মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের ভুল ও অশুদ্ধ প্রশ্নোত্তর প্রসঙ্গ

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন

শান্তিবাগ, ঢাকা।

 

সুওয়াল : মাসিক মদীনা মার্চ-২০১৩ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নিম্নোক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়-

প্রশ্ন: পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম নির্ধারিত আছে মুয়াযযিন নাই। তাই ইমাম সাহেব কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে আযান জামাত হয়ে গেলে পরে আরো ২/৪ জন লোক আসলে তারা কি আবার জামাত করতে পারবে? না একাকী পড়ে নিবে।

উত্তর: তারা ২য় জামাত করতে পারবে না। একাকী করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার ১ম খ-, ৪০৮ পৃষ্ঠা, গুনইয়া-৫৭০ পৃষ্ঠা)

আর মাসিক মদীনা, এপ্রিল-২০১৩ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে বলা হয়েছে, “বাজার, স্টেশন, প্লাটফরমের মসজিদ না হলে এমন মসজিদে দ্বিতীয় জামাত জায়েজ নেই।”

এখন আমার সুওয়াল হলো- জামে মসজিদে অথবা  পাঞ্জেগানা মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত করা সম্পর্কে মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব : জামে মসজিদে অথবা  পাঞ্জেগানা মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত করা সম্পর্কে মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে যা সম্পূর্ণ দলীলবিহীন ও মনগড়া। কারণ সর্বজনমান্য ও বিশ্ববিখ্যাত ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহে দ্বিতীয় জামায়াত করা সকলের ঐক্যমতে জায়িয লেখা হয়েছে। তবে দি¦তীয় জামায়াত করার জন্য শর্ত  হলো (১) মুকাররার ইমামের নির্ধারিত স্থানে দ্বিতীয় জামায়াতের ইমাম দাঁড়াতে পারবেনা। (২) প্রথম জামায়াত চলাকালে দ্বিতীয় জামায়াত হতে পারবেনা। (৩) দ্বিতীয়বার আযান-ইক্বামত দিতে পারবেনা।

যেমন, বিশ্ববিখ্যাত, সর্বজনমান্য ফতওয়ার কিতাব “বাহরুর রায়েক” কিতাবের ১ম খ-ের ৩৪৬ পৃষ্ঠার হাশিয়ায় উল্লেখ আছে-

 يجوز تكرار الجماعة بلا اذان ولا اقامة ثانية اتفاقا.

অর্থ : “সকলের ঐক্যমতে দ্বিতীয়বার আযান ও ইক্বামত ব্যতীত দ্বিতীয় জামায়াত পড়া জায়িয।”

“ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খ-ের ৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

الـمسجد اذا كان له امام معلوم وجماعة معلومة فى محلة فصلى اهله فيه بالجماعة لا يباح تكرارها فيه باذان ثان أما اذا صلوا بغير اذان يباح اجماعا وكذا فى مسجد قارعة الطريق.

 অর্থ : “যদি মহল্লার মসজিদে ইমাম ও জামায়াত নির্দিষ্ট থাকে এবং মহল্লার লোকেরা আযান দিয়ে জামায়াতের সহিত নামায আদায় করে তাহলে দ্বিতীয়বার আযান দিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় জামায়াত করা জায়িয নেই।” তবে যদি দ্বিতীয় আযান ব্যতীত দ্বিতীয় জামায়াত পড়ে, তাহলে সকলের ঐক্যমতে দ্বিতীয় জামায়াত জায়িয। আর অনুরূপভাবে এই হুকুম রাস্তার মসজিদের জন্যও প্রযোজ্য।

অনুরূপ বর্ণনা ‘মাজমাউল আনহুর’ ফতওয়ার কিতাবেও উল্লেখ রয়েছে।

আর মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন তার বক্তব্যের স্বপক্ষে দলীল হিসেবে “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের বরাত দিয়েছে।

অথচ উক্ত “রদ্দুল মুহতার” কিতাবে ২য় খ-ের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

ان الصحيح انه لا يكره تكرار الجماعة اذا لـم تكن على الـهيئة الاولى.

 অর্থ : “নিশ্চয়ই ছহীহ্ মত এই যে, দ্বিতীয় জামায়াত যদি প্রথম জামায়াতের ছূরতে না হয় তাহলে দ্বিতীয় জামায়াত পড়লে মাকরূহ হবেনা।”

অর্থাৎ প্রথম জামায়াতের মত আযান ও ইক্বামত না দিয়ে ও ইমামের নির্ধারিত স্থানে না দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় জামায়াত করলে মাকরূহ্ হবে না। এটাই ছহীহ্ মত।”

“রদ্দুল মুহতার” কিতাবে আরো উল্লেখ আছে-

 لايكره تكرار الجماعة فى مسجد واحد.

অর্থ : “একই মসজিদে দ্বিতীয় জামায়াত পড়লে মাকরূহ হবে না।”

অনুরুপভাবে ‘গুনইয়া’ কিতাবেও উল্লেখ আছে যে, দ্বিতীয় জামায়াত করা জায়িয।

অতএব মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন যে বলেছে, “তারা দ্বিতীয় জামাত করতে পারবে না।’’ তার উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল ও দলীলবিহীন বলেই প্রমাণিত হলো। আর সেই সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাহিউদ্দীন তার বক্তব্যের স্বপক্ষে দলীল হিসেবে “রদ্দুল মুহতার” কিতাবের বরাত দিয়ে সাধারন মানুষকে ধোকা দিয়েছে। কারণ  “রদ্দুল মুহতার” কিতাবেও উল্লেখ আছে যে, “দ্বিতীয় জামায়াত যদি প্রথম জামায়াতের ছূরতে না হয় তাহলে দ্বিতীয় জামায়াত পড়লে মাকরূহ হবেনা।”

অর্থাৎ প্রথম জামায়াতের মত আযান ও ইক্বামত না দিয়ে ও ইমামের নির্ধারিত স্থানে না দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় জামায়াত করলে মাকরূহ্ হবে না। এটাই ছহীহ্ মত।”

মুলকথা হলো সকল হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সকলের ঐক্যমতে, “জামে মসজিদে অথবা  পাঞ্জেগানা মসজিদে দ্বিতীয়বার আযান ও ইক্বামত ব্যতীত দ্বিতীয় জামায়াত করা জায়িয। এটাই ছহীহ্ মত এবং এরই উপর ফতওয়া।”

বিশেষ দ্রষ্টব্য : এ সম্পর্কে বিস্তারিত  জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত ১০১তম সংখ্যা দেখুন।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।