পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- ইসলামী আক্বীদা এবং উনার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও আহকাম-১৮

সংখ্যা: ২২৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিয়েছেন। যখন কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিরুদ্ধে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরুদ্ধে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরুদ্ধে, মহান আল্লাহ পাক উনার বিরুদ্ধে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে বলে সেখানে সে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, তোমরা সেখান থেকে সরে যাও। যদি সম্ভব হয় হিদায়েত করার, তাকে হিদায়েত করবে, হাত দিয়ে বাধা দিবে, যবানে বলবে, সেটা যদি সম্ভব না হয় সেখান থেকে সরে যাবে এটা ঈমানের শেষ স্তর। এরপর ঈমানের কিন্তু কোন স্তর নেই। এটা মনে রাখতে হবে। ঈমান যে আমরা বিশুদ্ধ করবো, ঈমান থাকবে কোথায়? কি করে বিশুদ্ধ করবো, বিশুদ্ধ করার জন্য যে বিষয়টা সহজে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যা আদেশ করেছেন নির্দেশ করেছেন, হালাল-হারাম করেছেন সেটাকে সেভাবে হালাল-হারাম জানতে হবে, সেভাবে বিশ্বাস করতে হবে তখন সে ঈমানদার থাকতে পারবে।  এবং সমস্ত কিছুর চাইতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেশি মুহব্বত করতে হবে। গইরুল্লাহকে কখনও প্রাধান্য দেয়া যাবে না। কুফরীকে এতটুকু অপছন্দ করতে হবে যেমন মানুষকে আগুনে নিক্ষেপ করলে তার কষ্ট হবে এর চেয়ে বেশি অপছন্দ করতে হবে। এটাই যদি হয় তাহলে কি করে সে কুফরীতে যেতে পারে? একজন মুসলমান কি করে বেপর্দা হতে পারে? কি করে সে গান-বাজনা করতে পারে? কি করে সে খেলা-ধুলা করতে পারে? বেপর্দা হতে পারে? টিভি চ্যানেল দেখতে পারে? এটা ফিকির করতে হবে। সে কি করে পবিত্র ইসলাম উনার নাম দিয়ে এই তন্ত্র-মন্ত্র, গণতন্ত্র হরতাল লংমার্চ এগুলো করতে পারে? এটা ফিকির করতে হবে। এখন ইহুদী নাছারারা ধোকা দিয়ে বার বার মুসলমান উনাদের ঈমানটাকে নষ্ট করে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। মুসলমানরা সেটা ফিকির করছেনা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ود كثير من اهل الكتاب لو يردونكم من بعد ايمانكم كفارا حسدا من عند انفسهم

মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, দেখো, সমস্ত ইহুদী নাছারারা কিন্তু চায়, কি চায়? ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনরা চেয়ে থাকে, কি চেয়ে থাকে, মুসলমানগণ ঈমান এনেছেন উনারাতো জান্নাতে যাবেন, উনাদের কি করে কুফরী করিয়ে কাফির বানিয়ে জাহান্নামী করা যায়, হিংসাবশত তারা সেই কোশেশটা করে যাচ্ছে। এটা কিন্তু মুসলমানরা ফিকির করতেছেনা। ফলে মুসলমানগণ সেই কাজগুলো করে যাচ্ছে। মুসলমানগণ সেটা স্বীকার করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই মুসলমান উনাদের দায়িত্ব হচ্ছে, কর্তব্য হচ্ছে সব অবস্থাতেই মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ থাকা। মহান আল্লাহ পাক উনাকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকা, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকা, সম্মানিত ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকা; তখনই তার জন্য কামিয়াবী। এছাড়া তার কোন কামিয়াবী নেই। মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত সব অবস্থায় এটা মনে রাখতে হবে। এখন মুসলমানরা সম্মানিত ইসলাম উনাকে ছেড়ে দিয়ে বেদ্বীন-বদদ্বীন তাদেরকে অনুসরণ করতে চায়। কাজেই, এটা যেনো মুসলমানরা কশ্মিনকালেও না করে এটা মনে রাখতে হবে, তাওবা করতে হবে, ইস্তিগফার করতে হবে, ভুল হবে তাওবা করবে। কিন্তু কুফরীর মধ্যে সে যদি ইস্তিকামাত থেকে যায়, তার জন্য কঠিন অবস্থা। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان الذين امنوا ثم كفروا ثم امنوا ثم كفروا ثم ازدادوا كفرا.

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কারা হিদায়েত পাবে না, কারা হিদায়েত থেকে বঞ্চিত হবে, যারা ঈমান আনার পর কুফরী করবে, আবার ছূরতান দেখাবে ঈমানদার, আবার কুফরী করবে। মুসলমান দাবি করবে, কুফরী করবে এবং কুফরীর মধ্যে দৃঢ়চিত্ত হয়ে যাবে তারা কিন্তু হিদায়েত লাভ করতে পারবে না। এখন হারাম কাজ যারা করে থাকে, তারা ঈমানদার দাবি করে থাকে, এই দাবির কোন মূল্য নেই। কারণ তাছদীক্ব যে করার কথা ছিলো, সত্য প্রতিপাদন করার, সেটা তারা করতে পারেনি।

الايمان تصديق بالجنان

অন্তরে সেটা তাছদীক্ব সত্য প্রতিপাদন বা বিশ্বাস করতে হবে।

بما جاء النبى صلى الله عليه و سلم من عند الله

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এনেছেন, যা বলেছেন সেটা বিশ্বাস করতে হবে।

اقرار بالسان

মুখে স্বীকার করতে হবে এবং তা বাস্তবায়িত করতে হবে তখন সে মু’মিনে কামিল হবে। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

يا ايها الذين امنو امنوا

ঈমানদাররা ঈমান আনো, মু’মিনে কামিল হয়ে যাও তখনই তোমাদের জন্য কামিয়াবী। সময় কিন্তু কারো জন্য অপেক্ষা করে না, মৃত্যু যথাসময় হয়ে যাবে। যেটা আমি পূর্বেও বলেছি এখনও বলছি-

لكل امة اجل اذا جاء اجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون.

প্রত্যেকের জন্য মৃত্যু রয়েছে। যখন মৃত্যু এসে যাবে তখন এক সেকেন্ড আগেও হবে না এক সেকেন্ড পরেও হবে না। কাজেই সময় থাকতে তাওবা করে ইস্তিগফার করে নিজের ঈমান-আমল শুদ্ধ করে নিতে হবে। ঈমান যদি শুদ্ধ থাকে সে একসময় নাজাত পাবে আর মহান আল্লাহ পাক তিনি না করুন, ঈমান যদি শুদ্ধ না থাকে, হালালকে সে হালাল মনে না করে, সে কশ্মিনকালেও কিন্তু নাজাত পাবে না। এটা মনে রাখতে হবে। আবার সামনেও ইনশাআল্লাহ পর্যায়ক্রমে এ বিষয় আলোচনা করবো। যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সম্মানিত ঈমান উনার যে বিষয়গুলো খুব সূক্ষ্ম। বিষয়গুলো বুঝতে হবে, জানতে হবে, ইলম অর্জন করতে হবে এরপর সে বিষয়ের উপর আমল করতে হবে, আক্বীদা বিশুদ্ধ করতে হবে।

যেহেতু মুসলমান উনাদের জন্য এই আক্বীদা বিশুদ্ধ করা ফরয। এর জন্য ইলম অর্জন করাটাও ফরয। কাজেই প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমান, নর-নারীর জন্য আক্বীদা সংক্রান্ত ইলম যা রয়েছে সেটা ফরয পরিমাণ অবশ্যই তাকে হাছিল করতে হবে। এই ফরয ইলম অর্জন করার জন্য তাকে যতটুকু কোশেশ করা প্রয়োজন ঠিক ততটুকু কোশেশ করতে হবে। আর আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে জিন্দিগীর সমস্ত আমল ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক সেটা বরবাদ হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে সেটা কখনও গ্রহনযোগ্য হবে না।

কাজেই, আক্বীদা সংক্রান্ত যেই ইলম সেটা হাছিল করা ফরয-ওয়াজিব। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

يا ايها الذين امنوا  امنوا بالله ورسوله والكتاب الذى نزل على رسوله والكتاب الذى انزل من قبل ومن يكفر بالله وملئكة وكتبه ورسله واليوم الاخر فقد ضل ضلالا بعيدا.

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে ঈমানদারগণ!

يا ايها الذين امنوا

হে ঈমানদারগণ!

امنوا

তোমরা অবশ্যই ঈমান আনো।

بالله ورسوله

মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি

والكتاب الذى نزل على رسوله والكتاب الذى انزل من قبل

এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে সম্মানিত কিতাব নাযিল করা হয়েছে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি ঈমান আনো এবং অতীতের যাঁরা হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম এসেছিলেন উনাদের প্রতি যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে সেই কিতাব উনাদের প্রতিও তোমরা ঈমান আনো। (অসমাপ্ত)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৮)

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ¦লীফাতুল্লাহ, খ¦লীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (৭)

সম্পাদকীয়

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার- ওয়াজ শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- উলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত সম্পর্কে (১২)