ঈদ আনন্দের নামে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিদেশ বিভুইয়ে ঘোরা আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ডজন ডজন চ্যানেলে উলঙ্গ ছবির দিকে দিনভর নিবদ্ধ থাকা সবকিছুই মানসিক দৈন্যতা অন্তরের আনন্দের সঙ্কটাপন্ন অবস্থা প্রতিভাত করে। দুর্ভিক্ষের চেয়েও অন্তরের এ কূপম-ুকতা বড় দুর্বিষহ অবস্থা প্রতীয়মান করে। ব্যক্তি থেকে সরকার এর থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা অনিবার্য জরুরী। আল্লাহ পাক উনার যিকিরই এর সমাধান সম্ভব।কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না-এ প্রতিশ্রুতির সরকারের উচিত সে বিষয়ে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করা।

সংখ্যা: ২০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

পত্রিকায় হেডিং হয়েছে, ‘আনন্দ উৎসাহে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত।’

কিন্তু খবরে বলা হয়েছে, ‘এক মাস সিয়াম সাধনার পর শনিবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, উৎসাহ উদ্দীপনা আর আনন্দ উৎসাহর মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।’

তথাকথিত আনন্দ-উৎসাহের ব্যাপারে কথা নেই। কিন্তু যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা তথা ভাবগাম্ভীর্যতা যা এখন পত্রিকাগুলো লিখে থাকে, তা কী সত্যিই হয়?

দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় হেডিং হয়েছে, ‘কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়।’ (১৪.০৯.২০১০)

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় হেডিং হয়েছে, ‘রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়।’ (১৪.০৯.২০১০)

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আরো হেডিং হয়েছে, ‘কক্সবাজার কুয়াকাটা রাঙ্গামাটি ও সোনারগাঁয়ে পর্যটকের ঢল।’ (১৪.০৯.২০১০)

যুগান্তর পত্রিকায় আরো হেডিং হয়েছে, ‘ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্রে উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ।’ (১৪.০৯.২০১০)

দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় হেডিং হয়েছে, ‘উদ্বোধনের আগেই মুখর মহামায়া কৃত্রিম লেক।’ (১৪.০৯.২০১০)

নয়াদিগন্ত পত্রিকায় আরো হেডিং হয়েছে, ‘ঈদে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হিমকন্যা তেঁতুলিয়া।’ (১৪.০৯.২০১০)

বলাবাহুল্য, ঈদ আনন্দের নামে এসব মাতামাতি তথা ঘুরে বেড়ানো এখন আর শুধু দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সীমাবন্ধ নেই। বরং উচ্চবিত্তদের মাঝে একটা বড় অংশ এখন ঈদের কথিত আনন্দ কাটাতে ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়াও যাচ্ছেন অনেকে। সাধারণে ঈদ আনন্দটা এখন কি রকম ভাবে নিচ্ছে তা দৈনিক জনকন্ঠে গত ২রা আগস্ট ‘তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে ঈদ আনন্দ ডটকম’ শীর্ষক ফিচারে কিছুটা প্রতিভাত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ঈদের দ্বিতীয় দিন বেলা ১১-১০ মিনিটে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান ঈদ আনন্দ ডট কম। জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের নিয়ে বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনাও তিনি করেছেন। অভিনেত্রী অরম্নণা বিশ্বাস, অভিনেতা হাসান মাসুদ, সঙ্গীতশিল্পী এসআই টুটুল, বালাম ও মিলা, নীরব, মডেল অভিনেত্রী নাফিজা ও সুজানা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা বলেন, একটা সময় ছিল যখন ঈদে একটা নতুন জামা হলেই চলত। আর টিভি বিনোদন বলতে ছিল শুধু বিটিভিতে প্রচারিত ঈদের নাটক, ম্যাগাজিন ও সিনেমা। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দের ছিল ঈদকে সামনে রেখে মুক্তি পাওয়া নতুন ছবি সিনেমা হলে গিয়ে দেখা। সেই সঙ্গে সঙ্গীতশিল্পীদের নতুন নতুন এ্যালবাম এবং দু-একটি পত্রিকার ঈদ সংখ্যা এ আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিত। ঈদে শিশুপার্ক এবং চিড়িয়াখানাসহ সুন্দর সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যাওয়া হতো। কিন্তু এখনকার ঈদ সে রকম নয়। এখন একটা জামার পরিবর্তে ৩/৪টি কেনা হয়। বিনোদনের জন্য নতুন সিনেমা, নতুন অডিও এ্যালবাম ছাড়াও ১০/১২টি চ্যানেলে ঈদের বিশেষ নাটক, ম্যাগাজিন, সিনেমা, টকশো প্রচার করা হয়। বেড়ানোর জন্য নতুন জায়গা তৈরি হয়েছে।’

বলাবাহুল্য, ওদের কথিত ঈদের আনন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ার বদৌলতে অনুষ্ঠানের তো আর শেষ নেই। অশ্লীলতায় পরিপূর্ণ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান, পত্রিকার ক্রোড়পত্র বিনোদনে নায়িকাদের উলঙ্গ শরীর এবং রগরগে ছবির দৃশ্য উপভোগ ইত্যাদিতেই সময় কাটে।

বলাবাহুল্য, দিন দিন এসব মচ্ছব বেড়েই চলছে। এর প্রভাবে সমাজে পরকীয়া, লিভ টুগেদার, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন যে উত্তরোত্তর বাড়ছে তাই নয়, পাশাপাশি আরেকটা সংঘটিত সঙ্কটময় দিকও কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতিভাত হচ্ছে। আর তাহলো- গোটা জনগোষ্ঠী আসলে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তাদের মনে বিশাল হাহাকার আর শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। যেখানে শান্তির ঘাটতি রয়েছে। আনন্দের জন্য মন বুভুক্ষু হয়ে রইছে। যে কারণে আজকে বড় কোন অনুষ্ঠান নয়, বিয়ে-সাদী নয়, এমনকি জন্মদিনও নয়, খোদ ইফতার পার্টিকেও মানুষ কথিত পার্টির আদলেই পালন করছে। জন্মদিন থেকে খতনার অনুষ্ঠানেও ব্যান্ডপার্টি আনছে।

এতসব বোহেমিয়ান মানসিকতা কিন্তু অন্তরের বিরাট দৈন্যতাই প্রমাণ করে। একজন ভরপেট ব্যক্তি যেমন যেখানে এটোকাঁটা দেখে সেখানেই হামলে পড়েনা; তেমনি একজন মানসিকতা তৃপ্ত মানুষও যেখানেই এটোকাঁটার মত আনন্দ দেখে সেখানেই ঝুলে পড়ে না। ঝুঁকে যায় না।

বলাবাহুল্য, ভাতের অভাব বা খাদ্যের অভাবই শুধু নয়; বরং মানসিক আনন্দের অভাবও বড় অভাব। এ অভাবকে ব্যক্তি থেকে সরকার সবাইকে মূল্যায়ন করতে হবে।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কথিত দর্শনীয় স্থান অথবা সিনে বিনোদন এর প্রতিকার নয়। বরং এসব বিনোদন তৎপরতা অতিরিক্ত অর্থ আহরণে প্রবৃত্ত করে তথা দুর্নীতিতে পর্যবসিত করে। পাশাপাশি সিনে বিনোদন ঘরের বউয়ের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে দেয়। আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। নিত্যনতুন নারী আসক্তি জাগিয়ে দেয়। পরকীয়া, লিভ টুগেদার তথা ধর্ষণে পর্যবসিত করে।  ভাঙে ঘর, ভাঙে সমাজ, ভাঙে সরকারের শৃঙ্খল।

বলাবাহুল্য, এ আনন্দের দৈন্যতা বর্জন তথা প্রকৃত আনন্দ লাভের প্রবণতা অর্জন এখন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য বড় জ্বলন্ত প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ৯৫ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের এদেশে অথবা রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে এর সমাধান একান্তই সহজ। কারণ মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন শরীফ-এ স্পষ্টতই লেখা রয়েছে, “সাবধান! আল্লাহ পাক উনার যিকির দ্বারাই দিল অন্তর এতমিনান তথা প্রশান্তি লাভ করে।’

বলাবাহুল্য, ঈদ আনন্দের নামে আজকে যা চলছে তা এদেশের সংস্কৃতি তথা এদেশের স্বাধীনতাকেও বিপন্ন করবে। সেক্ষেত্রে ‘কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতির সরকারের উচিত হবে, ঈদে বিনোদনের নামে সব অনৈসলামী আনন্দ অপনোদন ও বন্ধ করে প্রকৃত ইসলামী আবহের বিস্তার ঘটানো।

মহান আল্লাহ পাক তিনি তাওফিক দান করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক