সুওয়াল: জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ৯ পৃষ্ঠায় লিখা হয়েছে, সর্বপ্রথম নবী ছিলেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। আর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী রসূল ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী ………। এখন আমার জানার বিষয় হলো উক্ত বইয়ের উক্ত বক্তব্য কতটুকু দলীলসম্মত? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৩৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ শাফায়াত হুসাইন দিনাজপুর


জাওয়াব: উক্ত বইয়ের উল্লিখিত বক্তব্যটি পুরোপুরি সঠিক নয়। যেমন, প্রথমতঃ উক্ত বক্তব্যে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে শুধু ‘নবী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি শুধু ‘নবী’ নন বরং তিনি ‘নবী ও রসূল’ উভয়টিই। সুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয়তঃ উক্ত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম নবী।’

তাদের এ বক্তব্যটিও সঠিক ও শুদ্ধ নয়। কারণ, সর্বপ্রথম ‘নবী ও রসূল’ হচ্ছেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। তবে হ্যাঁ, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি সর্বপ্রথম নবী ও রসূল হিসেবে যমীনে তাশরীফ এনেছেন। বিষয়টি এভাবেই লিখতে, বলতে ও উল্লেখ করতে হবে। যেমন, এ প্রসঙ্গে  পবিত্র হাদীছে কুদছী শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف.

অর্থ:- “আমি গুপ্ত (ধনভাণ্ডার) ছিলাম। যখন আমার মুহব্বত হলো যে, আমি প্রকাশতি হই, তখনই আমি সৃষ্টি করলাম (আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)।” (আল মাকাসিদুল হাসানা ৮৩৮, কাশফুল খিফা-২০১৩, হুসনুল মাতালি-১১১০, তমীযুত্তীব-১০৪৫, আসরারুল মারফুয়া-৩৩৫, তানযয়িাতুশ শরীয়াহ, আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা-৩৩০, আত্তাযকিরা ফি আহাদীছিল মুশতাহিরা)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اول ما خلق الله نورى وخلق كل شىء من نورى.

অর্থঃ- “মহান আল্লাহ পাক তিনি র্সবপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করছেনে এবং তা থকেইে সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করছেনে।” (নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ইনসানুল কামলি, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت اول النبين فى الخلق واخرهم فى البعث.

অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করনে, সৃষ্ট জীবের মধ্যে আমিই র্সবপ্রথম নবী হিসাবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত  হয়েছি সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে। (তাফসীরে বাগবী ৫/২৩২, দুররে মানছুর ৫/১৮৪, শেফা ১/৪৬৬, মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬, কানযুল উম্মাল ৩১৯১৬, দাইলামী ৪৮৫০) মিরকাত ১১/৫৮)

عن حضرت ميسرة الفجر رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت نبيا وادم بين الروح والجسد.

অর্থ: “হযরত মাইসারাতুল ফাজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেেক বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তখনো নবী ছিলাম যখন হযরত আদম আলাইহসি সালাম তিনি রূহ ও শরীর মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন।” (তারীখে বুখারী, আহমদ, আলহাবী, ইত্তেহাফুচ্ছাদাত, তাযকেরাতুল মাউজুয়াত, কানযুল উম্মাল, দাইলামী, ত্ববরানী, আবু নঈম, মিশকাত, মরিকাত ১১/৫৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كنت نبيا وادم بين الـماء والطين.

অর্থ: “আমি তখনো নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি পানি ও মাটিতে ছিলেন।” (মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ১১/৫৮)

অতএব, ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের উল্লিখিত ভুল অর্থাৎ কুফরী বক্তব্যটি অতিসত্বর সংশোধন করতে হবে; যা সংশোধন করা ফরয।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।