সুওয়াল: কোন মুসলমান ছেলে কোন কাফির মেয়েকে বিবাহ করতে পারবে কি না?

সংখ্যা: ২৩৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আওলাদ হুসাইন, ভোলা

 


জাওয়াব: ইসলামী শরীয়ত বা বিধান মুতাবিক বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই মুসলমান হতে হবে। দু’ জনের কোন একজন কাফির বা মুশরিক হলে বিবাহ জায়িয বা শুদ্ধ হবে না।

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لا تنكحوا الـمشركات حتى يؤمن

অর্থ: মুশরিক মহিলারা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২২১)

এবং আরা ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ولا تنكحوا الـمشركين حتى يؤمن

অর্থ: মুশরিক পুরুষরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তাদের সাথে তোমাদের মেয়েদেরকে বিবাহ দিবে না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২২১)

অতএব, হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী, খ্রিস্টান ইত্যাদি কোন কাফির মুশরিক মহিলাকে কোন মুসলমান পুরুষ বিবাহ করতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত মহিলা ঈমান গ্রহণ করে মু’মিন মুসলমান না হবে। অনুরূপভাবে কোন মুসলমান মহিলার জন্য কোন হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী, খ্রীস্টান পুরুষের সাথে বিবাহ জায়িয নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত পুরুষ ঈমান গ্রহণ করে মু’মিন মুসলমান না হবে।

মোটকথা, বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আহল ও আহলিয়াহ অর্থাৎ স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই ঈমানদার বা মুসলমান হতে হবে। অন্যথায় স্বামী মুসলমান আর স্ত্রী কাফির অথবা স্ত্রী মুসলমান আর স্বামী কাফির অর্থাৎ এরূপ অবস্থায় বিবাহ সম্পাদন করলে তা জায়িয বা শুদ্ধ হবে না। ফলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্পর্ক অবৈধ হবে এবং তাদের সন্তান অবৈধ হবে। নাউযুবিল্লাহ!

এখানে আরো উল্লেখ্য, কাফির মুশরিক ছাড়াও মুসলমান নামধারী ৭২টি বাতিল ফিরক্বার লোকদের সাথেও বিবাহ জায়িয নেই যে পর্যন্ত না তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুরূপ আক্বীদায় বিশ্বাসী না হবে।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।