১০ম খলীফা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সুমহান আওলাদ খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ১১তম খলীফা।

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুরা।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাইনবাবঞ্জ।

 

সুওয়াল : যামানার তাজদীদী মুখপত্র পবিত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার বিগত কয়েক সংখ্যার মধ্যে মুজাদ্দিদে আ’যম পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিস সালাম উনাদের মধ্য থেকে ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে ১১ তম খলীফা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও পবিত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার বিগত কয়েক সংখ্যার কবিতা শরীফ উনার মধ্যে এবং একটি ধারাবাহিক মতামত শরীফ উনার শিরোনামে ‘আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে। আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার দাওয়াত দিতে গিয়ে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ লক্বব মুবারক ও মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিই যে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ এ সম্পর্কে আমরা অনেকের কাছে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। কিন্তু দলীল ভিত্তিক কোন উত্তর আমাদের কাছে নাই। তাই যামানার তাজদীদী মুখপত্র পবিত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মধ্যে এ বিষয়ে দলীলভিত্তিক জাওয়াব এবং বিস্তারিতভাবে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব : সমস্ত প্রশংসা, ছানা-ছিফত মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য এবং অসংখ্য ছলাত ও সালাম নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য। উনারা অত্যন্ত দয়া ও ইহসান করে উনাদের মনোনীত খলীফা, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনাকে বর্তমান যামানায় প্রেরণ করেছেন এবং আমাদেরকে উনার মুবারক ছোহবত দানে ধন্য করেছেন। তিনি হচ্ছেন পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পূর্ববর্তী পবিত্র আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন বিশেষ খলীফা, ১০ম খলীফা হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সুমহান আওলাদ খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ১১তম খলীফা। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উছীলায় বর্তমান যামানায় অবশ্য অবশ্যই সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে। ইনশাআল্লাহ!

নিম্নে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নের জাওয়াব তুলে ধরা  হলো।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيْبًا

অর্থ : “আর আমি তাদের মাঝে ১২ জন নক্বীব তথা খলীফা প্রেরণ করেছি।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ১২)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত মুফাসসির, হাফিয আবুল ফিদা আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনমান্য তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর শরীফ’ উনার ২য় জিলদের ৫২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

عَنْ حَضْرَتْ مَسْرُوْقٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنَّا جُلُوْسًا عِنْدَ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ وَهُوَ يُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ  فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ  يَا حَضْرَتْ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمنِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ هَلْ سَأَلْتُمْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمْ يَمْلِكُ هَذِهِ الْأُمَّةَ مِنْ خَلِيْفَةٍ ؟ فَقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰی عَنْهُ مَا سَأَلَنِيْ عَنْهَا أَحَدٌ مُنْذُ قَدِمْتُ الْعِرَاقَ قَبْلَكَ، ثُـمَّ قَالَ نَعَمْ  وَلَقَدْ سَأَلْنَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ اثْنَا عَشَرَ كَعِدَّةِ نُقَبَاءِ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ.

অর্থ : “বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত মাসরূক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার তা’লীমী মজলিস মুবারক-এ বসা ছিলাম। আর তিনি আমাদেরকে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছিলেন, আমাদেরকে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শিক্ষা দিচ্ছিলেন। (যখন তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন) তখন এক ব্যক্তি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনারা কি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই বিষয়ে সুওয়াল করেছিলেন যে, এই উম্মতের মাঝে কতজন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন? জবাবে ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি ইরাকে তাশরীফ নেয়ার পর আপনার আগে ইতঃপূর্বে আমাকে আর কেউ এই বিষয়ে সুওয়াল করেনি। অতঃপর তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরা এই বিষয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করেছিলাম। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, বনী ইসরাইলের ১২ জন নাক্বীবগণ উনাদের ন্যায় এই উম্মতের মাঝে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত খিলাফত আল মিনাহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” (মুসনাদে আহমদ ৬/৩২১ পৃষ্ঠা, মুসনাদে বাযযার, মুস্তাদরকে হাকিম ৪/৫৪৬, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৮/৪৪৪, মাজমাউঝ ঝাওয়াইদ ৫/২২৮, জামিউল আহাদীছ ২৪/২৪৮, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১ম খ-, গয়াতুল মাক্বছাদ ১ম, আছ ছওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ১/৫৪, ফাতহুল বারী ১৩/২১২, তোহফাতুল আহওয়ায ৫/৬, তারীখুল খুলাফা ৮ নং পৃষ্ঠা, ইবনে কাছীর ২/৫৩, মুখতাছারে তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/৪৯৫)

‘শরহুস সুন্নাহ শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ يَكُوْنُ خَلْفِيْ اِثْنَا عَشَرَ خَلِيْفَةً أَبُو بَكْر الصّدّيقُ لا يَلْبَثُ بَعْدِيْ إِلَّا قَلِيْلًا.

অর্থ : “বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দূল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আমার পরে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম হবেন তথা আমার উম্মাতের মাঝে ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আবির্ভাব ঘটবে। হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি অল্প সময় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” (তারীখুল খুলাফা লিস সুয়ূত্বী ৪৬ পৃষ্ঠা, শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী) (চলবে)

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।