রাজনীতিক নামধারী পুঁজিবাদীদের কবলে বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পুরো বাজার ব্যবস্থাপনা প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়ই চরমভাবে শোষিত হচ্ছে।

সংখ্যা: ২২৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক।

ভোগ্যপণ্য সবাইকেই কমবেশি কিনতে হয়। বাজারের অসঙ্গতি থাকলে, মূল্যে কারসাজি থাকলে ঠকতে হয়। সংগঠিত বাজার ব্যবস্থা থাকলে বাজারে কারসাজি করার অবকাশ থাকে কম। বাজারে অসংগঠিত থাকলে ব্যবসায়িকগণ কারসাজির মাধ্যমে বেশি মূল্য নিতে সুযোগ পেতে পারে। আমাদের ভোগ্যপণ্যের বাজার অসংগঠিত এবং সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়ী শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণে। তাই সবাইকে ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যেই পণ্য ক্রয় করতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে ভোক্তা হিসেবে আমরা বেশি দাম পরিশোধে বাধ্য থাকছি। ভোগ্যপণ্য তার উৎপাদন উৎস হিসেবে কৃষিজাত এবং শিল্পজাত। শিল্পজাত পণ্যের কিছু দেশে উৎপাদিত আবার কিছু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত। বাজার ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে গড়তে হলে এসব উৎস থেকে যে পণ্য বাজারে আসে, ব্যবসায়ীদের ক্রয় মূল্য জানা দরকার। শিল্পজাত দেশি কিংবা বিদেশি পণ্যের দাম বের করা অনেকটা সহজ। ক্রয় নথিপত্র থেকেই মূল্য বের করা সম্ভব। কিন্তু কৃষিজাত পণ্যের বেলায় ব্যবসায়ীদের ক্রয় মূল্য নিখুঁতভাবে জানার ক্ষেত্রে সমস্যা বিদ্যমান। এ প্রেক্ষাপটে কৃষিজাত পণ্যে মূল্য কারসাজির সুযোগ বেশি বিদ্যমান। বাজার ব্যবস্থাপনায় বাইরের কারো নিয়ন্ত্রণ কাজ করছেনা বরং ব্যবসায়ীদের ইচ্ছার উপরই মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

ফলে ব্যবসায়ীদের কারো অতি মুনাফা করার ইচ্ছা থাকলে সহজেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস করছে। ফলে মূল্য কারসাজির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার পথ অনেক দূর বিস্তৃত। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে এ দুষ্ট ক্ষতের কারণে মানুষকে বেশি মূল্য দিয়ে যেতেই হবে। আর সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা গড়তে হলে এর মুখ্য উপাদান হল ব্যবসায়িক নৈতিকতা এবং সরকার দক্ষ নিয়ন্ত্রণ।

গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমার সুফল, ডলারের দাম কমার সুফল সবই পেয়েছে ব্যবসায়ীরা। বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম এ বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর স্থানীয় বাজারে বোতলজাত তেলের দাম যা ছিল এখনো তাই আছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পরও বোতলজাত তেলের দাম কমেনি। মনিটরিং সেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম হওয়া উচিত ১২৫ টাকা। তবে বাজারে ওই তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৩ থেকে ১৩৫ টাকা দরে। লিটারে বেশি নেয়া হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। পণ্যের মজুদ সম্পর্কে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় মজুদদাররা এখনো সক্রিয়। পণ্যের দাম বাড়ানোর পেছনে দেশজুড়ে তৎপর কয়েকটি সিন্ডিকেটকে সরকার এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। দায়ী সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরতে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ সরকার। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের অনেকেরই সাথে রয়েছে এসব সিন্ডিকেটের সখ্য। এ ছাড়া সিন্ডিকেট সদস্যদের অনেকেই সরাসরি সরকারদলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। সাম্প্রতিককালে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এসব সিন্ডিকেটের একটি তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়া হয়নি। আগে শুধুু আমদানির মাধ্যমে আসা বিভিন্ন পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে এসব সিন্ডিকেট। এখন দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যও চলে গেছে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার গুণ মূল্যে।

কত টাকায় পণ্য আমদানি করা হচ্ছে এবং তা পরে কী দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে তার কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও সরকারের তরফ থেকে এর কোনো কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত দেখা যায়নি। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করে। এসব কমিটি গঠন পর্যন্তই শেষ। কমিটি বাজারে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে খোদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য মনিটরিং এবং আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হলেও ওই কমিটির কার্যক্রম এখন নেই বললেই চলে।

কৃষকদের উৎপাদিত ভোগ্যপণ্য-যেমন শাক সবজি এসব কয়েক ধামে ক্রেতা পর্যায়ে পৌঁছানো হয়। এসব পণ্য ক্রেতা পর্যায়ে যোগান নিশ্চিত করতে ফড়িয়া, আড়তদার এবং খুচরো ব্যবসায়ীর হাত হয়ে আসে। কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় আড়তে বিক্রয় করে। ব্যবসায়ীগণ তা ক্রয় করে পরিবহন করে শহরের আড়তে বিক্রয় করে থাকে। আর শহরের আড়ত থেকে খুচরো ব্যবসায়ীরা তা কিনে তাদের দোকানে বিক্রয় করে থাকে। এক্ষেত্রে স্থানীয় আড়তদার তার ইচ্ছামতো দামে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে। সেখান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ী তার ইচ্ছামতো মূল্যে পণ্য ক্রয় করে শহরের আড়তে নিয়ে আসে। শহরের আড়তদার তার ইচ্ছামতো পাইকারকে পণ্যের দাম পরিশোধ করে থাকে। শহরের আড়তদারগণ তাদের ইচ্ছা মাফিক মূল্যে খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য বিক্রয় করে। অর্থাৎ কৃষিজাত ভোগ্যপণ্য যা কাঁচামাল হিসেবে পরিচিত এর দাম নির্ধারণে ফড়িয়াও আড়তদারদের ইচ্ছাই সব।

খুচরো বাজারে শাকসবজি। তরিতরকারির প্রচুর যোগান থাকলেও দেখা যায় দাম চড়া। কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রায় বছরেই তুলকালাম কা- ঘটতে দেখা যায়। কুড়ি থেকে আড়াইশ টাকায় এক কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রয় হতে দেখা যায়। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ শুরু হলেই চার পাঁচ গুণ দামে বেগুন বিক্রয় হতে দেখা যায়। শসা, ক্ষিরাই এর বেলায়ও একই অবস্থা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ দোকানদারের ইচ্ছা মতোই এসব পণ্য কিনতে বাধ্য। এ প্রক্রিয়ায় ক্রেতারা চড়া দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হলেও উৎপাদনকারী কৃষকগণ তেমন লাভবান হয় না। এ প্রক্রিয়া এভাবে চলতে দিলে ক্রেতা সাধরণকে অব্যাহতভাবে ঠকতেই হবে নিঃসন্দেহে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যবসায়িক নৈতিকতা মোটেও কাজ করছেনা। এর অবসান হওয়া দরকার।

কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের মূল দায়িত্ব উৎপাদন বাড়ানো। কৃষকের মাঝে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করতে হবে। মূলত কৃষক যাতে তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পায় তার জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সবাই মিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক  ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ মুবারক তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার  নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করেন। (আমীন)

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান,ঢাকা।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক