুমুয়ার নামায নেই। ঈদের জামায়াতে শরীক হওয়া সম্বন্ধে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, যুবতী মহিলাদের জুমুয়ার নামাযে, ঈদের নামাযে এবং অন্য যে কোন নামাযে জামায়াতে হাজির হওয়ার অনুমতি নেই। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

وقرن فى بيوتكن

অর্থাৎ “তোমরা স্বীয় ঘরে অবস্থান কর।” এখানে অবস্থান করার হুকুম দিয়ে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়া তাদের বাইরে বের হওয়াটা নিঃসন্দেহে ফিতনার কারণ। আর ফিতনা হলো হারাম, যে জিনিস হারাম পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় সেটাও হারাম।

কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মহিলাদের নামায স্বীয় বাড়িতে তাদের মসজিদে পড়ার চেয়ে উত্তম। আর ঘরের নামায বাড়ির নামাযের চেয়ে উত্তম। আর তাদের গোপন প্রকোষ্ঠের নামায সাধারণ ঘরে নামাযের চেয়ে উত্তম। (১/২৭৫)

উল্লেখ্য যে, আলোচ্য কিতাবের লেখক আল্লামা হযরত আলাউদ্দীন কাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। ৫৮৭ হিজরীতে উনার ওফাত হয়। তিনি ছিলেন সে যুগের বিরাট বড় আলিম। উনার ইলমের এতই সুখ্যাতি ছিল যে, তিনি মালিকুল উলামা অর্থাৎ উলামায়ে কিরামের বাদশাহ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

বিরুদ্ধবাদীদের সমালোচনার জাওয়াব :

বর্তমানে আমাদের সমাজে কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি রয়েছে যারা মহিলাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুবই উৎসাহী। যেসব মহিলা পর্দা করে না তাদেরকে তারা পর্দার জন্য বলে না। কিন্তু যারা পর্দা করেন উনাদেরকে পর্দা থেকে বের করে পুরুষদের মাহফিলে নিয়ে যেতে যার পর নাই তৎপর। তারা মহান ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করে বলে থাকে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা প্রদান করতে নিষেধ করেছেন এবং কারো কাছে অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দিতে বলেছেন। এখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এই ভিন্ন মত পোষণ করা গ্রহণীয় নয়। নাঊযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে যে সুন্নতটি চালু ছিল তার বিপরীতে কোন আলিম-উলামার কথা, কোন ফিকাহ বা ফতওয়ার কিতাবের ফতওয়া গ্রহণ করার অর্থ হবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শকে বাদ দিয়ে তাদেরকে বড় মনে করা। তাই আমরা এসব ফতওয়া মানি না। নাঊযুবিল্লাহ!

বিরুদ্ধবাদীদের এসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা যাক। এসব ব্যক্তিরা সুন্নতকে মুহব্বতকারীর দাবিদার বলেই এই অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তারা চায়না যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি হাদীছ শরীফ বা পবিত্র সুন্নত মুবারক বাদ দিয়ে অন্য কারো কথা মানা হোক। আর এটা কোন মু’মিন মুসলমানও চাইতে পারে না। কিন্তু কথা হলো, এই প্রশ্ন উত্থাপন করার আগে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার সংজ্ঞা এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে জানতে হবে।

স্মরণ রাখা দরকার যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বওল, ফে’ল ও তাকরীর দ্বারা যা প্রমাণিত সবই পবিত্র সুন্নত মুবারক বলে গণ্য এবং উনার অনুসরণ করা ওয়াজিব। কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটা ছহীহ হদীছ শরীফ যা আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ ইত্যাদি হাদীছ শরীফ উনাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, আমার পর যারা জীবিত থাকবে তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে এমতাবস্থায় তোমাদের জন্য জরুরী হলো তোমরা আমার পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে এবং আমার পরে খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা যেসব পবিত্র সুন্নত মুবারক জারি করবেন সেগুলিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে যেমন নাকি মাড়ির দাঁত দিয়ে কোন জিনিস মজবুতভাবে ধরা হয়। (আবূ দাঊদ শরীফ- ২/৬৩৫)

তিরিমিযী শরীফ উনার মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, জানিনা আমি কতদিন তোমাদের মধ্যে থাকব। আমার পরে তোমরা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনাদের তরীক্বা অনুসরণ করবে।

এখানে লক্ষণীয় যে, প্রথম পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণ করাকে নিজের অনুসরণ করা বলে ঘোষণা করেছেন। আর দ্বিতীয় পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিশেষভাবে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনাদের অনুসরণ করার আদেশ মুবারক দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম, হযরত তাবি-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ, ফুক্বাহায়ে কিরাম, আওলিয়ায়ে কিরাম উনারাও যদি কোন একটি বিষয়ের উপর ইজমা করেন তাহলে সেটাও সুন্নত বলে বিবেচিত হবে। নাজাতের জন্য সেটার উপর আমল করাও জরুরী। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মুক্তি প্রাপ্ত জামায়াতের পরিচয় দিতে যেয়ে বলা হয়েছে, আমি এবং আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যে তরীক্বার উপর আছি সে তরীক্বা অনুসরণ করলেই মুক্তি পাওয়া যাবে। (তিরমিযী শরীফ- ২/১০২)

তাছাড়া হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত তাবিয়ীনে কিরাম উনাদের যুগকে খইরুল কুরুন তথা শ্রেষ্ঠ যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এখানে খুব ভালোভাবে মনে রাখা দরকার যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সর্বপ্রথম ছাত্র ছিলেন। উনাদের সামনেই ওহী মুবারক অবতীর্ণ হয়েছে। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মুখ মুবারক থেকে উনারাই সর্বপ্রথম সরাসরি হাদীছ শরীফ শুনেছেন। উনারাই ছিলেন সেসব হাদীছ শরীফ উনার প্রথম লক্ষ্যবস্তু। উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিন্দেগী মুবারক অতি নিকট থেকে দেখেছেন। উনার প্রতিটি সুন্নত মুবারককে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়িত করেছেন। যে কোন হাদীছ শরীফ উনার মর্ম ও ব্যাখ্যা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সবচেয়ে বেশি জানতেন। কারণ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সমস্ত উম্মত থেকে সর্বদিক দিয়ে যাচাই বাছাই করে মনোনীত করেছিলেন। দ্বীনের প্রতিটি বিষয় সম্বন্ধে উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে বাস্তব প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ উনার পর সর্বপ্রথম উনারাই জান-মাল ও সময়ের কুরবানী দিয়ে সম্মানিত দ্বীন জিন্দা রাখার জন্য খিদমত করেছেন।

সুতরাং উনাদের সম্পর্কে এটা ধারণা করাও মস্ত বড় পাপ যে, উনারা নিজেদের মনগড়া উক্তির মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারককে বদলে ফেলেছিলেন বা উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আদর্শ বিরোধী কাজ করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে গেলো, তা হচ্ছে-

(১) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এমন কোন হাদীছ নেই যার মধ্যে স্পষ্টভাবে মহিলাদেরকে নামায পড়ার জন্য মসজিদে বা ঈদগাহে যেতে বলা হয়েছে। মসজিদে যাওয়া সংক্রান্ত যেসব হাদীছ শরীফ পাওয়া যায় তাতে অত্যন্ত অপছন্দের সাথে শর্ত সাপেক্ষে এমনভাবে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে যাতে মহিলারা নিজেরাই মসজিদে যেতে অনুৎসাহিত হয়ে পড়ে।

(২) মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার স্পষ্ট বিরোধিতা।

(৩) মহিলারা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদেরকে নিষেধ না করা বরকতময় সুন্নতে রসূল ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের সুন্নত এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমা একথা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ওই সুন্নত মুবারক সাময়িক এবং শর্ত সাপেক্ষে ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের কারণে এবং শর্ত না পাওয়ার কারণে এখন নিষেধ করাটাই সুন্নত।

(৪) মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা না দেয়া বাহ্যিক দৃষ্টিতে বরকতময় সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুসরণ মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটা বরকতময় সুন্নতে রাসূল উনার বিরোধিতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। পক্ষান্তরে মসজিদে যেতে নিষেধ করা আপাত দৃষ্টিতে বরকতময় সুন্নতে রসূল উনার বিরোধিতা মনে হলেও বাস্তবে সেটাই সত্যিকারের বরকতময় সুন্নতে রাসূল উনার অনুসরণ।

অতএব পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ফিক্বাহ ও ফতওয়ার উপরোক্ত বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে প্রতিভাত হলো যে, মহিলাদের জামায়াতে নামায আদায়ের জন্য মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া আম ফতওয়া মতে মাকরূহ তাহরীমী ও হারাম। আর খাছ ফতওয়া মতে কুফরী। কেননা এর দ্বারা উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম, খুলাফায়ে রাশিদা উনাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম উনারাসহ সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরোধিতা করা হয়। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ليغيظ بهم الكفار

অর্থাৎ “কাফিররাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরোধিতা করে থাকে।” (পবিত্র সূরা ফাতাহ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।