আরবী মাসের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সউদী সরকারের ষড়যন্ত্রের নেপথ্য কথা

সংখ্যা: ২৪০তম সংখ্যা | বিভাগ:

আরবী মাসের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সউদী সরকারের ষড়যন্ত্রের নেপথ্য কথা


http://al-hilaal.net/

http://al-hilaal.net/

ছোটবেলা পবিত্র রমদ্বান শরীফ উনার চাঁদ আর পবিত্র ঈদ উনার চাঁদ খোঁজার মধ্যে আনন্দই ছিল অন্যরকম। এখন প্রতি মাসেই চাঁদ খুঁজি তবে বর্তমানে আগ্রহের সাথে দায়িত্ব যুক্ত হয়েছে। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি আকাশে খালি চোখে চাঁদ দেখে মাস শুরু করতে হয়। কিন্তু বড় হবার জানতে পারছি এই নিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। আজ অনেক নামধারী মুসলিম দেশ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুসরণ না করে মনগড়াভাবে চাঁদের তারিখ ঘোষণা করছে।

গভীরভাবে তলিয়ে দেখার পর জানা গেল এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়ক হচ্ছে সউদী আরব। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুসরণ বাদ দিয়ে এই সউদী সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আরবী মাস উনার তারিখ ঘোষণা করছে। সউদী ওহাবী সরকার ও তার অনুসারীরা সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ করে যাচ্ছে।

যেমন, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

يَسْئَلُوْنَكَ عَنِ الْاَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِىَ مَوَاقِيْتُ لِلنَّاسِ وَالْـحَجّ ۗ

“ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নিকট চাঁদ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। আপনি জানিয়ে দিন, এটা হচ্ছে মানুষের জন্য ইবাদত উনার সময় নির্ধারক এবং সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৯)

আবার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা শুরু করো, চাঁদ দেখে ইফতার করো (রোযা ভাঙ্গ), আকাশ মেঘলা থাকলে মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করো।”

তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত আদেশ-নিষেধসমূহ থেকে আমরা পাচ্ছি- ১) চাঁদ মানুষের ইবাদতের সময় নির্ধারক, ২) সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম, ৩) চাঁদ দেখে রোযা রাখতে হবে এবং রোযা ভাঙতে হবে। অর্থাৎ সকল আরবী মাস চাঁদ দেখে গণনা করতে হবে, ৪) আকাশ মেঘলা থাকলে মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করতে হবে।

অথচ খোদাদ্রোহী, শয়তানের অনুচর, কাফির-মুশরিক এবং সউদী ওহাবী সরকার ও তার অনুসারীরা উল্লেখিত প্রতিটি আদেশ মুবারক উনার খিলাফ কাজ করে যাচ্ছে।

১) চাঁদ মানুষের ইবাদত উনার সময় নির্ধারক অথচ চাঁদকে ইবাদত উনার সময় নির্ধারক হিসেবে না মেনে তারা মনগড়া নিয়মে ক্যলেন্ডার রচনা করে তা অনুসরণ করছে। যেমন উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার। নাউযুবিল্লাহ!

২) চাঁদ সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক করার মাধ্যম। অথচ সম্মানিত হজ্জ উনার সময় ঠিক না করে তারিখ আগ-পিছ করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ।

৩) চাঁদ দেখে রোযা রাখতে হয় এবং রোযা ভাঙতে হয়। অর্থাৎ সকল আরবী মাস চাঁদ দেখে গণনা করতে হয়। অথচ চাঁদ না দেখে মহাকাশ বিজ্ঞানের হিসেব অনুযায়ী রোযা ভাঙছে বা মাস শুরু করছে। নাউযুবিল্লাহ!

৪) আকাশ মেঘলা থাকলে মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করতে হয় অথচ আকাশ মেঘলা থাকলে চাঁদ দেখা না গেলেও মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে হলেও মাস শুরু করছে। নাউযুবিল্লাহ!

১৯৪৮ সাল থেকে অর্থাৎ সিআইএ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ষড়যন্ত্র চলছে। আর ষড়যন্ত্রের মূল সহযোগী ইহুদীদের দ্বারা শাসিত দেশ সউদী আরব। নাউযুবিল্লাহ!

সউদী ওহাবী সরকার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অনুসরণ না করে অর্থাৎ খালি চোখে চাঁদ দেখার চেষ্টা না করে যে সকল মনগড়া পদ্ধতি ব্যবহার করেছে এবং করছে তা নিচে দেয়া হলো-

সউদী ওহাবী সরকার এ পর্যন্ত ৪টি মনগড়া পদ্ধতি ব্যবহার করেছে এবং করে যাচ্ছে:

১। প্রথম পদ্ধতি (১৯৫০-১৯৭২): সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ৯ ডিগ্রি উপরে থাকলে মাস শুরু করতো।

অথচ (সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার ৯ ডিগ্রি উপরে থাকলেই আরবী মাস শুরু করা যায় না। চাঁদ শুধু ৯ ডিগ্রি নয়, তারচেয়ে বেশি উচ্চতায় থাকলেও দৃশ্যমান নাও হতে পারে। সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী চাঁদ তালাশ করতে হবে এবং মাস শুরু করার জন্য চাঁদ চোখে দেখতে হবে।)

২। দ্বিতীয় পদ্ধতি (১৯৭৩-১৯৯৮): মধ্য রাতের পূর্বে অমাবস্যা সংঘটিত হলে পরের দিন থেকে নতুন মাস শুরু হতো। আবার সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স ১২ ঘন্টার বেশী হলে নতুন মাস শুরু করতো।

অথচ এসব নিয়মে চাঁদ দৃশ্যমান হয় না ফলে সঠিক তারিখে মাস শুরু হতো না।

৩। তৃতীয় পদ্ধতি (১৯৯৮/৯৯-২০০১): সূর্যাস্তের ১ মিনিট পরেও চন্দ্র অস্ত গেলে নতুন মাস শুরু হতো।

অথচ এ নিয়মেও সঠিক তারিখে মাস শুরু হতো না।

৪। চতুর্থ পদ্ধতি (২০০৩-বর্তমান সময় পর্যন্ত): যদি সূর্যাস্তের পর চাঁদ অস্ত যায় এবং সূর্যাস্তের পূর্বে অমাবস্যা সংঘটিত হয় তবে পরের দিন থেকে নতুন মাস শুরু করে।

মূলত, উপরের কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেই আরবী মাস শুরু করা সম্মানিত শরীয়ত উনার নির্দেশ নয়। সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী চাঁদ খালি চোখে দেখে মাস শুরু করতে হবে।

একটি শ্রেণী রয়েছে, যারা ভাবে সউদী আরব কি কম বুঝে? সেখানে কি আলেম-উলামা নেই, মহাকাশ বিজ্ঞানী নেই? এই শ্রেণী সউদী সরকারের অপকর্মগুলোকে নানা ভ্রান্ত যুক্তি দাঁড় করিয়ে হলেও বিশ্বাস করতে চায়। সে কারণে আমরা এখানে মাত্র একটি দলীল প্রকাশ করছি।

সউদী আরব যে ভুল করে যাচ্ছে তার প্রমাণ হিসেবে বিজ্ঞানের বাইরে সউদী মুফতেদের ফতওয়া উল্লেখ করছি- যাতে বুঝতে সুবিধা হবে, সউদী ইহুদী ওহাবী সরকার মুসলমান উনাদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। কারণ, মনগড়াভাবে সউদী ওহাবী সরকারের চাঁদের তারিখ ঘোষণার বিরুদ্ধে অনেক লেখা দেবার পরেও আমাদের দেশসহ অনেক দেশের উলামায়ে ‘সূ’ এবং সাধারণ মানুষের ধারণা এসকল বিরুদ্ধাচরণ হয়তো আক্রোশমূলক অথবা গোষ্ঠীভিত্তিক। কিন্তু খোদ সউদী আরবের মুফতী, প্রচারমাধ্যম, বিজ্ঞানীরা যে সউদী ওহাবী সরকারের এসব শরীয়ত বহির্ভূত সিদ্ধান্ত এবং স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার তা অনেকেরই জানা নেই।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক। ১৪২০ হিজরী সনে, সউদী আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয় ৭ই জানুয়ারি, ইয়াওমুল জুমআহ বা জুমুয়াবার। অথচ ৬ জানুয়ারি, ইয়াওমুল খামিস বা বৃহস্পতিবার পৃথিবীর কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হয়নি। ৬ জানুয়ারি সউদী আরবে সূর্য অস্ত গেছে ৫টা ৫৬ মিনিটে অথচ চাঁদ অস্ত যায় সূর্য অস্ত যাবার ৯ মিনিট পূর্বেই। আরও অবাক বিষয় হচ্ছে পহেলা শাওওয়ালের মাস শুরু হবার ৪ ঘণ্টা পর চাঁদ অমাবস্যায় যায়। তাহলে যে চাঁদ অমাবস্যাতেই পৌঁছেনি সে চাঁদ যে দৃশ্যমান হয়নি তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। ফলে সউদী আরবের কয়েকজন মুফতী এ ব্যপারে সোচ্চার হয়ে উঠে।

১৪২০ হিজরীতে সউদী আরবের চাঁদের ঘোষণার পরিপেক্ষিতে শায়েখ ডঃ ইউসুফ আল কারদায়ি ফতওয়া দেয় যে- “যারা ১৪২০ হিজরীতে জুময়াবারে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেছে তারা যেন একটি রোযা কাযা আদায় করে নেয়।”

এছাড়াও শায়েখ মুহম্মদ বিন সালেহ আল উথাইমিন ফতওয়া দেয়, “যদি পৃথিবীর কোথাও সূর্যাস্তের পর সূর্যগ্রহণ হয় তবে পরের দিন কখোনোই নতুন মাসের নতুন দিন শুরু হবে না।”

নিচে ড. ইউসুফ আল কারদায়ির ফতোয়া

তাহলে প্রমাণিত হলো খোদ সউদী আরবেই সউদী সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে সেখানকার মুফতীরা ফতওয়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের উচিত মুসলমান উনাদের ধোঁকা দেয়ার পথ পরিহার করে চাঁদ দেখে আরবী মাস উনার সঠিক তারিখ ঘোষণা দেয়া এবং মানুষের ঈমান আমল হিফাজতে সহযোগিতা করা।


-আল হিলাল।

প্রসঙ্গ: কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা ও ক্বিয়ামত-এর তথ্য

বাংলাদেশে ৩ কোটি লোক দিনে ৩ বেলা খেতে পারে না। পুষ্টিমান অনুযায়ী খেতে পারে না ৮ কোটি লোক। ক্ষুধাক্লিষ্ট ও পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের নেই কোনো উদ্যোগ!

কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত সুমহান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল এবং জনৈক সালিকার একখানা স্বপ্ন

ব্রিটিশ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য রমেশ মজুমদার (আর.সি. মজুমদার) তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে যে- (১) ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতো; (২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশীয় হিন্দু শিক্ষামন্ত্রী, ক্ষমতা পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক কমিয়ে দিয়েছিল; (৩) এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সদস্য হয়েও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় হিন্দুরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পিছপা হতো না। সুতরাং বাংলাদেশের আলোবাতাসে লালিত এসব মুশরিকরা যে দেশদ্রোহী, তা প্রমাণিত ঐতিহাসিক সত্য। ইতিহাসের শিক্ষা অনুযায়ী-ই এসমস্ত মুশরিকদেরকে এদেশে ক্ষমতায়িত করাটা অসাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং তা দেশবিরোধিতা ও নির্বুদ্ধিতার নামান্তর

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খ্বলীফাতুল্লাহ, খ্বলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, রসূলে নু’মা, সুলত্বানুল আরিফীন, সুলত্বানুল আউলিয়া ওয়াল মাশায়িখ, ইমামুল আইম্মাহ, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, সুলতানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, মাওলানা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার সুমহান তাজদীদ মুবারক