সুন্নতী টুপি মুবারক সম্পর্কে

সংখ্যা: ২০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ হুসাইন

নরসিংদী

 

সুওয়াল: মাসিক মদীনা নভেম্বর-২০০৯ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে নি¤েœাক্ত প্রশ্নোত্তর ছাপা হয়-

প্রশ্ন: মুসলমানগণ যে টুপি মাথায় পরেন তার আকৃতি সম্পর্কে যেমন গোল হওয়া চাই, না কিসতির মত লম্বা হওয়া চাই স্পষ্ট হাদীছ শরীফ আছে কিনা? হাদীছ শরীফ-এর নাম উল্লেখ করে জানাবেন আশা করি।

উত্তর: টুপি পরা সুন্নত। হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম টুপি পরেছেন এবং পাগড়ী পরার সময় পাগড়ীর নিচে টুপি পরতে তাগিদ দিয়েছেন। টুপি এবং পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে তাই সুন্নত বলে স্বীকৃত যা সমকালীন নির্ভরযোগ্য ওলামা-মাশায়িখগণের মধ্যে সাধারণভাবে প্রচলিত। হাদীছ শরীফ-এ (শামায়িলে-তিরমিযী) বলা হয়েছে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাথার টুপি ছিল চেপ্টা, যা মাথার সাথে লেগে থাকতো। সেই টুপির অনুকরণে ছাহাবীগণ এবং পরবর্তী যুগের ওলামা-মাশায়িখগণ কাপড়ের দ্বারা নির্মিত টুপি তৈরি করেছেন। কারো টুপি গোল ছিল, কারো টুপি কিসতি আকৃতির ছিল, কারো টুপি পাঁচ কল্লি বা তিন কল্লির ছিল। এইসব ধরনের টুপি যেহেতু ওলামা-মাশায়িখগণের মধ্যে প্রচলিত ছিল এবং এ যুগেও রয়েছে। সুতরাং এসব ধরনের টুপিই সুন্নত অনুযায়ী মনে করে পরা যেতে পারে। অনুসরণযোগ্য ওলামাগণের পছন্দনীয় পোশাকাদি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা অভিপ্রেত নয়।

মাসিক মদীনা পত্রিকার উক্ত প্রশ্নের উত্তরে যে বিষয়গুলো আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়, তাহলো-

১. আল্লাহ পাক-উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে টুপি ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে কোন সুন্নতের বর্ণনা নেই।

২. টুপি ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদেরকে বাদ দিয়ে সমকালীন আলিমদেরকে অনুসরণ করতে হবে।

৩. শামায়িলে তিরমিযী-এর বরাতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে মিথ্যারোপ করা হয়েছে।

৪. হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত ‘কুম্মাতুন’ (كمة) ও ‘বুতহুন’ (بطح) শব্দের মনগড়া অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

৫. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণও কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি পরিধান করেছেন।

৬. সমকালীন আলিমগণের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আমল জারি থাকলেও সেটাই অনুসরণ করতে হবে। বিরোধিতা করা যাবেনা।

উপরোক্ত প্রতিটি বিষয়ের শরীয়তসম্মত জাওয়াব দিয়ে আমাদের ঈমান-আমল হিফাযতে সহায়তা করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

জাওয়াব: মাসিক মদীনায় প্রদত্ত টুপি সম্পর্কিত প্রশ্ন-উত্তরের প্রেক্ষিতে আপনার পঞ্চম সুওয়াল হচ্ছে-

৫. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণও কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি পরিধান করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!

এর জবাবে প্রথমত: বলতে হয় যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুবারক টুপি সম্পর্কিত মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য ভুল, দলীলবিহীন, ডাহা মিথ্যা।

শুধু তাই নয় তার উক্ত বক্তব্য সরাসরি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সুস্পষ্ট মিথ্যারোপের শামিল। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কখনো কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি পরিধান করেননি।

দ্বিতীয়ত: মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন সাহেব যদি সত্যবাদীই হয়ে থাকে তবে পরবর্তী সংখ্যায় প্রমাণ পেশ করুক কোন কিতাবের কত পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি পরিধান করেছেন। কিন্তু মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীন ছাহেবের পক্ষে তা কস্মিনকালেও সম্ভব হবে না।

সুতরাং আবারো প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুবারক টুপি সম্পর্কিত মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সুস্পষ্ট মিথ্যারোপের শামিল। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

নি¤েœ কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি-এর দলীলভিত্তিক বর্ণনা তুলে ধরা হলো। আর এতেই প্রমাণিত হবে যে, কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি কাফির, বেদ্বীন ও হিন্দু মারওয়ারীদের খাছ টুপি।

তিন কল্লি টুপি

হাদীছ শরীফ-এর কোথায়ও উল্লেখ নেই যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তথা খাইরুল কুরুনের কেউ তিন কল্লি টুপি পরিধান করেছেন। মূলত খাইরুল কুরুনে তিন কল্লি টুপির কোন অস্তিত্বই ছিল না।

মূলকথা হলো- তিন কল্লি টুপির প্রমাণ যেহেতু হাদীছ শরীফ-এ নেই, আর খাইরুল কুরুনের কারো আমলের দ্বারাও তা প্রমাণিত নেই এবং নতুন করে তিন কল্লি টুপির আবিষ্কার ‘চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপি’ সম্পর্কিত হাদীছ শরীফ-এর মুখালিফ, সেহেতু তিন কল্লি টুপি পরিধান বা ব্যবহার করা বিদয়াত।

তাছাড়া তিন কল্লি টুপি তিন কোন বিশিষ্ট হওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মাথা থেকে চোখা বা উঁচু হয়ে থাকে, উপর দিক থেকে মাথার সাথে লেগে থাকে না। এক্ষেত্রে তিন কল্লি টুপি মাথা হতে উচু হয়ে থাকার কারণে বুরনুস টুপির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যা পরিধান করা এবং পরিধান করে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী।

যেমন ফতওয়ায়ে আলমগীরী কিতাবে উল্লেখ আছে-

تكره الصلوة مع البرنس

অর্থাৎ বুরনুসসহ নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীম।

সুতরাং সকলেরই উচিত নতুন উদ্ভূত তিন কল্লি টুপি পরিহার করে হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত চার টুকরা বিশিষ্ট গোল খাছ সুন্নতী টুপি পরিধান করা। তাতে যেরূপ একটি সুন্নত আদায় করার কারণে একশত শহীদের ছাওয়াব পাওয়া যাবে, তদ্রƒপ বিদয়াতের ন্যায় গর্হিত কাজ থেকে বেঁচে থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ রেযামন্দী হাছিল করা সম্ভব হবে।

তাছাড়া যেখানে হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপি ব্যবহার করেছেন, সেখানে উক্ত আমল বা সুন্নতের খিলাফ তিন কল্লি টুপির আবিষ্কার ও আমল কি করে শরীয়তসম্মত হতে পারে?

যেমন, উক্ত চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপি মুবারক কি ধরনের ছিল, তার সুন্দর ও সুস্পষ্ট বর্ণনা সম্পর্কে ‘মাজমুয়ায়ে মাল্ফূযাতে খাজেগানে চিশ্ত’- কিতাবের  ১ম বাবের ১০-১১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

حضرت حاضی شریف زندنی رحمہ اللہ علیہ .. ارشاد فرمایا کہ اے عثمان جبکہ تمنے کلاہ چھار ترکی سر پر رکھی ہے. لازم ہے کہ اسکا حق بجالاؤگے … حضرت خواجہء عالم صلی اللہ علیہ وسلم نے جس وقت سے اس کلاہ کو اپنی سر مبارک پر رکہا فقر وفاقہ اختیار کیا. بعد اسکے حضرت علی کرم اللہ وجہہ نے پہنا اور فقر وفاقہ کو اپنی ذات پر لازم گردانا. اسیطرح سلسلۃ مجھ تک پھنچا. (انیس الارواح)

অর্থ: ‘‘হযরত হাজী শরীফ জিন্দানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হে ওছমান হারুনী! (রহমতুল্লাহি আলাইহি) যখন আপনি চার টুকরা বিশিষ্ট টুপি মাথায় পরিধান করেছেন, তখন আপনার জন্য তার হক্ব আদায় করা আবশ্যক। …. সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম তিনি যখন চার টুকরা বিশিষ্ট টুপি মাথা মুবারকে পরিধান করেন, তখন দারিদ্র্যতা ও উপবাসকে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে তাওয়াক্কুল গ্রহন করেন। তারপর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চার টুকরা বিশিষ্ট টুপি পরিধান করেন এবং দারিদ্র্যতা ও উপবাসকে অর্থাৎ তাওয়াক্কুলকে নিজের জন্য জরুরী করে নেন। এরূপভাবে পর্যায়ক্রমে চার টুকরা বিশিষ্ট টুপি আমার নিকট পৌঁছে।’ (আনীসুল আরওয়াহ)

‘ইসরারুল আওলিয়া’ কিতাবের ১১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হে দরবেশগণ! চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপিই প্রকৃত টুপি। হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বেহেশত হতে এ টুপি এনে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পরিধান করতে দিয়ে বলেন, আপনি পরিধান করুন এবং আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে এ টুপি দান করে আপনার খলীফা নিযুক্ত করুন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপিটি মাথায় পরিধান করেন এবং পরবর্তীতে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উসমান যুন নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদেরকে একটি করে টুকরা দান করেন।” (অনুরূপ আনীসুল আরওয়াহতেও উল্লেখ আছে।)

খলীফায়ে আ’যম, শায়খে শুয়ুখিল আলম, সানাদুল মুওয়াহ্হেদীন, সুলতানুল আরিফীন, ওয়ারিছুন নবী ফিল হিন্দ, মুঈনুল মিল্লাত ওয়াশ্ শরা ওয়াল হুদা ওয়াদ্ দ্বীন, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশ্তি, সানজিরী ছুম্মা আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মালফুযাত সম্বলিত বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘আনীসুল আরওয়াহ’ ও ইমামুল আইম্মাহ, হযরত ফরীদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার মালফুযাত সম্বলিত কিতাব ‘ইসরারুল আওলিয়া’ নামক কিতাবের উক্ত বর্ণনা দ্বারা স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও বিশিষ্ট ছাহাবী খুলাফায়ে রাশিদীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা  ‘চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপি পরিধান করতেন।’ কাজেই চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপিই হচ্ছে খাছ সুন্নতী টুপি। আর এ ধরনের সুন্নত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

عليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ.

অর্থ: “তোমাদের জন্য আমার ও খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের সুন্নত অবশ্যই পালনীয়, তোমরা মাড়ির দাঁত দ্বারা মজবুতভাবে উক্ত সুন্নতগুলো আঁকড়িয়ে ধর।” (মিশকাত, মিরকাত, শরহুত্ ত্বীবী, তা’লীকুছ্ ছবীহ, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব, মিরআতুল মানাযীহ)

অতএব প্রমাণিত হলো যে, সাদা রঙয়ের গোল ও চার টুকরা বিশিষ্ট টুপিই পরিধান করা সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহুম ও সুন্নতে আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। অর্থাৎ “চার টুকরা বিশিষ্ট সাদা ও গোল টুপিই হচ্ছে, খাছ সুন্নতী টুপি। কারণ আল্লাহ পাক-উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ও হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের টুপি মুবারক ছিল-সাদা, গোল ও চার টুকরা বিশিষ্ট। এছাড়াও সাদা ও চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপির বহু দলীল হাদীছ শরীফ ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ও অনুসরণীয় কিতাবসমূহে রয়েছে।

কাজেই, ‘হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও কিসতি, পাঁচ কল্লি, তিন কল্লি টুপি পরিধান করেছেন’ মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল, দলীলবিহীন, ডাহা মিথ্যা। পাশাপাশি এটাও প্রমাণিত হলো যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুবারক টুপি সম্পর্কিত মাসিক মদীনার সম্পাদক মাহিউদ্দীনের উক্ত বক্তব্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সুস্পষ্ট মিথ্যারোপের শামিল। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

(বিঃ দ্রঃ চার টুকরা বিশিষ্ট সাদা ও গোল টুপিই হচ্ছে খাছ সুন্নতী টুপি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ-এর ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯তম সংখ্যাগুলো পাঠ করলে টুপি সম্পর্কিত প্রশ্নোল্লিখিত বিষয়সহ যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীলভিত্তিক ফায়সালা পেয়ে যাবেন।)

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।