ইহরাম অবস্থায় কি মেয়েদের জন্য পর্দা করার দরকার নেই?

সংখ্যা: ২০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুছাম্মত উম্মে কুলছূম উলিপুর, কুড়িগ্রাম।

 

সুওয়াল:  ইহরাম অবস্থায় নাকি মেয়েদের চেহারা বা মুখম-লে কাপড় লাগানো যায়না। কাপড় লাগলে বা স্পর্শ করলে দম ওয়াজিব হয়। তাহলে কি মেয়েরা চেহারা না ঢেকে খুলে রাখবে? অর্থাৎ ইহরাম অবস্থায় কি মেয়েদের জন্য পর্দা করার দরকার নেই। জাওয়াব: ‘ইহরাম অবস্থায় মেয়েদের চেহারা বা মুখম-লে কাপড় স্পর্শ করা বা লাগানো যাবেনা, এ কথা সত্য।’ তবে এক্ষেত্রে মাসয়ালা হলো, যদি একদিন বা এক রাত্রি মুখম-লে কাপড় স্পর্শ করে তাহলে তাদের উপর দম অর্থাৎ একটি কুরবানী ওয়াজিব হবে। আর যদি এক দিন বা এক রাত্রির কম সময় কাপড় স্পর্শ করে তাহলে এক ফিৎরা পরিমাণ ছদকা করা ওয়াজিব হবে।

এর অর্থ এটা নয় যে মেয়েরা ইহরাম অবস্থায় মুখমন্ডল খোলা রেখে বে-পর্দা হবে। মেয়েদের সর্বাবস্থায় বেগানা পুরুষদের সামনে মুখম-ল খোলা রাখা হারাম যা কবীরা গুণাহের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, ইহরাম অবস্থায় মেয়েদের করণীয় হচ্ছে তারা মুখম-লের উপর এমনভাবে কাপড় ঝুলিয়ে রাখবে যাতে কাপড় মুখম-লে স্পর্শ না করে। অর্থাৎ নেকাব মুখম-ল থেকে কিছুটা দূরে নেট (জালি) জাতীয় কোন কিছুর সাহায্যে ঝুলিয়ে রাখবে।

স্মরণ রাখতে হবে যে, কোন অবস্থাতেই পর্দার খিলাফ করা যাবেনা। কারণ মেয়েদের জন্য পর্দা রক্ষা করা করা হচ্ছে স্বতন্ত্র একটি ফরয। যা ফরযে আইন; এবং তা দায়িমী ফরযের অন্তর্ভুক্ত। যেমনিভাবে পুরুষের জন্য স্বতন্ত্র ও দায়িমী ফরয হচ্ছে হালাল কামাই করা।

এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عن عبد الله رضى الله تعالى عنه  قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم طلب كسب الحلال فريضة بعد الفريضة

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “পুরুষের জন্য অন্যান্য ফরযের পর ফরয হচ্ছে হালাল কামাই করা।” (বাইহাক্বী, মিশকাত)

وللنساء الحجاب

“আর মেয়েদের জন্য ফরয হচ্ছে পর্দা করা।”

অর্থাৎ কালিমা, নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাতের পর পুরুষের জন্য ফরয হলো হালাল কামাই করা আর মেয়েদের জন্য ফরয পর্দা করা। নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাতের ন্যায় এ দু’টি ফরয পালনের ক্ষেত্রেও কুরআন-সুন্নাহ্র কঠোর নির্দেশ আরোপিত হয়েছে।

যেমন, হালাল রুজির ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে, এক দিরহাম বা এক পয়সা-টাকা হারাম খেলে চল্লিশ দিন ইবাদত কবুল হয়না এবং আরো বর্ণিত হয়েছে-

عن جابر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل الجنة لحم نبت من السحت وكل لحم نبت من السحت كانت النار اولى به.

অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ওই গোশতের টুকরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না যা হারাম খাদ্যের দ্বারা তৈরী হয়েছে। শরীরের যে গোশতের টুকরা হারাম খাদ্যের দ্বারা তৈরী হয়েছে তার জন্য জাহান্নামের আগুনই যথেষ্ট। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম রুজি ভক্ষণ করে সে জাহান্নামী।” (আহমদ, দারিমী, বাইহাক্বী, মিশকাত)

আর পর্দার ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে-

عن الحسن  رحمة الله عليه مرسلا قال بلغنى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لعن الله الناظر والـمنظور اليه.

অর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন, আমার নিকট এই হাদীছ শরীফ পৌঁছেছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে দেখে এবং যে দেখায় উভয়ের প্রতি আল্লাহ পাক-উনার লা’নত।” (বাইহাক্বী, মিশকাত)

আরো বর্ণিত হয়েছে যে-

عن بريدة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلى يا على لاتتبع النظرة النظرة فان لك الاولى وليست لك الاخرة.

অর্থ: “হযরত বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! দৃষ্টিকে অনুসরণ করবেন না। প্রথম দৃষ্টি যা অনিচ্ছা সত্ত্বে পতিত হয় তা ক্ষমা করা হবে; কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না।” অর্থাৎ প্রতি দৃষ্টিতে একটি কবীরা গুনাহ লেখা হয়ে থাকে। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, দারিমী, মিশকাত) পর্দা সম্পর্কে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

وقرن فى بيوتكن ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى.

অর্থ: “তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করো। এবং জাহিলিয়াত যুগের নারীদের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বাইরে ঘোরাফেরা করো না।” (সূরা আহযাব-৩৩) তিনি আরো ইরশাদ করেন-

وقل للمؤمنات يغضضن من ابصارهن.

অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ঈমানদার মহিলাদেরকে বলুন, তারা যেনো তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে।” (সূরা নূর-৩১)

উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

عن ابن مسعود رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم المرأة عورة فاذا خرجت استشرفها الشيطان.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মেয়েরা পর্দার অধীন থাকবে। কেননা তারা যখন কোথাও বের হয় তখন শয়তান উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকে পাপ কাজ সংঘটিত করানোর জন্য।” (তিরমিযী, মিশকাত)

মূলত: একজন মেয়ে যখন উপযুক্ত তথা  বালেগা হয় তখন হতে তার উপর ব্যক্তিগতভাবে পর্দা করা ফরয। এ ফরয পালনে যাতে কোন প্রকার গাফলতি কিংবা ত্রুটি না হয় এজন্য মেয়ের অভিভাবকগণকেও শরীয়ত কঠোর নির্দেশবাণী আরোপ করেছে।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

الديوث لا يدخل الجنة

অর্থ: “দাইয়ূছ’ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেনা। ‘দাইয়ূছ’ ওই ব্যক্তি যে তার অধীনস্থ মেয়েদের পর্দা করায়না।” ( দাইলামী, কানযুল উম্মাল)

আরো ইরশাদ হয়েছে-

قال عبد الله رضى الله تعالى عنه قال رسول الله  صلى الله عليه وسلم ثلاث لا يدخلون الجنة ولا ينظر الله اليهم يوم القيامة العاق لوالديه والمرأة المترجلة المتشبهة بالرجال والديوث.

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তিন প্রকার লোক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং আল্লাহ পাক তিনি ক্বিয়ামতের দিন তাদের প্রতি (রহমতের)  দৃষ্টি দিবেন না। (১) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, (২) পুরুষের ছূরত ধারণকারিনী মহিলা, (৩) দাইয়ূছ।” (মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল ২য় জিঃ ১৩৪ পৃষ্ঠা, নাসায়ী শরীফ কিতাবুয্ যাকাত বাব নং ৬৯)

উল্লেখ্য, মেয়েদের জন্য পর্দা এমন গুরুত্বপূর্ণ ফরয যে, তা কেবল জীবিতাবস্থায়ই করতে হবে তা নয় বরং তাদের ইন্তিকালের পরও পর্দা করা ফরয। অর্থাৎ মৃত্যুর পরও যেন কোন বেগানা পুরুষ না দেখে।

স্মরণযোগ্য যে, অন্যান্য ফরযের মত পর্দাও একটি ফরয এবং তার হুকুম-আহ্কামও আলাদাভাবে বর্ণিত রয়েছে। কাজেই শরীয়ত এ বিধান আরোপ করেনি যে, একটি ফরয পালন করার জন্য অন্য একটি ফরয পরিত্যাগ করতে হবে।

বরং শরীয়তের নির্দেশ হচ্ছে এটাই যে, প্রতিটি ফরয-ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় করা। একটার জন্য আরেকটা ছেড়ে দেয়া জায়িয নেই।

অতএব, পর্দা শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত একটি ফরয। কোন মহিলার জন্য ইহরাম অবস্থায় হোক আর ইহরাম ব্যতীত অন্য অবস্থায়ই হোক পর্দা তরক্ব করা হারাম ও কবীরা গুনাহ।

যে মেয়ে ইহরাম অবস্থায় মুখম-ল খোলা রাখবে সে ফরয তরক্ব করার কারণে ফাসিক হিসেবে সাব্যস্ত হবে। অথচ আল্লাহ্ পাক তিনি কুরআন শরীফে হজ্জ আদায়ের ক্ষেত্রেও অশ্লীল-অশালীন ও ফাসিকী বা নাফরমানী ইত্যাদি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। আর যারা ফাসিকী বা নিষিদ্ধ কাজ করে তাদের প্রকৃতপক্ষে হজ্জে মাবরুর নছীব হবে না।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

فمن فرض فيهن الحج فلا رفث ولا فسوق ولا جدال فى الحج وما تفعلوا من خير يعلمه الله وتزودوا فان خير الزاد التقوى واتقون ياولى الالباب.

অর্থ: “যে ব্যক্তি হজ্জের মাসসমূহে হজ্জ করার নিয়ত করে সে যেনো হজ্জের মধ্যে নির্জন অবস্থান ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। আর তোমরা যে নেক কাজ করো আল্লাহ পাক তা জানেন এবং তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি। আর একমাত্র আমাকেই ভয় করো হে জ্ঞানীগণ।” (সূরা বাক্বারা-১৯৭)      উল্লেখ্য, ‘হজ্জে মাবরুর’ অর্থ কবুল হজ্জ। এর ব্যাখায় বলা হয়েছে-

هو ما لا يخالطه الاثم ولا سمعة ولا رياء

অর্থ: “যে হজ্জের মধ্যে কোন প্রকার পাপের সংমিশ্রণ ঘটবেনা, (বেপর্দা, বেহায়া-বেশরা কাজ করবেনা অর্থাৎ কুফরী, শিরকী, বিদ্য়াতী হারাম, ফাসিকী, ফুজুরী, অশ্লীল-অশালীন কথা-বার্তা, আচার-আচরণ, ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি, কাটাকাটি হেরেম শরীফ-এ নিষিদ্ধ কার্যসমূহ করবেনা কোন ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা তরক্ব করবেনা।) লোককে শোনানোর উদ্দেশ্যে থাকবেনা এবং রিয়া বা লোক প্রদর্শনের জন্য করা হবেনা।”

এ সমস্ত প্রকার দোষত্রুটি হতে মুক্ত হজ্জকেই হজ্জে মাবরুর বলা হয়। আর বে-পর্দা হওয়া সাধারণ বা ছগীরা গুনাহ নয়। বরং তা শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। আর হারাম ও কবীরা গুনাহ করে হজ্জ সম্পাদন করা হলে তা কস্মিনকালেও হজ্জে মাবরুর হবেনা।

অতএব, এ বিষয়ে সকল পুরুষ ও মেয়েদের পরহেয থাকতে হবে। {দলীলসমূহ ঃ (১) আহকামুল কুরআন জাস্সাস, (২) কুরতুবী, (৩) রুহুল মায়ানী, (৪) রুহুল বয়ান, (৫) খাযেন, (৬) বাগবী, (৭) তাবারী, (৮) কবীর, (৯) মাযহারী, (১০) দুররে মনছুর, (১১) বুখারী, (১২) মুসলিম, (১৩) আবূ দাউদ, (১৪) কানযুল উম্মাল, (১৫) মিশকাত, (১৬) মিরকাত, (১৭) আশয়াতুল লুময়াত, (১৮) লুময়াত, (১৯) ত্বীবী, (২০) তা’লিকুছ ছবীহ, (২১) মুযাহিরে হক্ব, (২২) আলমগীরী, (২৩) শামী, (২৪) দুররুল মুখতার, (২৫) রদ্দুল মুহতার, (২৬) আইনুল হিদায়া, (২৭) ফতহুল ক্বাদীর, (২৮) শরহে বিক্বায়া, (২৯) ফাযায়েলে হজ্জ, (৩০) আহ্কামে হজ্ব ও যিয়ারত, (৩১) হজ্ব ও যিয়ারত, (৩২) আহকামে হজ্জ, (৩৩) মক্কা ও মদীনার পথে ইত্যাদি।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।