কুরআন শরীফ-এ ঘোষিত মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তিনে অব্যাহত বর্বরতায় আর নির্মম হত্যাকা-ে আর কতকাল নির্বাক থাকবে মুসলিম বিশ্ব (৩)

সংখ্যা: ২০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে উগ্র ইহুদীবাদের ভিত্তিতে জায়নবাদী আন্দোলন বিশ্বব্যাপী মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ইহুদী নেতা ও দার্শনিক থিওডোর হার্জ্জল এক আন্তর্জাতিক ইহুদী সম্মেলন আহ্বান করেন। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫০ জন ইহুদী প-িত, দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের বেলসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ইহুদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী ইহুদীরা ফরাসী সেনাপতি নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মাধ্যমে, প্রথমে সাইপ্রাস, ল্যাটিন আমেরিকা, উগান্ডা, কিংবা দক্ষিণ সুদানে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। তারা তুর্কী সুলতান আব্দুল হামিদের কাছ থেকে ফিলিস্তিনে ভূমি কেনার প্রস্তাব দিলে সুলতান নাকচ করে দেয়। অবশেষে তারা ব্রিটেনের দ্বারস্থ হলে বিটেন ২য় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইহুদীদের প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর নিজে খ্রিস্টান হলেও জায়নবাদী ছিলেন। তিনি নিজে পুণ্যের কাজ মনে করে ইসরাইল রাস্ট্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের সহায়তায় ১৯৪৮ সালে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখ-ে ইসরাইল রাষ্ট্রের সূচনা হয়। ১৮৯৭ সালে থিউডোর হার্জ্জলের দেয়া নকশা অনুযায়ী মিসরের নীলনদ থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়নবাদী অপতৎপরতা আজো পরিচালিত হচ্ছে। ওদের নীল নকশা বাস্তবায়ন এবং দখলদার অবৈধ রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব রক্ষায় যুগের পর যুগ ধরে তারা মানবতার বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, উচ্ছেদসহ হাজারো অপরাধ নিয়মিতভাবে করে যাচ্ছে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরাইল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সঙ্গেই শুরু হয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণের উপর জায়নবাদী ইসরাইলের নির্যাতন নিপীড়ন। বিগত ৬ দশক যাবৎ তাদের নির্মমতা পৃথিবীর যে কোন পৈশাচিকতাকে হার মানিয়েছে। প্রথমেই তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ইহুদীদেরকে এনে ইসরাইল তথা ফিলিস্তিনে পুনর্বাসিত করেছে এটা করতে গিয়ে তারা ফিলিস্তিনের আদি বাসিন্দাদেরকে তাদের ভিটে মাটি থেকে নির্মমভাবে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উচ্ছেদ করেছে। ফলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ শিশু কপর্দকহীনভাবে পার্শ্ববর্তী জর্ডান, সিরিয়া, লেবাননসহ বিভিন্ন আরব দেশে আশ্রয় নিয়ে শরণার্থীর জীবন গ্রহণে বাধ্য হয়। যারা এ নির্মমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে প্রাণ হারাতে হয়েছে ইসরাইলী সৈন্যদের লাঠি কিংবা বুটের আঘাতে অথবা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে।

১৯৬৭ সালে ইসরাইলী অপতৎপরতার প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংগঠিত হয়। যুদ্ধে ইসরাইলী নৃশংসতা গোটা আরব বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইল মিশর, সিরিয়া, জর্ডান এবং লেবাননের বিস্তীর্ণ ভূমি দখল করে নেয়। সিনাই মালভূমি, গাজা উপত্যকা, জেরুজালেমসহ জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরসহ বিশাল এলাকায় ইসরাইলী দখল প্রতিষ্ঠিত হয়। এ যুদ্ধে হাজার হাজার আরব নারী, শিশু, বৃদ্ধ ইসরাইলী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায়। দখলকৃত এলাকাসমূহ থেকে আরব মুসলমানদেরকে উচ্ছেদ করে ওই স্থানে বিভিন্ন দেশ থেকে ইহুদীদেরকে এনে পুনর্বাসিত করা হয়। তাদের সকল অপরাধ অপকর্মে সহায়তা ও মদদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বিটেন ও তাদের কতিপয় মিত্র রাষ্ট্র। ইসরাইল জন্মলগ্ন থেকে পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের উপর তাদের নির্যাতন নিপীড়ন অবিরামভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। ৬৭’র যুদ্ধের পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তাদের পৈশাচিকতার নির্মম শিকার হয়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে প্রাণ হারাতে হয়েছে, পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে কিংবা নিজের প্রাণপ্রিয় স্বদেশ থেকে নির্বাসিত হতে হয়েছে। ফলে জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের প্রায় সকল শহরে ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে দুর্বল সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।

ইসরাইলীদের প্রথম এবং প্রধান টার্গেট হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের মূল শক্তি তথা কেন্দ্রবিন্দু বায়তুল মুকাদ্দাস বা আল কুদ্স। ১৯৬৭ সালের জুন যুদ্ধের পরে ইসরাইলীগণ “হাইকালে সোলায়মানী খোঁজার নাম করে ১০ পর্যায়ে খনন কার্য চালিয়েছে। এর উদ্দেশ্য একটাই, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ধ্বংস করা। ১৯৬৭ সালে প্রথম পর্যায়ে বাবুল মাগরেবা পর্যন্ত ১৪ মিটার গভীরতায় খনন করেছে। ২য় পর্যায়ে ১৯৬৯ সালে ব্যাপকভাবে মুসলমানদের উৎখাত করা হয় এবং মসজিদুল আকসায় অগ্নি সংযোগ করা হয়। এ সময়ে মসজিদে আকসার ৮০ মিটার দূরে ব্যাপকভাবে খনন কার্য চালানো হয়। ১৯৭০ থেকে ৭২ পর্যন্ত ৩য় পর্যায়ে মসজিদে আকসার দেয়ালের নিচে দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে খনন করা হয় ইসলামী কোর্ট এবং মুসলমানদের বাড়িঘর দখল করে নেয়া হয়। ৪র্থ পর্যায়ে ১৯৭৩ সালে মসজিদের পশ্চিম দেয়ালের নিচে ১৫ মিটার গর্ত করে খনন করা হয়। ৫ম পর্যায়ে ১৯৭৪ সালে পশ্চিম দেয়ালের গর্তকে খননের মধ্যে আরো সম্প্রসারিত করা হয়। ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ১৯৭৫-৭৬ সালে পশ্চিম দেয়ালের গর্ত আরো সম্প্রসারিত করা হয়। ৭ম পর্যায়ে আকসার আঙ্গিনায় মহিলা মসজিদের নিচ পর্যন্ত খনন করা হয়। ১৯৭৯ সালে ৮ম পর্যায়ে পশ্চিম দেয়ালের নিচেও বোরাক দেয়ালের পার্শ্বে খনন করা হয়। ইহুদীরা সুরঙ্গটি পাকা করে তাদের উপাসনালয় নির্মাণ করলে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তা উদ্বোধন করেন। ৯ম পর্যায়ে ১৯৮৬ সালে ব্যাপক খনন কার্য চালানো হয়। এ সময় জেরুজালেম থেকে বহু মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। সেখানকার ফিলিস্তিনি হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ১০ম পর্যায়ে ১৯৮৮ সালে মসজিদ সংলগ্ন ওয়াদী এলাকায় ব্যাপক খনন শুরু করলে মসজিদের নিরস্ত্র রক্ষীরা বাঁধা দেয়। বাঁধা উপেক্ষা করে ব্যাপকভাবে খনন কাজ চলে। এদের লক্ষ্য ছিল মসজিদ আকসা এবং মসজিদে সাহারার নিচের সকল মাটি ফেলে দেয়া। যাতে করে মসজিদদ্বয় সামান্য ভূকম্পন কিংবা এমনিতেই ধ্বংস হয়। মূলত খনন কাজের এটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। হাইকালে সোলায়মানী খোঁজাটা বাহানা মাত্র।”

-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক