সুওয়াল : মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সংখ্যা: ২৩৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুরা।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।


জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর-১২)

সাইয়্যিদুল খুলাফা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি বাংলাদেশতো অবশ্যই; এমনকি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেনই করবেন ইনশাআল্লাহ।’ (সুবহানাল্লাহ)

দ্বিতীয় প্রমাণ:

এই সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ اُمّ ِ الـْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ اُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اﷲِ صَلَّى اﷲُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ اخْتِلَافٌ عِنْدَ مَوْتِ خَلِيفَةٍ فَيَخْرُجُ رَجُلٌ مّـِنْ أَهْلِ الْمَدِيْـنَـةِ هَارِبًا اِلـٰى مَكَّةَ فَيَأْتِيْهِ نَاسٌ مّـِنْ أَهْلِ مَكَّةَ فَيُخْرِجُوْنَه وَهُوَ كَارِهٌ فَيُبَايِعُوْنَه بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ وَيُبْعَثُ اِلَيْهِ بَعْثٌ مّـِنَ الشَّامِ فَيُخْسَفُ بِـهِمْ بِالْبَيْدَاءِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِيْنَةِ فَاِذَا رَاَى النَّاسُ ذٰلِكَ اَتَاهُ أَبْدَالُ الشَّامِ وَعَصَائِبُ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَيُبَايِعُوْنَه ثُـمَّ يَنْشَاُ رَجُلٌ مّـِنْ قُرَيْشٍ أَخْوَالُه كَلْبٌ فَيَبْعَثُ اِلَيْهِمْ بَعْثًا فَيَظْهَرُوْنَ عَلَيْهِمْ وَذٰلِكَ بَعْثُ كَلْبٍ وَيَعْمَلُ فِى النَّاسِ بِسُنَّةِ نَبِيّـِهِمْ صَلَّى اﷲُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُلْقِى الْاِسْلاَمُ بـِجِرَانِهٖ اِلَى الْاَرْضِ فَيَلْبَثُ سَبْعَ سِنِيْنَ ثُـمَّ يُتَوَفّٰـى وَيُصَلّـِىْ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُوْنَ.

“উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শেষ যামানায় একজন খলীফা উনার বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করার সময় নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে আর একজন খলীফা মনোনীত করার ব্যাপারে ইখতিলাফ তথা মতবিরোধ দেখা দিবে। তখন এক ব্যক্তি তথা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি নিজেকে গোপন রাখার উদ্দেশ্যে সম্মানিত মদীনা শরীফ থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন। এই সময় সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত অধিবাসী উনারা উনাকে খুঁজে বের করবেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। (প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম। তিনি নিজেকে গোপন রাখতে চাইবেন। কিন্তু উনার মুবারক কর্মকাণ্ডে এবং পবিত্র চেহারা মুবরক উনার নূরানী জ্যোতির্ময় আলোকে লোকেরা চিনে ফেলবেন যে, ইনিই হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম।) অতঃপর রুকনে ইয়ামেন ও মাক্বামে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে লোকেরা উনার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করবেন। এরপর সিরিয়া হতে একটি সৈন্যবাহিনী উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হবে। কিন্তু সম্মানিত মক্কা শরীফ ও সম্মানিত মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী ‘বাইদা’ নামক স্থানে তাদেরকে ভূগর্ভে পুঁতে ফেলা হবে। অতঃপর যখন চতুর্দিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়বে এবং লোকেরা চাক্ষুষ এই অবস্থা দেখতে পাবে, তখন সিরিয়ার আবদালগণ উনারা এবং ইরাকের একটি বিরাট জামায়াত উনার নিকট আসবেন এবং উনার মুবারক হাতে বাইয়াত হবেন। অতঃপর কুরাইশের এক ব্যক্তি যার মামার বংশ হবে ‘বনুকালব’ সেও হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠাবে। উনার সেনাবাহিনী তাদের উপর বিজয়ী হবেন। এটা ‘ফিতনায়ে কালব’। আর তিনি তথা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি মানুষের মাঝে তাঁদের নবী তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুতাবিক কাজ-কর্ম পরিচালনা করবেন এবং পুনরায় পৃথিবীতে ইসলাম পুরাপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি সাত বৎসর এই অবস্থায় অবস্থান করবেন এবং মুসলমানগণ উনার জানাযা পড়বেন।” (আবূ দাউদ, মুসনাদে আহমদ ৬/৩১৬, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ১২/৩৬৯, আল মু’জামুল কাবীর ১৭/২০৭, আল মু’জামুল আওসাত্ব ২/৩৫, ইবনে আবী শায়বা ৭/৪৬০, ছহীহ ইবনে হিব্বান ১৫/১৫৮, মুছান্নাফে আব্দির রাজজাক ১১/৩৭১, আহকামুশ শরীয়াহ ৪/৫৩১,  মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/২৬২, আস সুনানুল ওয়ারিদা ফিল ফিতান ৫/১০৮৩, মুসনাদে ইসহাক্ব ৪/১৭০, আখবারিল মাহদী লিছ সুয়ূত্বী ১/৫৬, জামিউল আহাদীছ লিছ সুয়ূত্বী ২৪/২২৯, জামউল জাওয়ামি’ লিছ সুয়ূত্বী ১/২৬৩০৬, আল ফাতহুল কাবীর ৩/৪০৫, আল হাওই ২/৫৬, আত তাযকিরাহ ১/৬৯১, জামিউল উছ’ল ১০/৭৪৮০, কানযুল উম্মাল ১১/১৩৫, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৩৭২, আন নিহায়াহ ১/১৬, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ১/২৮, আল মুক্বাদ্দিমাহ ১/১৭৩, আছ ছওয়াইকুল মুহ্রিক্বাহ ২/৪৭৬, আদ র্দুরুল মানছ’র ১৩/৪০৭, তাফসীরে মাযহারী, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পূর্বে অবশ্যই অবশ্যই সম্মানিত খিলাফত আ’লা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে। সুতরাং যারা বলে থাকে যে, সম্মানিত কুরআন শরীফ, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের  কোথায়ও নেই যে, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পূর্বে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক কায়িম হবে, তাদের এই কথা ভুল এবং সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ বলে প্রমাণিত হলো। এখন কথা হলো যে, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পূর্বে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক কায়িম যদি নাই হয়, তাহলে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার সময় খলীফা আসবেন কোথা থেকে? অথচ উপরোক্ত হাদীছ শরীফ মুবারক উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে-

يَكُوْنُ اخْتِلَافٌ عِنْدَ مَوْتِ خَلِيفَةٍ فَيَخْرُجُ رَجُلٌ مّـِنْ أَهْلِ الْمَدِيْــنَـةِ هَارِبًا اِلـٰى مَكَّةَ

“একজন সম্মানিত খলীফা আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করার সময় নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে ইখতিলাফ দেখা দিবে যে, উনার পরে কে খলীফা হবেন। তখন একজন ব্যক্তি তথা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার দিকে রওয়ানা হবেন।”

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।