মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (১৮৫) অতি প্রিয় ও পছন্দনীয় বস্তু কুরবান বা বিসর্জন না দেয়া পর্যন্ত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার গভীর নিছবত, তায়াল্লুক, মুহব্বত, নৈকট্য হাছিল হয় না। হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

সংখ্যা: ২২৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাথে গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা তথা তায়াল্লুক-নিছবত, মুহব্বত, নৈকট্য হাছিলের জন্য সর্বাপেক্ষা প্রিয় ও আকর্ষণীয় বিষয়-বস্তু, তা ধন-সম্পদই হোক আর অন্য কিছুই হোক বিসর্জন দিতে হবে। তার আকর্ষণ হতে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় উনার গভীর তায়াল্লুক, নিছবত, নৈকট্য, মুহব্বত লাভ করতে পারবে না।

আর প্রিয় ও পছন্দনীয় কিংবা আকর্ষণীয় বিষয়-বস্তুর মুহব্বত ত্যাগ করা বা বিসর্জন দেয়ার বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক উনার খলীল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা যমীনবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন।

একদিন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে মুবারক স্বপ্নে বলে দিলেন, হে আমার খলীল! আপনি কুরবানী করুন। উনি পরের দিন ১০০ দুম্বা কুরবানী করলেন। পরের রাতে আবারো নির্দেশ দিলেন, আপনি কুরবানী করুন। উনি পরের দিন আবারো ১০০ উট কুরবানী করলেন। পরের রাতে মুবারক স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সর্বাপেক্ষা প্রিয় সন্তান নবী-রসূল হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করছেন। এই মুবারক ও আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকেই কুরবানী করতে হবে। উনি হচ্ছেন আমার সবচেয়ে প্রিয়। পরে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করার সমস্ত ব্যবস্থাপনা সুসম্পন্ন করলেন।

তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, “হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে কুরবানী করছি। এখন আপনার এ ব্যাপারে মতামত কি?”

হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলগণের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (পবিত্র সূরা সাফফাত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০২)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই বিষয়ে আরো বলেছেন যে, “যখন উনারা পিতা-পুত্র দুজনই আনুগত্য প্রকাশ করলেন, একমত হলেন এবং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে যবেহ মুবারক করার জন্য শোয়ালেন (গলা মুবারকে ছুরি মুবারক চালালেন) তখন আমি উনাকে ডেকে বললাম, হে আমার খলীল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন। আর আমি এভাবে মুহসিন তথা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে প্রতিদান (মা’রিফাত, মুহব্বত, তায়াল্লুক-নিছবত নিয়ামত) দিয়ে থাকি।” (পবিত্র সূরা সাফফাত শরীফ : আয়াত শরীফ ১০৫)

আমরা এ লেখার প্রথম দিকে উল্লেখ করেছি যে, এই প্রিয়-পছন্দনীয় বা আকর্ষণীয় বিষয় বা বস্তু সবার এক নয়। বরং একেক জনের নিকট একেকটি বিষয় বা বস্তু প্রিয় হয়ে থাকে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন এ বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন উনাদের অতি প্রিয় ও পছন্দনীয় মাল-সম্পদগুলো নিয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাজির হলেন। আবার কেউ কেউ উনার প্রিয় ও পছন্দনীয় বিষয়গুলোর সম্পর্কে ফয়সালা বা সিদ্ধান্ত চাইলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সেই ধন-সম্পদগুলো গ্রহণ করেন এবং বিভিন্নভাবে বণ্টন করে দিলেন। আর অন্যান্য বিষয়গুলোরও ফায়সালা বা সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলেন।

হযরত আনাছ ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। “সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী ছিলেন। পবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার সামনে “বিরহা” নামক একটি খেজুর বাগান ছিল। সেই খেজুর বাগানটি উনার সর্বাপেক্ষা প্রিয়-পছন্দনীয় ছিল। ওই বাগানের খেজুর ছিল অত্যন্ত সুস্বাদু, মিষ্টি। আর তথাকার কূপের পানি ছিল খুবই সুপেয়।

হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফ হাজির হয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে এই খেজুর বাগানটি। আমি আপনার মুবারক খিদমতে তা পেশ করলাম। আপনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই তা বণ্টন করতে পারেন।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন। বললেন, খুবই সুন্দর ও উত্তম আপনার এই সম্পদ। এই বাগানের দ্বারা মানুষের অনেক উপকার হবে। তবে আপনার এই বাগানটি আপনার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বণ্টন করে দিন।

হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নির্দেশ মতো উনার প্রিয় বাগানটি আত্মীয়-স্বজন, চাচাতো ভাই-বোনদের বণ্টন করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাজহারী, রুহুল বয়ান, কামালাইন, ইবনে কাছির, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ইত্যাদি)

 

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৩) হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০২) হুসনুল খুলক বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৮)

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০৭)

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২০১) হুসনুল খুল্ক্ব বা সচ্চরিত্রবান মুরীদই শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সর্বাধিক নৈকট্যশীল ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।